‘মা’ শব্দটির দৈর্ঘ্য প্রস্থ খুব ছোট হলেও এর গুরুত্ব ও মর্যাদা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি। মানুষের জীবনে মায়ের আদর, যত্ন ও ভালোবাসার কথা বলে শেষ করা সম্ভব নয়। মাকে নিয়ে মানুষ যে আবেগের পাণ্ডুলিপি রচনা করেন, তা হয়ে ওঠে মাঝে মাঝে ইতিহাস। আজ ১০ মে রবিবার বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি বিশেষভাবে উদযাপিত হবে। মা দিবস উপলক্ষে মাকে নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তারকারা। এসব নিয়েই সাজানো হয়েছে আজকের রঙ-
মা আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু: জয়া আহসান
আমি যতই বড় হচ্ছি, তত বেশি করে মাকে ফিল করছি। আমি ভাবি যখন আরও বয়স বাড়বে, দেখতে ঠিক মায়ের মতো হব। মায়ের মুখের সঙ্গে আমার দারুণ মিল। আমার থেকে মায়ের বয়সের খুব বেশি পার্থক্য তা নয়। মায়ের অল্প বয়সে আমার জন্ম। যে কারণে মায়ের সঙ্গে আমি অনেক বেশি ফ্রেন্ডলি। মা আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। এটা অবশ্য সবার ক্ষেত্রে হয়, মেয়েদের বন্ধু বেশি মায়েরাই হয়।
আমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। আমার কাছে মনে হয়, মায়ের সিক্স সেন্স আছে, না হলে মা কেমন করে আমার সবকিছু বুঝতে পারেন। যখন দূরে কোথাও থাকি, শুটিংয়ে কিংবা কাজে, যখনই মাকে ফোন করি, তিনি আমার কণ্ঠ শুনে বুঝতে পারেন খেয়েছি কি না, মনটা ভালো কি না। এটা বোঝার ক্ষমতা মায়েরই আছে। মা আমার পুরোটা জীবনে। পৃথিবীর সব মা ভালো থাকুক, এটাই চাওয়া।
আমার জীবনে মায়ের অবদান শতভাগ: জিয়াউল ফারুক অপূর্ব
আমার জীবনজুড়ে মায়ের প্রভাব বেশি। বিগত বেশ কিছুদিন আম্মু বেশ অসুস্থ ছিলেন। এখন অনেকটাই সুস্থ বিধায় আমরাও আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভালো আছি। আমার জীবনে মায়ের অবদান শতভাগ। একজন সন্তানের পেছনে মায়ের যে অবদান থাকে, তা বলে কেউ কি শেষ করতে পারবে? আমিও পারব না।
আমার কাছে প্রতিটি দিনই মা দিবস। দেশে-বিদেশে যখন যেখানে থাকি, মায়ের সঙ্গে একবার হলেও কথা বলি, মায়ের পাশে সময় কাটানোর চেষ্টা করি। কারণ এখন তো বাবা নেই। বাবার অভাবও কোনো দিন দূর হবে না। এখন শুধু মা আছেন মাথার ওপর ছায়া হয়ে। মা আছেন ভালোবাসা ও আশীর্বাদ হয়ে। মা সুস্থ থাকুক, ভালো থাকুক, আজীবন মায়ের হাসিমাখা মুখটা দেখতে চাই। আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন।
অপূর্ব সুন্দর মানুষ আমার আম্মা: রুনা খান
দেখতে দেখতে আমি বুড়ি হয়ে গেলাম, কিন্তু আমার মা এখনো তরুণী। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার সৌন্দর্য ও তারুণ্য বাড়ছে। মায়ের সঙ্গে আমার বয়সের পার্থক্য ২০ বছরের। ধৈর্য, মানবিকতা ও আধুনিকতায় আমার মায়ের মতো স্বশিক্ষিত মানুষ আমি জীবনে খুব কম দেখেছি। মানবিক-রুচিবোধসম্পন্ন, উদার ও অপূর্ব সুন্দর মানুষ আমার আম্মা। সুস্থ থাকো, এমনই সুন্দর থাকো। ভালোবাসা। আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন।
মায়ের অবদান আমার জীবনজুড়ে: বিদ্যা সিনহা মিম
আমার ক্যারিয়ার ও জীবনে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। অবশ্যই বাবার ভূমিকাও রয়েছে। তবে যেহেতু আজ মা দিবস, তাই মা দিবসে শুধু মায়ের ভূমিকা নিয়েই বলছি। আসলে মায়ের ভূমিকার কথা বলে শেষ করা যাবে না। সত্যি বলতে কী মায়ের অবদান আমার হৃদয়জুড়ে এবং জীবনজুড়ে। আজকে অভিনেত্রী হয়েছি, এ জন্য মায়ের সাপোর্ট, ভালোবাসা, শ্রম সবচেয়ে বেশি।
মা ছোটবেলা থেকে আমার পাশে থেকে অনুপ্রেরণা দিয়ে আগামীর পথে সাহস দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, শিল্পের পথে হাঁটিয়েছেন নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েও। আমার লাক্স তারকা জীবন, আমার অভিনয়জীবন এবং পরবর্তী সময়ে আমার সিনেমাজীবনে মায়ের আশীর্বাদ সব সময় আমার সঙ্গে আছে। আমার মা সব মায়েরই মতো ভীষণ লক্ষ্মী একজন মা। মায়ের খুব শখ দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো। এ পর্যন্ত মাকে বহু দেশ ঘুরে দেখিয়েছি। চেষ্টা করছি আমার সামর্থ্যের মধ্যে মায়ের শখ, স্বপ্নগুলো পূরণ করতে।
এখনো ঘরে না ফেরা পর্যন্ত মা অপেক্ষা করেন: আব্দুন নূর সজল
আব্বা চাইতেন না আমি শোবিজে কাজ করি। কিন্তু আমার মা সব সময় চাইতেন। যেহেতু আব্বা রাজি ছিলেন না, তাই আমার বোন ও মা মিলে আব্বাকে রাজি করিয়েছিলেন। আব্বা বিদেশে থাকতে চাইতেন পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। কিন্তু আম্মু অনেক কষ্ট করে অল্প অল্প করে কাজ করানোর জন্য আব্বুর অনুমতি নিতে পেরেছিলেন বলেই আমি জোর দিয়ে বলব আমার আজকের অবস্থানে আসার নেপথ্যে মায়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি।
এখনো ঘরে না ফেরা পর্যন্ত মা অপেক্ষা করেন। মা জেগে থাকেন। পারিবারিক অনেক অনুষ্ঠানে সময় করতে পারি না, যেতে পারি না, সবকিছু মা সামলান। মায়ের তুলনা যেমন হয় না, মাকে নিয়ে বলে শেষ করা যাবে না। সুস্থ থাকুক আমার মা, এটাই চাওয়া।
আমার যা কিছু অর্জন তার পুরো কৃতিত্ব আম্মুর: সুনেরাহ্
একজন অভিনেত্রী হিসেবে সুনেরাহ্ আজকের পর্যায়ে আসার নেপথ্যে তার মায়ের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। কারণ ছোটবেলায় নাচ-গান-আর্টের ক্লাসে মা তাকে নিয়ে যেতেন, তাকে সময় দিতেন। তবে সুনেরাহ্ আগ্রহ ছিল বেশি নাচে। মা দিবসে মাকে নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সুনেরাহ্ বলেন, ‘আম্মুর কারণেই আমার আজকের এই পর্যায়ে আসা।
আম্মু যদি ছোটবেলায় এসব ব্যাপারে আমাকে অনুপ্রেরণা না দিতেন, সাহস না দিতেন, তাহলে আজকের পর্যায়ে আসা সম্ভব ছিল না। আমার যা কিছু অর্জন তার পুরো কৃতিত্ব আমার আম্মুর। আমার আম্মুর জন্য সবাই দোয়া করবেন। আর পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি অসীম শ্রদ্ধা ভালোবাসা।’
.jpg)
