ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রথম ম্যাচে যে রেকর্ড ডাকছে মেসিকে কুরাসাওয়ের কোচের বিশ্বরেকর্ড প্রত্যাবর্তন জয়ে রাঙাতে চায় সুইডেন গোলশূন্য থেকে বিরতিতে জাপান-নেদারল্যান্ডস কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফেরাল জার্মানি কুরাসাওয়ের জালে ৭ গোল জার্মানির খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান প্রথমার্ধে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও, ৩ গোল দিল জার্মানি মমতার দলে সংকট আরও গভীর, বিদ্রোহী এমপি বেড়ে ২২ জোটার স্মরণে বিশ্বকাপে বিশেষ উদ্যোগ নিল পর্তুগাল হোম অব ক্রিকেটে লিটনের অন্য রকম প্রথম ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামে চাঁদপুরের তিন প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে হত্যা, নেপথ্যে অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধ বেরোবির রাজস্ব বাজেট ৮২ কোটি ৮১ লাখ টাকা ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন আজ ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টে গ্রেপ্তারের কথা শুনে চোখ খুলছেন না শিবির নেতা জিসান ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো: শফিকুর রহমান গাংনীতে কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১৭ পাবনায় স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ফটিকছড়িতে বায়তুল ক্বোবা তৈয়্যবিয়া জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমি হস্তান্তর শ্রমিক অবরোধে আড়াই ঘণ্টা স্থবির ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্দরে বেতনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আইএইচএফ ট্রফিতে দুই বিভাগে রূপা জিতল বাংলাদেশ আলু সংরক্ষণাগারে কেজিপ্রতি ৫ টাকা ভাড়ার দাবি, ৭ দিনের আল্টিমেটাম বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫.৬৩ বিলিয়ন ডলার ইরান-মার্কিন চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে রবিবার, খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালী সোনারগাঁয় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ আতঙ্কে ঘর ছাড়া, নিরাপত্তার আশ্বাস পুলিশের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনে অভিযান ইতিহাসের দুয়ারে গিয়ে থামল বাংলাদেশ, রক্ষা পেল অজিরা
Nagad desktop

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর নিম্নমানের কাজেও কর্তৃপক্ষ নীরব

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:২০ এএম
আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:২৮ এএম
নিম্নমানের কাজেও কর্তৃপক্ষ নীরব
নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের নির্মাণকাজ করছে। মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের ভিটেবেড়া গ্রাম থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় প্রায় তিন কোটি টাকার একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছে। বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে পাশের জমি থেকে মাটি কেটে রাস্তা ভরাট করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট ও খোয়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ সব জেনেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এলজিইডি জিডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা পোদ্দারবাড়ি থেকে মহিষাখোলা পর্যন্ত ২ হাজার ৩৬০ মিটার সড়ক নির্মাণের জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি পায় মেসার্স সেলিম এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে ঠিকাদার হানিফ আলী। সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল চলতি বছরের ৩০ জুন মাসে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা পোদ্দারবাড়ি থেকে মহিষাখোলা পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। সড়কের পিচ ঢালাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট ও খোয়া, যা দীর্ঘ মেয়াদে সড়কের স্থায়িত্ব ধরে রাখতে পারবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এদিকে সড়কের ভিটেবেড়া এলাকায় সম্প্রতি নির্মিত গাইডওয়াল ভেঙে পড়েছে। নির্মাণকাজে মান বজায় রাখতে যে ধরনের উপকরণ ব্যবহারের প্রয়োজন, তার ঘাটতি রয়েছে।

ভিটেবেড়া গ্রামের আরজ আলী বলেন, ‘ঠিকাদার হানিফ আলী শুরু থেকেই এই সড়কে প্রচুর অনিয়ম করেছে। এত টাকা বাজেট করা হয়েছে অথচ কাজ হচ্ছে তামাশার মতো। রাস্তা বানানোর আগেই গাইডওয়াল ভেঙে গেছে। আর রাস্তায় ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট আর রাবিশ খোয়া যা পোড়ামাটির মতো। এরপর এই রাস্তা কীভাবে টিকবে বলেন।’

মহিষাখোলা গ্রামের আমিনুর রহমান বলেন, ‘এই অনিয়মের কারণে কয়েক মাস পরই রাস্তা ভেঙে যাবে। তখন স্বাভাবিকভাবে আমাদের চলাফেরা কষ্টকর হয়ে পড়বে। যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন কোনো পদক্ষেপ না নেয় তা হলে জনগণের ভোগান্তির পাশাপাশি সরকারের অনেক অর্থ অপচয় হবে।’

একই গ্রামের আইয়ুব মিয়ার অভিযোগ, ‘রাস্তার কাজ যে এজেন্ট করছে, সেখানেও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। রাস্তায় খোয়ার জায়গায় রাবিশ ইটের খোয়া ফেলা হচ্ছে, আর কিছু জায়গায় খোয়ার বদলে বালু দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। আমরা এই সড়কটিতে ভালোমানের কাজ চাই।’
ভিটেবেড়া এলাকার আব্দুস সালাম বলেন, ‘বারবার সড়কের অনিয়ম নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডির প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ করেছি। তারা দেখেও কিছু করেননি। এমন রাস্তা কত দিন টিকবে, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’

মহিষাখোলার বাসিন্দা আশেক আলীর অভিযোগ, ‘ঠিকাদার আমাদের সাইট বাই সাইট মাটি ধরার কথা বলে আমার ৬২ শতাংশ জমির প্রায় ২০ শতাংশ মাটি কেটে রাস্তায় ভরাট করেছে। ঠিকাদার আমায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল রাস্তা নির্মাণ শেষে জমি ভরাট করে দেবে, কিন্তু দেয়নি। আমি উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চাই।’

এ বিষয়ে ঠিকাদার হানিফ আলীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের ইট ও গাইডওয়াল ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি খোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি একটু ব্যস্ত আছি। আপনাকে আমি কিছুক্ষণ পর কল করছি।’ তারপর আর তাকে মোবাইলে পাওয়া যায়নি।

একাধিকবার এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো তাদের উদাসীন আচরণে ঠিকাদার আরও প্রশ্রয় পাচ্ছে এমনটাই দাবি স্থানীয়দের। এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ বি এম খোরশেদ আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘রাস্তার জন্য কৃষিজমি থেকে যে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে তা ভরাট করার জন্য ঠিকাদারকে অবহিত করা হয়েছে। আর সড়ক নির্মাণে কোনো ত্রুটি বা নিম্নমানের উপকরণ পাওয়া গেলে তা সংশোধন করা হবে।’

চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে হত্যা, নেপথ্যে অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে হত্যা, নেপথ্যে অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধের জেরে মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া (৩৫)।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১১টার দিকে আনোয়ারার পারৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড চেনামতি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তের ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। 

নিহত ব্যক্তিরা হলেন- ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। নিহত প্রিয়ন্তী মাহাতা পাঠনিকোটা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুসন্তান পিয়াস বড়ুয়াকে (৫) উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

জানা গেছে, বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া ধারালো ছুরি হাতে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রথমে সে প্রিয়ন্তীর ওপর চড়াও হয় এবং তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। মেয়ের চিৎকার শুনে মা এ্যানি বড়ুয়া বাঁচাতে এলে তেজপ্রিয় তাকেও কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। এরপর মায়ের কোলে থাকা পাঁচ বছরের শিশুসন্তান প্রিয়াসকেও আছাড় দিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় সে। তাদের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসতে থাকলে অভিযুক্ত যুবক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। 

নিহত এ্যানি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া জানান, অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া বিদেশ থেকে শূন্য হাতে দেশে ফিরে আসে। তার কোনো চাকরি বা আয়ের উৎস না থাকায় আত্মীয়তার খাতিরে তাকে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা দিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কিনে দেই। টাকা পরিশোধের ব্যাপারে তেজপ্রিয় মাঝেমধ্যে কিছু টাকা দিত, আবার কখনো দিত না। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কখনো কোনো বড় ঝগড়াবিবাদ হয়নি। তবে রিকশা কেনার সময় আমাদের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তিপত্র বা স্ট্যাম্প করা হয়েছিল। আমার ধারণা, ওই লিখিত কাগজটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিতেই সে রাতে আমাদের ঘরে ঢুকেছিল। আমার স্ত্রী-সন্তানরা বাধা দেওয়ায় তাদের এভাবে নৃশংসভাবে খুন করা হলো। আমার গোছানো সোনার সংসারটা নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। আমি এই ঘাতকের ফাঁসি চাই।

এদিকে রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম। তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, ঘটনার বিবরণ শোনেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসপি মাসুদ আলম বলেন, নিহতের পরিবারের তথ্য ও আমাদের প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, হত্যাকাণ্ডের সাথে তেজপ্রিয় বড়ুয়া নামের ওই যুবক সরাসরি জড়িত। সে ভুক্তভোগী পরিবারের খুবই কাছের পরিচিত। ধারণা করা হচ্ছে পরিকল্পনা করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তেজপ্রিয় এর সাথে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকার একটি লেনদেন ছিল ভুক্তভোগী পরিবারের। মাসিক কিস্তির মাধ্যমে এসব টাকা পরিশোধের কথাও রয়েছে। এসব নিয়ে প্রথমে মেয়েকে এবং পরে মাকে কুপিয়ে মারাত্মক ভাবে হত্যা করে। সে বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম ও ডিবি ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। খুব দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, নিহত মা ও মেয়ের লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং এই ঘটনায় আনোয়ারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এসএন/

ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টে গ্রেপ্তারের কথা শুনে চোখ খুলছেন না শিবির নেতা জিসান

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টে গ্রেপ্তারের কথা শুনে চোখ খুলছেন না শিবির নেতা জিসান
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধান বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন। কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও তার ওই নারীর ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের ভাষ্য, পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বলছে যে জিসান পুরোপুরি সুস্থ। কিন্তু তিনি নিজেকে ‘অসুস্থ’ দেখিয়ে পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে আছেন। এ কারণে তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, মামলার বাদী ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে করা এড়াতে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন জিসান। আত্মগোপনে থাকা শুক্রবার রাতে কুমিল্লা লাকসাম থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে থাকা অবস্থায় ওই নারীর করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুরুতে হাসপাতালে এসে জিসান পুলিশের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই শুনেছেন, তাকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তখন থেকে তিনি চোখ খুলছেন না।

এদিকে ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।  রবিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান।

তিনি বলেন, মেডিকেল বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে। বাকি তিনজন চিকিৎসক হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগ, নিউরো মেডিসিন বিভাগ ও মনোরোগবিদ্যা বিভাগের।

এই কর্মকর্তা জানান, সোমবার বেলা ১১টার দিকে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা জিসান মিয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাদের মতামত জানাবেন। তিনি সুস্থ হয়েও অসুস্থতার অভিনয় করলে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। আর অসুস্থ হলে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত করা সব পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। এদিকে ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার এক দিন পর শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় ‘অচেতন’ অবস্থায় জিসানকে উদ্ধারের দাবি করে পরিবার। পরে ওই দিন রাতেই চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরদিন কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানায়, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

জিসানকে উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে এক নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারায় করা মামলাটিতে মোট আসামি করা হয়েছে চারজনকে। মামলায় ওই নারীকে একাধিকার ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে।

জিসান ছাড়াও মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিন আসামি হলেন সেকান্দর আলী (২৪), গোলাম রাব্বী (২৬) ও সজীব হাসান (২১)। তাদের সবার বাড়ি দাউদকান্দিতে। তারা ছাত্রশিবিরের নেতা জিসানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। শনিবার বিকেলে তাদের কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু গ্রেপ্তার দেখানো হলেও জিসান নিজেকে অসুস্থ দাবি করায় তাকে এখনো আদালতে হাজির করা হয়নি। দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. বারী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, শুক্রবার রাতে যখন লাকসাম থেকে জিসান মিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়, তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই খবর পেয়েছেন তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বা তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তখন থেকেই তিনি নিজেকে অসুস্থ দেখাচ্ছেন। বর্তমানে অবস্থাটা এমন হয়েছে যে জিসান চোখই খুলছেন না।’ ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে করা এড়াতে জিসান অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন বলে তার দাবি।

অন্যদিকে পুলিশ সূত্র জানায়, ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাঁকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। অনুসন্ধানকালে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর (২৫) সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে ওই তরুণী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই তিনি নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। নিখোঁজের অনুসন্ধান চলাকালে শুক্রবার রাতে লাকসাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

জহির শান্ত/এসএন 

গাংনীতে কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১৭

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
গাংনীতে কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১৭
গাংনী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে অবস্থান করছেন আহত রোগীরা। ছবি: খবরের কাগজ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় একটি বেওয়ারিশ কুকুরের হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যা থেকে গাংনী বড়বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাকিদের মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, গাংনী মহিলা কলেজপাড়ার আব্দুল হালিমের ছেলে নুহু হোসেন (৯), উত্তরপাড়ার কারী মোহাম্মদ আবু ইউসুফের ছেলে মাহাবুব হোসেন (১১), মালসাদহ গ্রামের সাদিয়া সুলতানা (১৬), চৌগাছা এলাকার আব্দুল মান্নান (৭০), বাজারপাড়ার রাশেদুল হকের মেয়ে ফারিয়া খাতুন (১২), মুকুল হোসেন (৪৫), হাবিবুর রহমান (২২), হাফিজুর রহমান (৬০), ধানখোলা গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৫৫) এবং চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদি গ্রামের কাদের আলী (৫৬)। এ ছাড়া আরও সাতজন আহত ব্যক্তি মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে গাংনী বড়বাজারের কসাইখানা এলাকায় একটি বেওয়ারিশ কুকুর প্রথমে কয়েকজন পথচারীকে কামড়ে দেয়। তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসা স্থানীয় লোকজনও কুকুরটির আক্রমণের শিকার হন। এতে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাংনী বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়ে চলেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সামিয়া সুলতানা জানান, দুপুরের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কুকুরে কামড়ানো রোগীরা হাসপাতালে আসতে থাকেন। গুরুতর আহতদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সবাইকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তারেক/নাঈম

ফটিকছড়িতে বায়তুল ক্বোবা তৈয়্যবিয়া জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমি হস্তান্তর

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
ফটিকছড়িতে বায়তুল ক্বোবা তৈয়্যবিয়া জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমি হস্তান্তর
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডস্থ খাজা গাউসিয়া মার্কেট সংলগ্ন খাগড়াছড়ি রোডের পাশে বায়তুল ক্বোবা তৈয়্যবিয়া জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য জায়গা হস্তান্তর করা হয়েছে। 

রবিবার (১৪ জুন) ফটিকছড়ি বিবিরহাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ মুহাম্মদ আইয়ুব আলী চৌধুরী ৭.২০ শতাংশ জায়গা গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ ফটিকছড়ি উপজেলা সদর শাখাকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ ফটিকছড়ি উপজেলা সদর শাখার সভাপতি মাওলানা আবু তাহের আল কাদেরী। 

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট দানবীর আইয়ুব আলী সওদাগর, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে বায়তুল ক্বোবা তৈয়্যবিয়া জামে মসজিদ পরিচালনা পরিষদের সম্মানিত সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ আব্দুল মাবুদ মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলাল উদ্দিন কাউন্সিলর, অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ শফিউল আলম ননাই।

এ ছাড়াও ফটিকছড়ি উপজেলা সদর শাখার নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিট শাখার বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা দ্বিনি কাজে আইয়ুব আলী সওদাগরের অসামান্য অবদানের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন। সভাপতির সমাপনী বক্তব্য ও দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

নাঈম/

শ্রমিক অবরোধে আড়াই ঘণ্টা স্থবির ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
শ্রমিক অবরোধে আড়াই ঘণ্টা স্থবির ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বেতনের দাবিতে মহাসড়ক শ্রমিকদের অবরোধ। ছবি: খবরের কাগজ

শ্রমিক আন্দোলনের কারনে ঢাকা -চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় আড়াই ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্ধ এলাকার ফেইম এ্যাপারেল নামের একটি পোষাক কারখানার শ্রমিকরা নির্দিষ্ট সময়ে বেতন পরিশেষসহ ৯ দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এতে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১২কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজটে আটকে যাত্রী ও যানবাহন চালকরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

জানা যায়, বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্ধ এলাকায় অবস্থিত ফেইম এ্যাপারেল নামের একটি পোষাক কারখানার শ্রমিকদের নির্দিষ্ট সময়ে বেতন পরিশোধ না করার কারণে শ্রমিকরা বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা- চট্টগ্রাম  মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনে নামেন। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেওয়ার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। 

শ্রমিকদের দাবি, তাদের প্রতি মাসে ৭ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। বর্তমান মাসে আজ পর্যন্ত বেতন পরিশোধ করেনি। দীর্ঘ এক সপ্তাহ অপেক্ষার পর তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন। 

আসাদুর রহমান নামের এক শ্রমিক জানান, তাদের এ উপার্জিত এ আয়ের টাকা দিয়ে তাদের বাসা ভাড়া, দোকান বাকি ও ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ মিটিয়ে থাকেন। নির্দিষ্ট সময়ে বেতন পরিশোধ না করার কারণে তারা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

শ্রমিকদের দাবি, প্রতি মাসের বেতন সাত কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ, প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসে ছুটির ক্যালেন্ডার প্রদান, ওভারটাইমের হার বৃদ্ধি, নাইট বিল ৫০ টাকা নির্ধারণ, দুই ঈদে ৯ দিন করে ছুটি, ডাবল মেশিন পরিচালনার জন্য ১৭০ টাকা ভাতা, এককালীন সার্ভিস ভাতা প্রদান, বন্ধের দিনে ১৬ ঘণ্টা ডিউটি বন্ধ এবং কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই না করা।

বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিকরা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নের পক্ষে স্লোগান দেন এবং দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান।

ফেইম অ্যাপারেলস লিমিটেডের অ্যাডমিন ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের দাবিগুলো নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ বলেন, শ্রমিকদের দাবিগুলো নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বর্তমান মাসের বেতন দুএক দিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। অন্যান্য দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দেন। শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। 

মো: ইমরান হোসেন/এসএন