দিনের আকাশ মানে একচেটিয়া সূর্যের রাজত্ব; আর রাতের আকাশ হলো অগণিত গ্রহ-উপগ্রহ, তারা-নক্ষত্র, গ্যালাক্সি-নীহারিকা, ধূমকেতু-উল্কা ও গ্রহাণু নিয়ে এক বিপুল আয়তনের মহাকাশ।
দিনের আকাশে যেমন রয়েছে সূর্যের দাপট আর আলোর বর্ণালি; তেমনি রাতের আকাশজুড়ে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্রের নিবাস; আর নক্ষত্রের ফাঁকে দৃশ্যমান কালচে রঙের আভা। রাতের শুরুতে আকাশের যে বস্তুটি আমাদের সবার দৃষ্টি কাড়ে, সেটি হলো চাঁদ। চাঁদ পৃথিবীর একটি উপগ্রহ। সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহেরও চাঁদ আছে। ব্যতিক্রম শুধু বুধ এবং শুক্র। ওদের কোনো চাঁদ নেই। কিছু গ্রহের রয়েছে একাধিক চাঁদ। বৃহস্পতি গ্রহের চাঁদ ৯৫টি। শনির চাঁদ আছে ১৪৬টি। অন্যদিকে আমাদের পৃথিবীর চাঁদ মাত্র একটি। খুবই আনন্দের খবর হলো মাত্র ৫৭ দিনের জন্য দ্বিতীয় একটি ছোট্ট চাঁদ পেতে যাচ্ছে পৃথিবী। ২৯ সেপ্টেম্বর আকাশে দৃশ্যমান হবে এটি। চাঁদের মতো পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত। এর পরে চাঁদটি আমাদের মহাকর্ষীয় বল থেকে মুক্ত হয়ে সূর্যের চারপাশে তার কক্ষপথে ফিরে যাবে।
যেটাকে আমরা চাঁদ বলছি, সেটা আসলে গ্রহাণু বেল্ট থেকে উড়ে আসা একটি গ্রহাণু। আকারে এটা মাত্র ৩৬ ফিট। মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে গ্রহাণু বেল্ট বলে। যেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে লাখ লাখ গ্রহাণু ও উল্কাপিণ্ড। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ২০২৪ পিটি৫ নামের এই গ্রহাণুকে মিনি মুন বা ক্ষুদ্র চাঁদ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন; যদিও এটিকে খালি চোখে দেখা যাবে না। এটি চাঁদের মতো আলোও দেবে না; তবু এটি আকাশপ্রেমীদের জন্য বিশাল কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। তারা টেলিস্কোপের চোখে চোখ রেখে চাঁদ দেখার উৎসবে মেতে ওঠবে।
পৃথিবীর মহাকর্ষে আকৃষ্ট হয়ে চাঁদ বা গ্রহাণুটির পৃথিবীর কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করার ঘটনা অবশ্য এটিই প্রথম নয়। অতীতে বেশ কয়েকবার পৃথিবীর অতিথি হয়ে এসেছিল বেশ কিছু গ্রহাণু। পৃথিবীর দিকে দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসা গ্রহাণুগুলো সাধারণত বায়ুমণ্ডলে আছড়ে পড়ে বা ভস্মীভূত হয়ে যায়। উপগ্রহ বা চাঁদের মতো পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে হলে একটি গ্রহাণুকে সঠিক গতি বজায় রেখে এবং দিক মেনে পৃথিবীর দিকে আসতে হবে। মিনি মুনে পরিণত হতে হলে গ্রহাণুকে ঘণ্টায় ২ হাজার ২৩৭ মাইল গতিতে পৃথিবীর কক্ষ সীমানায় পৌঁছাতে হবে।
এর অধিক গতিতে ধেয়ে আসা গ্রহাণু বা উল্কাপিণ্ড পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণে পুড়ে অঙ্গার হয়ে মহাকাশে ভেসে বেড়ায়। যদি বিশাল সাইজের গ্রহাণু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত করে তাহলে কিন্তু মহাবিপদ। কেননা এটি বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষে ভস্মীভূত হলেও এর খণ্ডাংশ পৃথিবীর ওপর আছড়ে পড়ে মানবসভ্যতাকে বিলুপ্ত করে পারে।
মেহেদী আল মাহমুদ