গোয়েন্দা ঔপন্যাসিক আগাথা ক্রিস্টিকে বলা হয়ে থাকে কুইন অব মিস্ট্রি বা রহস্যের রানি। বাস্তবেও এই নারীর জীবনে রহস্য কম ছিল না। একবার বাড়ি থেকে সকালে বের হয়ে নিখোঁজ হন ক্রিস্টি। তাকে খুঁজে পাওয়া যায় হারানোর ১১ দিন পর। জীবনের রহস্যও ভালোবাসতেন এই লেখক। তাই তার হারিয়ে যাওয়ার ১১ দিন কতটা নাটকীয় আর বাস্তব, তা আজও জানে না কেউ।
নিখোঁজের ১১ দিন
সময় তখন ১৯২৬ সাল। স্বামী আর্চি বাল্ড ক্রিস্টি, মেয়ে রোজালিন্ড ও রহস্য লেখক হিসেবে পৃথিবীজোড়া খ্যাতি নিয়ে ভালোই চলছিল আগাথা ক্রিস্টির জীবন। হঠাৎ স্বামী আর্চির জীবনে আসে অন্য নারী। এ ঘটনায় ক্রিস্টি এতটাই ব্যথিত হন যে, একদিন সকালে নিজের গাড়ি করে বেরিয়ে যান বাড়ি থেকে। পরদিন তাকে খুঁজতে মাঠে নামে ১ হাজার পুলিশ সদস্য, ১ হাজার ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক ও বিমানবাহিনীর সদস্য। থ্রিলার গল্পের আরেক স্রষ্টা স্যার আর্থার কোনান ডয়েলও যোগ দেন ক্রিস্টি নিখোঁজের এই রহস্য অনুসন্ধান করতে। তবে ক্রিস্টির ব্যবহৃত গাড়িটি রাস্তায় ভগ্ন অবস্থায় উদ্ধার করা ছাড়া আর কোনো কিছুর খোঁজ পাচ্ছিলেন না কেউ। অবশেষে ১১ দিন পর নিজ বাড়ি থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে দেখা মেলে ক্রিস্টির। সেখানে একটি পার্লারে স্পা নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু অনুসন্ধানকারীরা তাকে ক্রিস্টি হিসেবে সম্বোধন করলেও লেখক জানান তিনি স্বামী আর্চির তরুণী প্রেমিকা ন্যানসি নিল। সদ্যই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসেছেন ইউরোপে!
অমীমাংসিত রহস্য
আগাথা ক্রিস্টি সেদিন কেন নিজেকে তরুণী ন্যানসি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন সেটি আজও জানে না কেউ। ঘটনার দুই বছর পর ক্রিস্টি অবশ্য বলেছিলেন, কিছুদিনের মতো স্মৃতিভ্রম হয়েছিল তার। সে সময় পত্রিকার পাতায় নিখোঁজ লেখক হিসেবে নিজের ছবি দেখলেও চিনতে পারেননি নিজেকে। তবে ক্রিস্টির এই বয়ান অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠেনি। কেউ কেউ মনে করেন, পরকীয়া আসক্ত স্বামী আর্চিকে শায়েস্তা করতেই নিখোঁজ হয়ে পৃথিবীব্যাপী গুঞ্জন তৈরি করেছিলেন ক্রিস্টি। রহস্য লেখিকা ক্রিস্টির জন্য এটি তেমন কঠিন কিছু নয়। প্রচলিত বিশ্বাস, ক্রিস্টি দম্পতি যে বাড়িতে থাকতেন সেই বাড়িটিই ছিল অভিশপ্ত। এ বাড়িটি কেনার আগে তাদের সতর্কও করেছেন অনেকে। বাড়িতে উঠার পরই এমন বিপর্যয় ঘটেছে বলে দাবি করেন অনেকে!
নিজের জটিলতাকেও ভালোবাসতেন ক্রিস্টি
আগাথা ক্রিস্টি মনে করতেন, তার নিজের মধ্যেও রয়েছে এক জটিল অংশ। সেটা উপভোগ ও অনুসন্ধান করতে ভালোবাসতেন এই লেখক। সেজন্যই হয়তো জীবনের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে জীবনকে উপভোগ করতে পেরেছিলেন তিনি। ক্রিস্টি তার আত্মজীবনীতে বলেন, ‘জীবনকে তিনি প্রচণ্ড ভালোবাসেন’। নিজের ইচ্ছা ও ভালো লাগাকে প্রাধান্য দিতেন লেখক। নিখোঁজ হয়ে ফিরে আসার কিছুদিন পর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটান স্বামী আর্চির সঙ্গে। সাত বছর বয়সী মেয়ে রোজালিন্ডকে আইনত নিয়ে আসেন নিজের কাছে। বিচ্ছেদের পর একবার বেরিয়ে পড়েন ভ্রমণের উদ্দেশে। ইরাক ভ্রমণের সময় সেখানে পরিচয় হয় ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক ম্যাক্স মালাউনের সঙ্গে। বয়সে ১৩ বছরের ছোট মালাউনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ক্রিস্টির। এর ছয় মাস পর বিয়ে করেন তারা। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত স্বামী মালাউন ও লেখালেখির সঙ্গে কাটান ক্রিস্টি।
জাহ্নবী
.jpg)