খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও বংশীবাদক বারী সিদ্দিকী। গ্রামীণ লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ধারার গানে শ্রোতাদের মনে বিশেষ জায়গাজুড়ে রয়েছেন তিনি। ‘শুয়া চান পাখি’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘সাড়ে তিন হাত কবর’, ‘পুবালি বাতাসে’, ‘রজনী হইসনা অবসান’, ‘ওগো ভাবিজান নাও বাওয়া’, ‘নষ্ট জীবন’, ‘ভাবের দেশে থাকো কন্যা’, ‘চন্দ্র সূর্য যত বড় আমার দুঃখ তার সমান’, ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজো’সহ তার গাওয়া অসংখ্য গান শ্রোতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। ২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই কিংবদন্তি গায়ক।
আগামীকাল ১৭ নভেম্বর প্রয়াত বারী সিদ্দিকীর ৭০তম জন্মদিন। নন্দিত এই শিল্পীর জন্মদিন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য এক আয়োজন করেছে ‘বারী সিদ্দিকী
স্মৃতি পরিষদ’।
এমনটি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি প্রিন্স আলমগীর। আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরে বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বারী সিদ্দিকী স্মরণে স্মৃতিচারণা, গুণীজন সম্মাননা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন ভূঁইয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালিক সংগীতানুরাগী মিনহাজুর রহমান (রাজু ভূঁইয়া)।
বিশেষ অতিথি থাকবেন এটিএন বাংলার উপদেষ্টা তাশিক আহম্মেদ, গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়জী, শরিফ কামাল হোসেন ও দেলোয়ার আরজুদা শরফ।
উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মো. আরফাতুর রহমান (আপেল)। এ ছাড়া উপস্থিত থাকবেন বারী সিদ্দিকী স্মৃতি পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা অভিনেতা ডি এ তায়েব।
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় শিল্পী সালমা, নোলক বাবু, শফি মণ্ডল, ফকির শাহাবুদ্দিন, আশরাফ উদাস, শাহনাজ বেলী, কামরুজ্জামান রাব্বী, গামছা পলাশ, রাজীব, বিউটি, আলম আরা মিনুসহ আরও অনেকে।
নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের প্রেরণায় নব্বইয়ের দশকে সংগীত জগতে প্রবেশ করেন বংশীবাদক বারী সিদ্দিকী। ১৯৯৫ সালে তিনি হুমায়ূন আহমেদের ‘রঙের বাড়ই’ নামের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে প্রথম সংগীত পরিবেশন করেন। এরপর ১৯৯৯ সালে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে ৭টি গানে কণ্ঠ দেন। ১৯৯৯ সালে জেনেভায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাঁশি সম্মেলনে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনি অংশগ্রহণ করেন। বারি সিদ্দিকীর গাওয়া বেশকিছু একক অ্যালবামও প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া ‘মাটির পিঞ্জিরা’সিনেমায় অভিনয়ও করেন তিনি।
হাসান