মানুষ কখনো একা চলতে পারে না। জীবনের প্রতিটি ধাপে টিকে থাকা ও এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের অন্যের সহযোগিতা প্রয়োজন। কাজ, শিক্ষা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রয়োজনে আমরা বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হই। সময়ের সঙ্গে এসব পরিচয়ের কিছু অংশ গড়ে তোলে সুন্দর ও কার্যকর সম্পর্ক। আর এ সম্পর্ক তৈরি ও ধরে রাখার প্রক্রিয়াকেই বলা হয় নেটওয়ার্কিং।
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক সময়ে দক্ষতার পাশাপাশি শক্তিশালী যোগাযোগও সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি। আপনার পরিচিতির পরিধি যত বড় হবে, চাকরির সুযোগ পাওয়া, নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে তত বেশি এগিয়ে থাকতে পারবেন। তাই ক্যারিয়ারে সফল হতে চাইলে নেটওয়ার্কিং বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কীভাবে নিজের যোগাযোগের পরিধি আরও বিস্তৃত করা যায়? সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানাচ্ছেন গাজী তাহির
বিষয় বুঝে কথা বলুন
কারও সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইলে প্রথমেই তার আগ্রহ ও পছন্দের বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা নেওয়া জরুরি। মানুষ সাধারণত নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাই আপনার আগ্রহের সঙ্গে তার আগ্রহের মিল খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। মিল পাওয়া গেলে কথোপকথন সহজ ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এতে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ে এবং ধীরে ধীরে একটি সুন্দর ও ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি হয়।
আরো পড়ুন: সাউথইস্ট ব্যাংকে কাজের সুযোগ, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা
নেটওয়ার্কিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য জেনে নিন
একজন মানুষ তার নিজের সম্পর্কে কথা বলতে পছন্দ করে। তাই আপনি যার সঙ্গে কথা বলছেন, তার পছন্দ-অপছন্দ বা জীবন নিয়ে প্রশ্ন করুন। হয়তো তিনি কলেজে থাকতে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতেন এবং তুখোড় বিতার্কিক ছিলেন। এ বিষয়ে আগ্রহ নিয়ে জানার চেষ্টা করুন। আপনার আগ্রহ তাকে উৎসাহ জোগাবে, যা পরে কাজে দিতে পারে।
ইতিবাচক মনোভাব দেখান
ইতিবাচক মনোভাবের মানুষকে সবাই পছন্দ করে। তাই কারও সঙ্গে কথা বলার সময় হতাশা বা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন। বরং ইতিবাচক কোনো বিষয়ের ওপর জোর দিন। এতে আপনি পরোক্ষভাবে তাকে উদ্যমী হওয়ার উৎসাহ দেবেন।
নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন
নতুন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার পাশাপাশি পরিচিত মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অফিস ছেড়ে হয়তো নতুন অফিসে যোগ দিয়েছেন। তবু আগের অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। নিশ্চিতভাবে এটি আপনার নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করে রাখবে।
আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলুন
কথাবার্তা বা সম্পর্ক শুধু কর্মজীবনে সীমাবদ্ধ থাকলে সম্পর্কের গভীরতা থাকে না। তাই জীবনের অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলুন। দেখবেন সম্পর্ক আরও আন্তরিক হয়ে উঠছে। তবে অন্য ব্যক্তি ব্যক্তিগত কোনো বিষয়ে কথা বলা পছন্দ না করলে সে বিষয় এড়িয়ে চলুন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় যোগাযোগ বজায় রাখুন
কোনো ব্যক্তির কাজ বা দক্ষতা ভালো লাগলে তার সঙ্গে পেশাদারভাবে যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারেন। এ ক্ষেত্রে লিংকডইন হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। তাই নিজের প্রোফাইলটি সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখুন, যেন আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা যায়। একটি পরিপাটি ও তথ্যসমৃদ্ধ প্রোফাইল আপনাকে অন্যদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।
অন্যদিকে, ফেসবুকে কারও সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে ভদ্রভাবে অনুমতি নেওয়া ভালো। এতে পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকে এবং সম্পর্ক আরও ইতিবাচকভাবে গড়ে ওঠে।
কথা শোনার অভ্যাস গড়ে তুলুন
যার সঙ্গে কথা বলছেন, তার বক্তব্যের ওপর মনোযোগ দিন। তিনি হয়তো এমন কিছু জানেন, যা আপনার কাজে লাগবে। তাই তাকে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করুন।
নেটওয়ার্কিংকে অভ্যাসে পরিণত করুন
প্রতি সপ্তাহে কিংবা প্রতি মাসে অন্তত দুজন নতুন মানুষের সঙ্গে নিজের সখ্য গড়ে তুলুন। এটি আপনি নতুন কিছু জানার সুযোগ তৈরি করবেন।
নেটওয়ার্ক যে শুধু কারও কাছে থেকে সহায়তা পাওয়ার জন্যই গড়তে হয় তা নয়, যদিও এখন কনসেপ্টটা অনেকটাই এমন হয়ে গেছে। তবে বর্তমানের প্রতিযোগিতার সময়ে টিকে থাকার জন্য এটি খুবই প্রয়োজনীয় দক্ষতা।
তারেক/