ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী নতুনধারার ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঠেকালো বিজিবি, বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদ হবিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পুশইনের আশঙ্কা: বিজিবির নজরদারি জোরদার দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশি নিহত কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন শাকিব ও বুবলী হাম উপসর্গে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু ফটিকছড়িতে ছাত্রলীগের গোপন সভা, গ্রেপ্তার ২ রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক ভেঙে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ,ভরসা বাঁশের সাঁকো বরগুনায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত টাঙ্গুয়ার হাওরে অপরিকল্পিত হাউজবোট চলাচল: বেলার উদ্বেগ প্রকাশ পীরগাছায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ভাই-বোনের পটিয়ায় ৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রান্তিক ধাপের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের সুবিধা পাবেন না বস্তিবাসী ভুবনেশ্বর নদ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ভাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভাঙচুর, আগুন দিল স্থানীয়রা পদ্মায় আবারও বাসডুবি, আগেই নেমে যাওয়ায় যাত্রীদের প্রাণরক্ষা গাছ লাগান, সওয়াব কামান
Nagad desktop

মধুর আমার মায়ের হাসি

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ১২:১০ এএম
মধুর আমার মায়ের হাসি
ছবি: সংগৃহীত

‘মা’ শব্দটির দৈর্ঘ্য প্রস্থ খুব ছোট হলেও এর গুরুত্ব ও মর্যাদা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি। মানুষের জীবনে মায়ের আদর, যত্ন ও ভালোবাসার কথা বলে শেষ করা সম্ভব নয়। মাকে নিয়ে মানুষ যে আবেগের পাণ্ডুলিপি রচনা করেন, তা হয়ে ওঠে মাঝে মাঝে ইতিহাস। আজ ১০ মে রবিবার বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি বিশেষভাবে উদযাপিত হবে। মা দিবস উপলক্ষে মাকে নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তারকারা। এসব নিয়েই সাজানো হয়েছে আজকের রঙ- 

মা আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু: জয়া আহসান
আমি যতই বড় হচ্ছি, তত বেশি করে মাকে ফিল করছি। আমি ভাবি যখন আরও বয়স বাড়বে, দেখতে ঠিক মায়ের মতো হব। মায়ের মুখের সঙ্গে আমার দারুণ মিল। আমার থেকে মায়ের বয়সের খুব বেশি পার্থক্য তা নয়। মায়ের অল্প বয়সে আমার জন্ম। যে কারণে মায়ের সঙ্গে আমি অনেক বেশি ফ্রেন্ডলি। মা আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। এটা অবশ্য সবার ক্ষেত্রে হয়, মেয়েদের বন্ধু বেশি মায়েরাই হয়।

আমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। আমার কাছে মনে হয়, মায়ের সিক্স সেন্স আছে, না হলে মা কেমন করে আমার সবকিছু বুঝতে পারেন। যখন দূরে কোথাও থাকি, শুটিংয়ে কিংবা কাজে, যখনই মাকে ফোন করি, তিনি আমার কণ্ঠ শুনে বুঝতে পারেন খেয়েছি কি না, মনটা ভালো কি না। এটা বোঝার ক্ষমতা মায়েরই আছে। মা আমার পুরোটা জীবনে। পৃথিবীর সব মা ভালো থাকুক, এটাই চাওয়া। 

আমার জীবনে মায়ের অবদান শতভাগ: জিয়াউল ফারুক অপূর্ব
আমার জীবনজুড়ে মায়ের প্রভাব বেশি। বিগত বেশ কিছুদিন আম্মু বেশ অসুস্থ ছিলেন। এখন অনেকটাই সুস্থ বিধায় আমরাও আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভালো আছি। আমার জীবনে মায়ের অবদান শতভাগ। একজন সন্তানের পেছনে মায়ের যে অবদান থাকে, তা বলে কেউ কি শেষ করতে পারবে? আমিও পারব না।

আমার কাছে প্রতিটি দিনই মা দিবস। দেশে-বিদেশে যখন যেখানে থাকি, মায়ের সঙ্গে একবার হলেও কথা বলি, মায়ের পাশে সময় কাটানোর চেষ্টা করি। কারণ এখন তো বাবা নেই। বাবার অভাবও কোনো দিন দূর হবে না। এখন শুধু মা আছেন মাথার ওপর ছায়া হয়ে। মা আছেন ভালোবাসা ও আশীর্বাদ হয়ে। মা সুস্থ থাকুক, ভালো থাকুক, আজীবন মায়ের হাসিমাখা মুখটা দেখতে চাই। আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন। 

অপূর্ব সুন্দর মানুষ আমার আম্মা: রুনা খান
দেখতে দেখতে আমি বুড়ি হয়ে গেলাম, কিন্তু আমার মা এখনো তরুণী। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার সৌন্দর্য ও তারুণ্য বাড়ছে। মায়ের সঙ্গে আমার বয়সের পার্থক্য ২০ বছরের। ধৈর্য, মানবিকতা ও আধুনিকতায় আমার মায়ের মতো স্বশিক্ষিত মানুষ আমি জীবনে খুব কম দেখেছি। মানবিক-রুচিবোধসম্পন্ন, উদার ও অপূর্ব সুন্দর মানুষ আমার আম্মা। সুস্থ থাকো, এমনই সুন্দর থাকো। ভালোবাসা। আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন।

মায়ের অবদান আমার জীবনজুড়ে: বিদ্যা সিনহা মিম 
আমার ক্যারিয়ার ও জীবনে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। অবশ্যই বাবার ভূমিকাও রয়েছে। তবে যেহেতু আজ মা দিবস, তাই মা দিবসে শুধু মায়ের ভূমিকা নিয়েই বলছি। আসলে মায়ের ভূমিকার কথা বলে শেষ করা যাবে না। সত্যি বলতে কী মায়ের অবদান আমার হৃদয়জুড়ে এবং জীবনজুড়ে। আজকে অভিনেত্রী হয়েছি, এ জন্য মায়ের সাপোর্ট, ভালোবাসা, শ্রম সবচেয়ে বেশি।

মা ছোটবেলা থেকে আমার পাশে থেকে অনুপ্রেরণা দিয়ে আগামীর পথে সাহস দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, শিল্পের পথে হাঁটিয়েছেন নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েও। আমার লাক্স তারকা জীবন, আমার অভিনয়জীবন এবং পরবর্তী সময়ে আমার সিনেমাজীবনে মায়ের আশীর্বাদ সব সময় আমার সঙ্গে আছে। আমার মা সব মায়েরই মতো ভীষণ লক্ষ্মী একজন মা। মায়ের খুব শখ দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো। এ পর্যন্ত মাকে বহু দেশ ঘুরে দেখিয়েছি। চেষ্টা করছি আমার সামর্থ্যের মধ্যে মায়ের শখ, স্বপ্নগুলো পূরণ করতে। 

এখনো ঘরে না ফেরা পর্যন্ত মা অপেক্ষা করেন: আব্দুন নূর সজল
আব্বা চাইতেন না আমি শোবিজে কাজ করি। কিন্তু আমার মা সব সময় চাইতেন। যেহেতু আব্বা রাজি ছিলেন না, তাই আমার বোন ও মা মিলে আব্বাকে রাজি করিয়েছিলেন। আব্বা বিদেশে থাকতে চাইতেন পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। কিন্তু আম্মু অনেক কষ্ট করে অল্প অল্প করে কাজ করানোর জন্য আব্বুর অনুমতি নিতে পেরেছিলেন বলেই আমি জোর দিয়ে বলব আমার আজকের অবস্থানে আসার নেপথ্যে মায়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি।

এখনো ঘরে না ফেরা পর্যন্ত মা অপেক্ষা করেন। মা জেগে থাকেন। পারিবারিক অনেক অনুষ্ঠানে সময় করতে পারি না, যেতে পারি না, সবকিছু মা সামলান। মায়ের তুলনা যেমন হয় না, মাকে নিয়ে বলে শেষ করা যাবে না। সুস্থ থাকুক আমার মা, এটাই চাওয়া। 

আমার যা কিছু অর্জন তার পুরো কৃতিত্ব আম্মুর: সুনেরাহ্
একজন অভিনেত্রী হিসেবে সুনেরাহ্ আজকের পর্যায়ে আসার নেপথ্যে তার মায়ের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। কারণ ছোটবেলায় নাচ-গান-আর্টের ক্লাসে মা তাকে নিয়ে যেতেন, তাকে সময় দিতেন। তবে সুনেরাহ্ আগ্রহ ছিল বেশি নাচে। মা দিবসে মাকে নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সুনেরাহ্ বলেন, ‘আম্মুর কারণেই আমার আজকের এই পর্যায়ে আসা।

আম্মু যদি ছোটবেলায় এসব ব্যাপারে আমাকে অনুপ্রেরণা না দিতেন, সাহস না দিতেন, তাহলে আজকের পর্যায়ে আসা সম্ভব ছিল না। আমার যা কিছু অর্জন তার পুরো কৃতিত্ব আমার আম্মুর। আমার আম্মুর জন্য সবাই দোয়া করবেন। আর পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি অসীম শ্রদ্ধা ভালোবাসা।’

বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী
ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে করেছেন আলোচিত উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী। শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর বাংলামোটরের একটি রেস্তোরাঁয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। দীপ্তির স্বামী মুশতাক ইবনে আইয়ুব। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক ও গবেষক। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনকোলজি বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন তিনি। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি।
বিয়ের খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে দীপ্তি চৌধুরী বলেন, ‘আজকে আমাদের আকদ হয়েছে। ধুমধাম আয়োজনে বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় সবাইকে আমন্ত্রণ জানাব। সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।’
সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও দর্শকরা নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন।

কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন শাকিব ও বুবলী

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন শাকিব ও বুবলী
ছবি: সংগৃহীত

এবার কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। ৫ জুন শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে খবরটি জানিয়েছেন বুবলী নিজেই। শাকিব খান ও বুবলীর ঘর আলোকিত করে আসা কন্যাসন্তানের নাম রেখেছেন শার্লিন খান।
এক ফেসবুক পোস্টে বুবলী লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।’
এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুবলীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ভক্ত-অনুরাগীরা। প্রায় একমাস পর কন্যাসন্তানের জন্মের কথা জানালেন এই নায়িকা। 
উল্লেখ্য, শবনম বুবলী ২০১৮ সালের ২০ জুলাই শাকিব খানকে বিয়ে করেন। এরপর ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করে শাকিব ও বুবলীর একমাত্র ছেলে শেহজাদ খান বীর।

৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী

শুক্রবার (৫ জুন) দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক-এ ভূষিত কিংবদন্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলা ব্যান্ড সংগীতের পথিকৃৎ, ব্যান্ড সংগীত আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পুরোধা এবং রক অ্যান্ড পপ গুরু আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।

বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে যে কয়েকজন শিল্পীর নাম চিরকাল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং গৌরবের সঙ্গে উচ্চারিত হবে, তাঁদের মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছেন রক অ্যান্ড পপ গুরু আজম খান। তিনি শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতীক, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের তরুণ সমাজের কণ্ঠস্বর এবং বাংলা ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম প্রধান স্থপতি।

১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন আজম খান। কৈশোর থেকেই খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং সংগীতচর্চার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি অস্ত্র হাতে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি ২ নম্বর সেক্টরের একজন সম্মুখসমরের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে ফিরে এসে তিনি হাতে তুলে নেন গিটার। নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের তরুণদের জন্য নতুন ভাষা, নতুন সুর এবং নতুন সাংস্কৃতিক চেতনার সূচনা করেন তিনি। সত্তরের দশকের শুরুতে ‘ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী’-তে গান পরিবেশনের মাধ্যমে তাঁর সংগীতযাত্রা শুরু হয়। 

পরবর্তীতে তিনি গঠন করেন কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’, যা বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে।

যে সময়ে ব্যান্ড সংগীতকে অনেকেই ‘অপসংস্কৃতি’ বলে আখ্যায়িত করতেন, সেই সময় আজম খান এবং উচ্চারণ সাহসিকতার সঙ্গে বাংলা ভাষায় রক, পপ এবং ফোক উপাদানের সমন্বয়ে নতুন ধারার সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁদের পরিবেশনা শুধু জনপ্রিয়তাই পায়নি, বরং বাংলা ব্যান্ড সংগীতকে জাতীয় সংস্কৃতির মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

উচ্চারণ এবং আজম খানের জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে— হৃদয় সাগর মরুভূমি, বাংলাদেশ, মা গো মা, সালেকা মালেকা, আলাল ও দুলাল, প্রেম চিরদিন দূরে দূরে, অভিমানী, পাপড়ি, জীবন সাথী, চুপ চুপ চুপ, হায় আল্লাহ, আসি আসি, জীবনে কিছু পাবো না প্রভৃতি। এই গানগুলোর অনেকগুলোই আজ বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং নতুন প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয়।

বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে আজম খানের অবদান ছিল অসামান্য। তিনি এমন এক সময়ে ব্যান্ড সংগীতকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন, যখন এ ধারার সংগীতকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখতেন। তাঁর সাহসী পদক্ষেপ, ভিন্নধর্মী সংগীতচিন্তা এবং সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলা গানগুলো তরুণ সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাঁর হাত ধরেই পরবর্তী সময়ে দেশের অসংখ্য ব্যান্ড গড়ে ওঠে এবং বাংলা ব্যান্ড সংগীত আজকের মর্যাদায় পৌঁছায়।

সংগীতজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে কিংবদন্তি ব্যান্ড সোলস-এর ২০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তাঁকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে চ্যানেলে আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড-এ তাঁকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

বাংলাদেশ সরকার তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তরভাবে দেশের সর্বোচ্চ দুই রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করে— একুশে পদক (২০১৯) এবং স্বাধীনতা পদক (২০২৫)।

তবে আজম খান নিজে পুরস্কার ও সম্মাননার চেয়ে মানুষের ভালোবাসাকেই বেশি মূল্য দিতেন। তিনি প্রায়ই বলতেন— “আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার আমার গানের প্রতি মানুষের ভালোবাসা।”

দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর ২০১১ সালের ৫ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু কেবল শারীরিক প্রস্থান; তাঁর গান, দর্শন, সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন আজও বেঁচে আছে লাখো মানুষের হৃদয়ে।

উচ্চারণ ব্যান্ডের বিভিন্ন সময়ের লাইন-আপ 

১৯৭২ সালে উচ্চারণের প্রথম লাইন-আপে লিড ভোকালে ছিলেন আজম খান, লিড গিটারে ইশতিয়াক রহমান, বেজ গিটারে ল্যারি, রিদম গিটারে নীলু, ড্রামসে ইদু, কঙ্গায় হাবলু এবং সাইড ভোকালে ছিলেন বাবু। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতের প্রথম দিককার পরীক্ষামূলক ও সাহসী যাত্রাগুলোর অন্যতম ছিল এই লাইন-আপ।
১৯৭৬ সালে উচ্চারণ পুনর্গঠিত হলে আজম খানের সঙ্গে যুক্ত হন লিড গিটারিস্ট নয়ন হক মুন্সী, রিদম গিটার ও সাইড ভোকালে দুলাল জোহা, বেজ গিটারে ফুয়াদ নাসের, কঙ্গায় কাজল এবং ড্রামসে পেয়ারু খান। এই লাইন-আপের সময়েই ‘আলাল ও দুলাল’-এর মতো গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং উচ্চারণ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ডে পরিণত হয়।

উচ্চারণ ব্যান্ডের বর্তমান সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

আশির দশকে উচ্চারণের সংগীতায়োজনে নতুন মাত্রা যোগ করেন রকেট। এ সময় আজম খানের সঙ্গে লিড গিটারে রকেট, বেজ গিটারে মাসুম হায়দার, রিদম গিটার ও সাইড ভোকালে দুলাল জোহা এবং ড্রামসে বাবু নিয়মিত পারফর্ম করতেন। ‘অভিমানী’, ‘জীবন সাথী’ এবং ‘পাপড়ি’র মতো জনপ্রিয় গান এই সময়ে ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা অর্জন করে।
নব্বইয়ের দশক থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আজম খানের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে প্রায় অর্ধশতাধিক সংগীতশিল্পী কাজ করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রেবেল (ভোকাল), ইফরান (লিড গিটার), জুবরান (বেজ গিটার), তপু (ড্রামস) এবং আরও অনেক প্রতিভাবান সংগীতশিল্পী, যারা বিভিন্ন সময়ে উচ্চারণের মঞ্চ ও রেকর্ডিং কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

উচ্চারণ ব্যান্ডের পুনর্গঠন ও বর্তমান কার্যক্রম

আজম খানের পরিবারের প্রত্যক্ষ সমর্থনে এবং তাঁর সৃজনকর্মের কপিরাইট ও রয়্যালটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কুল এক্সপোজার-এর উদ্যোগে, চ্যানেল আই ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের সহযোগিতায় কিংবদন্তি ব্যান্ড উচ্চারণ নতুনভাবে পুনর্গঠিত হয়ে আবারও নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেছে।

বর্তমানে উচ্চারণ ব্যান্ডের লাইন-আপে রয়েছেন দুলাল জোহা (ভোকাল ও রিদম গিটার), পেয়ারু খান (ভোকাল ও পারকাশন), সেকান্দার আহমেদ খোকা (বেজ গিটার), পার্থ মজুমদার (লিড গিটার), প্রেম (সাইড ভোকাল ও কিবোর্ড) এবং বাপ্পি (ড্রামস)।

ইতোমধ্যে উচ্চারণ অংশগ্রহণ করেছে টিএমএমএস-চ্যানেলে আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড, চ্যানেল আই মিউজিক ফেস্ট, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিত কনসার্ট, বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং দেশের নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে। তাদের পরিবেশনা দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শক-শ্রোতার প্রশংসা অর্জন করেছে।

/এসএল

শিল্পী সমিতির নির্বাচন করবেন না বাপ্পারাজ

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
শিল্পী সমিতির নির্বাচন করবেন না বাপ্পারাজ
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল—আসন্ন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা গণমাধ্যমকে নিজেই জানিয়েছিলেন তিনি। বাপ্পারাজের প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল ‘চাঁদের আলো’খ্যাত চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তির। চলচ্চিত্রাঙ্গনে যখন আলোচনা তুঙ্গে ঠিক তখনই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বাপ্পারাজ। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানিয়েছেন রুমানা ইসলাম মুক্তি।
এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘একটি খুদে বার্তায় সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার বিষয়টি বাপ্পা ভাই আমাকে জানিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় উল্লেখ করেছেন। বাপ্পারাজ ভাই সরে দাঁড়ানোয় আমাদের প্যানেলে সভাপতি পদে কে নির্বাচন করবেন তা এখনো ঠিক করিনি। আশাকরি দুই/একদিনের মধ্যে সেটা জানাতে পারবো।’
নির্বাচন না করার বিষয়ে গণমাধ্যমকে বাপ্পারাজ বলেন, ‘শিল্পী সমিতি আমার নিজের সংগঠন। সবসময় শিল্পীদের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব। তবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কিছু কারণে এবার নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সবার জন্য শুভকামনা রইল।’
গত ২৪ এপ্রিল শেষ হয়েছে মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল কার্যনির্বাহী পরিষদের (২০২৪-২৬) মেয়াদ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন অর্থাৎ ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এভাবে বাপ্পারাজের নির্বাচন থেকে তার সরে দাঁড়ানোর খবরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। 

ফোর্বসের তালিকায় হানিয়া আমির

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
ফোর্বসের তালিকায় হানিয়া আমির

পাকিস্তানের জনপ্রিয় মডেল অভিনেত্রী হানিয়া আমির। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিত তিনি। ক্যারিয়ারে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক অর্জন রয়েছে তার। এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি পেলেন পাকিস্তানের এই মডেল অভিনেত্রী। বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ফোর্বসে প্রকাশিত ‘৩০ আন্ডার ৩০ এশিয়া ২০২৬’ তালিকায় জায়গা পেয়েছেন হানিয়া আমির।

প্রতিবছর এশিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ প্রভাব ও সাফল্য অর্জনকারী ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণ-তরুণীদের নিয়ে ‘ফোর্বস ৩০ আন্ডার ৩০ এশিয়া’ তালিকা প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরের এই তালিকায় বিনোদন ও ক্রীড়া বিভাগে স্থান করে নিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই তারকা।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অনুসারী থাকা পাকিস্তানি নারী তারকাদের অন্যতম হানিয়া আমির। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা দুই কোটিরও বেশি। অভিনয়, বিনোদন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার প্রভাব ও জনপ্রিয়তার স্বীকৃতিস্বরূপই তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের শেষ দিকে ‘ইউএন উইমেন’-এর জাতীয় শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দায়িত্ব পান হানিয়া আমির। তবে ফোর্বসের এই স্বীকৃতি হানিয়ার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বর্তমানে একটি বড় আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন হানিয়া আমির। তিনি একটি ঐতিহাসিক পাকিস্তানি অরিজিনাল সিরিজে অভিনয় করছেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ‘জানান’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয় জগতে যাত্রা শুরু করেন হানিয়া আমির। এরপর ধারাবাহিকভাবে নাটক ও সিনেমায় অভিনয় করে পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

/এসএল