জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস), ২১টি পদের মধ্যে ১৬টিতে জয়লাভ করেছে শিবিরের প্যানেলের প্রার্থীরা।
গত বুধবার রাত ১টায় ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান।
শিবিরের নিরঙ্কুশ জয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীরা বেশ অবাক হলেও মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। শিক্ষার্থীরা বলেছেন, আন্তরিক ব্যবহার ও সবাইকে স্নেহ-সম্মান-শ্রদ্ধাই শিবির প্রার্থীদের জয়ের অন্যতম কারণ। এ ছাড়াও ছাত্রশিবিরের নামে চাঁদাবাজি বা মারামারি না করার বিষয়গুলো ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। শিক্ষার্থীদের পালস বুঝতে পারার সক্ষমতা, টেন্ডারবাজি না করা ও মাদকমুক্ত থাকার প্রবণতাও নির্বাচনে তাদের বড় জয়ের পথকে সুগম করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোটা দাগে, এই পাঁচটি ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে শিবিরের স্বাতন্ত্র্যকে ভোটাররা সম্মান করে রায় দিয়েছেন।
কোন পদে কত ভোট
ভিপি পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম। রিয়াজুল আইন বিভাগের ১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট। রিয়াজুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি। এদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। রাকিব জবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি।
জিএস পদে ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন আবদুল আলীম আরিফ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২২৩ ভোট। আবদুল আলীম আরিফ আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি জবি শাখা শিবিরের সেক্রেটারি।
এজিএস পদে জয়লাভ করেছেন শিবির প্যানেলের মাসুদ রানা। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ২০ ভোট। এই পদে ছাত্রদল-ছাত্র অধিকারের প্যানেলের আতিকুল ইসলাম তানজীল পেয়েছেন ৪ হাজার ২২ ভোট। বিজয়ী এজিএস মাসুদ রানা ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে জুলাই আগস্টের আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন। মাসুদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থী নুরনবী। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৪০০ ভোট। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের ইব্রাহীম খলিল। তিনি ৫ হাজার ৫২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের মোছা. সুখীমন খাতুন। তিনি ৪ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের নুর মোহাম্মদ। তিনি ৪ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের হাবীব মোহাম্মদ ফারুক। তিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৫৪ ভোট।
আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের নওশীন নাওয়ার। তিনি ৪ হাজার ৫০১ ভোট পেয়েছেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের জর্জিস আনোয়ার নাইম। তিনি ৩ হাজার ৯৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ৩৪৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের তাকরিম মিয়া। তিনি ৫ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়েছেন।
পরিবহন সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের মাহিদ হোসেন। তিনি ৪ হাজার ২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের মো. রিয়াসাল রাকিব। তিনি ৪ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
কার্যনির্বাহী সদস্যের সাতটি পদের মধ্যে শিবির–সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন পাঁচজন। একজন স্বতন্ত্র ও একজন ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন। সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন শিবিরের প্যানেলের ফাতেমা আক্তার। তিনি পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৫১ ভোট। শিবিরের প্যানেলের আকিব হাসান পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৮৮ ভোট। একই প্যানেলের শান্তা আক্তার পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৫৪ ভোট। একই প্যানেলের মেহেদী হাসান পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৪৮ ভোট। একই প্যানেলের মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ২ হাজার ৯১৭ ভোট।
এ ছাড়া ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত প্যানেলের মোহাম্মদ সাদমান আমিন সাম্য ৩ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাহিদ হাসান পেয়েছেন ৩ হাজার ১২৪ ভোট।
হল সংসদ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদসহ বিভিন্ন পদে জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা সমর্থিত প্যানেল।
ভিপি পদে ৫৫০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন ছাত্রীসংস্থা-সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের মোছা. জান্নাতুল উম্মি তারিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ‘অপরাজিতার অগ্রযাত্রা’ প্যানেলের ফারজানা আক্তার রিমি পেয়েছেন ২৩৬ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৫৭১ ভোট পেয়ে ছাত্রীসংস্থা সমর্থিত প্যানেলের সুমাইয়া তাবাসসুম জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সাদিয়া সুলতানা নেলি পেয়েছেন ৩১৪ ভোট।
সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ছাত্রীসংস্থা সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের রেদওয়ানা খাওলা ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ‘অপরাজিতার অগ্রযাত্রা’ প্যানেলের শেখ তাসলিমা জাহান মুন পেয়েছেন ৪০৪ ভোট।
হল সংসদের সম্পাদকীয় ভোট সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রদলের প্যানেলের ফারজানা আক্তার। তিনি পেয়েছেন ৪৮৩ ভোট। সংস্কৃতি সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রীসংস্থার ফাতেমা তুজ জোহরা। তিনি পেয়েছেন ৪৩১ ভোট।
পাঠাগার সম্পাদক পদে ছাত্রীসংস্থার ফাতেমা তুজ জোহরা সামিয়া। তিনি পেয়েছেন ৫৩৯ ভোট। ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রীসংস্থার সাবিকুন নাহার। তিনি পেয়েছেন ৬৩৫ ভোট। সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক পদে ছাত্রীসংস্থার ফারজানা আক্তার ৪০৮ ভোট পেয়েছেন।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে জয়লাভ করেছেন-সাবরিনা আক্তার (৬১৪), নওশীন বিনতে আলম (৫৩৬), মোছা. সায়মা খাতুন (৫১৭), লস্কর রুবাইয়াত জাহান (৪৮৪)। এই পদের লস্কর রুবাইয়াত ছাড়া বাকি সবাই ছাত্রীসংস্থার।
শিবিরের জয়ের কারণ কী?
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং আন্তরিকভাবে ভোট চেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তরিক ব্যবহার ও সবাইকে স্নেহ-সম্মান-শ্রদ্ধাই এই জয়ের অন্যতম কারণ।
এ ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের বিজয় এবং তাদের ইতিবাচক কার্যক্রমের ফলে অনেকেই শিবিরের প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন। ডাকসু যেভাবে উন্নয়ন করছে তারই আশায় শিবিরের প্যানেলের প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, এ ছাড়াও ছাত্রশিবিরের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ নেই। মারামারিতে যুক্ত না হওয়ার প্রবণতা আকৃষ্ট করেছে ভোটারদের। বিভিন্ন নেতার একাডেমিক ফলাফলও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেছে শিবিরকে ভোট দিতে।
কেউ কেউ বলছেন, শিবিরকে ভোট দিলে কোনো টেন্ডারবাজি করবে না যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজে ভূমিকা রাখতে পারবেন জকসুর সদস্যরা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, ৫ আগস্টের পর নানা কারণে ছাত্রদলের প্রতি শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ থেকেই শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের প্যানেলকে ভোট না দিয়ে শিবিরকে ভোট দিয়েছেন। সবাই যে শিবির করেন, তা নয়। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ভোট দিতেই তারা শিবিরকে বেছে নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা আশা রাখি শিবির আমাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করবে না। তাদের শিক্ষার্থীবান্ধব ব্যবহার এবং বিনয় আমাদের আগ্রহী করেছে তাদের ভোট দিতে।’
জকসু নির্বাচনের পর্যবেক্ষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিউম্যান রাইটস সোসাইটির সভাপতি জুনায়েদ মাসুদ বলেন, ‘শিবিরের জয়ের প্রধান কারণ আমি মনে করি সংগঠনটি সম্পর্কে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক ধারণা। তাদের নমনীয় আচরণ শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করেছে। বিশেষ করে রক্ষণশীল পরিবার থেকে আসা নারী শিক্ষার্থীরা শিবিরের কাছে নিজেদের বেশি নিরাপদ মনে করেন। এ ছাড়া শিবিরের ক্লিন ইমেজ যথেষ্ট ভালো ভূমিকা রেখেছে। বিগত সময়ে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে তারা অনেক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। শিবিরের জয়ের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের পালস বুঝতে পারার সক্ষমতা। তারা শিক্ষার্থীদের মানসিকতা বুঝতে পেরেছে, শিক্ষার্থীদের ভাষায় কথা বলতে পেরেছে। এ ছাড়া শিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।’
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মিলন বলেন, ‘৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে জবি ক্যাম্পাসে শিবির বিভিন্ন চমকপ্রদ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা প্রকাশ করেছে। তারা ক্যাম্পাসে ওয়ালফেয়ার পলিটিক্সের যে ধারা শুরু করে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তাছাড়া স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, যোগ্যতা তাদের বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ওয়াহেদ বলেন, ‘শিবিরের জয়ের কারণ শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি করা, প্রচলিত মিছিল মিটিংয়ের রাজনীতি না করা, শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজি ও মাদকমুক্ত রাজনীতি করা।’