চট্টগ্রামে ৫০ শয্যার বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক থাকার কথা রয়েছে ৩৫ জন। কিন্তু আছে মাত্র ২২ জন। অথচ বিশাল জনগোষ্ঠীর এ উপজেলার হাসপাতালটিতে দিনদিন রোগীর চাপ বাড়ছেই। এতে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তিও। সঠিক চিকিৎসা আর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
জানা গেছে, বাঁশখালী হাসপাতালে ৩৫ চিকিৎসক পদের ১৩টিই খালি। প্রতিদিন অনেক রোগী আসন না পেয়ে হাসপাতালের মেজেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ৫০ শস্যার হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি দীর্ঘদিনের হলেও এখনও সে দাবি আলোর মুখ দেখেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশখালী হাসপাতালে বিগত কয়েক মাসে রোগীর সেবা আশানুরূপভাবে বেড়েছে। ডাক্তার উপস্থিতি, বিনামূল্যে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষা ও ফ্রি ঔষধ সরবরাহের মাধ্যমে রোগীদের আস্থা অর্জন করেছে সরকারি এই হাসপাতাল। দালাল ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্মও কমেছে আগের চেয়ে। নিয়মিত পরিচ্ছন্ন অভিযানের ফলে আগের মতো নোংরা ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ আর নেই। অনেকটা ঝকঝকে তকতকে বাঁশখালী হাসপাতাল। বিগত দিনের চেয়ে এই হাসপাতালের চিত্র এখন অনেক পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। এর ফলে সরকারি হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর সেবা। সরকারি হাসপাতালের এ অগ্রযাত্রায় বেসরকারি হাসপাতালগুলো অনেকটা রোগীশূণ্য হয়ে পড়েছে। সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ এখন সরকারি হাসপাতালের দিকেই ঝুঁকছে। এতে করে সরকারি হাসপাতাল এখন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা এখন বিভিন্ন কৌশলে সরকারি ৫০ শয্যার একমাত্র এ হাসপাতালের বিরুদ্ধে নানাভাবে অপপ্রচার চালিয়ে রোগী টানার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন সচেতন মহল।
জানা গেছে, চলতি বছরের ১১ মার্চ বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও হাসপাতালের প্রধান হিসেবে যোগদেন ডাক্তার সব্যসাচী নাথ। তিনি যোগদানের পর থেকে হাসপাতালের চিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে। এছাড়াও নিজস্ব তহবিল থেকে সাম্প্রতিক সময়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, রোগীর বিছানার জন্য ফোম ও বেডশিট প্রদান করা হয়েছে। হাসপাতালের পরিবেশ ও চিকিৎসা সেবার আমুল পরিবর্তন আনতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এরপরই পাল্টে যেতে শুরু করে বাঁশখালী হাসপাতালের চিত্র।
বাঁশখালী হাসপাতাল সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের মধ্যে গত তিন মাস ধরে সর্বোচ্চ ইউজার ফি সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর এখন এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নিয়মিত চালু হয়েছে। হিমোফিলিয়া সনাক্তকরণে চট্টগ্রামের মধ্যে প্রথম হওয়ার পাশাপাশি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১২টি প্যাথলজিকাল পরীক্ষা করা হয়। হাসপাতালের সবচেয়ে বড় সাফল্য সিজার ডেলিভারি নিরোৎসাহিত করে বিগত দুই মাসে গড়ে ১০০ জনের অধিক বিনামূল্যে সফলভাবে নরমাল ডেলিভারি করা হয়েছে।
বাঁশখালী হাসপাতালের সাফল্যে বেসরকারি হাসপাতাল ও ল্যাব ক্লিনিকের রোগী কমে যাওয়ায় তারা পরিকল্পিতভাবে বাঁশখালী হাসপাতালের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে এখন রোগী টানার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোগীর তুলনায় শয্যা কম হওয়ায় বাঁশখালী হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি দীর্ঘদিনের। বিগত সরকার বাঁশখালী হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন হয়নি।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বাঁশখালী হাসপাতালে বেড অকুপেন্সী রেইট ১৪০ শতাংশ। দৈনিক আউটডোর রোগী গড়ে ৬০৫ জন। ছুটির দিন ছাড়া ৭৬৫ জন রোগী নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সব্যসাচী নাথ জানান, সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা বাঁশখালীবাসীকে সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে চেষ্টা করছি। মানুষ এখন প্রাইভেট ক্লিনিক-হাসপাতাল ছেড়ে সরকারি হাসপাতালমুখী হচ্ছে। বিভিন্ন পরীক্ষা ও ঔষধ আমরা ফ্রি সরবরাহ করছি। এতে জনগন উপকৃত হচ্ছে।
শফকত হোসাইন চাটগামী/মাহফুজ/এমএ/