ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার সোনারগাঁয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল, দুই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল ৫ শতাংশের বেশি সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসলে নেমে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’ স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরে স্যামসাংয়ের নতুন ল্যাপটপ গুরুদাসপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিচার শুরু যাত্রা ও সার্কাসে অশ্লীলতা বরদাশত নয় : সংস্কৃতিমন্ত্রী আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা মাধবদীর ‘মমতা’ সিনেমা হল বিক্রির বিজ্ঞাপন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠে বসে মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার জয় দেখলেন নাদিয়া-নাঈম যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু বৈশ্বিক শিল্প ইতিহাসের ভূ-রাজনীতিতে নারী শিল্পী
Nagad desktop

অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রা মৃত্যুর মিছিল থামাতে পদক্ষেপ নিন

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
মৃত্যুর মিছিল থামাতে পদক্ষেপ নিন

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে অভিবাসী হওয়ার স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে বহু প্রাণ। ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা জেনেও অভিবাসনপ্রত্যাশীরা যেকোনো মূল্যে তাদের স্বপ্নের পেছনে ছুটছেন। এর পেছনে কাজ করছে মানব পাচার চক্র। বাংলাদেশের নানা প্রান্তে বিশেষ করে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ নির্দিষ্ট কিছু এলাকার লোকজনকে প্রলোভন দিয়ে এভাবে ইউরোপ নেওয়ার স্বপ্ন দেখায় দালাল চক্র। বছরের পর বছর এসব দালাল ও মানব পাচার চক্র ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা যেন কোনো কাজেই আসছে না। ফলে এসব চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এনজিও সংস্থা ব্র্যাকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মানব পাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে স্বপ্নের ইউরোপে পৌঁছানোর আগেই প্রতি বছর অন্তত ৫০০ বাংলাদেশির মৃত্যু ঘটে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের দিকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানব পাচারের শিকার হন বাংলাদেশিরা। গত বছরের প্রথম ৬ মাসের সমুদ্রপথে ৯ হাজার ৭৩৫ জন পাচার হয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। মানব পাচার চক্রটি সাধারণ মানুষের স্বপ্নকে পুঁজি করে জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মানব পাচার চক্রের অপতৎপরতায় রাশ টানতে পারছে না।

গত শুক্রবার লিবিয়া থেকে রাবারের নৌকায় ইউরোপে প্রবেশের সময় গ্রিস উপকূল থেকে চার বাংলাদেশির লাশ ও ২১ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সে যাত্রায় মারা গেছে ১৮ বাংলাদেশি। তথ্য মতে, উদ্ধার হওয়া কয়েকজন বাংলাদেশি জানান, লিবিয়া থেকে যাত্রার সময় নৌকায় অন্তত ৪০ জন বাংলাদেশি ছিলেন। নিখোঁজ ২২ জনের মধ্যে অন্তত ২০ জন বাংলাদেশের নাগরিক হতে পারেন। ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও অনাহারের কারণে তারা মারা গেছেন। যাদের লাশ পাওয়া যায়নি, নৌকায় থাকা এক মানব পাচারকারীর নির্দেশে সেগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, লিবিয়া থেকে গ্রিসগামী নৌকাটির ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর এটি দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলে সাগরে ভাসতে থাকে। প্রায় ছয় দিন সমুদ্রে ভাসমান থাকার পর ক্রিটের দক্ষিণে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে নৌকাটি উদ্ধার করা হয়।

ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ফ্রন্টেক্সের এ মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে শুধু ভূমধ্যসাগর হয়ে রাবারের নৌকায় চেপে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করেছেন ৩ হাজার ৩৯৫ জন অবৈধ অভিবাসী। এসব অভিবাসীর বেশির ভাগ বাংলাদেশ, সোমালিয়া ও পাকিস্তানের নাগরিক। এ সংখ্যা গত বছরে তুলনায় ৫২ শতাংশ কম হলেও সমুদ্রপথের এ ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় মৃত্যুর হার আগের তুলনায় বেড়েছে। এই দুই মাসেই ভূমধ্যসাগরে প্রায় ৬৬০ জন অভিবাসী মারা গেছেন। খারাপ আবহাওয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান ব্যবহারের কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় পথ দিয়েই সবচেয়ে বেশি মানুষ ইতালি ও গ্রিসে  প্রবেশ করেন, যা মোট অবৈধ অভিবাসীর প্রায় ৩০ শতাংশ।

অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রা অর্থাৎ ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনে মৃত্যুঝুঁকি জেনেও কেন বাংলাদেশিরা এ পথ বেছে নিচ্ছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দেশের একটি সংকট অবস্থা থেকে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। সরকার এ ব্যাপারটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। বিশেষ করে যারা প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ পথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাঠাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বৈধ পথে প্রবাসে যাওয়ার ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। দেশে বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। বিশেষ করে কর্মমুখী শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকার অপরাধীদের আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে জোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা। 

ঢাকা-দিল্লি আবার উত্তেজনা স্বীকৃত কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজতে হবে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
স্বীকৃত কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজতে হবে

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে আবার একধরনের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্রাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ভারতের দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি প্রবেশের অনুমতি পেলেও দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় ফিরে এসেছেন। তার ফিরে আসার এ ঘটনায় বাংলাদেশে তুমুল আলোচনার জন্ম হয়েছে। 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এ ঘটনাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বাঢ়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। ঘটনা প্রসঙ্গে গতকাল, অর্থাৎ ঘটনার এক দিন পর জাহেদ উর রহমান সাংবাদিকদের কাছে তার ফিরে আসাকে ‘ইন্সট্যান্ট’ বা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ বলে উল্লেখ করেছেন।

খবরের কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জাহেদ উর রহমানের দিল্লি যাওয়ার বিষয়টি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নোট ভার্বাল দিয়ে জানানো হয়েছিল। দিল্লি বিমানবন্দরে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহও উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার পরিচয় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের আগে তার ইউটিউব চ্যানেল ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ভারতবিরোধী বক্তব্যের কারণে তার পাসপোর্ট ব্ল্যাকলিস্টেড করে ভারত। তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নিয়ে দিল্লি গিয়েছিলেন। কালো তালিকাভুক্ত করার কারণে তাকে দিল্লি বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়। পরে খোঁজখবর নিয়ে দিল্লি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেয়। কিন্তু তিনি পাসপোর্ট ফেরত নিয়ে শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে দেশে ফিরে আসেন।

এ ঘটনা প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ খবরের কাগজকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা নিয়ে দিল্লিতে কেন কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নিয়ে গেলেন। যদি আমরা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাই, তাহলে এ নিয়ে উত্তেজনা না বাড়িয়ে কী কারণে এটা ঘটেছে, সেটা কথা বলে মিটিয়ে নেওয়া ভালো। দেশের স্বার্থকে সবার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া উচিত।
বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত নিঃসন্দেহে। প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার উপদেষ্টার ভারতে ঢুকতে না পারাটা উভয় দেশেরই কূটনৈতিক ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়। বিগত অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। বাংলাদেশের নির্বাচিত নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। ভারতের দিক থেকেও উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা শোক জানাতে ঢাকা এসেছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও কয়েকবার দিল্লি গেছেন। কূটনৈতিক পর্যায়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টাও রয়েছে। কিন্তু এ ঘটনাটি এমন একসময়ে ঘটল, যখন ভারত থেকে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে কথিত বাংলাদেশিদের পুশইনের খবর আসছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে এ সমস্যা নিয়ে বৈঠকও হয়েছে, কিন্তু উত্তেজনা প্রশমন ঘটেনি।

পরিস্থিতি যা-ই হোক, অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে, সেদিকে আমাদের নজর দিতে হবে। ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কে যেমন সংবেদনশীল, তেমনি আমাদেরও কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে হবে। এর প্রধান উপায় হচ্ছে আলাপ-আলোচনা করা। সামনে দুই দেশের মধ্যকার আরও কিছু সমস্যার সমাধান করার বিষয় রয়েছে। সেসব সমস্যা যাতে সমাধান করা যায়, সে ব্যাপারে উভয় দেশকেই সতর্ক থেকে এগিয়ে আসতে হবে। উত্তেজনা না বাড়িয়ে পরস্পরের স্বার্থে সমমর্যাদা নিয়ে সমাধানের পথ বের করতে হবে। ভারতীয়দের যেমন অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হওয়া ঠিক হবে না, তেমনি আমাদেরও যৌক্তিক ও স্বীকৃত কূটনৈতিক পথে অগ্রসর হতে হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের অনিয়ম অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল এখন যেন অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দু। কতিপয় কর্মকর্তা ও সিন্ডিকেটের যোগসাজশে সিআরবির চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। এ কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেখানে কাগজে-কলমে জনবল শতভাগ পূর্ণ থাকলেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ে এর সঙ্গে কোনো মিল নেই। নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকির অভাবে অরক্ষিত থেকে যাচ্ছে রেলপথ। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের রেল দুর্ঘটনা। সিআরবির বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ওয়েম্যানরাই রেলপথের মূল তদারককারী। তাদের অনুপস্থিতিতে লাইনের নাট-বল্টু ঢিলা হওয়া বা ফাটল শনাক্ত না হওয়ায় লাইনচ্যুত ও বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের রেললাইনে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ওয়েম্যানদের একটি বড় অংশ কর্মস্থলে না গিয়ে নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। লাইনে কঠোর শ্রম দেওয়ার কথা থাকলেও অনেকে বিভিন্ন নেতার দপ্তরে কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে মাস শেষে বেতন তুলছেন। আর মাসোহারা দিয়ে বছরের পর বছর চাকরি ধরে রেখেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কিছু অসাধু কর্মচারী শ্রমিক দলের নাম ভাঙিয়ে কিংবা তথাকথিত সংস্কারপন্থি গ্রুপের লেবাস ধরে সুবিধা নিচ্ছেন। এতে রেলওয়ে বড় ধরনের লোকসান ও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রকৌশলী-১-এর অধীনে গ্যাং নম্বর ১৪-তে মাত্র তিন থেকে চারজন কর্মী কাজ করছেন। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বাংলাবাজার এলাকায় এসআরভি রেলস্টেশনে সিজিপিওয়াই গ্যাংয়ের অধীনে ৯ জন রেলপথকর্মী নিয়োজিত থাকার কথা। কিন্তু সেখানে একজন ওয়েম্যান কাজ করছেন। একই চিত্র দেখা গেছে এসএসএই (ওয়ে) চট্টগ্রাম ও এসএসএই (ওয়ে)-ষোলশহরসহ প্রতিটি দপ্তরে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এই নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে রেলপথ। এর আগে একবার ওয়েম্যানদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফেরার আদেশ জারি করা হয়েছিল, কিন্তু সে আদেশ মানেননি রেলের কিছু অসাধু কর্মচারী। এতে যারা রেলপথে নিয়মিত কাজ করছেন, তাদের ওপর বাড়তি কাজের চাপ পড়ছে।

সাধারণ কর্মচারীদের মতে, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাই মূলত এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় এসএসএই (সিনিয়র সাব-আ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার) বা এইএন (আ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার) পর্যায়ের কর্মকর্তারা যদি কঠোরভাবে তদারকি না করেন, তাহলে প্রধান প্রকৌশলীর একক প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের ফাঁকিবাজির সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

অবস্থাদৃষ্টে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের অনিয়ম দেখার যেন কেউ নেই। রেলওয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন তথ্য দিতেও অপারগ অনেক কর্মকর্তা। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্বে অবহেলা করলেও তারা নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে তাদের চাকরি ঠিক রাখেন। এ কারণে তাদের চাকরি হারানোর কোনো ঝুঁকি থাকে না। এ পরিস্থিতিতে অরক্ষিত রেলপথকে সুরক্ষিত করতে এবং অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যাতে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেন, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই, দুর্ঘটনা নয়, অরক্ষিত রেলপথ সুরক্ষিত হোক। নিরাপদ হোক যাত্রীদের রেল ভ্রমণ। 

মূল্যস্ফীতি নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০১:১১ পিএম
বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে

জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট উত্থাপিত হয়েছে। এবার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার আগের অর্থবছরের তুলনায় বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। আর পয়েন্ট টু পয়েন্ট হিসাবে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ, যা এখনো উচ্চ মূল্যস্ফীতির ইঙ্গিত দেয়। প্রস্তাবিত বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। মূল্যস্ফীতি কমানো নিয়ে অর্থমন্ত্রী বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি বলেছেন, বাজার বা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সরকারি লোক দিয়ে পিটিয়ে করার বিষয় না। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে সঠিক নীতি, ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ব্যবসায় খরচ কমাতে হবে। এতে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে মানুষের আয় বাড়বে। বাজারে পণ্য সরবরাহ বাড়বে। আর এভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি কমানোর ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)ও বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন করেছে। টানা চার বছরের উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে নতুন অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে আটকে রাখার যে লক্ষ্য ঠিক রেখেছে বিএনপি সরকার, তা পূরণে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সিপিডি।

সিপিডির মতে, দেশের মূল্যস্ফীতি মূলত সরবরাহজনিত; যা শুধু মুদ্রানীতি কঠোর করে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ব্যয়ের মাধ্যমে যদি উৎপাদনশীলতা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ে, তাহলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা টেকসইভাবে উন্নত হবে। অন্যথায় অতিরিক্ত ব্যয় কেবল মূল্যস্ফীতির চাপই বাড়াতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে রাজস্ব, মুদ্রা ও সরবরাহব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। এর জন্য সাশ্রয়ী দামে পর্যাপ্ত খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও কিছু সময় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রাখতে হতে পারে। একইভাবে রাজস্বনীতি এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে যেন সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে দুর্বল না করে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, সংস্কারমুখী ও ব্যবসাবান্ধব বলে মনে করে। তাদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানিসংকট, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগে স্থবিরতার প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিকে পুনর্জীবিত করতে সরকারের গৃহীত সংস্কারমুখী উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। 
সরকারি নীতিনির্ধারকদের মতে, আগামী দশকের অর্থনীতি সামনে রেখে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ এবং ‘ডিজিটাল ইকোনমি’ গড়ে তোলাই এ বাজেটের অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য। বিএনপির নেতারা মনে করেন, বিগত ১৭ বছরে অর্থনীতির যে স্থবিরতা ও আস্থার  সংকট তৈরি হয়েছিল, এই বাজেট তা কাটিয়ে ওঠার একটি কাঠামোগত রূপরেখা। বর্তমান সরকার এই বাজেটের মাধ্যমে তিনটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে–জনগণের কাছে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার, বিনিয়োগকারীদের কাছে স্থিতিশীলতার বার্তা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপরেখা উপস্থাপন। এদিকে মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখা ও সর্বোচ্চ আয়কর ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ হতাশাজনক বলে কেউ কেউ মনে করেন।

দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলারসংকট, ব্যাংকিং খাতে দুর্বলতা, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশিত গতিতে বাড়ছে না। এ অবস্থায় সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বেশ কিছু উদ্যোগের কথা বলেছে। পাশাপাশি বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজও দিয়েছে সরকার। সরকার প্রশাসনিক বাধা কমিয়ে বিনিয়োগের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে অর্থনীতির সামষ্টিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। 
দেশে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গত শনিবার ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এর ওপর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের ভাবনা শীর্ষক সম্মেলনে বলা হয়েছে, খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে দশমিক ২ শতাংশ হারে কর কেটে রাখা হলে তা মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে।

বাজেটোত্তর পর্যালোচনায় আমরা দেখেছি, বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমাতে নানামুখী পদক্ষেপের কথা বলেছেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি মাথায় রেখে সরকারও নিত্যপণ্যের দাম কমাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে করছাড়ই যথেষ্ট নয়, সেই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ শৃঙ্খলও সঠিকভাবে কার্যকর করতে হবে। অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করেও সরকারকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আশা করছি, সরকার মূল্যস্ফীতি কমাতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সক্ষম হবে।

নিঃসঙ্গ মৃত্যু বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক নিশ্চিত আশ্রয়

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক নিশ্চিত আশ্রয়

সম্প্রতি দেশে বেশ কিছু মৃত্যু নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে যে বিষয়টি আলোড়ন সৃষ্টি করে তা হলো মিরপুরের ৭৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমের মৃত্যু। তার সন্তানরা উচ্চশিক্ষিত হলেও তিনি জীবনের শেষ মুহূর্তে ছিলেন নিঃসঙ্গ। তার মৃত্যুর কয়েক দিন পরই একই এলাকার ৫৫ বছর বয়সী আফরোজা নামের আরেক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমানও জীবনের শেষ মুহূর্তে ছিলেন নিঃসঙ্গ। মৃত্যুর পর কয়েক দিন ধরে বন্ধ ঘরে পড়ে থাকা কোনো বৃদ্ধ বা বৃদ্ধার মরদেহ শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়; এটি সমাজের মূল্যবোধ ও মানবিকতার জন্য এক গভীর ক্ষতচিহ্ন। এ ঘটনাগুলো শুধু কয়েকজন মানুষের মৃত্যুর গল্প নয়। এগুলো এমন এক সমাজের প্রতিচ্ছবি, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটছে, জীবনযাত্রার মান বাড়ছে, কিন্তু পারিবারিক সম্পর্কের উষ্ণতা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। 

দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৪ লাখেরও বেশি, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক দশকে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা সাড়ে তিন থেকে চার কোটিরও বেশি হবে। তখন দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ থেকে ২২ শতাংশই হবেন প্রবীণ। আমাদের দেশে অনেক বৃদ্ধ বাবা-মা একাকী জীবন কাটান। অনেক বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সন্তান বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু অনেকেই আছেন, যারা বাবা-মায়ের দায়িত্বে অবহেলা করেন। বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মায়ের খোঁজ না রাখা যতটা অমানবিক ততটা সামাজিক অন্যায়ও। বিশ্বায়নের প্রভাবে নগরজীবনের যেমন ব্যস্ততা বাড়ছে, সেই সঙ্গে দায়িত্ববোধের ঘাটতি, সম্পর্কের দূরত্বও সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃদ্ধ বয়সে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন কেবল অর্থ নয়, দরকার মানসিক নিরাপত্তাও।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনজুমান আরা বলেন, আধুনিক সমাজে বৃদ্ধাশ্রমের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। জাপান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশে ওল্ড হোম বা বৃদ্ধাশ্রম খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যবস্থা। আমাদের দেশেও এখন অনেক আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম গড়ে উঠছে। সন্তানরা কর্মজীবন বা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতেই পারেন, সেটা অপরাধ নয়। তবে বাবা-মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা চাকরিজীবনের শুরু থেকেই ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করতে পারেন। পেনশন বা আয়ের একটি অংশ প্রবীণ বয়সে নিরাপদ আবাসনের জন্য সঞ্চয় করা যেতে পারে। 

পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, আগামী বাংলাদেশ হবে বয়স্ক মানুষের বাংলাদেশ। সে কারণে বাবা-মায়ের ভরণপোষণ আইন নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বাবা-মায়ের ভরণপোষণ আইন-২০১৩ অনুযায়ী সক্ষম সন্তানদের বাবা-মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতে হবে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে শাস্তির বিধানও রয়েছে। আমাদের দেশের বাবা-মায়েরা চান না সন্তানরা শাস্তি পাক। তারা ভালোবাসার এক নিরাপদ আশ্রয় খোঁজেন। আমাদের বাব-মায়েরা নিঃসঙ্গতার অন্ধকারে ডুবে না যাক, সন্তানদের কাছেই হোক তাদের শেষ আশ্রয়। আমরা সবাই চাই এমন এক মানবিক ও নিরাপদ সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠুক, যেখানে বৃদ্ধাশ্রম নয়, প্রত্যেক বাবা-মা তার সন্তানের কাছে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাবেন।

বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:১০ পিএম
কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন

চুরি, সিস্টেম লস, অপচয়, দুর্নীতি এবং ব্যবস্থাপনাগত কারণে ভর্তুকিতে ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা। এতে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে রাষ্ট্রের। বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের পকেট কেটে ভর্তুকির ওপর নির্ভর করে টিকে আছে পুরো বিদ্যুৎ খাত। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা, অবৈধ সংযোগ, মিটার কারসাজি এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বিদ্যুৎ খাত এখনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি, দোকানপাট, বাজার এবং অস্থায়ী স্থাপনায় সরাসরি বিদ্যুতের লাইন থেকে সংযোগ নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া মিটার টেম্পারিং, বাইপাস সংযোগ, বিলিং জালিয়াতি এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং স্টেশন থেকেও বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে। অনুমোদনহীন এসব চার্জিং পয়েন্টে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হলেও কোনো বৈধ হিসাব থাকে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অসাধু কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের কারসাজিতে হচ্ছে অনিয়ম-দুর্নীতি। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওই সব অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুতুড়ে বিল, মিটার জালিয়াতি, অবৈধ সংযোগ, সিস্টেম লসের নামে অনিয়ম এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কার্যকর জবাবদিহি ও শাস্তির নজির না থাকায় পরিস্থিতিরও তেমন উন্নতি হচ্ছে না। অন্যদিকে বছরের পর বছর বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হলেও খাতটির আর্থিকসংকট কাটছে না।

চলতি মাসে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সাড়ে ৮ শতাংশ এবং  পাইকারি দাম ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। 
তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বিদ্যুতের সিস্টেম লস সাধারণত ২ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশে তা ১০ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও বিতরণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পুরোনো অবকাঠামো, দুর্বল ট্রান্সফরমার, জরাজীর্ণ লাইন এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে প্রযুক্তিগত ক্ষতির পাশাপাশি চুরি ও অনিয়ম মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম খবরের কাগজকে বলেন, বিদ্যুৎ খাতে লোকসানের পেছনে বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তাদের চুরির কারণে সংকট কাটছে না বলে তিনি মনে করেন। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ খাত একটি অসাধু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের লাগামহীন দুর্নীতি ও চুরির কারণে দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যারা ভোক্তাবিরোধী ও গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে বিচারের কোনো নজির নেই। বিদ্যুৎ খাতের ঘাটতির কথা বলে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও বাস্তবে আর্থিক ঘাটতি কমছে না, বরং প্রতিদিনই তা বাড়ছে। সরকারের প্রধান দায়িত্ব জনগণকে সেবা দেওয়া, মুনাফা অর্জন নয়। তাই শুধু দাম বাড়ানোর নীতি অনুসরণ না করে সাধারণ মানুষের স্বার্থে বিদ্যুতের মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার উদ্যোগও প্রয়োজন।

বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বিদ্যুৎ খাত বেশ চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। এ জন্য সরকারকে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। চুরি, অপচয়, সিস্টেম লস ছাড়াও অব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি এ খাতকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিদ্যুতের মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে না থাকায় ভোক্তাদের ওপর এক ধরনের চাপ রয়েই গেছে। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর যেসব অসাধু কর্মকর্তা সিন্ডিকেট কারসাজিতে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আশা করছি, সরকার সাধারণ জনগণের স্বার্থে অতি দ্রুত লোকসান কমাতে পদক্ষেপ নেবে।