ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি? গুজব ও বিচারাধীন ইস্যুতে সংসদের সময় নষ্ট না করার আহ্বান স্পিকারের চালের বাজারে কারসাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নতুন ও প্রথম আয়কর রিটার্ন  দাখিলকারীর প্রতি পরামর্শ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জিএম কাদেরের নিন্দা ও উদ্বেগ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ ওয়ান ব্যাংক থেকে নগদে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর সেবা চালু Wisdom of King Soloman বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র শুধু সাফল্য নয়, অনিয়মও তুলে ধরুন-সাংবাদিকদের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতে মাস্টারকার্ড ও অ্যাসেন্ট হেলথ লিমিটেডের অংশীদারিত্ব ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে বাংলাদেশের রং নায়িকা ববি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন বাশার তার স্বামী নন ইউল্যাবে জেন্ডার সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ স্পিকারের সাহিত্যের খেলা প্রবন্ধর ৪০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরির সুযোগ সিয়াটলে যাওয়ার অনুমতি পেল না মিশর ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট জর্ডান ম্যাচে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্কালোনির

প্রাভা হেলথ দিচ্ছে সর্বোত্তম আধুনিক চিকিৎসাসেবা

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:০৬ পিএম
আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৪ পিএম
প্রাভা হেলথ দিচ্ছে সর্বোত্তম আধুনিক চিকিৎসাসেবা
প্রাভা হেলথ

প্রাভা হেলথ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবাকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মানসম্পন্ন চিকিৎসক, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, দ্রুত সেবা, আর রোগী-কেন্দ্রিক অভিজ্ঞতার কারণে মানুষ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রাখছে।

আধুনিক চিকিৎসা সেবায় বেসরকারি হাসপাতালের ভূমিকা: 
প্রাভা হেলথ বিশ্বাস করে, আধুনিক চিকিৎসা শুধু রোগ নিরাময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি প্রতিরোধ, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং রোগীর সার্বিক সুস্থতাকে গুরুত্ব দেয়। তাই প্রাভা হেলথ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করছে উন্নত প্রযুক্তি, প্রশিক্ষিত ডাক্তার, হোম স্যাম্পল কালেকশন, অনলাইন রিপোর্ট ডেলিভারি এবং আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব পরীক্ষায়, যাতে রোগীরা দেশের ভেতরেই বিশ্বমানের সেবা পান।

সবশেষে, বেসরকারি হাসপাতালগুলো সরকারি ব্যবস্থাকে সহায়তা করছে, একইসঙ্গে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করছে এবং মানুষকে আরও বিকল্প, দ্রুত ও বিশ্বস্ত সেবা গ্রহণের সুযোগ করে দিচ্ছে।

কেন প্রাভা?
প্রাভা হেলথে রোগীরা ডাক্তার দেখার সময় পান অন্তত ১৫ মিনিট, যেখানে আপনার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা হয় এবং সমস্যার আসল কারণ বোঝার চেষ্টা করা হয়। বেশি অপেক্ষা করতে হয় না, তাই ঝামেলাও কম। আমাদের ডাক্তাররা আন্তর্জাতিক গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা দেন, যাতে সঠিক ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিত হয়।

প্রাভা এক জায়গাতেই দেয় সব ধরনের বহির্বিভাগীয় চিকিৎসা সুবিধা। ডাক্তার কনসালটেশন, ল্যাব টেস্ট, এক্স-রে ও আল্ট্রাসাউন্ডের মতো ইমেজিং সার্ভিস, আর সঙ্গে আছে ফার্মেসি। ফলে রোগীদের আর আলাদা জায়গায় যেতে হয় না।

আমাদের ল্যাব ISO-অ্যাক্রেডিটেড এবং আন্তর্জাতিক RIQAS প্রোগ্রামের অংশ, তাই টেস্টের রিপোর্ট নির্ভুল ও বিশ্বমানের। শুধু চিকিৎসা নয়, আমরা গুরুত্ব দিই প্রতিরোধমূলক যত্নেও যাতে সময়মতো ঝুঁকি ধরা পড়ে আর আপনি থাকেন আরও সুস্থ। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের সেবাকে করেছে আরও সহজ, দ্রুত এবং আপনার জন্য আরামদায়ক।

চিকিৎসা সেবায় আমরা কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিই
প্রাভা হেলথে আমরা বিশ্বাস করি রোগী শুধু একজন কেস নয়, একজন মানুষ। তাই চিকিৎসা সেবায় আমরা কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিই; রোগীর প্রতি যথেষ্ট সময় দেওয়া, সঠিক ও বিশ্বমানের ডায়াগনস্টিক টেস্ট, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহানুভূতিশীল আচরণ। আমাদের লক্ষ্য রোগীকে শুধুই চিকিৎসা দেওয়া নয়, বরং তাদের স্বাস্থ্যযাত্রায় আস্থা ও স্বস্তি দেওয়া।

বিশ্বমানের সেবা দিতে সরকারি সহযোগিতা কতটা জরুরি
অবশ্যই সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ জনবল এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সেবা দিতে গেলে সরকারি নীতি সহায়তা, কর ছাড়, প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোগত সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় থাকলে দেশে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত হবে।

বর্তমান আইন ও মন্ত্রণালয়ের তদারকি নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি
আইন ও মন্ত্রণালয়ের তদারকি অবশ্যই প্রয়োজনীয়, তবে আধুনিক চিকিৎসা সেবা দ্রুত পৌঁছে দিতে আরও কিছু উন্নয়ন দরকার। অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন পুরনো হয়ে যায় বা বাস্তব প্রয়োগে সময় লাগে, যা নতুন প্রযুক্তি বা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সেবা চালু করতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। নিয়মিত আপডেট, কার্যকর বাস্তবায়ন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে খোলামেলা সংলাপ হলে রোগীরা আরও আধুনিক ও নিরাপদ সেবা পাবেন।

আমাদের ল্যাব ও পরীক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ
প্রাভার সব পরীক্ষা আন্তর্জাতিক মান (ISO-accredited) ল্যাবে সম্পন্ন হয়। প্রতিটি ধাপে মাননিয়ন্ত্রণ (Quality Control) করা হয় যাতে রিপোর্টের নির্ভুলতা নিশ্চিত থাকে। আমরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করি এবং নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক মান যাচাইয়ের সঙ্গে সমন্বয় রাখি। তাই আমাদের প্রতিষ্ঠানে যেসব পরীক্ষা হয়, সেগুলো আন্তর্জাতিক মানের সমতুল্য এবং রোগীরা নিশ্চিন্তে ভরসা করতে পারেন।

বিশেষায়িত সেবায় প্রাভার ভূমিকা
প্রাভা হেলথে রোগীরা এক জায়গায়ই পান বহুমুখী স্বাস্থ্যসেবা। আমাদের রয়েছে ২৪টি বিভাগ ও ৭০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। কার্ডিওলজি, গাইনোকোলজি, চক্ষু, চর্মরোগসহ নানা ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডাক্তাররা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেন।

শুধু চিকিৎসাই নয়, আমরা গুরুত্ব দিই প্রতিরোধমূলক যত্নেও, যাতে রোগ জটিল হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করা যায়। আমাদের বিউটি ও ওয়েলনেস সেন্টারে রয়েছে ত্বক ও এস্থেটিক চিকিৎসা ছাড়াও স্কিন হেলথ, হরমোনাল ব্যালান্স এবং ডায়েট-নিউট্রিশন পরামর্শ, যা সামগ্রিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।

বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা কমানো
অনেক রোগী দেশে অভিজ্ঞ ডাক্তার ও আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকার কারণে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। প্রাভা হেলথ এই প্রবণতা কমাতে কাজ করছে। ইতোমধ্যেই আমরা ৮ লক্ষাধিক রোগীকে সেবা দিয়েছি। আমাদের ISO-অ্যাক্রেডিটেড ল্যাব, আন্তর্জাতিক মানের হেলথচেক, এবং অভিজ্ঞ ডাক্তারদের উপস্থিতি রোগীদের আস্থা দেয়। প্রাভার ডাক্তাররা রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন অনুসরণ করে চিকিৎসা দেন। ফলে রোগীরা ছোটখাটো বা নিয়মিত চেকআপের জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা এড়িয়ে দেশেই সঠিক, দ্রুত এবং বিশ্বমানের সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

রোগীর সর্বোত্তম সেবা ও সমৃদ্ধ চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রাভার ব্যবস্থাপনা
প্রাভা হেলথে রোগী-কেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিটি ধাপে সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করি। ডাক্তার কনসালটেশন থেকে ল্যাব টেস্ট, রিপোর্ট ডেলিভারি এবং ফলো-আপ, সব কিছুই একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রত্যেক রোগীর জন্য সময় বরাদ্দ, স্বচ্ছ মূল্যনীতি এবং সঠিক তথ্য সরবরাহ আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য।

সার্বিক চিকিৎসা ও উন্নত সেবা প্রদানের জন্য আমরা আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের ব্যবহার করি। এছাড়া, হোম স্যাম্পল কালেকশন ও কনসার্ন-ভিত্তিক প্যাকেজের মতো সুবিধা রোগীদের জীবনকে সহজ ও ঝামেলামুক্ত করে। এইভাবে প্রাভা রোগীর সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেবা প্রদানেও স্বচ্ছতা এবং দক্ষতা বজায় রাখে।

মানবিক মূল্যবোধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় প্রাভার ভূমিকা
প্রাভা হেলথে আমরা রোগীকে শুধুই রোগী হিসেবে দেখি না। তাদের পরিবার, জীবনধারা ও মানসিক অবস্থাকেও গুরুত্ব দিই। রোগীর স্বাচ্ছন্দ্য, গোপনীয়তা এবং সম্মান আমাদের সেবার মূলভিত্তি। ডাক্তাররা মনোযোগ দিয়ে শোনেন, সময় দেন, আর রোগীকে চিকিৎসার সঙ্গী হিসেবে মূল্যায়ন করেন।

স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায়ও প্রাভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কোভিড মহামারির সময় আমাদের হোম স্যাম্পল কালেকশন সার্ভিস রোগীদের ঘরে বসেই টেস্ট করার সুযোগ দিয়েছে, যা সংক্রমণ কমাতে এবং জরুরি সময়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

আজও সেই অভিজ্ঞতা আমাদের চালিত করে। প্রাভা শুধু চিকিৎসা দেয় না, রোগীর পাশে থেকে তাদের স্বাস্থ্যযাত্রাকে নিরাপদ ও মানবিক করে তোলে।

বিদেশমুখী রোগী প্রবণতার কারণ ও আমাদের মতামত
বাংলাদেশে বিশ্বমানের হাসপাতাল ও ল্যাব থাকা সত্ত্বেও কিছু রোগী চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা রাখেন। এর মূল কারণ হলো রোগীদের কাছে সেবার স্বচ্ছতা, সময়োপযোগী অ্যাপয়েন্টমেন্ট, বিশেষায়িত প্যাকেজের সহজলভ্যতা, এবং ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণের অভাব।

আমাদের মতামত হলো, দেশের মধ্যেই আন্তর্জাতিক মানের সেবা সহজলভ্য হলে এই প্রবণতা কমানো সম্ভব। প্রাভা হেলথের মতো প্রতিষ্ঠান ISO-অ্যাক্রেডিটেড ল্যাব, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং কনসার্ন-ভিত্তিক প্যাকেজের মাধ্যমে রোগীদের আস্থা তৈরি করছে, যাতে তারা বিদেশে না গিয়ে দেশের মধ্যেই নির্ভরযোগ্য সেবা পেতে পারে।

বাংলাদেশে আধুনিক চিকিৎসা ও হাসপাতালগুলোর জন্য পদক্ষেপ
বাংলাদেশে আধুনিক, বিশ্বমানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি নীতি ও তদারকি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে হাসপাতালগুলোতে ISO-অ্যাক্রেডিটেড ল্যাব ও আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, স্বচ্ছ মূল্যনীতি এবং রোগী-কেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করা।

সরকারি সহযোগিতা ও কার্যকর তদারকি থাকলে বেসরকারি হাসপাতালগুলো দেশের মধ্যেই আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা প্রদান করতে পারবে এবং রোগীর আস্থা ও সেবা মান বৃদ্ধি পাবে।

বেসরকারি হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা সেবার মান
বেসরকারি হাসপাতালের আধুনিক চিকিৎসা সেবার মান আন্তর্জাতিক মানসম্মত হওয়া উচিত। এর মধ্যে থাকা উচিত. প্রতিটি রোগীর জন্য পর্যাপ্ত কনসালটেশন সময়, ডাক্তারদের পাশাপাশি সকল কর্মীর সহানুভূতিশীল মনোভাব, ISO-অ্যাক্রেডিটেড ল্যাব, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং স্বচ্ছ মূল্যনীতি।

এছাড়া, নাৰ্স, ফ্লেবোটোমিস্টসহ সকল সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীর নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এইভাবে সেবা মান নিশ্চিত করলে রোগীর আস্থা বৃদ্ধি পায়, এবং দেশের মধ্যেই রোগীরা নিরাপদ ও বিশ্বমানের চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারে।

বিজ্ঞপ্তি/

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জিএম কাদেরের নিন্দা ও উদ্বেগ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জিএম কাদেরের নিন্দা ও উদ্বেগ
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।  

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ধানমন্ডি এলাকায় হামলার এ ঘটনা ঘটে।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, "এ সময় সাংবাদিকদের 'আওয়ামী লীগের দোসর' আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও তাদের ক্যামেরা-মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়"।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি রাষ্ট্র যদি নিজেকে গণতান্ত্রিক মনে করে, সে ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সে রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। 

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা হামলার শিকার হয়েছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান জিএম কাদের। তিনি আহত সাংবাদিকদের দ্রুত সুস্থতাও কামনা করেন। 

নাঈম/

ওয়ান ব্যাংক থেকে নগদে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর সেবা চালু

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
ওয়ান ব্যাংক থেকে নগদে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর সেবা চালু
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

গ্রাহকদের জন্য আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন সুবিধা নিশ্চিত করতে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি-এর অ্যাপ থেকে মোবাইল আর্থিক সেবা নগদে টাকা আনার সেবা চালু হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের লেনদেন স্বাধীনতা যেমন নিশ্চিত হবে, একই সঙ্গে দেশের ক্যাশলেস লেনদেনের অগ্রযাত্রায় এটি একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর গুলশানে ওয়ান ব্যাংকের করপোরেট প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে সেবাটি চালু করা হয়।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ এবং ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান।

অনুষ্ঠানে নগদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, প্রতিষ্ঠানটির চিফ কমার্সিয়াল অফিসার মোহাম্মদ শাহীন সারওয়ার ভুঁইয়া, হেড অব বিজনেস সেলস মো. সাইদুর রহমান দীপু প্রমুখ।

ওয়ান ব্যাংকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, ব্যাংকটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব বিজনেস শাব্বির আহমেদ, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জিয়াউল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার আহমেদ জাফরসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে নগদ প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, “বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার মধ্যে আন্তঃসংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ান ব্যাংকের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের ফলে গ্রাহকেরা আরও সহজে ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন। একইসঙ্গে দেশের ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান বলেন, “ওয়ান ব্যাংকের তরফ থেকে আমরা সব সময় ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গ্রহণ করার দিকে বিশেষ আগ্রহী, যাতে গ্রাহকের জন্যে স্বচ্ছন্দ নিশ্চিত করা যায়। নগদের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব আমাদের গ্রাহকদের নিরাপত্তার সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে লেনদেন করতে সহায়তা করবে, যা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশলেস অর্থনীতি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে গতিশীল করবে।”

বিজ্ঞপ্তি/নাঈম

উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতে মাস্টারকার্ড ও অ্যাসেন্ট হেলথ লিমিটেডের অংশীদারিত্ব

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতে মাস্টারকার্ড ও অ্যাসেন্ট হেলথ লিমিটেডের অংশীদারিত্ব
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশে মাস্টারকার্ড-হোল্ডারদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে মাস্টারকার্ড ও অ্যাসেন্ট হেলথ লিমিটেড। এই চুক্তির আওতায় মাস্টারকার্ড, কার্ডহোল্ডার ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নির্বাচিত হেলথ চেক-আপ প্যাকেজে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং বিভিন্ন প্যাথলজি পরীক্ষায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাবেন।

এ ছাড়াও, কার্ডহোল্ডাররা হোম স্যাম্পল কালেকশন এবং অ্যাসেন্ট হেলথ কনসালটেশন সেন্টারের সেবাও নিতে পারবেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাস্টারকার্ডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা। অ্যাসেন্ট হেলথ লিমিটেডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ড. আনোয়ারুল ইকবাল; অ্যাসেন্ট গ্রুপের ডিরেক্টর মো. আমের আহমেদ; ও চিফ অপারেটিং অফিসার রোনাল্ড মিকি গোমেজ। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে মানুষকে প্রতিরোধমূলক ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে মাস্টারকার্ড ও অ্যাসেন্ট হেলথ।

বিজ্ঞপ্তি/নাঈম

ইউল্যাবে জেন্ডার সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
ইউল্যাবে জেন্ডার সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এ “জেন্ডার সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানসিকতার পরিবর্তন” বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) ইউল্যাব-এর জেনারেল এডুকেশন বিভাগ এবং অগ্রযাত্রা নারী ফোরামের যৌথ উদ্যোগে পিডি ভবনে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন, অগ্রযাত্রা নারী ফোরামের আহ্বায়ক জাকিয়া শিশির, সদস্য সচিব মেহনাজ পারভীন এবং আর্থ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী আমিনুল ইসলাম।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জেন্ডার সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, অবচেতন পক্ষপাত, জেন্ডারভিত্তিক প্রচলিত ধারণা এবং সমাজীকরণ প্রক্রিয়া কীভাবে ব্যক্তি ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণকে প্রভাবিত করে, সে বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণমূলক উপস্থাপনা, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং আত্ম-অনুধ্যানমূলক অনুশীলনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সমতা প্রতিষ্ঠার পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করেন এবং শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক পরিমণ্ডলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সঙ্গত চর্চা নিশ্চিত করার বাস্তবসম্মত উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রশিক্ষকবৃন্দ জেন্ডারভিত্তিক প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, অবচেতন, পক্ষপাত সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং ন্যায়, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিকে সমর্থন করে এমন রূপান্তরমুখী মানসিকতা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, মতামত আদান-প্রদান এবং প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলো নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পান।

জেনারেল এডুকেশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, প্রফেসর ড. শাহনাজ হুসনে জাহান তার মূল্যবান বক্তব্যে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণের বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দিতে এবং পরিবর্তনের দূত হিসেবে ভূমিকা রাখতে অনুপ্রাণিত করেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি/নাঈম

ব্র্যাকের প্রশিক্ষণ শেষে নারীরা পেলেন পেশাদার চালকের সনদ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
ব্র্যাকের প্রশিক্ষণ শেষে নারীরা পেলেন পেশাদার চালকের সনদ
ব্র্যাক

চাহিদা সত্ত্বেও দেশে প্রশিক্ষিত নারী চালকের অভাব রয়েছে। যানবাহন চালনায় আগ্রহ থাকলেও লাইসেন্সধারী নারী চালকের সংখ্যা এখনো বেশ কম, আর পেশাদার নারী চালকের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। নারীরা চালক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের চলাচল, আয় এবং আর্থিক স্বাধীনতার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ জন্য প্রয়োজন উন্নতমানের প্রশিক্ষণ ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরিবহন খাত-সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা এসব কথা বলেন।

পেশাদার নারী চালকদের প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ উপলক্ষে ‘চালকের আসনে নারী: সাফল্য উদযাপন, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবহন খাত’ (উইমেন বিহাইন্ড দ্য হুইল: সেলিব্রেটিং অ্যাচিভমেন্ট, অ্যাডভান্সিং রোড সেফটি অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ট্রান্সপোর্ট) শীর্ষক অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আন্না মিনজ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ।

নারী চালকদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন। কর্মসূচির প্রকল্প ব্যবস্থাপক এম খালিদ মাহমুদ অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সমাপনী বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলে সফল প্রশিক্ষণ শেষে পেশাদার চালকের আসনে বসতে প্রস্তুত ১০ জন নারীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ তুলে দেওয়া হয়। এই নারীরা ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলে তিন মাসের নিবিড় আবাসিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধাসম্পন্ন এই গাড়িচালনা প্রশিক্ষণে তারা তাত্ত্বিক ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এর পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের প্রশিক্ষণ এবং জেন্ডার ও সুরক্ষা (সেফগার্ডিং) বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণও পেয়েছেন। ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুল এখন পর্যন্ত ১৫৯ জন নারীকে পেশাদার চালক হিসেবে প্রস্তুত করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিবুর রশিদ বলেন, সামাজিক বাধা ও প্রচলিত ধারণার কারণে পরিবহন খাতে নারীদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন খুবই সীমিত ছিল। বর্তমান সরকার প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গতিনিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মতো নানা উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট বাসসেবা, নারী চালকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং লাইসেন্স উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

হাবিবুর রশিদ বলেন, ব্র্যাক সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি নারী চালকদের প্রশিক্ষণ, মোটরসাইকেল চালনা প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। বিশেষ করে গণপরিবহন ও জনপরিসরে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের অবদান প্রশংসার দাবি রাখে। প্রশিক্ষিত নারী চালকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা সমাজে নারীর সক্ষমতার একটি শক্তিশালী উদাহরণ তৈরি করেছেন।” প্রতিমন্ত্রী ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, তাঁর হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য আন্না মিনজ বলেন, পেশাদার নারী চালক তৈরির এই উদ্যোগটি নারীকে সমৃদ্ধ করার একটি অনন্য উদাহরণ। তবে নারী চালকদের দুটি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীরা বাস বা গণপরিবহন চালাবে— এটি সহজে মেনে নিতে আমাদের সমাজ এখনো প্রস্তুত নয়। তাই এই পেশায় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এখনো সীমিত। দ্বিতীয়ত, জনপরিসরে নারীদের টয়লেট বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। তবে সরকার নারীদের জন্য যে বিশেষ গণপরিবহনের পরিকল্পনা নিয়েছে, সেখানে ব্র্যাকের এই প্রশিক্ষিত চালকেরা বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, গণপরিবহনে নারী যাত্রী এবং নারী চালকদের জন্য আরও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে বিআরটিএ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যোগ্য নারী চালকেরা যাতে লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যথাযথ সহযোগিতা ও সেবা সহজে পান, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে। নিরাপত্তা ও দক্ষতার মান বজায় রেখে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াকে আরও নারীবান্ধব করার জন্য কাজ চলছে।

সভাপতির বক্তব্যে ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ বলেন, “আজকের এই আয়োজন নারীর ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবহন ব্যবস্থার প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকারের একটি উজ্জ্বল প্রতিফলন।” মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে একটি ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। দক্ষ ও দায়িত্বশীল চালক তৈরি এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে ব্র্যাক সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি দেশের সড়ক নিরাপত্তা খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।

তামারা হাসান আবেদ বলেন, এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত এই দক্ষ নারী চালকদের জন্য দেশে এবং দেশের বাইরে আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দক্ষ নারী চালকদের চাহিদা বাড়ছে। ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের পাশাপাশি একজন নারী চালককে মৌলিক নার্সিং ও কেয়ারগিভিং-সংক্রান্ত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণও দেওয়া যেতে পারে। এতে নারীরা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের বহুমুখী চাহিদার সঙ্গে আরও ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন এবং বিদেশে উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করবেন।

আহমেদ নাজমুল হুসেইন ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করেন। তাঁরই ধারাবাহিকতায় এসব কার্যক্রম চলছে। এই নারী চালকেরা তিন মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এরপর ব্র্যাকের ট্রান্সপোর্ট বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জ্যেষ্ঠ গাড়িচালকদের অধীনে শিক্ষানবিশ পেশাদার গাড়িচালক হিসেবে আরও তিন মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০০১ সাল থেকে ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা বাড়ানো এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কমিউনিটি পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবহার-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদান। এ ছাড়া এই কর্মসূচির আওতায় গণপরিবহনে নারী নির্যাতন ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবহন খাতের কর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানো, পরিবহন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুল থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে ১৩ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং এবং সাড়ে ১২ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে সাধারণ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৪০৯ জনকে গাড়ি চালনার প্রশিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি/