ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
খবরের কাগজে পদোন্নতি-বাণিজ্যের প্রতিবেদন প্রকাশ: তদন্তে নেমেছে আইন মন্ত্রণালয় মেধাবীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা কী বার্তা দিচ্ছে পারিশ্রমিক না পেয়ে ম্যাচ বয়কট ব্রাদার্সের ক্রিকেটারদের অস্তিত্ব সংকটে হাঁড়িধোয়া নদী উত্তরবঙ্গ শিল্পোন্নত হোক দীনেশচন্দ্র সেন ও লোককাহিনির মঞ্চ-পরিবাহন মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা স্বাধীনতার অবিনাশী ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: জীবনযাত্রা হবে আরও ব্যয়বহুল বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ক্ষুধা লাগলে মায়ের চিতায় ছুটে যান ৩ ভাই নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের নেইমারকে ছাড়াই খেলবে ব্রাজিল সুন্দর পুরুষ টিভিতে আজকের খেলা কেমন হবে মুমিনের হজ-পরবর্তী জীবন ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল অর্ধশতাধিক দোকান জীবন একদিন শেষ হয়ে যায়! মুন্সীগঞ্জে বিদেশি বিয়ারসহ গ্রেপ্তার ৩ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত ৩ বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযোগপত্র দাখিল বিষাদ-বেদনার আঙুলে চুমো খাও নির্বাচনের খরা কাটল মাসুদুজ্জামানের শান্তি নিদ্রা লালমনিরহাটের ৩ সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে ৫ লাখ ১২ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ আব্বার সেই ম্লান হাসিটা আমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে ডাকবাংলোয় মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু: খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ পানির বোতল
Nagad desktop

জকসু নির্বাচন: শিবিরের জয়ের ৫ কারণ

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৮ এএম
জকসু নির্বাচন: শিবিরের জয়ের ৫ কারণ
জকসু নির্বাচনের বিজয়ীরা। ছবি: খবরের কাগজ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস), ২১টি পদের মধ্যে ১৬টিতে জয়লাভ করেছে শিবিরের প্যানেলের প্রার্থীরা।

গত বুধবার রাত ১টায় ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান।

শিবিরের নিরঙ্কুশ জয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীরা বেশ অবাক হলেও মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। শিক্ষার্থীরা বলেছেন, আন্তরিক ব্যবহার ও সবাইকে স্নেহ-সম্মান-শ্রদ্ধাই শিবির প্রার্থীদের জয়ের অন্যতম কারণ। এ ছাড়াও ছাত্রশিবিরের নামে চাঁদাবাজি বা মারামারি না করার বিষয়গুলো ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। শিক্ষার্থীদের পালস বুঝতে পারার সক্ষমতা, টেন্ডারবাজি না করা ও মাদকমুক্ত থাকার প্রবণতাও নির্বাচনে তাদের বড় জয়ের পথকে সুগম করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোটা দাগে, এই পাঁচটি ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে শিবিরের স্বাতন্ত্র্যকে ভোটাররা সম্মান করে রায় দিয়েছেন।

কোন পদে কত ভোট
ভিপি পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম। রিয়াজুল আইন বিভাগের ১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট। রিয়াজুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি। এদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। রাকিব জবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি।

জিএস পদে ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন আবদুল আলীম আরিফ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২২৩ ভোট। আবদুল আলীম আরিফ আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি জবি শাখা শিবিরের সেক্রেটারি।

এজিএস পদে জয়লাভ করেছেন শিবির প্যানেলের মাসুদ রানা। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ২০ ভোট। এই পদে ছাত্রদল-ছাত্র অধিকারের প্যানেলের আতিকুল ইসলাম তানজীল পেয়েছেন ৪ হাজার ২২ ভোট। বিজয়ী এজিএস মাসুদ রানা ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে জুলাই আগস্টের আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন। মাসুদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। 

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থী নুরনবী। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৪০০ ভোট। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। 

শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের ইব্রাহীম খলিল। তিনি ৫ হাজার ৫২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের মোছা. সুখীমন খাতুন। তিনি ৪ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের নুর মোহাম্মদ। তিনি ৪ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের হাবীব মোহাম্মদ ফারুক। তিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৫৪ ভোট।

আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের নওশীন নাওয়ার। তিনি ৪ হাজার ৫০১ ভোট পেয়েছেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের জর্জিস আনোয়ার নাইম। তিনি ৩ হাজার ৯৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন শিবিরের প্যানেলের মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ৩৪৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের তাকরিম মিয়া। তিনি ৫ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়েছেন।

পরিবহন সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের মাহিদ হোসেন। তিনি ৪ হাজার ২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের মো. রিয়াসাল রাকিব। তিনি ৪ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

কার্যনির্বাহী সদস্যের সাতটি পদের মধ্যে শিবির–সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন পাঁচজন। একজন স্বতন্ত্র ও একজন ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন। সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন শিবিরের প্যানেলের ফাতেমা আক্তার। তিনি পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৫১ ভোট। শিবিরের প্যানেলের আকিব হাসান পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৮৮ ভোট। একই প্যানেলের শান্তা আক্তার পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৫৪ ভোট। একই প্যানেলের মেহেদী হাসান পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৪৮ ভোট। একই প্যানেলের মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ২ হাজার ৯১৭ ভোট।

এ ছাড়া ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত প্যানেলের মোহাম্মদ সাদমান আমিন সাম্য ৩ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। 

একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাহিদ হাসান পেয়েছেন ৩ হাজার ১২৪ ভোট। 

হল সংসদ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদসহ বিভিন্ন পদে জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা সমর্থিত প্যানেল।

ভিপি পদে ৫৫০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন ছাত্রীসংস্থা-সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের মোছা. জান্নাতুল উম্মি তারিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ‘অপরাজিতার অগ্রযাত্রা’ প্যানেলের ফারজানা আক্তার রিমি পেয়েছেন ২৩৬ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৫৭১ ভোট পেয়ে ছাত্রীসংস্থা সমর্থিত প্যানেলের সুমাইয়া তাবাসসুম জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সাদিয়া সুলতানা নেলি পেয়েছেন ৩১৪ ভোট।

সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ছাত্রীসংস্থা সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের রেদওয়ানা খাওলা ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ‘অপরাজিতার অগ্রযাত্রা’ প্যানেলের শেখ তাসলিমা জাহান মুন পেয়েছেন ৪০৪ ভোট।

হল সংসদের সম্পাদকীয় ভোট সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রদলের প্যানেলের ফারজানা আক্তার। তিনি পেয়েছেন ৪৮৩ ভোট। সংস্কৃতি সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রীসংস্থার ফাতেমা তুজ জোহরা। তিনি পেয়েছেন ৪৩১ ভোট। 

পাঠাগার সম্পাদক পদে ছাত্রীসংস্থার ফাতেমা তুজ জোহরা সামিয়া। তিনি পেয়েছেন ৫৩৯ ভোট। ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রীসংস্থার সাবিকুন নাহার। তিনি পেয়েছেন ৬৩৫ ভোট। সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক পদে ছাত্রীসংস্থার ফারজানা আক্তার ৪০৮ ভোট পেয়েছেন। 

কার্যনির্বাহী সদস্য পদে জয়লাভ করেছেন-সাবরিনা আক্তার (৬১৪), নওশীন বিনতে আলম (৫৩৬), মোছা. সায়মা খাতুন (৫১৭), লস্কর রুবাইয়াত জাহান (৪৮৪)। এই পদের লস্কর রুবাইয়াত ছাড়া বাকি সবাই ছাত্রীসংস্থার। 

শিবিরের জয়ের কারণ কী?
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং আন্তরিকভাবে ভোট চেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তরিক ব্যবহার ও সবাইকে স্নেহ-সম্মান-শ্রদ্ধাই এই জয়ের অন্যতম কারণ। 

এ ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের বিজয় এবং তাদের ইতিবাচক কার্যক্রমের ফলে অনেকেই শিবিরের প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন। ডাকসু যেভাবে উন্নয়ন করছে তারই আশায় শিবিরের প্যানেলের প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, এ ছাড়াও ছাত্রশিবিরের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ নেই। মারামারিতে যুক্ত না হওয়ার প্রবণতা আকৃষ্ট করেছে ভোটারদের। বিভিন্ন নেতার একাডেমিক ফলাফলও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেছে শিবিরকে ভোট দিতে।

কেউ কেউ বলছেন, শিবিরকে ভোট দিলে কোনো টেন্ডারবাজি করবে না যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজে ভূমিকা রাখতে পারবেন জকসুর সদস্যরা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, ৫ আগস্টের পর নানা কারণে ছাত্রদলের প্রতি শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ থেকেই শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের প্যানেলকে ভোট না দিয়ে শিবিরকে ভোট দিয়েছেন। সবাই যে শিবির করেন, তা নয়। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ভোট দিতেই তারা শিবিরকে বেছে নিয়েছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা আশা রাখি শিবির আমাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করবে না। তাদের শিক্ষার্থীবান্ধব ব্যবহার এবং বিনয় আমাদের আগ্রহী করেছে তাদের ভোট দিতে।’

জকসু নির্বাচনের পর্যবেক্ষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিউম্যান রাইটস সোসাইটির সভাপতি জুনায়েদ মাসুদ বলেন, ‘শিবিরের জয়ের প্রধান কারণ আমি মনে করি সংগঠনটি সম্পর্কে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক ধারণা। তাদের নমনীয় আচরণ শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করেছে। বিশেষ করে রক্ষণশীল পরিবার থেকে আসা নারী শিক্ষার্থীরা শিবিরের কাছে নিজেদের বেশি নিরাপদ মনে করেন। এ ছাড়া শিবিরের ক্লিন ইমেজ যথেষ্ট ভালো ভূমিকা রেখেছে। বিগত সময়ে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে তারা অনেক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। শিবিরের জয়ের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের পালস বুঝতে পারার সক্ষমতা। তারা শিক্ষার্থীদের মানসিকতা বুঝতে পেরেছে, শিক্ষার্থীদের ভাষায় কথা বলতে পেরেছে। এ ছাড়া শিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।’

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মিলন বলেন, ‘৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে জবি ক্যাম্পাসে শিবির বিভিন্ন চমকপ্রদ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা প্রকাশ করেছে। তারা ক্যাম্পাসে ওয়ালফেয়ার পলিটিক্সের যে ধারা শুরু করে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তাছাড়া স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, যোগ্যতা তাদের বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ওয়াহেদ বলেন, ‘শিবিরের জয়ের কারণ শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি করা, প্রচলিত মিছিল মিটিংয়ের রাজনীতি না করা, শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজি ও মাদকমুক্ত রাজনীতি করা।’

আইইউবির কোষাধ্যক্ষ ওয়াছিম জাব্বার

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
আইইউবির কোষাধ্যক্ষ ওয়াছিম জাব্বার
মো. ওয়াছিম জাব্বার

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ-এর (আইইউবি) কোষাধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিয়েছেন মো. ওয়াছিম জাব্বার।

বুধবার (৩ জুন) তারিখে তিনি এ পদে যোগ দেন। 

তিনি খন্দকার মো. ইফতেখার হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
 
আইইউবিতে যোগদানের আগে জাব্বার বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারে ৩২ বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। 

এ সময়ে তিনি জনপ্রশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালনা ও নীতি বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
 
সর্বশেষ তিনি ইতালির তুরিনে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনিং সেন্টারে (আইএলও-আইটিসিআইএলও) ডিজিটাইজিং ইমপ্লিমেন্টেশন মনিটরিং অ্যান্ড পাবলিক প্রকিউরমেন্ট প্রজেক্ট–ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্রফেশনালাইজেশন (ডিআইএমএপিপিপি-সিডিপি)-এর ডেপুটি টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
 
এর আগে তিনি জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (বিপিআই) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের পরিচালক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের (বিয়াম) পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা), এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
 
জাব্বার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগং (ইউএসটিসি) থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এক্সিকিউটিভ এমবিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। 

তিনি যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই (সিআইপিএস) থেকে প্রকিউরমেন্ট ও সাপ্লাই বিষয়ে ডিপ্লোমা, অ্যাডভান্সড ডিপ্লোমা ও প্রফেশনাল ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন।

তিনি ২০১৭ সাল থেকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়াও, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিষয়ক জাতীয় প্রশিক্ষক হিসেবেও তিনি যুক্ত রয়েছেন। তিনি সিআইপিএস ইউকে-এর সদস্য এবং ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস বাংলাদেশের আজীবন সদস্য।

বিজ্ঞপ্তি/

১ জুলাই উদযাপিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
১ জুলাই উদযাপিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস
ছবি: খবরের কাগজ

১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হবে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে অনুষ্ঠিত এক সভায় দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টায় উপাচার্য ভবন সংলগ্ন স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ জমায়েত হবেন। সেখান থেকে সকাল পৌনে ১০ টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। শোভাযাত্রাটি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মুখস্থ পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হবে। সকাল ১০টায় পায়রা চত্বরে জাতীয় পতাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহের পতাকা উত্তোলন করা হবে। 

এসময় জাতীয় সংগীত ও উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করা হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে একটি বিশেষ স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে তোরণ নির্মাণ করা হবে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়ন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এসময় অন্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, প্রক্টর এবং অফিস প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১৯২১ সালের পহেলা জুলাই ৬০০ একর জমির ওপর পূর্ববঙ্গ এবং আসাম প্রদেশ সরকারের পরিত্যক্ত ভবনগুলো এবং ঢাকা কলেজের (বর্তমান কার্জন হল) ভবনগুলোর সমন্বয়ে মনোরম পরিবেশ গড়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার এই দিনটি প্রতিবছর ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

নেচার ইনডেক্স র‌্যাংকিংয়ে দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবি

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এএম
আপডেট: ০১ জুন ২০২৬, ১০:২৫ এএম
নেচার ইনডেক্স র‌্যাংকিংয়ে দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবি
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)। ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক গবেষণা মূল্যায়ন প্ল্যাটফর্ম ‘নেচার ইনডেক্স ইনস্টিটিউশনাল র‌্যাংকিংয়ে’ বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)।

সামগ্রিকভাবে দেশের সব গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে আইইউবির অবস্থান পঞ্চম এবং দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আইইউবি তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান (ফিজিক্যাল সায়েন্সেস) গবেষণার ক্ষেত্রেও এই র‌্যাংকিংয়ে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে আইইউবি।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধের ওপর ভিত্তি করে এই বিখ্যাত বৈশ্বিক র‌্যাংকিং তৈরি করা হয়। ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রকাশিত গবেষণাকর্মের ওপর ভিত্তি করে এবারের মূল্যায়নটি করা হয়েছে। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় মোট চারটি গবেষণা প্রবন্ধ থেকে আইইউবির নেচার ইনডেক্স শেয়ার স্কোর দাঁড়িয়েছে ০.৬৩।

আইইউবির সেন্টার ফর কম্পিউটেশনাল অ্যান্ড ডেটা সায়েন্সেসের (সিসিডিএস) কম্পিউটেশনাল ফিজিক্স উইংয়ের পরিচালক ও ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. জুয়েল কুমার ঘোষের দুটি গবেষণা প্রবন্ধ এবারের র‌্যাকিংয়ে ভূমিকা রেখেছে। 

প্রবন্ধ দুটি হলো ‘স্কেল উইদাউট কনফর্মাল সিমেট্রি ইন হাইড্রোডায়নামিক্স’ এবং ‘হাইড্রোস্ট্যাটিক ইকুইলিব্রিয়াম ইন মাল্টি-ওয়েইল সেমিমেটালস’। এগুলো প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে ইউরোপিয়ান ফিজিকেল জার্নাল সি এবং জার্নাল অফ হাই এনার্জি ফিজিক্সে।
এছাড়া আইইউবির সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকসের (কাসা) সহযোগী সদস্য ড. আনোয়ার জামান সজীব “অ্যান অ্যাকিউরেট মেজারমেন্ট অফ দা স্পেকট্রাল রেজোলিউশন অফ দা জেডব্লিউএসটি নিয়ার ইনফ্রারেড স্পেক্টোগ্রাফ” শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধটিও এই র্যাংকিংয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। এটি প্রকাশিত হয়েছিলো অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রফিজিক্স সাময়িকীতে।

আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, অর্থবহ বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিবেশ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অনুসন্ধানভিত্তিক গবেষণা সংস্কৃতি প্রয়োজন। আইইউবি গত কয়েক বছরে সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতার ক্রমবর্ধমান পরিপক্বতার প্রতিফলন।

আইইউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিউ. লুন্ড বলেন, নেচার ইনডেক্স বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বিশ্বের স্বীকৃত শীর্ষ বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাকে মূল্যায়ন করে। এই র‌্যাংকিংয়ে আইইউবির অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা ও মানকে তুলে ধরেছে।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা নেচার ইনডেক্সকে উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক গবেষণা মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নেচার, সায়েন্স, নেচার ফিজিক্স, দা ল্যানসেট, সেল, জার্নাল অফ হাই এনার্জি ফিজিক্স এবং অ্যাস্ট্রোনমি ও অ্যাস্ট্রফিজিক্স-এর মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ এই সূচকে বিবেচনায় নেওয়া হয়।

বেরোবিতে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
বেরোবিতে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
ছবি: খবরের কাগজ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।

এই উপলক্ষে শনিবার (৩০ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এক বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী। এ সময় তিনি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য দোয়া করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মো. তাজুল ইসলাম, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাসুদ রানা।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

দোয়া ও মোনাজাতে জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং দেশের অগ্রগতি, শান্তি ও জনগণের কল্যাণে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

দোয়া মাহফিল শেষে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে তবারক বিতরণ করেন।

গাজী আজম/আমান

ঢাবিকে কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর, বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি সাদা দলের

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
ঢাবিকে কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর, বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি সাদা দলের
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) কোচিং সেন্টারের সাথে তুলনা করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। অন্যথায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষার্থে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে, হুঁশিয়ারী দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মে) ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার স্বাক্ষ‌রিত এক বিবৃ‌তি‌তে তা জানানো হয়। বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের চরম অবমাননাকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানানো হয়। 

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গবেষণা ও প্রকাশনায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষস্থানে রয়েছে। টাইমস হায়ার এডুকেশন এশিয়া র‍্যাংকিং অনুযায়ী, এটি বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গবেষণা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে প্রায় ৫৬টি সক্রিয় ও বিশেষায়িত গবেষণা ব্যুরো ও কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র এবং সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র অন্যতম। এমনকি প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্কোপাস এবং ওয়েব অব সায়েন্স ইনডেক্সড জার্নালে অসংখ্য গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে দু'টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে তুলনা করেছেন তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়: এই বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, জন্ম এবং বিকাশের ইতিহাসের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত।’

এতে আরো বলা হয়, ‘রাষ্ট্রীয় উদাসীনতা ও সীমিত বাজেটের মধ্যেও এ দেশের শিক্ষা ও গবেষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল অবদান রেখে চলেছে, তা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। সংক্ষেপে বলতে গেলে বাংলাদেশ মানেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এমন একটি ঐতিহ্যবাহী ও জাতীয় আবেগ জড়ানো প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে একজন দায়িত্বশীল প্রতিমন্ত্রীর মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলো কোচিং সেন্টার- এই ধরণের বক্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

বক্তব্য প্রত্যাহার না করা হলে কঠোর কর্মসূচিতে নামার হুঁশিয়ারী দিয়ে বলা হয়, ‘এই অবিবেচনাপ্রসূত মন্তব্যের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং সর্বোপরি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস ও অবদানকে চরমভাবে অপমান করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল অবিলম্বে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের এই অবমাননাকর মন্তব্য অতি দ্রুত প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানাচ্ছে। অন্যথায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষার্থে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’

এর আগে ইউটিউবে প্রকাশিত একটি পডকাস্টে সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোচিং সেন্টার বলি। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি যে গবেষণা করে তার কানাকড়িও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করে না। যেখানে ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টেট সাবসিডাইজ, একশোর উপরে তাদের মেজর রয়েছে; সেই জায়গা থেকে নর্থ সাউথ এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, দুটো প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি; তাদের ডিপার্টমেন্টই আছে ৬-৭টি। অনেক বেশি বাই মার্জিন ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে বেশি রিসার্চ করে।’

আরিফ জাওয়াদ/এসএন