কোরবানি ঈদের ৯ দিন পর গতকাল সোমবার রাজধানীর বাজারগুলোতে বেশ ক্রেতাসমাগম লক্ষ করা গেছে। পণ্যের সরবরাহও বেড়েছে। কয়েকটি ছাড়া বেশির ভাগ সবজির দাম কমেছে। মাংসের বাজারে এখনো ক্রেতার উপস্থিতি নেই। তবে মাছের বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি দেখা যায়।
সোমবার (৮ মার্চ) রাজধানীর কাপ্তান বাজার, হাতিরপুল বাজার ও মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ক্রেতারা জানান, কোরবানি ঈদের ৯ দিন পর অনেকেই মাংসের প্রতি বিরক্ত হয়ে এখন সবজি ও মাছ বেশি কিনছেন। সবজির দাম আছে কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে। তাই বাজার করে সন্তুষ্ট তারা।
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলেন, বাজারে ক্রেতারা আসতে শুরু করছেন। সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ডিমের দামও কমেছে, যা ঈদের আগেও বিক্রি হয়েছিল ১৫০ টাকা ডজন। তা এখন ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে ১৩০ থেকে ১২০ টাকা ডজন হয়েছে।
হাতিরপুল বাজারের সবজি বিক্রেতা মোবারক হোসেন বলেন, ‘সবজির দাম কম আছে, কারণ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। ঈদের বন্ধে আমরাও অনেকে বাড়ি গিয়েছিলাম। সরবরাহ ছিল অনেক কম। তাই তখন দাম অপরিবর্তিত ছিল। এখন মানুষ সবজি কিনছেন বেশি। গরমের সবজির মধ্যে পটোলের কেজি ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০, কাঁচা পেঁপে ৬০, ঝিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা মানভেদে, মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৭০ টাকা। তবে কাঁকরোল, করলা, বেগুনের দাম কিছুটা বেশি, প্রতি কেজি ৮০ টাকা করে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
অন্যদিকে টমেটো, কাঁচা মরিচ, শসার কেজি ১০০ টাকার বেশি। টমেটোর কেজি ১৪০ টাকা, কাঁচা মরিচের ১৬০, শসার ১১০ থেকে ১২০ টাকা।
নিজ সন্তানকে নিয়ে বাজার করতে আসেন গৃহিণী নাজমা খানম। তিনি বেশ কিছু সবজি কেনেন। তিনি বলেন, ‘ঈদের মধ্যে অনেক দিন মাংস খেলাম। ঢাকা এলাম এই শুক্রবারে। এখন একটু সবজি খাওয়াই লাগে। পটোল, কুমড়া, কাঁচা মরিচ আর টমেটো নিলাম। টমেটো আর কাঁচা মরিচের দাম অনেক বেশি। কিন্তু খাওয়া ছাড়া উপায় নাই।’
এদিকে পাইকারি বাজার কাপ্তান বাজারে মুরগির দাম রয়েছে সহনীয় পর্যায়ে। সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা কেজি, ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা আর দেশি মুরগি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।
খুচরা বাজার হাতিরপুল ও মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের বিক্রেতারা জানান, মুরগির দাম বেশ কিছুদিন থেকে স্থিতিশীল রয়েছে। সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি, ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি।
হাতিরপুল মাছের বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা আর বিক্রেতাদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। মাছ কিনতে আসা চাকরিজীবী নাইমুর হামিদ বলেন, ‘সচরাচর মাছ কিনতে আসি সকালে। কিন্তু এবার কিছু কাজের কারণে দুপুরে এলাম। মাঝারি আকারের রুই নিলাম আর তেলাপিয়া মাছ নিলাম। অনেক দিন পর মাছ খাওয়া হবে।’
মাছ বিক্রেতা শাহিন আলম বলেন, ‘অনেকেই এখন মাছ কিনতে আসছেন। আমাদের এখনো অনেক বিক্রেতা আসে নাই। তবে চাহিদা রয়েছে ভালোই। রুই মাছের দাম ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি, কাতল মাছ ৪০০ টাকা কেজি, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি, চাষের কই ২২০ থেকে ২৬০ টাকা। তেলাপিয়া আর পাঙাশের কেজি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা। ইলিশ মাছ ছোট আকারেরটা ১ হাজার ২০০ টাকা আর মাঝারি আকারেরটা ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে।