তৃতীয় অধ্যায় : পদার্থের গঠন
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর-১
উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ।
A মৌলটি ৬ নম্বর গ্রুপের প্রথম মৌল এবং B, 11 নম্বর গ্রুপের প্রথম মৌল।
ক. নিউক্লিয়ন সংখ্যা কী?
খ. সোডিয়ামের চেয়ে পটাসিয়ামের গলনাঙ্ক কম কেন?
গ. দ্রবণে B আয়নের উপস্থিত কীভাবে শনাক্ত করবে।
ঘ. A ও B মৌল দুটির ইলেকট্রন বিন্যাস সাধারণ ব্যতিক্রম যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ক. নিউক্লিয়ন সংখ্যা হলো কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা। অন্য কথায়, পরমাণুর ভর সংখ্যাকেই নিউক্লিয়ন সংখ্যা বলে।
খ. সোডিয়াম (Na) এবং পটাসিয়াম (K) উভয়ই ক্ষার ধাতু এবং একই গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু পটাসিয়ামের পরমাণু আকার সোডিয়ামের চেয়ে বড়। ফলে পটাসিয়ামের ধাতব বন্ধন দুর্বল হয়। দুর্বল ধাতব বন্ধনের কারণে পটাসিয়ামের গলনাঙ্ক সোডিয়ামের চেয়ে কম হয়। অর্থাৎ পটাসিয়ামকে গলানো সোডিয়ামকে গলানোর চেয়ে সহজ।
গ. উদ্দীপক অনুযায়ী, B হলো ১১ নম্বর গ্রুপের প্রথম মৌল, অর্থাৎ সোডিয়াম (Na)। দ্রবণে সোডিয়াম আয়নের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য নিচের পরীক্ষা করা যেতে পারে-
জ্বালাময় পরীক্ষা: সোডিয়াম যৌগকে বাঁশি জ্বালিয়ে রাখলে পীত রঙের জ্বালা দেখা যায়।
পিরিক্লোরিক অ্যাসিড পরীক্ষা: সোডিয়াম যৌগের দ্রবণে পিরিক্লোরিক অ্যাসিড যোগ করলে সাদা বর্ণের সোডিয়াম পিরিক্লোরেট অধঃক্ষেপ তৈরি হয়।
ঘ. A মৌল: A মৌল ৬ নম্বর গ্রুপের প্রথম মৌল। তাই এর ইলেকট্রন বিন্যাস হওয়া উচিত ns²np⁴। কিন্তু প্রথম মৌল হওয়ার কারণে এর ইলেকট্রন বিন্যাসে ব্যতিক্রম দেখা যায়। এটির ইলেকট্রন বিন্যাস হবে ns²।
B মৌল: B মৌল 11 নম্বর গ্রুপের প্রথম মৌল। তাই এর ইলেকট্রন বিন্যাস হওয়া উচিত ns¹। কিন্তু প্রথম মৌল হওয়ার কারণে এর ইলেকট্রন বিন্যাসে কোনো ব্যতিক্রম দেখা যায় না।
ব্যতিক্রমের কারণ: প্রথম মৌলগুলোর ক্ষেত্রে পরমাণুর আকার খুব ছোট হয়। ফলে নিউক্লিয়াস ইলেকট্রনগুলোকে শক্তিশালীভাবে আকর্ষণ করে। এই কারণে s উপস্তরের ইলেকট্রনগুলো p উপস্তরে প্রবেশ করতে চায় না।
লেখক : প্রধান শিক্ষক
হাজী রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ
কবীর