সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকের সামনে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজটি এখন মাদকসেবন ও নারী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। ব্যবহারের অভাবে ব্রিজটি এখন নিরাপত্তা হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওভার ব্রিজে দাঁড়িয়ে ছেলেরা প্রায়ই অশালীন আচরণ করে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন টহল বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন হওয়ায় প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ প্রায় কয়েক হাজার পথচারী এই সড়ক পারাপার করেন। ব্যস্ত এই সড়ক পারাপারের ক্ষেত্রে কাউকেই এই ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহার করতে দেখা যায় না। যাদের উপরে উঠতে দেখা যায় তাদের বেশির ভাগেই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে অথবা মাদক সেবন বা পাশের ছাত্রী হোস্টেলগুলোতে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার উদ্দেশ্যে সেখানে যায়।
এদিকে ফুটওভার ব্রিজের ঠিক সামনেই প্রথম ছাত্রী হলের অন্তর্ভুক্ত সাব হলের (আমির কমপ্লেক্স)। ওভার ব্রিজে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেরা ছাত্রী হলের ভেতরে মেয়েদের দেখার চেষ্টা করে। এ ছাড়া ছাত্রীদের দিকে নানা অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। এতে ওই ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় তৎকালীন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণের ঘোষণা দেন। তখন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে এনিয়ে নানা সমালোচনা তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, এখানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ না করে বরং বেপরোয়া গাড়ির গতিরোধ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
ছাত্রী হোস্টেলের আবাসিক শিক্ষার্থী রুবাইয়া হক হৃদিকা বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজে ছেলেরা মাদক সেবন করে। হলের ভেতরে শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করা এখন নিত্যকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে আমরা নারী শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ জুয়েল বলেন, ‘প্রশাসনের সঠিক তদারকির অভাবে ফুটওভার ব্রিজটি বর্তমানে সরাইখানায় পরিণত হয়েছে। প্রায়ই পার্শ্ববর্তী ছাত্রী হোস্টেলের নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির খবর পাওয়া যায়। প্রশাসনের উচিত ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘বিষয়গুলো ইতোমধ্যে আমাদের নজরে এসেছে। আমরা এসব জায়গায় যথাযথ টহল বাড়ানোর মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ কমানোর চেষ্টা করব।’