চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় প্রায় ৭ মাস আগে একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় সুলতান মাহমুদ আরজু (৩০) নামে এক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হলেও বর্তমানে তদন্তে ফেঁসে যাচ্ছেন নিহতের স্ত্রী আসমাউল হুসনা (২৪)।
এ ঘটনায় রবিবার (১২ এপ্রিল) নিহতের ছোট ভাই ওয়াসেদ মোহাম্মদ সৌরভ (২২) বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। এতে নিহতের স্ত্রী আসমাউল হুসনা (২৪), স্ত্রীর বড় ভাই মো. মিরাজ (২৫), বড় বোন ফাতেমা আক্তার মুন্নি (২৮) ও তাদের মা আমেনা বেগমকে (৬০) এজাহারনামীয় ও ৩ থেকে ৪ জনকে অজ্ঞাতনামা বিবাদী করা হয়। ফলে পূর্বে দায়ের করা অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
নিহতের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চিত্র উঠে এসেছে। নিহত সুলতান মাহমুদ আরজু উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরখাগরিয়া গ্রামের মহাজন পাড়ার ওয়ারেছ আহামদের পুত্র।
মামলাটি করার পরপরই তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে নিহতের স্ত্রী ও মামলার ১ নম্বর বিবাদী আসমাউল হুসনাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। এরপর তাকে আদালতের নিকট সোপর্দ করা হয়।
বিষয়টির নিশ্চিত করে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক খবরের কাগজকে বলেন, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও অন্যান্য আসামিদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের (১৮ সেপ্টেম্বর) চরখাগরিয়া গ্রামের মহাজন পাড়ার একটি তালাবদ্ধ ভাড়া বাসার কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ব্যবসায়ী সুলতান মাহমুদ আরজুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর পূর্বে তার স্ত্রী আসমাউল হুসমার সঙ্গে মনোমালিন্য ও বাগবিতণ্ডা চলে আসছিল। ওই সময় হঠাৎ করে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে যান। এর কয়েকদিন পর ওই বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা তালা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করলে ঝুলন্ত অবস্থায় সুলতান মাহমুদের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান।
আরিফুল ইসলাম/নাঈম