বলিউড সুপারস্টার অমতিাভ বচ্চন। ৮২ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান অভিনেতা এখনও রুপালি পর্দায় বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে যাচ্ছেন। সিনেমায় অভিষেক করার পর থেকেই অভিনয়ে নিয়মিত বলিউডের শাহেনশাহ হিসেবে পরিচিত এই অভিনেতা। এখনও তার কোন ছবিতে থাকা মানেই সেটা দর্শকের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায়।
অবশ্য বয়স এবং নানা কারণে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধরনের রোগের সঙ্গে লড়াই করছেন এই অভিনেতা। অমিতাভের রোগশোকের খবর তেমন প্রকাশ্যে না এলেও গত চার দশক ধরে বড় ধরনের এক যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ১৯৮২ সালে ‘কুলি’ ছবির শুটিংয়ের সময়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিলেন অমিতাভ। সেই সময়ে তার পেটে গুরুতর আঘাত লাগে। এমনকি একটা সময়ে চিকিৎসকেরা তাকে ‘মৃত’ বলেও ঘোষণা করেছিলেন।
রিপোর্ট অনুসারে, ‘কুলি’ সিনেমার শুটিংয়ে স্টান্ট করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার সময় ‘হেপাটাইটিস বি’ রোগে আক্রান্ত হন অমিতাভ। এতে ‘বিগ বি’-র লিভারের একটা বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। তাই সুস্থ থাকার জন্য খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দেন তিনি। এমনকি খাবারের তালিকায় মাছ-মাংসও রাখেন না এ অমিতেভা। ডাল, সবজি, রুটি খাওয়ার পাশাপাশি বেশিরভাগ দিন দই-ভাত খান। সেই সঙ্গে আমলা, তুলসীর রস খান। মদ্যপান, ধূমপান সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করেছেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৮২ সালে এই ছবির শুটিংয়ের সময় যে অঘটন ঘটে, তার জন্য সেই সময় তাকে ২০০ জন ৬০ ব্যাগ রক্ত দিয়েছিলেন। অমিতাভ জানান, এই ২০০ জনের মধ্যে একজনের শরীরে ছিল ‘হেপাটাইটিস বি’ ভাইরাস। সেখান থেকেই তার শরীরে এই রোগ সংক্রমিত হয়। তাই ৪৩ বছর আগে কোন এক ব্যক্তির একটি ভুলের শাস্তি এখনও অমিতাভকে ভোগ করতে হচ্ছে। এর ফলে ধীরে ধীরে তার লিভার কার্যক্ষমতা হারিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে অমিতাভ বলেছিলেন, ‘১৯৮২ সালের ঘটনা। পরবর্তীকালে নিয়মিত চেকআপের সময়ে জানা যায় আমার লিভারের ৭৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই এখন আমি আমার ২৫ শতাংশ লিভারের সাহায্যে বেঁচে আছি।’