‘একটা শাড়ি, একটা করে গল্প’ এই স্লোগান নিয়েই ‘আরাত্রিকা’র যাত্রা শুরু। আমি ভীষণ শাড়িপ্রেমী মানুষ। শাড়ি পরতে ভালোবাসি, শাড়ি ডিজাইন করতে ভালোবাসি, সর্বোপরি শাড়ি নিয়ে কাজ করছি অনেক দিন ধরে। আমার আরেকটি পেজ রয়েছে ‘ত্রিনয়নী’ নামে। সেখানে মূলত শাড়ির সঙ্গে অন্যান্য প্রোডাক্টও রয়েছে। ওটাও মোটামুটি পরিচিত একটা পেজ। কিন্তু শাড়ি নিয়ে একটা ব্র্যান্ড তৈরি করার স্বপ্ন বহুদিনের। সেই স্বপ্ন থেকে আলাদা করে একটা শাড়ির পেজ খুলি আরাত্রিকা নামে। সেই থেকে আরাত্রিকা এগিয়ে চলছে তার নিজের গতিতে। এভাবেই আরাত্রিকার শুরুর গল্প শোনাচ্ছিলেন উদ্যোক্তা কনিকা মোদক।
কথা প্রসঙ্গে তিনি পেজের নামকরণের পেছনের গল্পও শোনান। কনিকা বলেন, ‘আরাত্রিকা মূলত আমার মেয়ের নাম। আর আমার উদ্যোগও আমার সন্তানের মতো। প্রতিটি কাজ অনেক যত্ন এবং ভালোবাসা দিয়ে করার চেষ্টা করি। তাই এই নামেই কাজ শুরু করি।’
উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করতে অনুপ্রেরণা কী ছিল, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি বিবিএ শেষ করে চাকরি নিই একটা রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে। তারপর এমবিএ পড়া, সংসার-সন্তান, চাকরি সব মিলিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলাম। তাই বাধ্য হয়ে চাকরি ছেড়ে দিই। তার কিছুদিন পর আমার দ্বিতীয় সন্তান আসে পৃথিবীতে। তখন আরও কষ্টকর হয়ে যায় নতুন করে চাকরি শুরু করা। কিন্তু কিছু একটা তো করতে হবে। সিদ্ধান্ত নিলাম, যাতে আমার দক্ষতা আছে তা নিয়ে কাজ করব। আর সেই থেকেই উদ্যোগের শুরু।’
তিনি পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমার উদ্যোগে পরিবারের ভূমিকা অপরিহার্য ছিল। পরিবারের সবাই খুবই সাপোর্ট করেছে। তাদের সাপোর্ট ছাড়া আসলে এত দূর এগোতে পারতাম না।’
কাজ করতে গেলে কমবেশি প্রতিবন্ধকতা থাকবেই। সে প্রসঙ্গে কনিকা বলেন, ‘কাজটা করতে গিয়ে দেখেছি যতটা সহজ আমরা মনে করি, ততটা সহজ নয়। অনেকেই অনলাইন ব্যবসাকে মনে করেন খুব সহজ কাজ। ঘরে বসে টাকা ইনকাম করা যায়- এসব বলে হেয় করেন। উদ্যোগ শুরুর দিকে শুনেছি চাকরি বাদ দিয়ে অনলাইন ব্যবসা করাটা ঠিক হবে না, হাজার হাজার পেজ রয়েছে, খুবই কম্পিটিটিভ হবে। হ্যাঁ, কম্পিটিটিভ অবশ্যই, কিন্তু আমি মনে করি ভালো কাজ করলে এবং ক্রেতাদের রুচি অনুযায়ী কাজ করলে অবশ্যই সফলতা আসবে।’
উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করার জন্য বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিবেশ কতটা অনুকূল- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘পরিবেশ অনুকূল বলেই আমি মনে করি। আমাদের দেশের মানুষ খুবই আন্তরিক, কাজ করতে গিয়ে প্রতিটি জায়গায় সহযোগিতা পেয়েছি।’
নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘উদ্যোক্তা জীবনে অনেক বাধা-বিপত্তি আসবে, কিন্তু তা উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে হবে। কাজ করে যাবেন আপনার মতো করে, সাফল্য আসবেই।’
আরাত্রিকা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? উত্তরে কনিকা হেসে বলেন, “আমি স্বপ্ন দেখি ‘আরাত্রিকা’ বাংলাদেশের ভালো মানের একটা ব্র্যান্ড হবে। দেশীয় ডিজাইনার শাড়ির ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে জায়গা করে নেবে। আরাত্রিকার পণ্য দেশের সীমানা পেরিয়েছে বহুবার, এর পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। আমাদের দেশীয় পণ্যের আরও একটু বিস্তার ঘটবে এই প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে।”
জাহ্নবী