মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্বামীকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলায় মাফলার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে মরদেহ বাড়ি থেকে নিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়া হয়।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী দিপনা রাণী বিশ্বাস (১৯) এবং ছোট ভাই ঝন্টু বিশ্বাসকে (২৫) পুলিশ আটক করেছে।
এর আগে গত রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের উজ্জ্বল বিশ্বাসকে (৩০) হত্যা করেন তারা।
উজ্জ্বল বিশ্বাস পেশায় একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। তিনি উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের সুবোধ বিশ্বাসের ছেলে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজ্জ্বল বিশ্বাসের স্ত্রী দিপনা রাণী বিশ্বাসের সঙ্গে তার আপন ছোট ভাই জন্টু বিশ্বাসের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক চলছিল। বিষয়টি জেনে ফেলেন দিপনার স্বামী উজ্জ্বল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়। একপর্যায়ে স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন স্ত্রী দিপনা ও ছোট ভাই ঝন্টু। রবিবার রাতে দিপনা ও ঝন্টু ঘুমন্ত অবস্থায় উজ্জ্বলের গলায় মাফলার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে। পরে মরদেহ বাড়ি থেকে নিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। রাতে বিষয়টি বুঝতে পেরে স্বজনরা উজ্জ্বলকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ভোরের দিকে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে রাস্তার পাশে তার মরদেহ পান স্বজনরা।
সোমবার দুপুরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্ত্রী দিপনা রাণী বিশ্বাস এবং ছোট ভাই ঝন্টু বিশ্বাসকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, 'মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।'
পুলক পুরকায়স্থ/জোবাইদা/