ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে দুঃসংবাদ শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে আইভরি কোস্টকে হারাল জার্মানি বিশ্বকাপ জয়ে যে দলকে এগিয়ে রাখলেন ইব্রাহিমোভিচ দুই গোল বাতিল, প্রথমার্ধে পিছিয়ে জার্মানি আইভরি কোস্টের মুখোমুখি জার্মানি, দেখুন একাদশ জোড়া রেকর্ডের সামনে মেসি সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল নেদারল্যান্ডস দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে ধাক্কা বিশ্ব বাবা দিবস আজ ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর ব্রায়ান ব্রোবির জোড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে নেদারল্যান্ডস অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ এক দিনে দ্রুততম দুই গোল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারাল বাংলাদেশ উল্লাসের পরদিন ৪০ টন স্মৃতি ছুটিতে গ্রামে গিয়ে ডাকাত হামলায় আহত এসিল্যান্ডসহ ৬ জন মেসির ফাউল: ফিফায় আলজেরিয়ার নালিশ ঈশ্বরগঞ্জে আ.লীগের সাবেক এমপির ফ্যাক্টরিতে লুটপাট ১১ মামলার আসামি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা বুলবুল আটক বম সম্প্রদায়ের এক অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী উত্তরায় ভূমি গ্যালারিতে চিত্রপ্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত রোনালদো-মেসিদের মতো খেলো, অলিম্পিকে ভালো ফল চাই: প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে গোপনে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরেও যাবেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যকে নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অসাধারণ কৃতিত্ব: ৮ মাসে কোরআন হিফজ, সংবর্ধিত আল-আমীন ব্রাজিল ম্যাচ জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক ফরিদপুরে ‘গে গ্রুপ’ ইস্যুতে ৩ জন আটক জামায়াত গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে?

‘প্রতি সপ্তাহে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা দরকার’

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১১:০০ এএম
‘প্রতি সপ্তাহে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা দরকার’
দীপক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিক, কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা দীপক চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘শিরিনের একাত্তর যাত্রা’-সহ কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানিয়েছেন। নিজের সঙ্গে নিজের লড়াইয়ে ক্ষতবিক্ষত হতে থাকা নারীর গল্প নিয়ে ‘আহার’ নামে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ মিলে ৩০টি গ্রন্থ রয়েছে তার। স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে ‘খবরের কাগজ’-এর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র থেকে কী পাই?

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র থেকে শুধু বিনোদনই পাই না, তা থেকে গভীর ও বিভিন্ন ধরনের গল্প এবং বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাই। সাংস্কৃতিক বাস্তবতা, শিক্ষামূলক ও তথ্যবহুল ঘটনা দর্শকদের জানাতে সাহায্য করে। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে জীবন, সামাজিক চিত্র, নারীর অসহায়ত্বসহ বিভিন্ন বিষয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে দেখানো যায়। ছোটগল্পের মতো, ছোট প্রাণ, ছোট সুখ, ছোট ছোট দুঃখগাথা নিয়েও স্বল্পদৈর্ঘ্য নির্মাণ করা যায়। অল্প আয়োজনে বড় ম্যাসেজ দেওয়া সম্ভব হয়। তবে এটাও সত্য, টিভি-রেডিওর নাটকের ভাষা আর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের ভাষা এক নয়।

কী কী উপায়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা সম্ভব?

বিশেষ ব্যবস্থায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে, শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমিতে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এটা শুধু বিশেষ দিবসে নয়, প্রতি শুক্র-শনিবারে হতে পারে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম হতে পারে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। কম খরচে নির্মাণের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নিতে পারে আমাদের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন।

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিয়ে কোনো প্রস্তাব রাখতে চান?

আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে, অনেক রক্তে অর্জিত স্বাধীনতা ব্যর্থ হতে দিতে পারি না। এ মহৎ অর্জনের পেছনে রয়েছে বহু রক্ত ও ত্যাগ। ত্রিশ লক্ষ শহিদ আর কয়েক লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সঙ্গে মিশে আছে হাজার হাজার ছোট বড় ঘটনা। শুধু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রই নির্মাণ করা যেতে পারে কয়েক হাজার। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একশ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও হয়নি। এটা বড় ব্যর্থতা আমাদের। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বসভায় বিশেষ মর্যাদায় যেতে পারত। স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রদর্শনের সুযোগ খুব কম। টেলিভিশনগুলো বিশেষ বিশেষ দিবসে শুধু পছন্দ হলেই প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে থাকে। যেহেতু সিনেমা হলে প্রদর্শনের সুযোগ নেই সুতরাং প্রতিটি বেসরকারি টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ প্রতি মাসে অন্তত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে পারেন।

আপনার অভিজ্ঞতায় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জরুরি ক্ষেত্র কী কী?

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে আমার ধারণা নির্মাতা ও অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে পারস্পরিক আন্ডারস্ট্যান্ডিং জরুরি। রিহার্সেল, শারীরিক প্রতিক্রিয়াশীলতা, ভোকাল রেসপন্সিভনেস, উচ্চারণের ধরন জরুরি। আমরা দেখি, আজকাল অধিকাংশ চলচ্চিত্রে সহিংসতা, আগ্রাসী স্বভাব, ধর্ষণ, খুন বেশি করে দেখানো হয়। শারীরিক আক্রমণের মতো ঘটনার ক্ষেত্রে কুশীলবের ভোকাল রেসপন্সিভনেস জরুরি। আমি বলতে চাই রিহার্সেল, প্রশিক্ষণ, কৌশল জানা দরকার। শুধু চেহারা সৌন্দর্য্যরে বড়াই নিয়ে অনেকে ফিল্মে কাজ করার জন্য মুখিয়ে থাকেন। কিন্তু অভিনয়টা কি এত সস্তা? চরিত্র ধারণের আগে মনস্ততাত্ত্বিক প্রস্তুতি দরকার। এক শ্রেণির নায়ক-নায়িকা দুয়েকটি নাটক-সিনেমায় ভালো করার পরই পা মাটিতে ফেলতে ভুলে যান। ফলে, অসাবধানতার জন্য বর্ণময় জীবনকে হঠাৎ বর্ণহীন হয়ে পড়তে হয়। 

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে ভালো গল্প তো খুবই দরকার!

স্বল্পদৈর্ঘ্য বলুন বা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বলুন, গল্প ভালো থাকতেই হবে! তবে ভালো গল্প দিয়েই ভালো চলচ্চিত্র হয় না। এর অনেক আনুষঙ্গিকতা রয়েছে। সকল ভালো গল্প ভালো চলচ্চিত্রের উপযোগী নয়। আমরা মুখস্থ বলে থাকি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমুক গল্প অবলম্বনে এই চলচ্চিত্র বা নাটক ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু কাউকে অসম্মান না করেও বলতে পারি, সবক্ষেত্রেই ‘অবলম্বন’ শব্দজুড়ে দেওয়া ঠিক নয়। দিনমজুর, নিরন্ন, অশিক্ষিত, অচ্ছুত হরিজনদের নিয়ে চলচ্চিত্র বানাতে হবে এখন। এ ছাড়াও আপনি যেকোনো ছবিই নির্মাণ করুন এতে সরলতা চাই। সরল-সহজ ভাষা চাই।

সরলতা মানে? গল্পের সরলতা, সরল-সহজ গল্প এসব?

না, সেটা বলছি না। আমরা সবাই তো জানি পথের পাঁচালির কথা। 

সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালি’ চলচ্চিত্র?

হ্যাঁ, সেটাই বলছি। পথের পাঁচালির প্রধান গুণ ছিল তার সরলতা। সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্রসংক্রান্ত গ্রন্থে ‘শতাব্দীর সিকি ভাগ’ প্রবন্ধে বলেছেন, পথের পাঁচালির সরলতার পাশাপাশি তার আবেগ, কাব্যময়তা, বাস্তবানুগত্য, মানবিকতা ইত্যাদি গুণের সমাবেশ, যার সবই বিভূতিভূষণের উপন্যাসে বর্তমান। সে ছবি দর্শকের মনে এমনই একটি স্থান করে দিয়েছে, যেখান থেকে তাকে আর সরানো চলে না। 

বাংলা চলচ্চিত্রের কথা বলতে গেলে সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন, অঞ্জন দত্ত, আজিজুর রহমান, এহতেশাম, আলমগীর কবীর, হুমায়ূন আহমেদ, তানভীর মোকাম্মেল, আমজাদ হোসেনের ছবি জনপ্রিয়তা হওয়ার কারণ কি সরলতা?

সরলতা তো বটেই, অন্যান্য দিকও আছে। তারা অত্যন্ত অভিজ্ঞ, গুণী ও পরিশ্রমী। একটি ছবি বিবিধ কারণে জনপ্রিয়তা পেতে পারে। বাস্তবতা, ভাষা, সংলাপ, চিত্রনাট্য, সিনেমাটোগ্রাফি, নির্মাণে মুন্সিয়ানা। মানুষ জটিল বিষয় পছন্দ করে না। চলচ্চিত্র একটি বিশাল শিল্প। বহু আয়োজন ও পরিশ্রমের। প্রয়োজনীয় জনসংবর্ধনা না পেলে এর স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে যায়। জনগণ ও দর্শককে টানতে পারে না। চলচ্চিত্রের একটি ব্যতিক্রম ভাষা রয়েছে, নির্মাণকালে মাথায় রাখেন গুণী নির্মাতারা। 

ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য কোন বিষয়টিকে সবার আগে মাথায় রাখা দরকার বলে মনে করেন আপনি?

অভিজ্ঞ ও গুণী নির্মাতারা এমন প্রশ্নের ভালো জবাব দিতে পারবেন, যা আমরা নিজেরাও উপকৃত হব। ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতায় আমি বলব-আগ্রহ ও কল্পনাশক্তি থাকা চাই চলচ্চিত্র নির্মাতার। যেমন কোনো মানুষই তার গন্তব্যস্থলে উপস্থিত হতে পারবেন না যদি তার কোনো আগ্রহই না থাকে। তিনি উপস্থিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেই সেখানে যেতে পারবেন। এই ‘আগ্রহ’ ব্যাপারটাই মূলত তীব্র শক্তি। যদি নির্মাতার মাথায় ঘুরপাক খায় একটা চমৎকার ধারণা আর বুকের মধ্যে চাপা থাকে তীব্র কোনো অনুভূতি তবেই কেবল সম্ভব। এগুলোই মূলত নির্মাতাকে শক্তি জোগায়। যেকোনো আগ্রহ জীবনকে ধারালো করে তোলে। 

অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ভূমিকা তো এসব ক্ষেত্রে মুখ্য?

হ্যাঁ, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রত্যেকটি চলচ্চিত্রের পেছনে একটি জার্নি থাকে। তবে চলচ্চিত্র নির্মাতাকে যে কাজটি করতে হবে তা হলো গুহামানবকে গুহার মধ্য থেকে টেনে বের করে আনতে হবে। আলো, বাতাস, রোদ্দুর, কাদাপানিতে মেলে ধরতে হবে। ইদানীং আমাদের দেশে কুশীলবদের অনেকেই ‘স্ক্রিপ্ট’ না পড়েই শুটিং স্পটে চলে আসেন। নির্মাতাকে বিব্রত হতে হয়। নাটকের ক্ষেত্রে যাচ্ছেতাই নাকি অবস্থা। এক-দুজন কুশীলবের জন্য অন্যান্য কলাকুশলীকে সমস্যায় পড়তে হয়। এসব বিষয় এই শিল্পের জন্য খারাপ ফলাফল বয়ে আনে। এত গেল একটি দিক। চরিত্রের দোষ-গুণগুলো যদি গভীরভাবে অনুভব করতে না পারি তাহলে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কীভাবে কাজে লাগাব? চরিত্রের মধ্যে মেশাবো কীভাবে? সবচেয়ে জরুরি যেটি তা হচ্ছে- ঝগড়া করতে ভুলে যাওয়া। ভোলা দরকার সুষ্ঠু নির্মাণের স্বার্থে। শুটিং চলাকালে অপর ব্যক্তিকে নিচে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করাও চলচ্চিত্রের স্বার্থেই ভুলে যেতে হবে। 

ভালো চলচ্চিত্রের জন্য ভালো চিত্রনাট্য দরকার। আমরা শুনে থাকি চিত্রনাট্য রচনার কাজই অনেকের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পথ। সুন্দর চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য এর ভূমিকা কী?

আমার অভিজ্ঞতায় বলতে পারি চিত্রনাট্য রচনায় যে দক্ষতা থাকতে হবে, তা অনস্বীকার্য। কিন্তু কেবল কল্পনা করে চিত্রনাট্য রচনা সম্ভব হলেও সুষ্ঠু নির্মাণ অসম্ভব। বাস্তবতা ও স্বচক্ষে দেখা স্পট ছাড়া ভালো চিত্রনাট্য লেখা সম্ভব হয় না, নির্মাতার দক্ষতা যতই থাকুক। আমরা প্রায়ই দেখি অনেকেই চিত্রনাট্য রচনা করেন, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো ছোঁয়া থাকে না। এ ক্ষেত্রে সিনেমাটোগ্রাফারের ভোগান্তি বাড়ে, বিভ্রান্ত হন তিনি। আমি মনে করি, সবচেয়ে জরুরি এ কাজটিতে অর্থ বাঁচানো মানে চলচ্চিত্রটির নির্মাণ কাজকে ক্ষতি করা। একটা কথা আছে, কোনো কোনো মৃত্যু বেঁচে থাকার চেয়েও ভালো। 

/এমএস 

ফেরদৌস ওয়াহিদ ও সাঈদা শম্পার ‘মন বোঝে না’

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
ফেরদৌস ওয়াহিদ ও সাঈদা শম্পার ‘মন বোঝে না’
ছবি: সংগৃহীত

বাংলা পপগানের অন্যতম কিংবদন্তি ফেরদৌস ওয়াহিদের নতুন গান ‘মন বোঝে না’। গান জানালার ইউটিউব চ্যানেলে এর মিউজিক ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এতে ফেরদৌস ওয়াহিদের সঙ্গে দ্বৈতভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পী সাঈদা শম্পা। গানের কথা লিখেছেন প্রথিতযশা গীতিকবি গোলাম মোর্শেদ এবং সুর ও সংগীত করেছেন শহীদ মাহমুদ। মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করেছেন রুমকী রুসা ও মাশরুর হোসাইন। মডেল হয়েছেন খুশী ও রাহাত।
গানটি নিয়ে ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘‘প্রথমেই বলব বেশ ভালো একটি কাজ হয়েছে এটি। কারণ এর গীতিকার গোলাম মোর্শেদ অত্যন্ত গুণী একজন মানুষ। যার লেখা গান আমার খুব পছন্দের। এছাড়া আমার সহশিল্পী সাঈদা শম্পাও গানটি ভালো গেয়েছেন। সব মিলিয়ে শ্রোতাদের মনে ছুঁয়ে যাওয়ার মতো একটি গান ‘মন বোঝে না’। আশা করছি, সবার ভালো লাগবে গানটি।’’
সাঈদা শম্পা বলেন, ‘আনন্দের বিষয় হচ্ছে, গানটিতে আমার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ। তার সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে গান গাওয়ার আনন্দই  আলাদা। এই  গানটি ওনার সঙ্গে গাওয়া আমার দ্বিতীয় গান। প্রথম গানটির মতো এই গানের বেলায়ও আমার মনে হয়েছে, আমি যেন ওনার সঙ্গে বহু বছর ধরে গান করছি। এমনই আন্তরিকতার সঙ্গে উনি নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন, ভয়েস নেওয়া এবং শুটিং করার সময়। আর গোলাম মোর্শেদ ভাইয়ের সুন্দর কথায় সুন্দর সুর এবং সংগীত করেছেন শহীদ মাহমুদ। গানটি করার সময় আমি যেভাবে উপভোগ করেছি, আশা করছি, শ্রোতারাও সে রকমভাবেই উপভোগ করবেন গানটি।’

নায়িকা ববির কথিত স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
নায়িকা ববির কথিত স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি। এই নায়িকার কথিত স্বামী হিসেবে মির্জা আবুল বাশার ওরফে মামুন দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছেন। প্রতারণা ও বিতর্কের নানা অভিযোগে নাটকীয় এক অভিযানে মির্জা আবুল বাশার মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকায় একটি বাসায় প্রায় ১৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ববির কথিত স্বামী মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চাঞ্চল্যকর অভিযানে শেষ পর্যন্ত বাথরুমের ফলস সিলিংয়ের ভেতর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা মির্জা আবুল বাশার মামুনের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়। পরে একটি মামলার বাদীকে সঙ্গে নিয়ে গুলশানের ওই বাসায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন গুলশান থানার ওসি (অপারেশন) মো. মিজানুর রহমান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিল পুলিশ। বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর বাসাটিতে অভিযান চালানো হয়। প্রথমে বাসার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সন্দেহজনকভাবে বাথরুমের একটি ফলস সিলিং দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। সেখানে তল্লাশি চালাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, তার বিরুদ্ধে চাকরি ও ডিলারশিপ দেওয়ার নামে প্রতারণা, গাড়ি ভাড়া নিয়ে আত্মসাৎসহ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও গত বছরের অক্টোবর মাসে একই ধরনের একটি প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
আরও জানা যায়, রাজধানীর বাড্ডা, খিলক্ষেত, বনানী, ভাটারাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে।
এছাড়া তিনি বিটিএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত হলেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেও অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। 

সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার: পরীমনি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম
সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার: পরীমনি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা পরীমনি। আবারও তিনি টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছেন। কারণ সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এ ঘটনায় আবারও নতুন করে সামনে এসেছে পরীমনির একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার। ২০২৪ সালের ২৫ জুন দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাকলায়েনকে নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন তিনি। সেখানে এই নায়িকা দাবি করেছিলেন, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার। সাকলায়েনের চাকরি হারানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পরীমনি বলেছিলেন, ‘আমি বা সাকলায়েন বলার আগে তো পাবলিকই এটা নিয়ে বলছে। প্রশাসনও এটা নিয়ে বলছে। এটা কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে এখনো আসেনি, ব্যক্তিগত পর্যায়ে যদি আসে, তখন আমি কথা বলব।’
দুজনের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা ও অভিযোগ প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘সম্পর্কের বিষয় যদি আসে, এটা তো একজনের ব্যাপার না, দুজনের পক্ষ থেকেই আসে। এখন পর্যন্তও আমাদের সম্পর্কটা তো মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়। আমরা প্রেমে ছিলাম, নাকি কী করছি, কোনো কিছুই তো পরিষ্কার নয়। এটা না সাকলায়েনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, না আমার কাছে। সবখানে মনগড়া জিনিস লেখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে সম্পর্কটা ডিফাইন করার আগে এত অপবাদ নিয়ে ফেলছি, সেখানে এই সম্পর্কটা কী, তা নিয়ে কথা বলার জায়গাও তো জনগণ রাখেনি। আমার মনে হয় না এটার আর কোনো দরকার আছে।’
সাকলায়েনকে ঘিরে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে পরীমনির মন্তব্য ছিল, ‘আমার শুধু মনে হয়, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের মধ্যে পড়েছে। প্রেম-ভালোবাসা যাই হোক না কেন, এটা শুধু একটা অদ্ভুত কারণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। আবারও বলছি, আমার মনে হয়, সে অন্য কোথাও ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার। তবে সাকলায়েনের জন্য খারাপ লাগছে। সে ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।’
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:০৫ এএম
অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক
আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিষেক ঘটালেন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান মডেল ভিট তারকা অপ্সরা আলী। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ফ্যাশন অঙ্গনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর প্যারিস ফ্যাশন উইক এক্স ফ্যাশন রিপাবলিকে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিষেক ঘটালেন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান মডেল ভিট তারকা অপ্সরা আলী। ফ্যাশন জগতের অন্যতম কেন্দ্র ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মডেল ও ডিজাইনারদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান, যা তার ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঐতিহাসিক ও শিল্পসমৃদ্ধ ভেন্যু লা গ্যালারি বোরবোনে অনুষ্ঠিত এই ফ্যাশন শোতে ফ্যাশন, চলচ্চিত্র ও শিল্পচর্চার সমন্বয়ে এক বর্ণাঢ্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে একই মঞ্চে কাজ করার অভিজ্ঞতা অপ্সরা আলীর জন্য ছিল একেবারেই নতুন ও অনন্য।
তিনি জানান, অনলাইনে আবেদন করার পর নির্বাচিত হয়ে তিনি এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। পুরো অভিজ্ঞতাকে তিনি অত্যন্ত স্মরণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ‘সেখানে ফিল্ম ইভেন্ট, বড় বড় ফ্যাশন শো এবং বিভিন্ন ধরনের আয়োজন ছিল, যা আমার কাছে সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা।’

একজন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে পেরে তিনি গর্বিত বলেও জানান। বিভিন্ন দেশের মডেল ও ডিজাইনারদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও প্রসারিত করেছে বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশে কিছুটা পরিচিতি থাকলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য রয়েছে তার। এই অভিজ্ঞতাকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে তাকে আরও বড় সুযোগের দিকে এগিয়ে নেবে বলে বিশ্বাস করেন।
শোয়ের জন্য প্রস্তুতির বিষয়ে অপ্সরা আলী জানান, তিনি বিশেষভাবে নিজের লুক, র‍্যাম্প ওয়াক ও উপস্থাপনার ওপর মনোযোগ দেন, যাতে তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও এলিগেন্টভাবে উপস্থাপন করা যায়। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও মানসিক অনুশীলন তাকে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যভাবে কাজ করতে সহায়তা করেছে।

প্যারিসের এই অভিজ্ঞতাকে তিনি চ্যালেঞ্জের চেয়ে বেশি ‘অ্যাডভেঞ্চারাস’ বলে বর্ণনা করেন। কানাডা থেকে স্বল্প সময়ে প্যারিসে গিয়ে শোতে অংশ নেওয়া, শুটিং সম্পন্ন করা, ভিন্ন আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং বিভিন্ন দেশের পেশাজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা–সব মিলিয়ে এটি ছিল তার জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি আরও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন শো, চলচ্চিত্র এবং ফটোশুটে কাজ করতে আগ্রহী। পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ারকে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে চান তিনি।

গানেই লিজার ব্যস্ততা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
গানেই লিজার ব্যস্ততা
সংগীতশিল্পী সানিয়া সুলতানা লিজ । ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সানিয়া সুলতানা লিজার কণ্ঠে নতুন মৌলিক গান ‘তোমার রোদেলা আকাশে’ শিরোনামের একটি গান। নতুন এই গানে বেশ সাড়া পাচ্ছেন লিজা। ইতোমধ্যে সারা দেশে শিল্পীদের স্টেজ শোর ব্যস্ততা কমলেও অর্থাৎ স্টেজ শো কম হলেও লিজা তারপরও মাসজুড়ে কিছু না কিছু স্টেজ শোতে পারফর্ম করছেন। 

ইতোমধ্যে মাসের শুরুতে ঢাকায় একটি স্টেজ শোতে পারফর্ম করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরাতেই একটি স্টেজ শোতে পারফর্ম করেছেন তিনি। এছাড়া মাসের শেষপ্রান্তে চট্টগ্রামেও একটি স্টেজ শোতে সংগীত পরিবেশন করার কথা রয়েছে। স্টেজ শোয়ের বাইরে লিজা নিজের একমাত্র কন্যাকেই সময় দেন বেশি। মাঝে মধ্যে কোনো টিভি চ্যানেলের বিশেষ অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ পেলে তবেই বাসা থেকে বের হন তিনি। তার সমসাময়িক অন্য শিল্পীরাও স্টেজ শো নিয়ে এই মুহূর্তে হতাশ। বলা যায় এই মুহূর্তে দেশে স্টেজ শো একেবারেই কম। তবে কেন একেবারেই কম, কেনই বা হচ্ছে না গ্রামেগঞ্জে শহরে তা শিল্পীদেরও অজানা। তবে এই মুহূর্তে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি যেমন ভালো নয়, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও ভালো নয়। যে কারণে বিগত বছরগুলোর চেয়ে আনুপাতিক হারে স্টেজ শো একেবারেই কম। যে কারণে শিল্পীরা তাদের আগামী নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে অনেকেই বলছেন এই পরিস্থিতি শিগগিরই বদলে যাবে। আবার চাঙা হয়ে উঠবে আমাদের সংগীতাঙ্গন। গানে গানে মুখরিত হয়ে উঠবে শহর নগর বন্দর। 

লিজা বলেন, ‘এই মুহূর্তে স্টেজ শো খুবই কম। যে কটা হাতে আছে তা আগের তুলনায় অনেক কম। তারপরও চেষ্টা করছি আমার কাছে যেসব শোতে পারফর্ম করার প্রস্তাব আসে তা ব্যাটে বলে মিলে গেলে করার। কিন্তু শো-ই যদি কম থাকে তখন হিসাবনিকাশ কী-ই বা করব। তারপরও বিশ্বাস করি এই পরিস্থিতি দ্রুতই ঠিক হয়ে যাবে। আর তোমার রোদেলা আকাশে গানটির জন্য বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। সামনে আরও কিছু নতুন মৌলিক গান নিয়ে পরিকল্পনা চলছে। শিগগিরই ভিডিও নির্মাণ করা হবে।’ 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে লিজার সঙ্গে সেখানে টানা বেশ কয়েকটি শোয়ের জন্য। কিন্তু লিজা তার দুই বছরের বাচ্চাকেই আপাতত সময় দিতে চান। কারণ, জীবনের এই মুহূর্তটা তার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।