নাটোর জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে গাছ থেকে আম সংগ্রহ আর বিক্রি। বাগানি ও কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার আম বিক্রি হবে।
তথ্যমতে, জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের নির্দেশানুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গুটি বা আঁটি আম সংগ্রহ শুরু হয় ১৫ মে শুক্রবার। ১৬ মে শনিবার থেকেই বিভিন্ন বাজারে বিক্রি শুরু হয় আম।
সরেজমিনে সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া বাজার, নাটোর শহরের নীচাবাজার, স্টেশনবাজার ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা সদরে ওই আম বিক্রি হতে দেখা যায়।
দিঘাপতিয়া হাটের ফল ব্যবসায়ী রাব্বী জানান, আমের আকৃতি ও রংভেদে ১২০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নাটোর জেলায় ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন।
বাগাতিপাড়ার আমচাষি আনোয়ার জানান, তার বাগানে কয়েকটি গাছে আম আসেনি। তবে অধিকাংশ গাছেই আম এসেছে। ফলনও ভালো হয়েছে। দাম ভালো পেলে ভালো আয়ের আশা করছেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান জানান, গত বছর জেলায় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার আমবাণিজ্য হলেও এবার তা ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন জানান, আগামী ২৫ মে গোপালভোগ, ৩০ মে ক্ষীরশাপাতি, ৫ জুন লক্ষণভোগ, ১৫ জুন ল্যাংড়া ও আম্রপালি, ২৫ জুন মোহনভোগ ও হাঁড়িভাঙ্গা, ৩০ জুন ফজলি, ৫ জুলাই মল্লিকা, ১৫ জুলাই বারি-৪, ২০ জুলাই আশ্বিনা এবং ১০ আগস্ট গৌড়মতি আম নাটোর জেলার চাষিরা গাছ থেকে সংগ্রহ করবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমচাষি ও বাগানিরা জেলা প্রশাসন ঘোষিত সময়সূচি মেনে আম সংগ্রহ করলে ভোক্তারা নিরাপদ ও পরিপক্ব আম পাবেন। আমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং বিপণন ও পরিবহনে যাতে কোনো বাধা না থাকে, সে জন্য প্রশাসন নিরলস কাজ করছে।
লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া এলাকার আম বাগানী শরিফুল ইসলাম জানান,চলতি মৌসুমে তিনি লালপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ৬ টি আম বাগান করেছেন। ওই ৬ টি আম বাগানের জমির পরিমান প্রায় ১শ১৫ বিঘা। ওই বাগানগুলোর আমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- আম্রপালী,গৌরমতি,কিংচাকাপাত,ব্যানানা, খিরসাপাত ও লকনা।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান,আমের ফলন ভালো হলেও সংখ্যা ও পরিমান অন্যান্য বছরের তুলনায় কম।
তিনি দাবী করেন,শীতে প্রতিটি গাছেই পড়যাপ্ত মুকুল আসলেও শেষ অবধি তা টেকে নাই। অনেক গাছই আমশুন্য হয়ে গেছে। আবার যে গাছগুলোতে আম আছে তা চোখে পড়ার মতো।
তিনি জানান,প্রতি বিঘায় গড়ে ১২০ টি আমগাছ রয়েছে। এরমধ্যে যে আম রয়েছে তাতে প্রায় ৩ হাজার মন হতে পারে।
তার দাবী,অন্যান্য বছরের তুলনায় সকল জিনিসের দাম বেশি। এমন অবসৃথায় আমের দামও অন্যান্য বছরের তুলনায় বাড়লে ভালো লাভ হবে। আগামী ঈদের কয়েকদিন পর থেকে তার আম সংগ্রহ শুরু হবে জানিয়ে বলেন,সবশেষ আষাঢ় মাসে গৌরমতি আম বাজারজাত করবেন তিনি।
নাটোর সদর উপজেলার আহম্মদপুর এলাকার আমচাষী সেলিম রেজা জানান,তিনি প্রায় ৫ টন গুটি আম বিক্রি করেছেন। পাইকারী হিসাবে ৮০০-১২০০ টাকা মন।
নাটোর সদর উপজেলার তেবাড়িয়া এলাকার এক চাষী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,তারা প্রান কোম্পানীতে আম দেন। কাঁচা গুটি আম ৬-১০ টাকা কেজি।
নাটোর সদর উপজেলার এক আম বাগানী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,গাছের আম মন প্রতি ৮ কেজি ঢলন বা বেশি দিতে হয়। সেই হিসাবে আমের দাম কম পড়ে।
তিনি জানান, খোলা বাজারে বা হাটে আম বিক্রি করলে কেন ঢলন দিতে হয়না। আবার দামও ভালো পাওয়া যায়। কিন্তু সকল আম নিজে বসে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। এমন অবস্থায় তারা আম ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি।
নাটোরের লালপুর বাজার এলাকার আড়তদার জিল্লুর রহমান জানান, খুচরা বাজারে আম বিক্রি শুরু হলেও আড়তে এখনও বপচা-কেনা শুরু হয়নি। অন্যান্য আম উঠলে আড়তভিত্তিক আম বপচা-কেনা শুরু হতে পারে।