রাজধানীর পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় আটক মো. মোক্তার হোসেন (৪০) ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) হেফাজতে মারা গেছেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় পল্লবী ১২ নম্বরের বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার ও স্যানিটারি দোকানে ঢুকে খুব কাছ থেকে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে (৪৭) গুলি করে হত্যা করে অস্ত্রধারী তিন সন্ত্রাসী। নিহত কিবরিয়া ছিলেন পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব। পাশাপাশি তিনি চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করতেন।
গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তালেবুর রহমান বলেন, ‘গত ১৭ নভেম্বর পল্লবীতে কয়েকজন অস্ত্রধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে গোলাম কিবরিয়া নিহত হন। এ ঘটনায় পাঁচজন এজাহারনামীয় ও সাত-আটজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ২০ নভেম্বর শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নজরুল, মাসুম ও জামান নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার আসামিরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন এবং ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি মো. মোক্তার হোসেনের হেফাজতে রাখার বিষয়টি জানান। তাদের তথ্যমতে ২০ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে পল্লবীর একটি গ্যারেজে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোক্তার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে কিল-ঘুসি মারে। পরে মোক্তারের দেখানো মতে পল্লবী এলাকার একটি রিকশা গ্যারেজ থেকে পিস্তলের আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।
পরে আটক মোক্তার হোসেনকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। রাত ১টা ৩০ মিনিটে তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাৎক্ষণিক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কিছু ওষুধপত্র দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেন। পুনরায় তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মোক্তার হোসেনকে খাওয়ার জন্য ডাকাডাকি করা হলে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়টি তদন্তে ডিএমপির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানায় ডিএমপি।