ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ফুটবল বিশেষজ্ঞ বউ আক্রমণের ধারা নষ্ট করতে চান না টুখেল উখিয়ায় ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে কেক কেটে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ‘সোমেশ্বরী’র পরিচালক নওশাবা মৌলভীবাজারে মধ্যরাতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস জামালপুরে লাগেজে মিলল যুবকের মরদেহ পাঠকের গল্প : একটি খালি বেডের গল্প ‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’ মমেকে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ২৪ জাবিতে নীতিনির্ধারণী তিন পর্ষদে ২৮ শূন্যপদ, সংকটে স্বায়ত্তশাসন জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ কি চীনের হাতে? দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে : রিজভী মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে ৪৩১ পদে বড় নিয়োগ হিলিতে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউন ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার লোহাগাড়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায় থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার বেনাপোলে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ হ্যারি কেইনের ফর্মকে প্রশংসায় ভাসালেন ডেক্লান রাইস নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা: রেলপথমন্ত্রী ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা বহুমাত্রিক সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে শরীয়তপুরে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ পাঁচবিবিতে ট্রাকচাপায় যুবক নিহত ২৩ জুন: পাউন্ড ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে ইউসিটিসিতে ৭ম সিন্ডিকেট মিটিং অনুষ্ঠিত উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা জব্দ, আটক ১

চাঁদপুরে ‘টেইল অব হিলসা অ্যান্ড আ বয়’ এর মোড়ক উন্মোচন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
চাঁদপুরে ‘টেইল অব হিলসা অ্যান্ড আ বয়’ এর মোড়ক উন্মোচন
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুর জেলার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠনের উদ্যোগে গবেষণাভিত্তিক ফিকশন গ্রন্থ ‘টেইল অব হিলসা অ্যান্ড আ বয়’–এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় ইলিশের শহরখ্যাত চাঁদপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা করা হয়।

মেঘনা নদী, ইলিশ এবং মেঘনা অববাহিকার জীবন-জীবিকা, সংস্কৃতি ও নদীমাতৃক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে গ্রন্থটি রচনা করেছেন গবেষক ও কবি মো. হাবিবুর রহমান। গবেষণাভিত্তিক এ ফিকশন গ্রন্থে সাহিত্যিক আঙ্গিকে নদী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য-সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

বইটিতে জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্থানীয় ঐতিহ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মেঘনা অববাহিকার সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিভিন্ন দিক স্থান পেয়েছে। আয়োজকদের মতে, গ্রন্থটি শিক্ষার্থী, গবেষক ও তরুণ প্রজন্মকে নদীকেন্দ্রিক জীবন ও পরিবেশগত সংকট সম্পর্কে সচেতন করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

গ্রন্থটির লেখক মো. হাবিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, গবেষক ও কবি। এর আগে তার কাব্যগ্রন্থ ‘মেঘবালিকার লোচনে জলতরঙ্গ’ একুশে বইমেলা ২০২৫-এ প্রকাশিত হয়।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে লেখক বলেন, বইটি তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি গবেষণাধর্মী ও নীতিনির্ধারণ-সহায়ক সংকলন হিসেবে কাজ করবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, মেঘনা নদী ও ইলিশকেন্দ্রিক ঐতিহ্য, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা সম্পর্কে পাঠকদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিতে সক্ষম হবে গ্রন্থটি।

তিনি আরও জানান, প্রকাশের পর থেকেই বইটি দেশি-বিদেশি গবেষক, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে এর সৌজন্য কপি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির সদস্য, পাঠক, স্থানীয় শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আজম হোসেন/তামান্না রুপা/

জাবিতে নীতিনির্ধারণী তিন পর্ষদে ২৮ শূন্যপদ, সংকটে স্বায়ত্তশাসন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
জাবিতে নীতিনির্ধারণী তিন পর্ষদে ২৮ শূন্যপদ, সংকটে স্বায়ত্তশাসন
ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সর্বোচ্চ আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী তিনটি বিধিবদ্ধ পর্ষদ- সিনেট, সিন্ডিকেট ও অর্থ কমিটি (এফসি) দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের শূন্যতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন পর্ষদের মোট ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে।

তবে একাধিক শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি, বিভিন্ন কারণে নিষ্ক্রিয় ও কার্যত অনুপস্থিত সদস্যদের হিসেব করলে অকার্যকর পদের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহিতামূলক সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন পদের প্রতিনিধিদের পদত্যাগ, অপসারণ, অব্যাহতি কিংবা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার কারণে এই শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময়েও এসব পদে নতুন নির্বাচন বা মনোনয়নের উদ্যোগ না নেওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।

সিনেটে ১৪ পদ শূন্য

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও বাজেট অনুমোদনকারী পর্ষদ সিনেটে মোট সদস্য ৯৪। এর মধ্যে বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। খালি থাকা পদগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের পদ।

এ ছাড়া স্পিকার কর্তৃক মনোনীত পাঁচজন সংসদ সদস্য, চারজন কলেজ অধ্যক্ষ এবং দুইজন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধির পদও দীর্ঘদিন ধরে পূরণ হয়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক বলছেন, কাগজে-কলমে শূন্যপদের সংখ্যা ১৪ হলেও কার্যত অকার্যকর সদস্যের সংখ্যা আরও বেশি। কারণ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর শিক্ষাছুটিতে বিদেশে চলে যাওয়া, প্রশাসনিক জটিলতায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া কিংবা বিভিন্ন কারণে অধিবেশনে অংশ না নেওয়া একাধিক সদস্য রয়েছেন। ফলে বাস্তবে সিনেটের কার্যকর সদস্য সংখ্যা আরও কমে গেছে।

গত বছরের ৪২তম সিনেট অধিবেশনে কোরাম সংকট দেখা দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর অধিবেশন শুরু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) কর্তৃক মনোনীত পাঁচজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধির মধ্যে সম্প্রতি দুজনের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে। ফলে তাদের সিনেট সদস্যপদ বহাল থাকা নিয়েও আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩- এর ধারা ১৯(২) অনুযায়ী, শিক্ষার্থী সদস্যদের মেয়াদ এক বছর এবং অন্য সদস্যদের মেয়াদ তিন বছর। একই ধারায় বলা হয়েছে, উত্তরসূরি নির্বাচিত, মনোনীত বা দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত সদস্যরা পদে বহাল থাকতে পারবেন।

তবে পরবর্তী শর্তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব হারালে বা ছাত্র না থাকলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিনেট সদস্যপদ হারাবেন।

উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, যখন তাদের (শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের) মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, তখন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। সামনের সিনেট অধিবেশনের জন্য যখন তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে তখনও তাদের ছাত্রত্ব ছিল। এখন বিষয়টি নিয়ে আইনি পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।

তবে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া দুই প্রতিনিধির সদস্যপদ বাতিল হলে জাকসু নতুন করে কাউকে মনোনয়ন দিতে পারবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ’চলে গেলো মানে চলে গেলো।’  তার এই বক্তব্যে নতুন মনোনয়নের সুযোগ নেই বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

সিন্ডিকেটে অর্ধেকের বেশি পদ ফাঁকা

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রধান পর্ষদ সিন্ডিকেটের মোট সদস্যসংখ্যা ২০। বর্তমানে এর ১১টি পদই শূন্য। খালি থাকা পদগুলোর মধ্যে রয়েছে একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক মনোনীত দুইজন কলেজ অধ্যক্ষের পদ, শিক্ষকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ছয়জন প্রতিনিধি, সিনেট কর্তৃক মনোনীত দুইজন সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের একজন বিশিষ্ট নাগরিকের পদ। এ ছাড়া পদাধিকারবলে থাকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের পদটিও বর্তমানে শূন্য রয়েছে।

অর্থ কমিটিতেও শূন্যতা

বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক নীতি, বাজেট ও ব্যয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী অর্থ কমিটির ১২টি পদের মধ্যে বর্তমানে তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক মনোনীত একজন ডিন, সিনেট কর্তৃক মনোনীত একজন সদস্য এবং সিন্ডিকেট কর্তৃক মনোনীত অর্থবিষয়ক দুই বিশেষজ্ঞের মধ্যে একজনের পদ এখনও পূরণ হয়নি।

আইনের ধারা ও বাস্তবতার টানাপোড়েন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর ২২(৩) ধারা অনুযায়ী, সিন্ডিকেট সদস্যদের মেয়াদ সাধারণত দুই বছর। তবে উত্তরসূরি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত সদস্যরা পদে বহাল থাকতে পারেন। তবে একই ধারার শর্তে বলা হয়েছে, কলেজ অধ্যক্ষ, শিক্ষক প্রতিনিধি, সিনেট প্রতিনিধি বা সরকারি মনোনীত ব্যক্তিরা নিজ নিজ পদে বা দায়িত্বে বহাল থাকা সাপেক্ষেই সদস্যপদ ধরে রাখতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক মনে করেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যাঁরা চাকরি হারিয়েছেন, পদত্যাগ করেছেন কিংবা দায়িত্বে নেই, তাঁদের অনেকের সদস্যপদ কার্যত অবসান হয়েছে। কিন্তু নতুন নির্বাচন বা মনোনয়ন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়ে গেছে।

গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক বলেন, ’বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল স্পিরিটই হলো গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব। দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ বডিগুলো অপূর্ণ রেখে পরিচালনা করা স্বায়ত্তশাসনের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এই সংকট গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত নির্বাচন ও মনোনয়নের মাধ্যমে শূন্য পদগুলো পূরণ করা প্রয়োজন।’

জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাফরুহি সাত্তার বলেন, ’বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিধিবদ্ধ বডি গণতান্ত্রিকভাবে পূর্ণাঙ্গ হওয়া প্রয়োজন। তবে জুলাই-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি বিলম্বিত হয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই এসব বডি পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব হবে।’

প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবেদা সুলতানা বলেন, ’বিভিন্ন বডি পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়ে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানানো হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা সময় লাগছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ’সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যায়ক্রমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলো পুনরায় চালু করা হবে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। এখন আমরা দ্রুত এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ’আগের কিছু সদস্য বিভিন্ন কারণে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। তাই শূন্যপদগুলো পূরণের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হবে। সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, জাবির স্বায়ত্তশাসন ও অংশগ্রহণমূলক প্রশাসনিক কাঠামো সচল রাখতে হলে সিনেট, সিন্ডিকেট ও অর্থ কমিটির শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা জরুরি। অন্যথায় গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ও আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিনিধিত্বের সংকট আরও প্রকট হতে পারে।

আমানউল্লাহ খান/খাদিজা রুমি/

ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা
ছবি: খবরের কাগজ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে দৈনিক মজুরিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

রবিবার (২১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটি গঠনের পরের দিনই একাংশে সাক্ষাৎকার নিয়েছে উক্ত তদন্ত কমিটি। 

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরে দৈনিক মজুরিভিত্তিক যেসব ব্যক্তি নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের নিয়োগসংক্রান্ত বিষয় যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপাচার্য একটি কমিটি গঠন করেছেন।

তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক ইসরাফুল হক। এছাড়া সদস্যসচিব করা হয়েছে রেজিস্টার অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) এ. জেড. এম. আছাফদ্দৌলাকে।

তবে গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশনাসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের জানাতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

এদিকে এ সাক্ষাৎকার ঘিরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নিয়োগ প্রাপ্তরা। তাদের অনেকেই চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। এই আশঙ্কাকে ব্যবহার করে একটি মহল চাকুরিবাণিজ্যও করতে পারে বলে আলোচনা চলছে ক্যাম্পাসে।

এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, ‘নিয়োগ প্রাপ্তদের সাক্ষাৎ গ্রহন প্রক্রিয়া চলমান। সাক্ষাৎ গ্রহন শেষ হলে আগামীকাল কমিটির সদস্যের সঙ্গে বসে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবো।’

এ বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি যোগদানের পরে একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি যে, দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে বেশ কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ঈদুল আজহার আগে ১৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়েছে। যেটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং সরকারের পক্ষ থেকে এই অর্থের কোন সম্পৃক্ততা নাই। তারা এটিকে কোনভাবেই আমাদেরকে অনুমোদন দেয় নাই। সেখানে প্রায় ১ কোটি টাকার উপরে ইনভেস্ট করা হচ্ছে। যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় ধরনের একটি সংকট। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবছরই বাজেট ঘাটতি থাকে। ফলে এই জায়গাতে কি প্রেক্ষিতে এই নিয়োগটি দেওয়া হয়েছে? এর যুক্তিকতা কি তা দেখার জন্য একটা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বলেছি।’

নেয়ামত/রিফাত/

বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য
ছবি: খবরের কাগজ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার একটি নেতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে। অধীনস্থ কর্মীদের সমস্যার কথা জানতে হবে এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। কোনো কর্মী বা কর্মকর্তা কেন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন, সেটিও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।’

সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত ‘অফিস ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ক কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দফতর প্রধানদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘অনেক সময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো নোটিশ ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরিচালকও বিষয়টি জানেন না। এই না আসা এবং দায়িত্ব পালন না করার যে কালচার, সেই প্রতিযোগিতায় আমরা অনেক এগিয়ে আছি।’

ড. মতিনুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ না করার একটি প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভালো কাজ করার, নতুন উদ্যোগ গ্রহণের কিংবা ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রতিযোগিতা আমরা গড়ে তুলতে পারিনি। কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নয়, জবাবদিহিতারও ঊর্ধ্বে নয়। আমি নিজেও জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নই। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মূলত শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার জন্য নিয়োজিত। তাই শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজিমুদ্দিন।

কর্মশালায় আধুনিক অফিস ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশ, ফাইল ও নথি ব্যবস্থাপনা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল অফিস সিস্টেম বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, দপ্তরপ্রধান ও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

নিয়ামত/খাদিজা রুমি/

জাবিতে রোকনুজ্জামান খান ও বেগম রোকেয়ার জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২৮ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
জাবিতে রোকনুজ্জামান খান ও বেগম রোকেয়ার জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলা একাডেমি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বাংলা বিভাগের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী শিক্ষা-সাহিত্য বিষয়ক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে শিশুসাহিত্যিক রোকনুজ্জামান খান (দাদাভাই) এবং বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবন, সাহিত্য ও কর্ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ২১ ও ২২ জুন (রবি ও সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী ভবনের বাংলা বিভাগের সেমিনার কক্ষে এ আয়োজন হয়।

প্রথম দিনের শিরোনাম ছিল ‘রোকনুজ্জামান খান: বাস্তবতাবোধ ও জীবনদর্শন’ এবং দ্বিতীয় দিনের শিরোনাম ‘রোকেয়া: তাঁর সাহিত্য, শিক্ষাব্রত ও জাগৃতি-সাধনা’।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ’রোকনুজ্জামান খান শুধু সাহিত্যিকই ছিলেন না, তিনি এদেশের শিশু-কিশোরদের উন্নত মনন গঠনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। ‘দাদাভাই’ নামে পরিচিত এই সাহিত্যিক ‘কচিকাঁচার মেলা’ এবং দৈনিক ইত্তেফাকের ‘কচিকাঁচার আসর’-এর সঙ্গে চিরকাল জড়িত থাকবেন। ছড়াকবিতার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান নেন।’

প্রথম দিনের আলোচনা

প্রথম দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আনিস রহমান। আলোচনায় অংশ নেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আবু দায়েন। বাংলা একাডেমির সহপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পিয়াস মজিদ শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. খালেদ হোসাইনের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় দিনের আলোচনা

দ্বিতীয় দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক ড. মোরশেদ শফিউল হাসান। আলোচনায় অংশ নেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া এবং বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সায়েরা হাবীব শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

আয়োজনের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারহানা আখতার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ’জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে এ জাতীয় সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। আশা করি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সবাই এ আয়োজন থেকে উপকৃত হয়েছেন।’

আমানউল্লাহ খান/খাদিজা রুমি/

চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের একটি কক্ষে চলন্ত অবস্থায় সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (২১ জুন) দুপুরে হলের ডি-৩০০ নম্বর গণরুমে এ ঘটনা ঘটে। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো শিক্ষার্থী আহত হননি।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্ষটিতে থাকা বেশ কয়েকটি ফ্যান দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। কোনোটি ধীরগতিতে চলত, আবার কোনোটি ঠিকমতো বাতাস দিত না। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার হল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

ঘটনার সময় কক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছিলেন। হঠাৎ একটি ফ্যান ঘুরতে ঘুরতেই ছাদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিচে পড়ে যায়। ফ্যানটি একটি খাটের ওপর পড়ে ভেঙে যায়। অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মোরশেদ এলাহী বলেন, ‘গণরুমে থাকা বেশিরভাগ ফ্যানই নষ্ট বা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। অনেক সময় ব্যক্তিগত ফ্যান ব্যবহার করতে হয়। ফ্যানগুলোর অবস্থা দেখে আগেই আশঙ্কা ছিল। আজ সেটাই বাস্তবে ঘটেছে। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।’

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা দ্রুত কক্ষটির ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ফ্যানগুলো পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ইবাদ হোসেন/রিফাত/