ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ফুরফুরে মেজাজে ইংলিশরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পেল যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বিধিনিষেধ ফিফার কাছে অভিযোগ করবে ইরান ২-০ গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শুরুতেই আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচে অভিষেক হবে স্প্যানিশ হার্নান্দেজের সিরিজ হারের পর বাংলাদেশ শিবিরে দুসংবাদ হোর্হে মেসির গুজব ছড়ানোয় বরখাস্ত তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী চাঁদপুরের সানজিদার বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি মরক্কোর অধিনায়ক হাকিমি গণপিটুনির শিকার চার ডিবি সদস্য গ্রেপ্তার, অপহরণ চেষ্টার মামলা শিশুস্বাস্থ্যে বড় উদ্যোগ, ৬ মাসে চালু ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল জামালপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ বিশ্বকাপে মরক্কোর নতুন বিস্ময় আয়ুব বুয়াদ্দি সংবাদ প্রকাশের জেরে বগুড়ার সাংবাদিক কারাগারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ব্রাজিল ম্যাচে থাকছে বিরল ৫০০ বছরের পুরোনো ফুটবল লেখক শিবিরের ১৭তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, স্বস্তির আশা ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব স্মরণে মিশরে আন্তর্জাতিক সেমিনার হিলি স্থবন্দরের পাইকারি বাজারে বেড়েছে চালের দাম অস্ট্রেলিয়ার গতিময় কাউন্টার-অ্যাটাকে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র নোয়াখালীতে মোটরের তারে জড়িয়ে প্রাণ গেলো মা-ছেলের প্রতিবেশী দেশ মাদক ঢুকিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চায়: প্রতিমন্ত্রী টুকু রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান রাজবাড়ীতে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ইমাম গ্রেপ্তার সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার: পরীমনি ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

প্রাকৃতিক রঙের জাদুকর ছিলেন রুবি গজনবী

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৫, ০২:২৫ পিএম
আপডেট: ১৫ মে ২০২৫, ০২:২৮ পিএম
প্রাকৃতিক রঙের জাদুকর ছিলেন রুবি গজনবী
রুবি গজনবী।ছবিঃসংগৃহীত।

বাংলাদেশের কারুশিল্প আন্দোলনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন রুবি গজনবী। তিনিই প্রথম এ দেশের মানুষের কাছে প্রাকৃতিক রং পরিচিত করে তোলেন। ১৯৭৯ সালে প্রাকৃতিক রঙের বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য ভারতের একটি কারুশিল্পের ওয়ার্কশপে যান। সেখানে কমলা দেবি তাকে প্রাকৃতিক রং নিয়ে কাজ করতে বলেন। ঢাকায় এসে জয়নুল আবেদীন, কামরুল হাসান, রশিদ চৌধুরীদের সঙ্গে একটি কারুশিল্পের ন্যাশনাল এক্সিবিশন করেছিলেন ১৯৮২ সালে। এরপর ভাবেন কীভাবে প্রাকৃতিক রঙের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায়।

গাছের গুড়া, ফুল, পাতা, পেঁয়াজের খোসা এমন কোনো সবজি নেই যা দিয়ে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেননি। ভারত থেকে শিখে আসেন ছয়টি রং তৈরির কৌশল। এখানে তিনি তৈরি করেন আরও ৯টি রং। এভাবে তিনি মোট ১৫টি প্রাকৃতিক রং তৈরি করেন। এরপর তিনি ইউএনডিপির একটি ফান্ড নিয়ে শুরু করেন গবেষণা। সেখানে দুই বছরের মাথায় তৈরি করেন আরও ১৫টি রং। মোট তৈরি হয় ৩০টি প্রধান রং। মূলত রুবি দেশের প্রতি একটা দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করেন প্রাকৃতিক রং দিয়ে। তার প্রচেষ্টায় প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার শুধু টেকসই শিল্পের দিকেই নয়, বরং বাংলাদেশি কারুশিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

১৯৩৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন রুবি গজনবী। বাবার চাকরির সুবাদে কলকাতায় কেটেছে তার স্কুলজীবন। পড়েছেন লরেটো স্কুলে। যা ছিল তার সৃজনশীল বিকাশের ভিত্তি। দেশভাগের পর পরিবারসহ বাংলাদেশে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে অর্থনীতিতে অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তার শিক্ষাজীবন তাকে কারুশিল্পের অর্থনৈতিক দিকগুলো নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায়ের কাজ দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন এবং বাংলাদেশের কারুশিল্প উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করার প্রতিজ্ঞা করেন।

রুবি গজনবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান প্রাকৃতিক রঙের পুনরুজ্জীবন। ১৯৮২ সালে তিনি এই প্রকল্প শুরু করেন এবং মাত্র ছয়টি রং নিয়ে কাজ শুরু করলেও, পরে তা আরও প্রসারিত হয়। প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার নিয়ে তার কাজের সবচেয়ে বড় মাইলফলক ছিল ১৯৯০ সালে ‘অরণ্য ক্রাফট’ প্রতিষ্ঠা। এই প্রতিষ্ঠান ভেজিটেবল ডাই ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব পোশাক তৈরির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তার প্রচেষ্টায় প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার শুধু টেকসই শিল্পের দিকেই নয়, বরং বাংলাদেশি কারুশিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এরই মাঝে ১৯৮৫ সালে পটুয়া কামরুল হাসানসহ সমমনা ব্যক্তিরা বাংলাদেশের কারুশিল্প ও কারুশিল্পীদের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ।

বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রুবি গজনবী কারুশিল্পের উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে পরিষদের প্রেসিডেন্ট ও নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সংগঠকসুলভ দক্ষতার ফলে ২০১৮ সালের জামদানি উৎসবটি স্মরণীয় হয়ে ওঠে। এই উৎসবের মাধ্যমে জামদানিকে সোনারগাঁওয়ে ওয়ার্ল্ড ক্রাফট সিটির স্বীকৃতি এনে দেন। ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে জামদানির অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রুবি গজনবী কারুশিল্পের উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে পরিষদের প্রেসিডেন্ট ও নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সংগঠকসুলভ দক্ষতার ফলে ২০১৮ সালের জামদানি উৎসবটি স্মরণীয় হয়ে ওঠে। এই উৎসবের মাধ্যমে জামদানিকে সোনারগাঁওয়ে ওয়ার্ল্ড ক্রাফট সিটির স্বীকৃতি এনে দেন। ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে জামদানির অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

রুবি গজনবী ছিলেন ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস কাউন্সিলের সদস্য এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের রঞ্জক কর্মসূচির চেয়ারপারসন। তার আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের কারুশিল্পের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি দুটি উল্লেখযোগ্য বই, নকশা এবং রঙিন, রচনা করেন। বইগুলোতে তিনি কারুশিল্পের প্রাচীন ঐতিহ্য, বিশেষত জামদানি নকশার বিষয়ে আলোকপাত করেন। এ ছাড়া তিনি জামদানি নকশা নিয়ে বিভিন্ন সম্পাদনা প্রকল্পে কাজ করেছেন।

কারুশিল্পের বাইরেও রুবি গজনবী বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ট্রাস্টি ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সদস্য ছিলেন। তার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্ব সমাজে স্বচ্ছতা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের বার্তা বহন করেছে।

/ফারজানা ফাহমি

 

সংবাদ উপস্থাপক থেকে জনপ্রতিনিধি: শামীমা তন্বীর অসাধারণ অভিযাত্রা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
সংবাদ উপস্থাপক থেকে জনপ্রতিনিধি: শামীমা তন্বীর অসাধারণ অভিযাত্রা

একজন নারী যখন নিজের স্বপ্নকে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার বানান, তখন তার গল্প অনুপ্রেরণার হয়ে ওঠে হাজারও মানুষের জন্য। যুক্তরাজ্যের লন্ডন বরোর লিটল ইলফোর্ড ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা নাসরিন তন্বীর পথচলা ঠিক তেমনই এক অনন্য উদাহরণ।

সংবাদ উপস্থাপক, মেডিকেল সেক্রেটারি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব–এসব পরিচয়ের পাশাপাশি এখন তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। আর এই অর্জন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি নারীদের সম্ভাবনারও প্রতীক।

টাঙ্গাইলে জন্ম নেওয়া শামীমা নাসরিন তন্বী ছোটবেলা থেকেই মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন। তবে রাজনীতিতে আসার পরিকল্পনা আগে থেকে ছিল না। তার ভাষায়, মানুষের সেবা করার ইচ্ছাই ধীরে ধীরে তাকে এই পথে নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন কমিউনিটির নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে তিনি উপলব্ধি করেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় থাকলে আরও কার্যকরভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব। সেই উপলব্ধিই তাকে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

লন্ডনের স্থানীয় নির্বাচনে তিনি ‘নিউহ্যাম ইন্ডিপেন্ডেন্টস’ পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন। নতুন একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হয়েও মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারা তার কাছে বড় প্রাপ্তি। তন্বীর মতে, এই বিজয় কেবল একজন প্রার্থীর নয়, বরং স্থানীয় মানুষের পরিবর্তনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। মানুষ নতুন নেতৃত্ব ও বাস্তবসম্মত সমাধানে বিশ্বাস রেখেই তাকে নির্বাচিত করেছে।

তার এই যাত্রার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো বহুমাত্রিক পরিচয়ের সফল সমন্বয়। একদিকে তিনি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসে (NHS) মেডিকেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, অন্যদিকে জনপ্রতিনিধি হিসেবেও মানুষের সেবা করছেন। তিনি মনে করেন, দুটি ক্ষেত্রের মূল উদ্দেশ্য একই–মানুষের কল্যাণ। হাসপাতালের কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান, যা কাউন্সিলর হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাকে আরও সংবেদনশীল ও কার্যকর করে তোলে।

সংবাদ পাঠক ও উপস্থাপক হিসেবে সফল ক্যারিয়ার থাকা সত্ত্বেও রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তন্বী বলেন–সংবাদ উপস্থাপনা তাকে মানুষের গল্প বলার সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু রাজনীতি তাকে সেই গল্পের বাস্তব সমাধানে কাজ করার সুযোগ এনে দিয়েছে। তিনি শুধু সমস্যার বর্ণনাকারী হতে চাননি; পরিবর্তনের অংশীদার হতে চেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নারী হিসেবে পথচলায় চ্যালেঞ্জও কম ছিল না। নেতৃত্বের জায়গায় এখনো নারীদের সক্ষমতা নিয়ে নানা প্রচলিত ধারণা রয়েছে। অনেক সময় নিজেকে বারবার প্রমাণ করতে হয়েছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম ও সততা থাকলে কোনো বাধাই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তার এই বিশ্বাসই তাকে প্রতিটি ধাপে এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছে।

রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তন্বীর বার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, রাজনীতি কোনোভাবেই শুধু পুরুষদের ক্ষেত্র নয়। সমাজের উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণে নারীদের দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্ব সমানভাবে প্রয়োজন। তাই নারীদের নিজেদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখে ভয় না পেয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এই সাফল্যের পেছনে পরিবারের ভূমিকার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তন্বী। ব্যস্ত কর্মজীবনের মাঝেও পরিবারের সমর্থন তাকে মানসিক শক্তি ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তিনি মনে করেন, পরিবারের আস্থা ছাড়া এমন বহুমাত্রিক দায়িত্ব সামলানো সম্ভব হতো না।

লন্ডনের নির্বাচনে তার বিজয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশ, বিশেষ করে টাঙ্গাইল এলাকায় আনন্দের ঢেউ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্বের জায়গা তৈরি করায় অনেকেই এটিকে নিজেদের গর্ব হিসেবে দেখছেন। তন্বী নিজেও এই ভালোবাসায় অভিভূত।

বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশকে তিনি নিজের শিকড় বলে মনে করেন। ভবিষ্যতে শিক্ষা, নারী নেতৃত্ব, যুব উন্নয়ন ও কমিউনিটি উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। যুক্তরাজ্যে কাজের অভিজ্ঞতাকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চান তিনি। তার বিশ্বাস, প্রবাসে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তন্বী বলেন, প্রথম দায়িত্ব মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা। তিনি চান, তার কাজের মাধ্যমে মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আসুক। দীর্ঘমেয়াদে আরও বৃহত্তর পরিসরে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা, এমন একটি দৃষ্টান্ত রেখে যাওয়া যাতে আগামী প্রজন্মের মেয়েরা বিশ্বাস করতে পারে—পরিশ্রম, সততা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনো স্বপ্নই অসম্ভব নয়।

শামীমা নাসরিন তন্বী; যিনি নিজের পেশাগত পরিচয়, ব্যক্তিগত স্বপ্ন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে এক সুতোয় গেঁথে প্রমাণ করেছেন–নেতৃত্বের জন্য লিঙ্গ নয়, প্রয়োজন যোগ্যতা, নিষ্ঠা ও মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা।

/এসএল

অনলাইনে নারীরাই কেন কটূক্তির শিকার?

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
অনলাইনে নারীরাই কেন কটূক্তির শিকার?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক সময় ছিল মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগের জায়গা। এখন এটি মতপ্রকাশ, পেশাগত পরিচিতি তৈরি, ব্যবসা পরিচালনা এবং সামাজিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু এই একই জায়গা নারীদের জন্য প্রায়ই অপমান, কটূক্তি ও হয়রানির ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। 

প্রশ্ন হলো, অনলাইনে নারীরা কেন এত সহজ টার্গেট? এর উত্তর খুঁজতে গেলে শুধু প্রযুক্তির দিকে তাকালে হবে না; দেখতে হবে সমাজ, সংস্কৃতি এবং ক্ষমতার কাঠামোকেও।

অনেকেই মনে করেন, অনলাইন হয়রানি একটি নতুন সমস্যা। বাস্তবে এটি পুরোনো বৈষম্যেরই নতুন রূপ। সমাজে নারীদের পোশাক, চলাফেরা, পেশা বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করার যে প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেটিকে আরও দৃশ্যমান করেছে।

ক্ষমতার রাজনীতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন কটূক্তি অনেক সময় ক্ষমতার রাজনীতির অংশ। সমাজে যখন নারীরা শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, রাজনীতি কিংবা উদ্যোক্তা হিসেবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠেন, তখন কিছু মানুষ সেটিকে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত অবস্থানের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে।

ফলে নারীদের চুপ করিয়ে দেওয়া, আত্মবিশ্বাস নষ্ট করা কিংবা জনপরিসর থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি উপায় হয়ে দাঁড়ায় অনলাইন আক্রমণ। এ কারণেই নারী সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, রাজনীতিবিদ কিংবা জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতারা তুলনামূলক বেশি ঘৃণামূলক মন্তব্যের শিকার হন।

অজ্ঞাত পরিচয়ের সাহস

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, অজ্ঞাত পরিচয়ে সক্রিয় থাকার সুযোগ। অনেকেই নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে কটূক্তি করেন। বাস্তব জীবনে যেটি বলার সাহস পান না, সেটিই অনলাইনে নির্দ্বিধায় লিখে ফেলেন।

মনোবিজ্ঞানীরা এটিকে ‘অনলাইন ডিসইনহিবিশন’ বলে থাকেন। অর্থাৎ পর্দার আড়ালে থাকার কারণে মানুষ নিজের আচরণের সামাজিক দায়বদ্ধতা কম অনুভব করে। ফলে সহানুভূতি কমে যায় এবং আক্রমণাত্মক আচরণ বেড়ে যায়।

অ্যালগরিদম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম সাধারণত বেশি প্রতিক্রিয়া পাওয়া কনটেন্টকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। দুঃখজনকভাবে বিতর্ক, বিদ্বেষ ও উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য অনেক সময় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশি সম্পৃক্ততা তৈরি করে।

ফলে একটি নারীবিদ্বেষী মন্তব্য বা অপমানজনক পোস্ট অল্প সময়ের মধ্যে হাজারও মানুষের সামনে পৌঁছে যায়। এতে শুধু একজন নারী নন, পুরো অনলাইন পরিবেশই নারীদের জন্য কম নিরাপদ হয়ে ওঠে।

অনেকের ধারণা, অনলাইনের মন্তব্যকে গুরুত্ব না দিলেই হয়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। নিয়মিত কটূক্তি, অপমান বা হুমকির শিকার হলে উদ্বেগ, হতাশা, আত্মবিশ্বাসহীনতা এবং মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। অনেক নারী নিজের মতামত প্রকাশ করা বন্ধ করে দেন। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে সরে যান। আবার অনেকের ক্ষেত্রে এর প্রভাব কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কেও পড়ে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনলাইন হয়রানি অনেক সময় ভার্চুয়াল জগতের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতেও রূপ নিতে পারে।

পরিবর্তন কোথা থেকে শুরু হবে?

অনলাইনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমকে সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ঘৃণামূলক বক্তব্য শনাক্ত ও অপসারণে আরও কার্যকর হতে হবে। একই সঙ্গে নারীদের জন্য অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সহজ ও নিরাপদ করা জরুরি।

সবচেয়ে বড় কথা, অনলাইনে নারীদের বিরুদ্ধে কটূক্তিকে ‘স্বাভাবিক’ বা ‘মজা’ হিসেবে দেখার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ প্রতিটি অপমানজনক মন্তব্য শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, নারীদের জনপরিসরে অংশগ্রহণের অধিকারকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

/এসএল

নারী অধিকার যখন ভূরাজনীতির হাতিয়ার

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
নারী অধিকার যখন ভূরাজনীতির হাতিয়ার
যুদ্ধ শেষ হলেও নারীদের বেদনা, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তা থেকে যায় দীর্ঘদিন। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমারা ইতিহাসের বিভিন্ন যুদ্ধে নারীদের যুদ্ধের শিকার, প্রতিরোধের প্রতীক; আবার অনেক সময় যুদ্ধের যৌক্তিকতা তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে আধুনিক বিশ্বে মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও নারী মুক্তির ভাষা যত বেশি শক্তিশালী হয়েছে, ততই এই ভাষাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগও জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পশ্চিমা সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে ‘নারী অধিকার রক্ষা’ একটি পরিচিত যুক্তি হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রশ্ন হলো, সত্যিই কি নারীর অধিকার রক্ষার জন্য এসব যুদ্ধ হয়েছে, নাকি নারীমুক্তির ভাষা কখনো কখনো বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক স্বার্থের আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?

বিশ্বব্যাপী নারীর অধিকার নিয়ে উদ্বেগের কোনো ঘাটতি নেই। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে নারীর শিক্ষা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবু আজও প্রতিমুহূর্তে বিশ্বের অসংখ্য নারী পারিবারিক সহিংসতা, বৈষম্য, দারিদ্র্য ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছেন। এই বাস্তবতায় অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়, যখন কোনো দেশে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়, তখন হঠাৎ করে সেই দেশের নারীদের মুক্তির প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসে।

এই প্রবণতাকে অনেক গবেষক ‘নারী অধিকারের অস্ত্রায়ণ’ বলে অভিহিত করেন। অর্থাৎ নারীর অধিকার ও লিঙ্গসমতার ভাষাকে প্রকৃত সামাজিক পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক, সামরিক বা কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে। সেই সময় পশ্চিমা রাজনৈতিক বক্তব্যে আফগান নারীদের দুর্দশার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। তালেবান শাসনের অধীনে নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। অনেকের মতে, এটি ছিল বাস্তব সমস্যার প্রতিফলন। তবে সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, নারীর অধিকারের প্রশ্নকে যুদ্ধের নৈতিক বৈধতা তৈরির জন্যও ব্যবহার করা হয়েছিল।

দুই দশকের যুদ্ধের পর আফগানিস্তানের বাস্তবতা কী দাঁড়িয়েছে? লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, হাজার হাজার নারী স্বজন হারিয়েছে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটিকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ফেলেছে। ফলে প্রশ্ন ওঠে–যে যুদ্ধ নারীর মুক্তির নামে শুরু হয়েছিল, তার চূড়ান্ত ফলাফল কি সত্যিই নারীদের জন্য মুক্তি বয়ে এনেছে?

একই ধরনের বিতর্ক দেখা গেছে ইরাক ও লিবিয়ার ক্ষেত্রেও। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নারী অধিকারের কথা বলে সামরিক হস্তক্ষেপকে সমর্থন করা হলেও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সশস্ত্র সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। আর যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছে নারী ও শিশুদের।

কারণ যুদ্ধ কেবল সীমান্তে লড়াই নয়। যুদ্ধ মানে ঘর হারানো, পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়া, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট এবং যৌন সহিংসতার ঝুঁকি বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নারী ও কন্যাশিশুরা প্রায়ই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। তারা শুধু বোমা ও গুলির শিকার হয় না; বরং যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও বহন করে।

ফিলিস্তিন থেকে ইরান—যুদ্ধের সবচেয়ে নির্মম মূল্য আজও দিচ্ছেন নারীরাই। গাজার রাফাহ সীমান্ত দিয়ে ফিরে আসা বহু নারী নিজেদের ঘরবাড়ির জায়গায় এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ দেখছেন। একসময় যেখানে ছিল সংসার, সন্তানদের হাসি আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন, সেখানে এখন যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন। বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও প্রিয়জন হারানোর বেদনা তাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা।

একইভাবে সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ নামের একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই হামলায় ১৬৫ থেকে ১৭০-এর বেশি স্কুলছাত্রী ও শিক্ষাকর্মী নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিল ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী মেয়ে। হামলায় বিদ্যালয় ভবন ধসে পড়ে এবং শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।

যুদ্ধ শুধু ঘর ভাঙেনি, ভেঙে দিয়েছে তাদের স্বপ্নও। ছবি: সংগৃহীত

এই হামলা শুধু কয়েকটি প্রাণ কেড়ে নেয়নি; এটি শত শত পরিবারের স্বপ্ন ধ্বংস করেছে। যে মেয়েরা বই হাতে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছিল, তারা মুহূর্তেই যুদ্ধের শিকার হয়ে যায়। একই সংঘাতে বহু নারী ও শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, ঘরবাড়ি হারিয়েছেন এবং নিরাপত্তাহীন জীবনে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের রাজনৈতিক লক্ষ্য যাই হোক না কেন, এর সবচেয়ে নির্মম মূল্য পরিশোধ করছে সাধারণ নারী ও শিশুরাই।

নারী অধিকারকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের আরেকটি বিপদ হলো, এটি প্রকৃত নারীবাদী আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যখন কোনো সামরিক শক্তি নারীমুক্তির ভাষা ব্যবহার করে যুদ্ধকে বৈধতা দেয়, তখন অনেক মানুষের কাছে নারী অধিকারের দাবিটিই সন্দেহের বিষয় হয়ে ওঠে। ফলে যারা সত্যিকার অর্থে সমতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য লড়াই করছেন, তাদের কাজও কঠিন হয়ে পড়ে।

আজকের বিশ্বে নারীর অধিকার নিঃসন্দেহে একটি সর্বজনীন মানবাধিকার প্রশ্ন। কিন্তু সেই অধিকার যদি ক্ষমতার রাজনীতির অংশ হয়ে যায়, তা হলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় নারীদেরই। কারণ তখন নারীমুক্তি আর মানবিক লক্ষ্য হিসেবে থাকে না; এটি পরিণত হয় কূটনৈতিক ভাষণ, সামরিক কৌশল কিংবা আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তারের একটি উপাদানে।

যুগোস্লাভিয়া থেকে আফগানিস্তান, ইরাক থেকে লিবিয়া, কিংবা সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত–বহু ক্ষেত্রে সমালোচকরা একই প্রশ্ন তুলেছেন: নারীমুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু হওয়া হস্তক্ষেপের শেষ ফলাফল কী সত্যিই নারীদের জীবনকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করেছে?

এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। তবে একটি সত্য স্পষ্ট–যুদ্ধ কখনো নারীদের জন্য সহজ বাস্তবতা বয়ে আনে না। নারীর অধিকারকে যদি সত্যিই গুরুত্ব দিতে হয়, তা হলে তা বোমা, নিষেধাজ্ঞা কিংবা আগ্রাসনের মাধ্যমে নয়; শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় নারীদের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার মাধ্যমেই সম্ভব। অন্যথায় নারীমুক্তির স্লোগান বারবার উচ্চারিত হবে, কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রের ধ্বংসস্তূপে পড়ে থাকবে সেই নারীদেরই স্বপ্ন, যাদের মুক্তির কথা বলে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

/এসএল

উপকূলীয় নারীদের জলবায়ু সংগ্রাম নিয়ে রাজধানীতে আলোকচিত্র প্রদর্শনী

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
উপকূলীয় নারীদের জলবায়ু সংগ্রাম নিয়ে রাজধানীতে আলোকচিত্র প্রদর্শনী

রাজধানীতে উপকূলীয় নারীদের জলবায়ু সহনশীলতা, জীবনসংগ্রাম ও নেতৃত্ব নিয়ে তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘ভয়েজ অফ কোস্টাল ক্লাইমেট রেজিলেন্স’  শুরু হয়েছে । বৃহস্পতিবার বিকেলে পান্থপথের দৃক গ্যালারিতে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) জেন্ডার-রেসপনসিভ কোস্টাল অ্যাডাপটেশন (জিসিএ) প্রকল্পের উদ্যোগে, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ও বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়েছে।

প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের জীবন ও সংগ্রামের নানা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও জীবিকাগত সংকট মোকাবিলায় নারীদের অভিযোজন কৌশল, বিকল্প জীবিকা, পানি ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক নেতৃত্বকে আলোকচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও তা প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়। এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে নারী নেতৃত্বভিত্তিক জলবায়ু অভিযোজন উদ্যোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, জিসিএ প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল হাই আল মাহমুদ, ইউএনডিপি বাংলাদেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সর্দার এম আসাদুজ্জামান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের যোগাযোগ বিভাগের প্রধান মো. আব্দুল কাইয়ুম।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২১ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দৃক গ্যালারিতে প্রদর্শনীটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এতে আলোকচিত্রী এ বি রশিদের ধারণ করা প্রায় ৮৫টি স্থিরচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। সরাসরি প্রদর্শনীর পাশাপাশি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মেও এটি আয়োজন করা হয়েছে।

/এসএল

সম্পর্কের ভিত মজবুত করতে নারী যা চায়

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
সম্পর্কের ভিত মজবুত করতে নারী যা চায়

সম্পর্ক শুধু ভালোবাসা বা একসঙ্গে সময় কাটানোর নাম নয়; এটি পারস্পরিক সম্মান, নিরাপত্তা, বোঝাপড়া ও মানসিক সংযোগের এক সূক্ষ্ম সমীকরণ। নারী সম্পর্কে কী চান–এই প্রশ্নের উত্তর সব নারীর ক্ষেত্রে এক নয়। তবে কিছু মৌলিক চাহিদা আছে, যা প্রায় সব নারীই নিজের সম্পর্কের মধ্যে খুঁজে পান। এগুলো পূরণ হলে সম্পর্ক হয় গভীর, স্থায়ী ও পরিণত।

সম্মান ও সমান মর্যাদা

একজন নারী সবার আগে চান সম্মান। তাকে ছোট করে কথা বলা, মতামত উপেক্ষা করা বা সিদ্ধান্তে গুরুত্ব না দেওয়া–এসব বিষয় সম্পর্ককে ধীরে ধীরে দুর্বল করে। একজন নারী চান, তার সঙ্গী তাকে সমান অংশীদার হিসেবে দেখুক।

ধারাবাহিকতা ও নির্ভরযোগ্যতা

সম্পর্কে অনিশ্চয়তা নারীদের মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে। কখনো খুব যত্নশীল, আবার হঠাৎ দূরে সরে যাওয়া–এ ধরনের আচরণ সম্পর্কে অস্থিরতা তৈরি করে।
নারীরা সাধারণত এমন একজন মানুষ চান, যার আচরণে ধারাবাহিকতা আছে। প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করা, কঠিন সময়ে পাশে থাকা এবং কথার সঙ্গে কাজের মিল রাখা–এসব বিষয় একজন নারীর কাছে গভীর গুরুত্ব বহন করে। কারণ, নির্ভরযোগ্য মানুষই সম্পর্ককে নিরাপদ করে তোলে।

যোগাযোগের প্রয়োজন

অনেক সম্পর্ক ভেঙে যায় শুধু যোগাযোগের অভাবে। নারীরা সাধারণত নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে চান এবং সঙ্গীর কাছ থেকেও খোলামেলা কথা আশা করেন।

নিরাপত্তার অনুভূতি

নারীরা সম্পর্কে মানসিক নিরাপত্তা খোঁজেন। এখানে নিরাপত্তা বলতে শুধু অর্থনৈতিক বিষয় বোঝায় না; বরং আবেগগত নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যেন নিশ্চিত থাকতে পারেন–তার সঙ্গী তাকে অপমান করবেন না, প্রতারণা করবেন না বা অবহেলা করবেন না। সম্পর্কের এই নিরাপদ পরিবেশই একজন নারীকে মানসিকভাবে স্বস্তি দেয়।

তার শক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া

অনেক সময় সমাজে এখনো এমন ধারণা দেখা যায় যে, নারীর সাফল্য পুরুষের জন্য হুমকি হতে পারে। কিন্তু সুস্থ সম্পর্কে একজন নারী চান, তার সঙ্গী তার শক্তি, মেধা ও সাফল্যকে সম্মান করুক।

নারীরা চান না কেউ তাদের নিয়ন্ত্রণ করুক; বরং পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ দিক। একজন নারী যখন নিজের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যান, তখন তার সঙ্গীর সমর্থন সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে। 

হাসি ও আনন্দের প্রয়োজন

হাস্যরস সম্পর্ককে প্রাণবন্ত রাখে। জীবনের চাপ, কাজের ব্যস্ততা বা নানা সমস্যার মাঝেও একটু হাসি সম্পর্ককে সহজ ও উষ্ণ করে তোলে। নারীরা সাধারণত এমন মানুষ পছন্দ করেন, যার সঙ্গে স্বস্তিতে থাকা যায়। সব সময় গুরুগম্ভীর সম্পর্ক অনেক সময় ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে। 

মূল্যায়ন ও কৃতজ্ঞতা

একজন নারী যখন সম্পর্কের জন্য সময়, শ্রম ও আবেগ বিনিয়োগ করেন, তখন তিনি সেটার স্বীকৃতিও আশা করেন। অনেক সময় ছোট ছোট প্রচেষ্টাগুলো অদৃশ্য থেকে যায়। অথচ একটি সাধারণ ‘ধন্যবাদ’ বা ‘তুমি পাশে আছ বলে ভালো লাগে’–এ ধরনের বাক্য একজন নারীর মনে গভীর প্রভাব ফেলে।

ব্যক্তিস্বাধীনতার জায়গা

সম্পর্ক মানেই নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলা নয়। একজন নারী চান, তার ব্যক্তিগত সময়, পছন্দ ও স্বপ্নের জায়গাটুকু সম্মান করা হোক।

সুতরাং সম্মান, নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও ভালোবাসার সমন্বয়েই একটি সম্পর্ক সুন্দর হয়ে ওঠে। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ সবচেয়ে বেশি খোঁজে এমন একজনকে, যার কাছে নিজের মতো করে থাকা যায়।

/এসএল