বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু গোপন নথি ফাঁস হয়েছে। নথিগুলো বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৮০টির বেশি গোপন নথি ফাঁস হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই কাণ্ডে উপাচার্যের পিএস মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জড়িত বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সোমবার গভীর রাতে উপাচার্যের পিএস মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের ফেসবুক আইডির স্টোরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮০টি গোপন নথির ছবি শেয়ার করা হয়। কিছু সময় পর সেগুলোর একাধিক স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতির আদেশ, তদন্ত প্রতিবেদন, অডিট আপত্তি, মামলার নথি ও ব্যক্তিগত আবেদনপত্র, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগসহ বিভিন্ন নথির ছবি। এ ছাড়া মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত ছবি, তার বিল্ডিংয়ের মালিকানা সম্পর্কিত নথিসহ তার ছেলে-মেয়েদের জন্মনিবন্ধনের ছবি স্টোরিতে শেয়ার করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আদেশ ও নোটিশের একটি কপি উপাচার্যের দপ্তরে পাঠানো হয়। সেটি উপাচার্যের পিএস নথিভুক্ত করেন।
তারা জানান, ভিসি দপ্তরে যেসব ফাইল যায়, পিএস মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে রাখতেন। পরে তিনি স্পর্শকাতর নথিগুলো ফেসবুকের মাধ্যমে ফাঁস করে দেন। মিজানুর রহমান এর আগেও গোপন নথি ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের সেকশন অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘উপাচার্যকে অবহিত করতে আমি একটি আবেদনপত্র দিয়েছিলাম। সেই আবেদনপত্রের ছবিসহ ফেসবুকে একাধিক গোপনীয় নথি ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য হুমকিস্বরূপ। এটি নিয়ে সবাই আলোচনা করছেন। চাকরি বিধিতে প্রতিষ্ঠানের গোপনীয় ফাইল ও তথ্য ফাঁস করা গুরুতর অপরাধ।’
তিনি বলেন, ‘আশা করি কর্তৃপক্ষ বিষয়টির যৌক্তিক সুরহা করবে।’
তবে গোপন নথি ফাঁস করার বিষয়টি অস্বীকার করে উপাচার্যের পিএস মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। কীভাবে এসব ছবি আমার ফেসবুক স্টোরিতে শেয়ার হলো তাও জানি না। আমি আসলে বুঝতে পারছি না কীভাবে এগুলো হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’