২০২৩ সালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যে নারীরা তাদের সম্প্রদায়কে সহায়তা করার পাশাপাশি এর প্রভাব মানিয়ে নিতে কাজ করেছেন এমন ২৮ জন জলবায়ু অগ্রদূত স্থান পেয়েছিলেন বিবিসির তালিকায়। তাদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সারাহ ওট; যে কিনা প্রথমে জলবায়ু পরিবর্তনকে গুজব মনে করে পরবর্তীতে তা নিয়েই কাজ করেছেন।
পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক সারাহ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বেড়ে ওঠেন। মা একজন নার্স ছিলেন, বাবা মাইক্রোস্কোপ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম বিক্রি করতেন। তার দাদা পেনসিলভানিয়ার কয়লাখনিতে কাজ করতেন। ছোটবেলা প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য তিনি প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শিখেছেন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি প্রথম জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা নিয়ে একটি প্রবন্ধ পড়েছিলেন। সারাহ ওট সেই সময় জলবায়ু পরিবর্তনকে গুজব মনে করতেন।
পরবর্তীতে প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে পড়ে জলবায়ু পরিবর্তন সত্যিই হচ্ছে কি না তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে পূর্ব অ্যাংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার বেশ বিতর্ক ছিল। তখনো তার ধারণা ছিল, বিজ্ঞানীরা মিথ্যা বলছেন। বিয়ের পর তিনি জর্জিয়া চলে আসেন। সেখানে দুই মেয়ে হওয়ার পর সব কাজ বন্ধ করে তাদের সময় দেওয়ার জন্য বাড়িতে থাকতেন। সেই বছরগুলো তার জন্য খুব কঠিন ছিল, কারণ প্রসবোত্তর বিষণ্নতা এবং উদ্বেগ তাকে ঘিরে ধরেছিল। নিজেকে এই বিষণ্নতা থেকে বের করার জন্য রাতের খাবার রান্না করার সময় বা গাড়িতে ড্রাইভ করার সময় রেডিও শুনতেন।
একটা সময় সেগুলোও তাকে ভালো রাখতে পারছিল না। অবশ্য এটা ছিল তার জীবনে বড় টার্নিং পয়েন্ট। তিনি বুঝতে পারেন, সামাজিক নেটওয়ার্ক বদলে গেছে। তিনি যা বিশ্বাস করতেন, তার থেকে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণে প্রোটেস্ট্যান্টবাদের একটি শক্তিশালী ভূমিকার কারণে তিনি সেখানে যোগদান করেছিলেন। বিশ্ব সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নানাবিধ অধিকার সম্পর্কে আন্দোলন করেছিলেন, ২০১৬ সালে সেটিও তিনি ছেড়ে দিয়ে শিক্ষকতায় ফিরে গিয়েছিলেন এবং নতুন করে সব শুরু করেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনকে অস্বীকার করতে পারবেন না। জলবায়ু সমাধানের পক্ষে নাগরিকদের ‘জলবায়ু লবি’ নামে একটি নির্দলীয় গোষ্ঠীর সম্পর্কে জেনে তাদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে থাকেন।
সারাহ শুরুতে ভুলের মধ্যে থেকেও পরবর্তীতে তিনি ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্স এডুকেশনের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক দূত হন। এখন তার শিক্ষার্থীদের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি দিয়ে শারীরিক শিক্ষার ধারণাগুলো শেখান। সেই সঙ্গে পরিবেশবিষয়ক সমস্যাগুলো সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ান।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যদিও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আপনি সবাইকে একসঙ্গে পাবেন না, তার পরও আমরা একা সবকিছু করতে পারি না। অ্যাক্টিভিজম হচ্ছে বাগানের মতো, এখানে আপনাকে কিছুটা বিরতি নিতে হবে এবং বিদ্যমান অবস্থাকে সম্মান জানাতে হবে’।
জাহ্নবী