তুমি কি কখনো এমন গাছের কথা শুনেছ, যে গাছ নিজের খাবারের সঙ্গে পোকামাকড়ও খায়? অবাক হচ্ছো? হ্যাঁ, এমন এক অদ্ভুত গাছ আছে- তার নাম পিচার প্ল্যান্ট। এই গাছ দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি তার কাণ্ডে লুকিয়ে আছে এক চমৎকার রহস্য।
পিচার প্ল্যান্টের পাতা অন্য গাছের পাতার মতো চ্যাপটা নয়। তার পাতা দেখতে অনেকটা কলসি বা পানির জারের মতো, যার ভেতরে থাকে মিষ্টি রস। গাছটি যেন নিজেই এক পোকা ধরার ফাঁদ তৈরি করে রেখেছে! ছোট মাছি, মশা কিংবা পিঁপড়া সেই মিষ্টি ঘ্রাণে আকৃষ্ট হয়ে পাতার ভেতরে উঁকি দেয়। কিন্তু একবার ঢুকলে আর রক্ষা নেই! পাতার দেয়াল এত পিচ্ছিল যে, পোকাগুলো নিচে পড়ে গিয়ে আর ওপরে উঠতে পারে না।
পাতার নিচের দিকে থাকে এক ধরনের রস, যা দেখতে পানির মতো হলেও আসলে তা পোকা হজম করার তরল। পোকা যখন সেখানে পড়ে, গাছটি ধীরে ধীরে সেটিকে গলিয়ে ফেলে এবং তার শরীরের দরকারি উপাদান যেমন- নাইট্রোজেন ও প্রোটিন- শোষণ করে নেয়। শুনতে বেশ ভয়ংকর লাগলেও, এটা আসলে গাছটির বেঁচে থাকার উপায়।
তুমি নিশ্চয় ভাবছো- গাছটা পোকা খেতে যায় কেন? আসলে পিচার প্ল্যান্ট সাধারণত এমন জায়গায় জন্মে যেখানে মাটিতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নেই, যেমন- জলাভূমি বা বৃষ্টিভেজা বনে। তাই গাছটি মাটির বদলে পোকা থেকেই পুষ্টি নেয়। অর্থাৎ এটি এক ‘বুদ্ধিমান বেঁচে থাকা গাছ’।
পিচার প্ল্যান্ট পৃথিবীর নানা দেশে পাওয়া যায়- এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, এমনকি আমেরিকাতেও। এর রংও খুব আকর্ষণীয়- সবুজ, লাল, বেগুনি কিংবা হলুদ। অনেক জায়গায় মানুষ এই গাছ টবে লাগিয়ে ঘরে রাখে, কারণ এটি শুধু সুন্দরই নয়, বরং আশপাশের মাছি-মশাও ধরে ফেলে!
ভাবো তো, প্রকৃতি কত আশ্চর্য! একদিকে এমন গাছ আছে যারা আমাদের ছায়া দেয়, ফুল ফোটায়, ফল দেয়; আবার অন্যদিকে পিচার প্ল্যান্টের মতো গাছ আছে, যারা নিজের খাবার নিজেই ধরে খায়। প্রকৃতির এই বৈচিত্র্যই পৃথিবীকে করে তুলেছে এত রঙিন ও মজার।
তুমি যদি কখনো কোনো পিচার প্ল্যান্ট দেখতে পাও, তবে খুব কাছ থেকে দেখো, কিন্তু ছুঁয়ো না! কারণ গাছটি ভেবে বসতে পারে- ‘আরে, এ তো দেখছি নতুন ধরনের পোকা এসেছে!’