দৈনিক খবরের কাগজ এবং দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ইনসাফ বারাকাহ কিডনি ও জেনারেল হাসপাতালের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত একটি করপোরেট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী খবরের কাগজের সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এই হাসপাতালে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবায় ‘ডিসকাউন্ট’ (মূল্যছাড়) সুবিধা পাবেন।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে খবরের কাগজের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তিতে সই করেন খবরের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক খালেদ ফারুকী ও উপ-সম্পাদক ড. মুহম্মদ এমদাদ হাসনায়েন। ইনসাফ বারাকাহ কিডনি ও জেনারেল হাসপাতালের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন, সহকারী মহাব্যবস্থাপক মুহা. হাফিজুর রহমান ও সহকারী ব্যবস্থাপক (বিপণন ও মিডিয়া) হোসাইন মোহাম্মদ দুলাল।
অনুষ্ঠানে খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মীরা প্রতিনিয়ত অন্যের খোঁজখবর রাখলেও নিজেদের শারীরিক সুস্থতা এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো অনেক সময় গুরুত্ব পায় না।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র ও সমাজের সংবাদ সংগ্রহে ব্যস্ত থাকার কারণে সহকর্মীরা নিজেরাই কখন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, তা অনেক সময় বুঝে উঠতে পারেন না। হঠাৎ অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত কোথায় বা কোন হাসপাতালে নেওয়া হবে, কীভাবে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে, সেসব নিয়েও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।’
সম্পাদক বলেন, খবরের কাগজ একটি পরিবার, যেখানে সহকর্মীরা সবাই একে অপরের খোঁজখবর রাখেন। ঠিক তেমনভাবে ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতাল সাংবাদিক এবং সাধারণ রোগীদের প্রতি সেবা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ দেখালে প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসা খাতে আরও অনেক উন্নতি করবে।
সম্পাদক মোস্তফা কামাল আরও বলেন, “সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করেন। অসুস্থ হয়ে তাদের রাস্তার পাশে পড়ে থাকতেও দেখা যায়। গত বছরের ‘জুলাই ছাত্র আন্দোলনে’ বহু সংবাদকর্মী হামলার শিকার হয়েও দায়িত্ব পালনের জন্য তারা সংবাদ সংগ্রহ চালিয়ে গেছেন। আমাদের অনেক সহকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন। এর পরও সংবাদ সংগ্রহের কাজ করেছেন। সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি নিজের শরীরের সুস্থতার বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।”
এ সময় দেশ ও সমাজের প্রতি সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধ এবং কমিটমেন্ট তুলে ধরেন মোস্তফা কামাল।
ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কর্মরত খবরের কাগজের সংবাদকর্মীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটির উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে খবরের কাগজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক খালেদ ফারুকী বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। ইনসাফ বারাকাহ কিডনি ও জেনারেল হাসপাতালের মতো অন্যদেরও এভাবে এগিয়ে আসা উচিত। দৈনিক ঘটনার পাশাপাশি খবরের কাগজ বাড়তি কিছু দেওয়ার চেষ্টা করে। ঠিক ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালও জনসাধারণের জন্য বাড়তি কিছু দেবে। প্রত্যেক সাংবাদিকের উচিত, নিজের সুস্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখা।’ ছয় মাসে না পারলেও বছরে একবার হলেও পুরো শরীর চেকআপ করে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে খবরের কাগজের সহকারী সম্পাদক সারিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমরা আসলে নিজের দেহের খবর রাখি না। কিন্তু অন্যের খবর নিয়মিত রাখতে হয়। অন্যের খবর রাখতে গিয়ে আমরা অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়ি। এ জন্য সচেতন থাকতে হবে। ইনসাফ বারাকাহ আমাদের পরিবারের অনেক সদস্যের ও কাছের মানুষকে চিকিৎসা করে সুস্থ করেছে। তারা নিরলসভাবে মানুষের সেবা করছে। চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় আমরা এখন থেকে এ হাসপাতালের সেবা পাব।’
অনুষ্ঠানে বারাকাহ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম শাওন বলেন, ‘যারা দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করেন, আমরা তাদের বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। অন্তত ছয় মাসে একবার হলেও শরীরের চেকআপ করা প্রয়োজন। সাংবাদিকরা কাজের চাপে সময়মতো খাবার খেতে পারেন না। শরীরে খোঁজখবর নেওয়ার সময় তারা বের করতে পারেন না, বরং অবহেলা করেন। আমাদের মনে রাখতে হবে, সবার আগে প্রয়োজন নিজের শরীরের খোঁজখবর রাখা।’
হাসপাতালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মুহা. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে বড় সেবা হলো অসহায়দের ফ্রি ডায়ালাইসিস দেওয়া। অসহায় যারা আমাদের হাসপাতালে আসেন, তাদের আমরা অনেক গুরুত্ব দিই। চিকিৎসার জন্য ঢাকার বাইরে থেকে অনেকে এসে থাকার জায়গা এবং খাওয়ার একটা বড় সমস্যায় পড়েন। আমাদের হাসপাতাল থেকে রোগীদের থাকা-খাওয়ার সুবিধা দিচ্ছি।
খবরের কাগজের ডিজিটাল মিডিয়াপ্রধান কাজী গোলাম রাব্বানীর সঞ্চালনায় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক (বিপণন ও মিডিয়া) হোসাইন মোহাম্মদ দুলাল। এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খবরের কাগজের কপি এডিটর মাসুদুজ্জামান, সিটি এডিটর আবদুল্লাহ আল মামুন, মানবসম্পদ ও প্রশাসনপ্রধান মিন্টু ভূষণ রায়, ব্র্যান্ড ও ইভেন্ট প্রধান আতিয়া সুলতানা, ডিজিটাল মার্কেটিং হেড ফুয়াদ হোসেন এবং ইনসাফ বারাকাহ কিডনি ও জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (করপোরেট) মো. হিরো মিয়া ও মো. সাদ আব্দুল্লাহ।