ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষেই বিদায় নিল চার দল ফ্রান্সের কাছে হারলেও গর্বিত ইরাকি সমর্থকেরা টোল আদায়ে অনিয়ম: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ১৬ অ্যান্টি-করোসিভ প্রেম কাপ্তাই হ্রদে নাব্যসংকটে লঞ্চ চলাচল সীমিত, ভোগান্তিতে ৫ লাখ মানুষ কবর থেকে তোলা হচ্ছে না সালমান শাহর মরদেহ মেহেরপুরে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ফুটবল বিশেষজ্ঞ বউ ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিল ঢাবির রোকেয়া হলে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে মালির মৃত্যু আক্রমণের ধারা নষ্ট করতে চান না টুখেল উখিয়ায় ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের: ডিএমপি কমিশনার ‘সোমেশ্বরী’র পরিচালক নওশাবা মৌলভীবাজারে মধ্যরাতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস জামালপুরে লাগেজে মিলল যুবকের মরদেহ পাঠকের গল্প : একটি খালি বেডের গল্প ‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’ মমেকে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ২৪ জাবিতে নীতিনির্ধারণী তিন পর্ষদে ২৮ শূন্যপদ, সংকটে স্বায়ত্তশাসন জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ কি চীনের হাতে? দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে : রিজভী মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে ৪৩১ পদে বড় নিয়োগ হিলিতে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউন ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার লোহাগাড়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায় থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার

দুই বছরেও চালু হয়নি খুবির বধ্যভূমি জাদুঘর, তালাবদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
দুই বছরেও চালু হয়নি খুবির বধ্যভূমি জাদুঘর, তালাবদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত ‘গল্লামারী বধ্যভূমি স্মৃতি জাদুঘর’। ইনসেটে তালাবদ্ধ দরজা। ছবি: খবরের কাগজ

পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি রক্ষায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত ‘গল্লামারী বধ্যভূমি স্মৃতি জাদুঘর’ আজও আলোর মুখ দেখেনি। হস্তান্তরের দুই বছর কেটে গেলেও প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি বর্তমানে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

বর্তমান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনটি ১৯৭১ সালে পাক হানাদারদের নির্মম টর্চার সেল (তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানের খুলনা শাখা) ছিল। সেখানে চলত মুক্তিকামী মানুষের ওপর পাশবিক নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ। দেশ স্বাধীনের পর বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই গল্লামারী বধ্যভূমি ও এর আশপাশে খুঁজে পান গণহত্যার নানা চিহ্ন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক মুনতাসির মামুনের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর এই এলাকা থেকে প্রায় ৫ ট্রাকভর্তি মানুষের মাথার খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছিল। ধারণা করা হয়, এখানে আনুমানিক ১৫ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের মে মাসে তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন খুলনার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে এই টর্চার সেলটিকে জাদুঘর করার উদ্যোগ নেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিদর্শন হিসেবে রাখার উদ্দেশ্যে জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০২২ সালের জুলাই মাসে চুক্তির মাধ্যমে ভবনের কাজ শেষ করে মেসার্স আনিসা এন্টারপ্রাইজ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ জানায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে যশোরের এক টেন্ডার কোম্পানি জাদুঘরের ল্যান্ডস্কেপিংয়ের কাজ পায়। তারা ২০২৪ সালের জুন মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে কাজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তাস্তর করে। জাদুঘরের ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫৫ টাকা। ল্যান্ডস্কেপিং কাজের জন্য ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে খরচ হয় ৬১ লাখ ৯২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৫ টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাদুঘরের মূল ফটকে তালা ঝুলছে। প্রতিষ্ঠার দুই বছর পার হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি। চারপাশ পুরো নীরব। ভেতরের প্রদর্শনী কক্ষগুলো দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ। মুক্তিযুদ্ধের ছবি ও নিদর্শন প্রদর্শনের কথা থাকলেও কক্ষগুলো এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে আছে।

এই জাদুঘরটির নকশা প্রণয়ন করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক এস এম নাজিমউদ্দিন। তিনি জানান, পুরোনো টিনশেড ভবনটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই ভাবনা থেকেই তিনি নকশা তৈরি করেন, যেখানে ১৯৭১ সালের নির্যাতন ও বেদনার প্রতীকী উপস্থাপন ফুটে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘নকশাটিতে একাত্তরের সেই ভয়াবহতার অনুভূতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন ছবি ও স্মৃতিচিহ্ন প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, জাদুঘরটি উদ্বোধনের জন্য প্রায় প্রস্তুত। এখন শুধু কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের অপেক্ষা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান টিনশেড ভবনটি ছিল একটি বধ্যভূমি ও নির্যাতন কেন্দ্র। সেখানে হাজার হাজার মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল। তাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেও বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাদুঘরটি দ্রুত সবার জন্য উন্মুক্ত করা উচিত। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারবে। একজন কিউরেটর নিয়োগ দিয়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খুলনা অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধকালীন ইতিহাস, ছবি ও নিদর্শন সংগ্রহ করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও পাঠচর্চাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে। তাই দ্রুত জাদুঘরটি চালু করা প্রয়োজন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার শেখ মো. সাইফুল আলম বাদশা বলেন, ‘ল্যান্ডস্কেপিংয়ের কাজ শেষ। এখন প্রদর্শনীর জিনিসপত্র বসালেই এটি প্রস্তুত হয়ে যাবে। কর্তৃপক্ষ চাইলে যেকোনো সময় এটি চালু করতে পারে।’

প্রতিষ্ঠার দুই বছর পরও জাদুঘরটি উদ্বোধন না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম জানান, বিষয়টি তাকে আগে কেউ জানায়নি। তিনি ভেতরে গিয়ে দেখেননি কতদূর কাজ হয়েছে। তবে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

উপাচার্য আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমরা অবশ্যই সংরক্ষণ করব। সেখানে একটি লাইব্রেরি স্থাপনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে ফাইল পর্যালোচনা করে কী কী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:২১ পিএম
ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিল
গোলাম রাব্বানী
২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনে অংশ নিতে এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তৎকালীন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম সিন্ডিকেট। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো হয়েছে।
 
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে খবরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।
 
তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছিল গোলাম রব্বানী, বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তার জিএস পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। এখন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে, তা আইন উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো হয়েছে।’
 
পদ বাতিল করা হলে শূন্য হওয়া ওই জিএস পদে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদ খাঁন পদ ফিরে পাবেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেই আইন উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো হয়েছে, সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটি আমলে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
 
এর আগে গতকাল সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম।
 
গত বছরের ২৬ নভেম্বর গোলাম রাব্বানীর এমফিল প্রোগ্রামে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তির অভিযোগ প্রতীয়মান হওয়ায় তার এমফিল ভর্তি বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল।
 
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৯ বছরের বিরতির পর ২০১৯ সালে ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মোট ২৫টি পদের মধ্যে ২৩টি পদেই নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থীরা। অন্যদিকে ভিপি এবং সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদকের পদে জয়ী হয় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ মনোনীত প্রার্থীরা।
 
এছাড়া জিএস পদে বিজয়ী হন বর্তমানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি ভোট পান ১০ হাজার ৪৮৪। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৎকালীন কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ খাঁন পান ৬ হাজার ৬৩ ভোট।
 
অবৈধ উপায়ে ভর্তি হয়ে ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সব সদস্যের ডাকসুর সদস্যপদ বাতিলপূর্বক ভুক্তভোগী প্রার্থীদের মূল্যায়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর ডাকসু ভবনে সংঘটিত নৃশংস হামলার ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের বিচারের দাবি জানিয়ে গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার দাবিতে আবেদন করে রাশেদ খাঁন। এর প্রেক্ষিতে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।
 
আরিফ জাওয়াদ/খাদিজা রুমি/

ঢাবির রোকেয়া হলে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে মালির মৃত্যু

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
ঢাবির রোকেয়া হলে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে মালির মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হলের গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে মাথায় কাঁঠাল পড়ে মো. ছিয়াকুল (৩৯) নামের এক মালির মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ​সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছিয়াকুলের বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া থানার দেবদুন গ্রামে।

হাসপাতালে নিয়ে আসা ছিয়াকুলের সহকর্মী সুনীল চৌহান খবরের কাগজকে বলেন, ‘একটি টেবিলের উপর দাঁড়িয়ে ছিয়াকুল বাঁশ দিয়ে গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়তে গেলে কাঁঠালটি ছিয়ামুলের মাথায় পড়লে তিনি মেঝেতে পড়ে আঘাত পান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ দিকে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক খবরের কাগজকে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনরা নিয়ে গেছেন।

আরিফ জাওয়াদ/থিওটোনিয়াস

জাবিতে নীতিনির্ধারণী তিন পর্ষদে ২৮ শূন্যপদ, সংকটে স্বায়ত্তশাসন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
জাবিতে নীতিনির্ধারণী তিন পর্ষদে ২৮ শূন্যপদ, সংকটে স্বায়ত্তশাসন
ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সর্বোচ্চ আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী তিনটি বিধিবদ্ধ পর্ষদ- সিনেট, সিন্ডিকেট ও অর্থ কমিটি (এফসি) দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের শূন্যতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন পর্ষদের মোট ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে।

তবে একাধিক শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি, বিভিন্ন কারণে নিষ্ক্রিয় ও কার্যত অনুপস্থিত সদস্যদের হিসেব করলে অকার্যকর পদের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহিতামূলক সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন পদের প্রতিনিধিদের পদত্যাগ, অপসারণ, অব্যাহতি কিংবা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার কারণে এই শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময়েও এসব পদে নতুন নির্বাচন বা মনোনয়নের উদ্যোগ না নেওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।

সিনেটে ১৪ পদ শূন্য

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও বাজেট অনুমোদনকারী পর্ষদ সিনেটে মোট সদস্য ৯৪। এর মধ্যে বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। খালি থাকা পদগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের পদ।

এ ছাড়া স্পিকার কর্তৃক মনোনীত পাঁচজন সংসদ সদস্য, চারজন কলেজ অধ্যক্ষ এবং দুইজন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধির পদও দীর্ঘদিন ধরে পূরণ হয়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক বলছেন, কাগজে-কলমে শূন্যপদের সংখ্যা ১৪ হলেও কার্যত অকার্যকর সদস্যের সংখ্যা আরও বেশি। কারণ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর শিক্ষাছুটিতে বিদেশে চলে যাওয়া, প্রশাসনিক জটিলতায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া কিংবা বিভিন্ন কারণে অধিবেশনে অংশ না নেওয়া একাধিক সদস্য রয়েছেন। ফলে বাস্তবে সিনেটের কার্যকর সদস্য সংখ্যা আরও কমে গেছে।

গত বছরের ৪২তম সিনেট অধিবেশনে কোরাম সংকট দেখা দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর অধিবেশন শুরু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) কর্তৃক মনোনীত পাঁচজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধির মধ্যে সম্প্রতি দুজনের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে। ফলে তাদের সিনেট সদস্যপদ বহাল থাকা নিয়েও আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩- এর ধারা ১৯(২) অনুযায়ী, শিক্ষার্থী সদস্যদের মেয়াদ এক বছর এবং অন্য সদস্যদের মেয়াদ তিন বছর। একই ধারায় বলা হয়েছে, উত্তরসূরি নির্বাচিত, মনোনীত বা দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত সদস্যরা পদে বহাল থাকতে পারবেন।

তবে পরবর্তী শর্তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব হারালে বা ছাত্র না থাকলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিনেট সদস্যপদ হারাবেন।

উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, যখন তাদের (শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের) মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, তখন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। সামনের সিনেট অধিবেশনের জন্য যখন তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে তখনও তাদের ছাত্রত্ব ছিল। এখন বিষয়টি নিয়ে আইনি পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।

তবে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া দুই প্রতিনিধির সদস্যপদ বাতিল হলে জাকসু নতুন করে কাউকে মনোনয়ন দিতে পারবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ’চলে গেলো মানে চলে গেলো।’  তার এই বক্তব্যে নতুন মনোনয়নের সুযোগ নেই বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

সিন্ডিকেটে অর্ধেকের বেশি পদ ফাঁকা

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রধান পর্ষদ সিন্ডিকেটের মোট সদস্যসংখ্যা ২০। বর্তমানে এর ১১টি পদই শূন্য। খালি থাকা পদগুলোর মধ্যে রয়েছে একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক মনোনীত দুইজন কলেজ অধ্যক্ষের পদ, শিক্ষকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ছয়জন প্রতিনিধি, সিনেট কর্তৃক মনোনীত দুইজন সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের একজন বিশিষ্ট নাগরিকের পদ। এ ছাড়া পদাধিকারবলে থাকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের পদটিও বর্তমানে শূন্য রয়েছে।

অর্থ কমিটিতেও শূন্যতা

বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক নীতি, বাজেট ও ব্যয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী অর্থ কমিটির ১২টি পদের মধ্যে বর্তমানে তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক মনোনীত একজন ডিন, সিনেট কর্তৃক মনোনীত একজন সদস্য এবং সিন্ডিকেট কর্তৃক মনোনীত অর্থবিষয়ক দুই বিশেষজ্ঞের মধ্যে একজনের পদ এখনও পূরণ হয়নি।

আইনের ধারা ও বাস্তবতার টানাপোড়েন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর ২২(৩) ধারা অনুযায়ী, সিন্ডিকেট সদস্যদের মেয়াদ সাধারণত দুই বছর। তবে উত্তরসূরি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত সদস্যরা পদে বহাল থাকতে পারেন। তবে একই ধারার শর্তে বলা হয়েছে, কলেজ অধ্যক্ষ, শিক্ষক প্রতিনিধি, সিনেট প্রতিনিধি বা সরকারি মনোনীত ব্যক্তিরা নিজ নিজ পদে বা দায়িত্বে বহাল থাকা সাপেক্ষেই সদস্যপদ ধরে রাখতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক মনে করেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যাঁরা চাকরি হারিয়েছেন, পদত্যাগ করেছেন কিংবা দায়িত্বে নেই, তাঁদের অনেকের সদস্যপদ কার্যত অবসান হয়েছে। কিন্তু নতুন নির্বাচন বা মনোনয়ন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়ে গেছে।

গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক বলেন, ’বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল স্পিরিটই হলো গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব। দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ বডিগুলো অপূর্ণ রেখে পরিচালনা করা স্বায়ত্তশাসনের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এই সংকট গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত নির্বাচন ও মনোনয়নের মাধ্যমে শূন্য পদগুলো পূরণ করা প্রয়োজন।’

জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাফরুহি সাত্তার বলেন, ’বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিধিবদ্ধ বডি গণতান্ত্রিকভাবে পূর্ণাঙ্গ হওয়া প্রয়োজন। তবে জুলাই-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি বিলম্বিত হয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই এসব বডি পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব হবে।’

প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবেদা সুলতানা বলেন, ’বিভিন্ন বডি পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়ে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানানো হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা সময় লাগছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ’সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যায়ক্রমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলো পুনরায় চালু করা হবে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। এখন আমরা দ্রুত এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ’আগের কিছু সদস্য বিভিন্ন কারণে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। তাই শূন্যপদগুলো পূরণের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হবে। সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, জাবির স্বায়ত্তশাসন ও অংশগ্রহণমূলক প্রশাসনিক কাঠামো সচল রাখতে হলে সিনেট, সিন্ডিকেট ও অর্থ কমিটির শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা জরুরি। অন্যথায় গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ও আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিনিধিত্বের সংকট আরও প্রকট হতে পারে।

আমানউল্লাহ খান/খাদিজা রুমি/

ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা
ছবি: খবরের কাগজ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে দৈনিক মজুরিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

রবিবার (২১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটি গঠনের পরের দিনই একাংশে সাক্ষাৎকার নিয়েছে উক্ত তদন্ত কমিটি। 

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরে দৈনিক মজুরিভিত্তিক যেসব ব্যক্তি নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের নিয়োগসংক্রান্ত বিষয় যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপাচার্য একটি কমিটি গঠন করেছেন।

তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক ইসরাফুল হক। এছাড়া সদস্যসচিব করা হয়েছে রেজিস্টার অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) এ. জেড. এম. আছাফদ্দৌলাকে।

তবে গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশনাসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের জানাতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

এদিকে এ সাক্ষাৎকার ঘিরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নিয়োগ প্রাপ্তরা। তাদের অনেকেই চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। এই আশঙ্কাকে ব্যবহার করে একটি মহল চাকুরিবাণিজ্যও করতে পারে বলে আলোচনা চলছে ক্যাম্পাসে।

এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, ‘নিয়োগ প্রাপ্তদের সাক্ষাৎ গ্রহন প্রক্রিয়া চলমান। সাক্ষাৎ গ্রহন শেষ হলে আগামীকাল কমিটির সদস্যের সঙ্গে বসে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবো।’

এ বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি যোগদানের পরে একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি যে, দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে বেশ কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ঈদুল আজহার আগে ১৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়েছে। যেটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং সরকারের পক্ষ থেকে এই অর্থের কোন সম্পৃক্ততা নাই। তারা এটিকে কোনভাবেই আমাদেরকে অনুমোদন দেয় নাই। সেখানে প্রায় ১ কোটি টাকার উপরে ইনভেস্ট করা হচ্ছে। যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় ধরনের একটি সংকট। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবছরই বাজেট ঘাটতি থাকে। ফলে এই জায়গাতে কি প্রেক্ষিতে এই নিয়োগটি দেওয়া হয়েছে? এর যুক্তিকতা কি তা দেখার জন্য একটা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বলেছি।’

নেয়ামত/রিফাত/

বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য
ছবি: খবরের কাগজ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার একটি নেতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে। অধীনস্থ কর্মীদের সমস্যার কথা জানতে হবে এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। কোনো কর্মী বা কর্মকর্তা কেন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন, সেটিও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।’

সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত ‘অফিস ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ক কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দফতর প্রধানদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘অনেক সময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো নোটিশ ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরিচালকও বিষয়টি জানেন না। এই না আসা এবং দায়িত্ব পালন না করার যে কালচার, সেই প্রতিযোগিতায় আমরা অনেক এগিয়ে আছি।’

ড. মতিনুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ না করার একটি প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভালো কাজ করার, নতুন উদ্যোগ গ্রহণের কিংবা ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রতিযোগিতা আমরা গড়ে তুলতে পারিনি। কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নয়, জবাবদিহিতারও ঊর্ধ্বে নয়। আমি নিজেও জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নই। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মূলত শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার জন্য নিয়োজিত। তাই শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজিমুদ্দিন।

কর্মশালায় আধুনিক অফিস ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশ, ফাইল ও নথি ব্যবস্থাপনা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল অফিস সিস্টেম বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, দপ্তরপ্রধান ও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

নিয়ামত/খাদিজা রুমি/