বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের এক জীবন্ত কিংবদন্তি রুনা লায়লা। ৬ দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর কণ্ঠে কোটি শ্রোতা মুগ্ধ হয়েছেন। সেই অবিস্মরণীয় সংগীতযাত্রার জন্য সম্প্রতি জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (JCI) বাংলাদেশ তাঁকে সম্মানিত করেছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত “Women of Inspiration Award 2025” অনুষ্ঠানে তাঁকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় ।
এই আয়োজনে বিভিন্ন খাতে বিশেষ অবদান রাখা ১৩ জন নারীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। চিকিৎসা, আইন, ক্রীড়া, মিডিয়া ও উদ্যোক্তা ক্ষেত্রের পাশাপাশি তিনজন 'Unsung Heroes'-কেও বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়।
তবে রাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা ছিল রুনা লায়লার হাতে তুলে দেওয়া লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, যা সংগীতাঙ্গনের প্রতি তাঁর দীর্ঘস্থায়ী অবদানের স্বীকৃতি বহন করে।
রুনা লায়লার সংগীতজীবনের শুরু ষাটের দশকে, তৎকালীন পাকিস্তানে। উর্দু চলচ্চিত্রে গান গেয়ে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। এরপর বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তাঁর কণ্ঠেই বাজে নতুন দিনের গান। বাংলা, হিন্দি, উর্দু, গুজরাটি, তেলেগুসহ ১৮টি ভাষায় গেয়ে তিনি কেবল জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও খ্যাতি অর্জন করেন।
১৯৭৪ সালে উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী লতা মঙ্গেশকর-এর সঙ্গে একই মঞ্চে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা রুনা লায়লার জীবনে ছিল এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। তাঁর গাওয়া “দমাদম মস্ত কালান্দার”, “এই বৃষ্টি ভেজা রাতে”, “ভালোবাসা যত বড় জীবন ততো বড় নয়” এসব গান আজও জনপ্রিয়তার শীর্ষে।
শুধু সংগীতেই নয়, রুনা লায়লার ভূমিকা সামাজিক দায়িত্ববোধের ক্ষেত্রেও বিস্ময়কর। ১৯৭৬ সালে তিনি ঢাকায় কয়েকটি দাতব্য কনসার্টের আয়োজন করেন। যার অর্থ দিয়ে নির্মিত হয় একটি ক্যান্সার হাসপাতাল।
এছাড়া তিনি শিশু, নারী অধিকার, শিক্ষাবিষয়ক প্রকল্পে যুক্ত আছেন এবং ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও ভূমিকা রেখেছেন। সার্কের এইচআইভি/এইডস সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে তাঁর সঙ্গী ছিলেন বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগন।
জেসআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, “রুনা লায়লার অবদান সংগীতে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি এক সামাজিক অনুপ্রেরণা।”

এইচএমভি, ইউটিউব, স্পোটিফাই যে মাধ্যমই হোক না কেন, রুনা লায়লার কণ্ঠে এখনও মানুষ মুগ্ধ হয়। তিনি সময়ের ভিড়ে হারিয়ে যাননি, বরং নতুনদের উৎসাহ দিয়ে এবং সংগীতচর্চার শুদ্ধ পথে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।
একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক, ভারতের দাদা সাহেব ফালকে সম্মাননা সব মিলিয়ে রুনা লায়লার জীবনজুড়ে আছে একগুচ্ছ স্বীকৃতি। আর জেসিআই প্রদত্ত সর্বশেষ সম্মান তাঁর প্রতি জাতির কৃতজ্ঞতারই প্রতিচ্ছবি।
তাই রুনা লায়লার নাম আজ শুধু একজন শিল্পী নয়, বরং এক প্রেরণার প্রতীক। সংগীতের ভুবনে তিনি চিরন্তন হয়ে থাকবেন।
/এসএল