ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার সোনারগাঁয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল, দুই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল ৫ শতাংশের বেশি সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসলে নেমে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’ স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরে স্যামসাংয়ের নতুন ল্যাপটপ গুরুদাসপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ
Nagad desktop

থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৫, ০১:০৫ পিএম
থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র দিয়ে অপরাধ করছে সন্ত্রাসীরা। কোথাও কোথাও রাতে গুলি ছোড়া হচ্ছে, কোথায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, আবার কোথাও চাঁদাবাজি, দখলবাজিতে কাজে লাগানো হচ্ছে এসব অস্ত্র। কোথাও আবার ভাড়া খাটারও তথ্য মিলছে।

সিএমপির থানাগুলো থেকে লুট হওয়া ১৬১টি অস্ত্র বিগত সাত মাসেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে জনমনে একধরনের উদ্বেগ-আতঙ্ক রয়ে গেছে। যেকোনো সময় এসব অস্ত্র ব্যবহার করে খুনসহ বড় ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে সন্ত্রাসীরা, এমনটাই আশঙ্কা করছে পুলিশ ও স্থানীয় জনসাধারণ। 

সম্প্রতি পুলিশও লুট হওয়া অস্ত্র দিয়ে অপরাধ করার প্রমাণ পেয়েছে। এমনকি ঘটনাস্থল থেকে একটি অস্ত্রও উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দুই জামায়াতের কর্মী নিহত হওয়ার আগে তারা নিজেরাই অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সেই অস্ত্র নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র বলে অস্ত্রের বডি নম্বর মিলিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। অস্ত্রটি ছিল ব্রাজিলিয়ান ট্ররাস টিএএইচ মডেলের। ছয় ইঞ্চি ছোট এই পিস্তলের ২টি ম্যাগাজিনে রাখা যায় ১৭ রাউন্ড গুলি। 

জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এটি সিএমপির কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র। লুটের এই পিস্তল দিয়ে গুলি করতে করতে একসময় এর সব গুলি শেষ হয়ে যায়। পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া এই অস্ত্র প্রদর্শিত হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, থানার পিস্তলের সঙ্গে ওই পিস্তলের সাদৃশ্য রয়েছে। পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, থানা থেকে লুট হওয়া ১৬১টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি। 

জানা গেছে, হাসিনা সরকারের পতনের দিন ৫ আগস্ট দুপুরের পর সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে উল্লাস করেন। ওই দিন নগরের কোতোয়ালি, ডবলমুরিং, ইপিজেড, খুলশীসহ ৮টি থানা ও ফাঁড়িতে আগুন দেওয়া, ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সেই সময় থানাগুলো থেকে প্রায় ৯৪৮টি অস্ত্র, ১২ হাজার গুলি লুট হয়।

এরপর গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর অস্ত্রগুলো জমা দেওয়ার সুযোগ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, যারা এসব অস্ত্র নিয়েছেন তারা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে রেখে কল করলেও পুলিশ সেই অস্ত্র উদ্ধার করবে। কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। অনেকে সেটি করলেও কেউ কেউ তা করেনি। তারা অস্ত্র নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছে। এরপর শুরু হয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান। সেই অভিযান এখনো চলছে। 

সর্বশেষ গত ১ মার্চ নগরীর পাহাড়তলী রানী রাসমণি ঘাটের গোল চত্বর এলাকা থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন মাঈনুর ইসলাম মামুন (২০) ও মো. জামাল (২৬)।

উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো হচ্ছে পাহাড়তলী থানার মালখানা থেকে লুট হওয়া একটি বিদেশি রিভলবার ও ৬ রাউন্ড বুলেট। এতদিন এই রিভলবার ও বুলেট ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ছিনতাইকারীরা চট্টগ্রাম শহরের রাস্তাঘাট, নির্জন এলাকার পথচারী, রিকশা কিংবা অটোরিকশার যাত্রীদের ছুরি ঠেকিয়ে ওই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করত। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেও তারা নিজেরা এই বিদেশি রিভলবার এবং বুলেটগুলো থানার মালখানা থেকে লুট করেছিল বলে স্বীকার করেছে। 

জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরে অস্ত্র উদ্ধারে সবচেয়ে এগিয়ে আছে পাহাড়তলী থানা। গত চার মাসে থানাটি বিভিন্ন অভিযানে ৯ এমএম পিস্তল, রিভলবারসহ বিভিন্ন মডেলের মোট ১২টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে পাহাড়তলীর খালপাড় থেকে দুটি রিভলবার এবং ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পাহাড়তলী থানা-পুলিশ। এর আগে ৪ নভেম্বর একটি পিস্তল, মোটরসাইকেল ও সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাহবুবুর রহমান ও নুরনবী নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছে পুলিশের ইউনিফর্ম, হাতঘড়ি, জুতাসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। 

গত বছরের ২৩ নভেম্বর ভোরে পাহাড়তলী থানা-পুলিশ মো. পারভেজ (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরের হাজি ক্যাম্প থেকে একটি বন্দুক উদ্ধার করা হয়। বন্দুকটি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র। গ্রেপ্তার হওয়া পারভেজ ওই অস্ত্র দিয়ে আধিপত্য বিস্তার করছিল। ছড়িয়ে পড়া একটা ভিডিওতে দেখা যায়, গত ৬ আগস্ট পারভেজ একদল যুবককে নিয়ে একটি এলাকায় অস্ত্র হাতে ভোররাতে ঘুরছে। তার হাতে থাকা অস্ত্রটি একনলা দেশীয় এলজি। 

এ ছাড়া ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মো. মালেক প্রকাশ মাইল্ল্যা (২৫) ও মো. বিজয় (২২) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে নামে। এ সময় পাহাড়তলীর নয়াপাড়া রেললাইনের পূর্ব পাশের পোড়া বাড়িসংলগ্ন খালি জায়গা থেকে একটি অস্ত্র ও তিন রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। 

গত ২০ ফেব্রুয়ারি সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্রধারী দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই দিন সেখানে অস্ত্র সাপ্লাই দিতে গিয়ে বেলাল হোসেন নামের এক যুবক পাহাড়তলী থানা-পুলিশের কাছে ধরা পড়ে। ওই যুবক জানান, তিনি শুধু অস্ত্র বহন করছিলেন। তাকে আল আমিন নামের একজন হত্যার হুমকি দিয়ে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে দুটি এলজি সলিমপুরের রিদোয়ানের কাছে পৌঁছে দিতে বলে। পথে পুলিশের চেকপোস্টে তিনি ধরা পড়েন।

এদিকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নগরের ফিরিঙ্গিবাজারের ব্রিজঘাট এলাকা থেকে ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল এবং ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। 

অন্যদিকে নগরের চান্দগাঁও থানার বাড়াইপাড়া এলাকায় রাতে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। পুলিশ এটা জানলেও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না। নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায়ও চাঁদাবাজি, দখলবাজি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে অস্ত্রের মহড়া চলে। গত ২ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ সন্ত্রাসী মিজান ও ছোট সাজ্জাদের মধ্যে গোলাগুলির প্রস্তুতির সময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে দুটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ৯ রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিনসহ ছোরা এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে শীর্ষ সন্ত্রাসী মিজান ও ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। 

পাহাড়তলী থানার ওসি বাবুল আজাদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘কী পরিমাণ অস্ত্র লুট হয়েছে তা এখনই বলতে পারছি না। তবে আমরা গত চার মাসে ১২টি অস্ত্র ১৬ রাউন্ড গুলি, তিন রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছি। প্রত্যেকটি ঘটনায় দু-একজন করে গ্রেপ্তার হয়েছে। অবৈধ ও থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। চেকপোস্টের মাধ্যমেও তল্লাশি চালাচ্ছি।’ 

অবৈধ ও থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র নানা অপরাধে ব্যবহৃত হওয়ার কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. রইছ উদ্দিন বলেছেন, ‘থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলো যেন কোনোভাবেই পেশাদার অপরাধীদের কাছে না যায় সে ব্যাপারে আমাদের নিয়মিত তৎপরতা রয়েছে। আমরা গোপনে তথ্য সংগ্রহ করছি কাদের কাছে এসব অস্ত্র যেতে পারে।’ 

নগর পুলিশের জনসংযোগ শাখার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মাহমুদা বেগম বলেন, নগরে এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা গেছে সেই তথ্য দিতে সময় লাগবে। কেননা, অনেক ধরনের অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এটা বলতে পারি, অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলছে। থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রও পাওয়া গেছে, কিছু আলামতের অস্ত্রও পাওয়া গেছে।

আমরা সতর্ক আছি যেন এসব অস্ত্র দিয়ে কোনো অপরাধের ঘটনা না ঘটে। পুলিশের এই কর্মকর্তা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে না পারলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর নগরের ৮ থানা ও ফাঁড়ি থেকে ৩০০ পিস্তলসহ ৯৪৮টি অস্ত্র ও ১২ হাজার গুলি লুট হয়। এর বেশির ভাগ উদ্ধার করা গেলেও এখনো ১৬১টি অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি।

গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের কুরচাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর বুধবার (১৭ জুন) গৃহবধূর মা পাগলা থানায় অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পারিবার সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূ তার মায়ের বাড়িতে বসবাস করছিলেন। একই বাড়ির পৃথক কক্ষে তিনি স্বামী ও তিন বছর বয়সি সন্তান নিয়ে থাকতেন। রাত ১টার দিকে মুখোশধারী সাত-আটজন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে স্বামীকে বেঁধে মারধর করেন। পরে তারা গৃহবধূকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে প্রায় দেড় শ মিটার দূরে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হবে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/আজহার/

জয়পুরহাটে পুত্রবধুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
জয়পুরহাটে পুত্রবধুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাট সদর উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সাকোয়াত হোসেন আদা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার ভিকটিম বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় মামলা করলে রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার সাকোয়াত হোসেন একই এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় বটতলী বাজারের একজন জিলাপি ব্যবসায়ী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ৮ জুন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সাকোয়াত হোসেন তার পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

এদিকে আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুরের খাতুনে জান্নাত মহিলা কওমি মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে মাদরাসাটির পরিচালকের স্বামী জায়ের আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় মামলা করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মাদরাসাটির পরিচালক আফরোজার স্বামী জায়ের আলী দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গত ১৩ জুন আফরোজা বেগম মাথায় তেল দেওয়ার জন্য ওই শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে ডাকেন। একপর্যায়ে তিনি প্রকৃতির ডাকে  সাড়া দিতে বাইরে গেলে কক্ষে থাকা জায়ের আলী শিক্ষার্থীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। শিক্ষার্থীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্তের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে আফরোজা বেগম বলেন, ঘটনাটি সত্য নয়। প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

‎আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সাগর কুমার/খাদিজা রুমি/

কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩
ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় যুবক আশাদুল ইসলামকে হত্যা করে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে জানায় পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ১৫ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া গ্রামের একটি মাদরাসার পেছনের পাটখেত থেকে আশাদুল ইসলামের (২২) অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার বিল মানুষমারি গ্রামের শাহজাহান মণ্ডলের ছেলে।

ঘটনায় নিহতের বাবা শাহজাহান মণ্ডল বাদী হয়ে কালুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ জানায়, প্রায় চার মাস আগে আশাদুল ইসলাম মদাপুর গ্রামের কাউসার শেখের ছেলে মিজান শেখের (২৪) কাছ থেকে ৬৮ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করতে না পারায় দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিজান শেখ ও তার সহযোগীরা আশাদুলকে হত্যা করেন। পরে হত্যার আলামত নষ্ট এবং পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকারের নেতৃত্বে কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি যৌথ টিম অভিযান চালিয়ে মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন- মদাপুর গ্রামের মিজান শেখ (২৪), পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের আসমত মণ্ডলের ছেলে আনোয়ার মণ্ডল (৪৪) এবং সূর্যদিয়া গ্রামের শাহাজউদ্দীনের ছেলে আব্দুল করিম মোল্লা (৩৫)।

পুলিশ আরও জানায়, মামলার মূল আসামি মিজান শেখ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, রক্তমাখা একটি হেলমেট, একটি এসএস পাইপ (রড) এবং একটি লোহার ফোল্ডিং স্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।

কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মিজান শেখ। তার কাছ থেকেই ভিকটিম টাকা ধার নিয়েছিল। ঋণের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যার পর মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে কোনো ধরনের আলামত বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট না থাকে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সুমন বিশ্বাস/খাদিজা রুমি/

জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

জাল ‘শেনজেন’ ভিসায় ইউরোপের দেশ ইতালিতে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আখলাছুর রহমান (৪০) বিমানের জুনিয়র অফিসার (গ্রাউন্ড সার্ভিস, আইএনএস গেট) হিসেবে কর্মরত। গতকাল মঙ্গলবার (১৬জুন) ভোরে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
 
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা জানান, ইতালিতে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচারকারী একটি চক্র কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকায় চুক্তি করে। চুক্তির ২০ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে তাদের নেপাল ও ইতালিগামী টিকিট, বোর্ডিং পাস এবং ইতালির ভুয়া শেনজেন ভিসা সরবরাহ করে চক্রটি।

সিআইডি জানায়, গত ২৬ মে বিমানের একটি ফ্লাইটে ইতালির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর রোমের ফিউমিচিনো লিওনার্দো দা ভিঞ্চি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারা পৌঁছালে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ভিসাগুলো পরীক্ষা করে জাল বলে শনাক্ত করেন। পরে ভুক্তভোগীদের আটক রেখে দুই দিন পর ২৮ মে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফিরলে ইমিগ্রেশন পুলিশ, সিআইডি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দেন। সেই তদন্তে উঠে আসে, মানব পাচারকারী চক্রটি বৈধ কর্মসংস্থানের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জাল ভিসা সরবরাহের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে বিমানের ওই জুনিয়র অফিসার আখলাছুর রহমানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল আলম বলেছেন, এ ধরনের অপকর্মে একাধিক সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মানব পাচারে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মানব পাচার চক্রের মূল হোতা ও অন্যান্য সহযোগীকে শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের ক্ষেত্রে শুধু সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।

গোপালগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১০:১১ পিএম
গোপালগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন
প্রতীকী ছবি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় যৌতুকের দাবিতে শিল্পী বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ইকবাল সিকদারের বিরুদ্ধে। হতভাগা শিল্পী বেগম তিন সন্তানের জননী ছিলেন। মাকে হারিয়ে তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে এখন দিশেহারা।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের বুরুয়াবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক ইকবালের বাড়ি উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের বুরুয়ারবাড়ী গ্রামে।

নিহত শিল্পী বেগমের ভাই ছারোয়ার কাজী অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ নানা অজুহাতে আমার বোনের ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন স্বামী ইকবাল সিকদার। গত রবিবার রাতে তাকে পুনরায় অমানুষিক নির্যাতন ও বেদম মারপিট করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে শিল্পী বেগমের মৃত্যু হলে ঘাতক স্বামী মরদেহটি গোয়ালঘরে ফেলে পালিয়ে যান। আমরা আমার বোনের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াদ মাহমুদ জানান, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ইকবাল সিকদার পলাতক থাকলেও, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তের বড় ভাই জাকির সিকদারকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাদল সাহা/নাঈম