সময় গড়িয়ে ক্যালেন্ডারের পাতা বদলাচ্ছে একই সঙ্গে পরিবর্তন হচ্ছে ক্যারিয়ারের ধরনও। দিন যত যাচ্ছে ততই কঠিন হচ্ছে চাকরির বাজার, বাড়ছে প্রতিযোগিতাও। কিছু কিছু পেশা আছে সেগুলো অনেকের কাছেই আকর্ষণীয়। সেগুলো সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো-
আইটি: শুধু দেশে নয়, বিশ্বজুড়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটে যাচ্ছে। এ সেক্টরের প্রবৃদ্ধির হার ৩০০ শতাংশ। কী ধরনের কাজ আছে, বলার চেয়ে ভালো হয় কী ধরনের কাজ নেই! সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গেম ডেভেলপমেন্ট, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, থিম তৈরি, গ্রাফিক্স ডিজাইন, নেটওয়ার্কিং, সাইবার সিকিউরিটি, ডিজিটাল মার্কেটিং, ই-কমার্স ইত্যাদি। যেকোনো বিষয়ে পড়াশোনা করে এখানে কাজ করা যায়। এর জন্য প্রস্তুতি হিসেবে সবার প্রথমে প্রয়োজন শেখার আগ্রহ এবং অ্যাডপ্ট করার ক্ষমতা।
আরএমজি: বর্তমানে আমাদের দেশের প্রধান রপ্তানি খাতই হলো গার্মেন্ট অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের অধিকাংশই এ খাত থেকে আসছে। বিশাল এ সেক্টরে প্রচুর দক্ষ লোকবল প্রয়োজন পড়ছে। সেই তুলনায় কোম্পানির মালিকরা লোকবল পাচ্ছে না। এ সেক্টরে যেমন প্রয়োজন হচ্ছে সাধারণ শ্রমিক, তেমনি প্রয়োজন দক্ষ ও শিক্ষিত লোকবল; যারা প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ে কাজ করবে। গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশে অনেক বায়িং প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যারা বিদেশ থেকে অর্ডার সংগ্রহ করে দেশীয় গার্মেন্টে কাজ পরিচালনা করে থাকে। এখানেও দক্ষ লোকবলের সংকট। এ সেক্টরে বর্তমানে উচ্চবেতন দিয়ে দক্ষ লোকবল নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। এ সেক্টরে গ্র্যাজুয়েটসহ বিবিএ, এমবিএ ইত্যাদি যোগ্যতা চাওয়া হয়। পাশাপাশি মার্চেন্ডাইজিং জানা থাকলে চাকরি পেতে সহজ হয়।
হিউম্যান রিসোর্স: প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সব কর্মকর্তা অথবা কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া এবং তাদের কাজের তদারকি করা এইচআরডির কাজ। একটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের চাহিদা অনুযায়ী এইচআরডি কোম্পানির প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিয়ে থাকে এবং কর্মীদের বেতন কাঠামো, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকে এইচআরডি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাহিদা এবং এরা যাতে ঠিকভাবে কাজ করে সেদিকেও নজরদারি করে এ বিভাগ। এখানে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে অবশ্যই মাস্টার্স/এমবিএ মেজর-ইন-এইচআর ডিগ্রিধারী হতে হবে। তাহলে চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে। কিছু কাজের আগে অভিজ্ঞতা থাকলে আরও ভালো হয়।
ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড আর্কিটেক্ট: সারা বিশ্বে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আর্কিটেক্টের চাহিদা অনেক বেশি। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের দেশেও বর্তমানে এ সেক্টরের প্রতি নতুনদের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্কিটেক্টের ওপর বিভিন্ন কোর্স রয়েছে। এ সেক্টরে চাকরি করতে হলে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিএসসি ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএ, মাস্টার্সসহ বিভিন্ন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যোগ্যতা চাওয়া হয়। আর বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে অন্য সেক্টর থেকে এখানে ক্যারিয়ার গড়তে যায় নিশ্চিন্তে। শুধু প্রয়োজন নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও কিছু কারিগরি অভিজ্ঞতা।
এনজিও: চাকরির বিশাল একটি জায়গা হচ্ছে এনজিও। চাকরির ক্ষেত্র তৈরিতে এনজিও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এনজিওগুলো শহর থেকে গ্রামে সব স্থানেই চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিদেশি এনজিওগুলোর পাশাপাশি দেশীয় অনেক এনজিও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সেক্টরে চাকরির প্রতি তরুণদের আগ্রহ বেশি। আর এর প্রধান কারণ হলো এখানে বেতন অনেক বেশি দেওয়া হয়। যদিও একটু পরিশ্রম করতে হয় এ সেক্টরে, তার পরও ভালো একটি অবস্থানে যেতে পারলে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। এ সেক্টরে চাকরির জন্য মাস্টার্স ডিগ্রি, সিএ, এমবিএ ইত্যাদি শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়। ইংরেজিতে লেখা ও বলা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ সেক্টরে নিজেকে গড়ে তুলতে চাইলে উপরোক্ত যোগ্যতা প্রয়োজন। এর সঙ্গে ফিল্ড লেভেলে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে আরও ভালো হয়।
তারেক/