২০২৫ সালজুড়ে বাংলাদেশে নানা সামাজিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনা ঘিরে ছড়িয়েছে অসংখ্য গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য। এসব অপতথ্য অনেক সময় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে, আবার কখনও সমাজে উত্তেজনাও ছড়িয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে রিউমর স্ক্যানার বছরের বিভিন্ন সময়ে এমন কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা শুধু ভুল তথ্য রোধেই নয়, বরং জনসচেতনতা তৈরিতেও রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ২০২৫ সালে রিউমর স্ক্যানারের যে কাজগুলো অনেকের দৃষ্টিভঙ্গি ও তথ্যের প্রতি বিশ্বাস বদলে দিয়েছে সেগুলো প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো।
সরকারকে জড়িয়ে ক্রমাগত অপতথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই
বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন সরকারকে নিয়ে অপপ্রচার একটি সাধারণ ঘটনা। গত কয়েক বছর ধরেই এই রীতি চলে আসছে। বর্তমানে ক্ষমতায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ক্ষমতা গ্রহণের পর এই সরকারকে জড়িয়ে ক্রমাগত ভুয়া তথ্যের প্রবাহ দেখা গেছে। গেল বছর সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের জড়িয়ে ৪৬৪টি ভুল তথ্য শনাক্ত করে রিউমর স্ক্যানার।
এর মধ্যে এপ্রিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি শিশুর হাতকড়া পরা ছবি ভাইরাল হয়। বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বাবাকে না পেয়ে পুলিশ শিশুটিকে গ্রেপ্তার করেছে। কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র না থাকলেও ছবিটি রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের প্রমাণ হিসেবে সরকারের তীব্র সমালোচনা করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
ভাইরাল ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার জানায়, ছবিটি বাস্তব কোনো ঘটনার নয়। এটি ছিল একটি শিশুর প্রতীকী অভিনয়ের ছবি, যেখানে খেলনার হাতকড়া ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিটি প্রথমে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার আইডি থেকে পোস্ট করা হয়েছিল এবং পরে সরিয়ে ফেলা হয়। তবে স্ক্রিনশট ও বিকৃত ব্যাখ্যার মাধ্যমে ছবিটি পুনরায় ছড়ানো হয়। ফ্যাক্টচেকটি প্রকাশের পর দাবিটির বিশ্বাসযোগ্যতা ভেঙে পড়ে। বাংলাদেশ পুলিশ তাদের পেজে রিউমর স্ক্যানারের উদ্ধৃতি দিয়ে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট প্রকাশ করে। রিউমর স্ক্যানারের এ বিষয়ে ফেসবুকে প্রকাশিত পোস্টটি প্রায় দেড় লক্ষাধিক বার দেখা হয়েছে। পোস্টটি মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছেছে।
গত বছরের জুনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার (গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন) বাড়ি থেকে ১২০০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ নিয়ে তার বাবা পুলিশকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে জানায়, আলোচিত ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার এবং এতে ১২০০ নয়, মাত্র ১৬ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে; উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বা তার বাবার সঙ্গে ঘটনার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ফেসবুকে প্রকাশিত ফ্যাক্টচেক পোস্টটি প্রায় দেড় লক্ষাধিক বার দেখা হয় এবং ১ লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়। আসিফ নিজেও ফ্যাক্টচেকটি তার ফেসবুক পেজে শেয়ার করেন।
আগস্টে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া একটি হোটেল রুমে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছেন। ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল এই দাবি দ্রুত ভাইরাল হয় এবং অনেকেই যাচাই না করেই ছবিটিকে সত্য ধরে নিয়ে মন্তব্য ও শেয়ার করতে শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে রিউমর স্ক্যানারের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে দেখানো হয়, আলোচিত ছবিটি দুটি আলাদা ছবিকে জুড়ে এআই দিয়ে তৈরি। রিউমর স্ক্যানারের এ সংক্রান্ত ফেসবুক পোস্টটি ৬৩ লক্ষাধিক বার দেখা হয় এবং পৌনে ৩৫ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছায়।
নারীরা ছিলেন আলাদা টার্গেটে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাত্তর টিভির সংবাদ পাঠিকা সারাহ মেহজাবিনের নাম ও ছবি ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া ফেসবুক ও এক্স অ্যাকাউন্ট-পেজ থেকে নিয়মিত বিতর্কিত ও ভুয়া দাবি ছড়াচ্ছিল। এসব পোস্টে রাজনৈতিক অপতথ্য, পুরোনো বা ভিন্ন দেশের ভিডিও, এমনকি এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবিও ব্যবহার করা হচ্ছিল। এর ফলে সারাহ মেহজাবিনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পরিচিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল।
রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে অনুসন্ধান চালায়। গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে রিউমর স্ক্যানার জানায়, সারাহ মেহজাবিনের পরিচয় ব্যবহার করে অন্তত তিনটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, একটি ফেসবুক পেজ ও একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে মাসের পর মাস ক্রমাগত অপতথ্য ছড়ানো হয়।
এসবের পেছনে মো. শিলন রেজা বিশ্বাস নামের একজন ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে রিউমর স্ক্যানার। প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও পেজগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। রিউমর স্ক্যানারের এই অনুসন্ধানের ফলে ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলোর নেটওয়ার্ক ভেঙে যায় এবং ভুক্তভোগী সারাহ মেহজাবিন দীর্ঘদিনের হয়রানি থেকে মুক্তি পান।
গেল বছর জাতীয় ও রাজনৈতিকসহ নানা অঙ্গনের পরিচিত নারীরা আলাদাভাবে টার্গেট ছিলেন অপতথ্যের। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতুকে ঘিরে একের পর এক বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচার ছিল এর মধ্যে অন্যতম ঘটনা। মিতুকে জড়িয়ে শুরুতে ভুয়া স্ক্রিনশটের মাধ্যমে তার নামে আপত্তিকর মন্তব্য প্রচার করা হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই তাকে জড়িয়ে গণমাধ্যমের আদলে তৈরি একাধিক ভুয়া ফটোকার্ড, এআই দিয়ে তৈরি আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ছড়ানো হয়। ব্যক্তিগত চরিত্র হনন ও রাজনৈতিক অপপ্রচারের এই ধারাবাহিকতা দ্রুত অনলাইনে বিস্তার লাভ করে।
রিউমর স্ক্যানার বিষয়টি নিয়ে সম্মিলিত অনুসন্ধানের পর জানায়, মিতুর নামে প্রচারিত আপত্তিকর মন্তব্যগুলো তিনি করেননি, গণমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করা ফটোকার্ডগুলো ভুয়া, ছড়ানো আপত্তিকর ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি এবং ভাইরাল ভিডিওটিও কৃত্রিমভাবে বানানো। একইসঙ্গে অপপ্রচারের পেছনে থাকা অ্যাকাউন্টগুলোর অসংগতি ও মিথ্যা পরিচয় তুলে ধরা হয়।
ফ্যাক্টচেক প্রকাশের পর মিতুকে জড়িয়ে অপপ্রচারের এই ধারাবাহিকতা থেমে যায় এবং বিষয়টি নিয়ে এনসিপি ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা জোরদার হয়। এনসিপি বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক পেজেও পোস্ট করে। রিউমর স্ক্যানারের এ সংক্রান্ত ফেসবুক পোস্টটি প্রায় পৌনে ৬ লাখ বার দেখা হয়।
২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী তারকাদের নাম-ছবি ব্যবহার করে সম্পাদিত/এআইনির্ভর ভুয়া কনটেন্ট ছড়ানোর প্রবণতা আরও সংগঠিত রূপ নেয়। রিউমর স্ক্যানারের পর্যবেক্ষণে ‘চলো বদলে যাই’ নামে একটি ফেসবুক পেজে নিয়মিতভাবে সেলিব্রিটি নারীদের নামে ছবি-ভিডিও সম্পাদনা করে প্রচারের ধারাবাহিক প্রমাণ মেলে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট নারীরা অনলাইনে ক্রমাগতভাবে বডি শেমিং, স্লাটশেমিং ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের শিকার হতে থাকেন।
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে পেজটির সঙ্গে গাজীপুরের কালীগঞ্জের ইমরান মিয়া নামের এক ব্যক্তির সংযোগের তথ্য উঠে আসে, তিনি নিজেও পেজটি নিজের বলে দাবি করেন এবং ছবি-ভিডিও সম্পাদনা করে প্রকাশের বিষয়টি স্বীকার করেন। পেজটির এ সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে উঠে আসে দেশে ছড়ানো অপতথ্যের একটি বড় অংশই নারীদের কেন্দ্র করে প্রচার হচ্ছিল, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয়, ছবি, বক্তব্য ও চরিত্রকে টার্গেট করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছিল। এই প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং রাজনীতি ও জনপরিসরে নারীর অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করার একটি কাঠামোগত ডিজিটাল ঝুঁকি হিসেবে সামনে আসে।
রিউমর স্ক্যানারের ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শনাক্ত হওয়া অপতথ্যের ২১ শতাংশ ঘটনাতেই নারীদের জড়ানো হয়েছে। এই সময়ে ২৭৬ জন নারীকে জড়িয়ে ৫৬৭টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে ২৫ জন নারী রাজনীতিবিদকে জড়িয়ে ২৩৭টি অপতথ্য এবং বিনোদন জগতের ২৯ জন নারী তারকাকে নিয়ে অপতথ্যের প্রচার ছিল। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর প্রতিবেদনে থাকা তথ্য-উপাত্তগুলো আলোচনা হয় বিভিন্ন সেমিনার-ওয়ার্কশপে।
এআই: বিভ্রান্ত হয়েছেন দায়িত্বশীলরাও
২০২৫ সালের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশংসা করেছেন। ভিডিওটিতে ট্রাম্পকে ড. ইউনূসকে ‘মহান ব্যক্তি’ ও ‘বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করতে শোনা যায়। ভিডিওটি সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ফেসবুকে শেয়ার করার পরপর তা রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। একটি পোস্টে ১৭ হাজারের বেশি রিয়্যাকশন এবং প্রায় ১ হাজার শেয়ার পাওয়া যায়, যা গুজবটির বিস্তারের মাত্রা নির্দেশ করে।
রিউমর স্ক্যানার অনুসন্ধানে দেখে, ভিডিওটি একটি আসল ক্যাবিনেট বৈঠকের হলেও ট্রাম্পের কথিত বক্তব্যটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার করে যুক্ত করা নকল অডিও। রিউমর স্ক্যানারের এ সংক্রান্ত ফেসবুক পোস্ট পৌনে ৬ লাখ বার দেখা হয়েছে। পোস্টটি প্রায় পৌনে চার লক্ষাধিক মানুষের কাছে পৌঁছেছে। রিউমর স্ক্যানারের ফ্যাক্টচেক প্রকাশের পর ড. আসিফ নজরুল ভিডিওটি সরিয়ে নেন।
গত বছরের ৮ অক্টোবর গাজা অভিমুখী ‘কনশেনস’ নৌবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের খবর ছড়ায়। এই বহরে ছিলেন বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম। এর প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শহিদুল আলমের গ্রেপ্তারের দৃশ্য দাবিতে একটি ছবি দ্রুত ভাইরাল হয়। রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে দেখে, ছবিটি এআই জেনারেটেড। রিউমর স্ক্যানারের ফ্যাক্টচেক ফেসবুকে প্রকাশের পর তা প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার বার দেখা হয় এবং প্রায় সমপরিমাণ মানুষের কাছে পৌঁছায়।
২০২৫-পুরো বছরজুড়েই আতঙ্কের এক নাম ছিল এআই। নানা ঘটনায় বাস্তব দৃশ্য দাবিতে এআই জেনারেটেড ছবি বিভ্রান্ত করেছে সাধারণ মানুষ থেকে দায়িত্বশীল ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকেও।
২১ জুলাই ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলের দৃশ্য দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক ছবি ছড়িয়ে পড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই অন্তত সাতটি ভিন্ন ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়ায়, যেগুলো অনেকেই সত্য ঘটনা ভেবে শেয়ার করতে শুরু করেন। এমনকি কিছু অনলাইন পোর্টাল ও গণমাধ্যমেও এসব ছবি ব্যবহার করা হয়।
রিউমর স্ক্যানার বিশ্লেষণ করে দেখে, ছবিগুলোর আগুন, ধোঁয়ার গঠন, ভবনের অবকাঠামো ও লেখার অসংগতি বাস্তব ঘটনার সঙ্গে মেলে না। এআই শনাক্তকারী টুলে যাচাই করে ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ পাওয়া যায়। রিউমর স্ক্যানারের এ সংক্রান্ত ফেসবুক পোস্টটি ৩ লক্ষাধিক বার দেখা হয় এবং প্রায় পৌনে দুই লাখ মানুষের কাছে পৌঁছায়।
গেল বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধের ঘটনার প্রেক্ষিতে শনাক্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের চা পানের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটিকে আসল দাবিতে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভাইরাল ছবিটি এআই জেনারেটেড। এ বিষয়ে রিউমর স্ক্যানারের ফেসবুকে প্রকাশিত পোস্টটি সাড়ে ২৫ লাখ বার দেখা হয়েছে। রুহুল কবীর রিজভী ভুয়া ফটোকার্ডটি নিয়ে তার মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেন।
তরুণ রাজনীতিবিদরাও শিকার অপতথ্যের
২০২৫ সালের নভেম্বরে ভূমিকম্প-পরবর্তী জরুরি পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার প্রেক্ষাপটে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমার নামে ‘DU Insiders’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রচারিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফটোকার্ডে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে জড়িয়ে জুমা ‘হলের মোটামুটি সবাই চলে গেছে। পুরো হল ফাঁকা শুনশান নিরবতায় ভয় পাচ্ছিলাম এজন্য সাদিক কাইয়ুম ভাইয়াকে কল দিয়ে গল্প করার জন্য রুমে আসতে বল্লাম। এখন একটু শান্তি পাচ্ছি।’ মন্তব্য করেছেন দাবিতে প্রচার করা হয়।
রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে দেখে, আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত মন্তব্যটি ভুয়া। জুমার ভিন্ন পোস্টের বক্তব্য বিকৃত করে তা প্রচার করা হয়েছে। ফ্যাক্টচেক প্রকাশের পর সাদিক কায়েম বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেন উক্ত পেজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের সাইবার বুলিং ও অপতথ্য প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা যায়।
নির্বাচন ঘিরে অপতথ্য শনাক্তে জোরালো ভূমিকা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গত মাসে এ সংক্রান্ত তফসিল ঘোষণা হলেও রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট মহলে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রম দেখা যায় গত বছরের শুরু থেকেই। নির্বাচন সংক্রান্ত অপতথ্যের প্রচারও দেখা গেছে বছরের শুরু থেকেই। পুরো বছরে প্রায় তিন শতাধিক নির্বাচন সংক্রান্ত অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার।
গেল বছরের নভেম্বরে নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ফেসবুকে বিএনপির পেজের একটি পোস্টে কিছু ছবি যুক্ত করে দাবি করা হয়, কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে সে সময়ের একটি নির্বাচনি জনসভার ছবি এগুলো। রিউমর স্ক্যানার অনুসন্ধানে জানায়, ছবিগুলো ২০২৫ সালের নয়। ২০২৪ সালের ২৩ নভেম্বর নাঙ্গলকোটের দোলখাড় ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত একটি জনসভার দৃশ্য এটি।
ফ্যাক্টচেকটি রিউমর স্ক্যানারের ফেসবুক পেজে পোস্ট করার পর তা প্রায় ৭ লাখ বার দেখা হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপি তাদের অফিশিয়াল পেজ থেকে পোস্টটি সরিয়ে নেয় এবং প্রার্থী আব্দুল গফুর ভূঁইয়া বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও বক্তব্য দেন।
নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ থেকে জামায়াত প্রার্থীর গাড়িতে হামলার ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে অস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন দাবিতে প্রচার করা হয়। অনেকে ওই যুবককে পাবনা শহিদ বুলবুল কলেজ ছাত্রদল নেতা কিংবা বিএনপি কর্মী হিসেবে এবং অনেকে জামায়াত কর্মী হিসেবে প্রচার করেন। ফলে, অস্ত্র হাতের ওই যুবকের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত সেই যুবক ওই আসনের জামায়াত প্রার্থীর কর্মী। জামায়াত প্রার্থীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে অংশ নিতে দেখা গেছে। এ সংক্রান্ত রিউমর স্ক্যানারের ফেসবুক পোস্টটি ৪ লক্ষাধিক বার দেখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সরাসরি এই ফ্যাক্টচেককে উদ্ধৃতি দিয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তেও অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাকে আটক করা হয়।
গণমাধ্যমের ভুল তথ্য প্রচার মোকাবিলায় নিরন্তর চেষ্টা
গেল বছরের ৮ জানুয়ারি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ডেইলি বাংলাদেশ একটি প্রতিবেদনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফির বিরুদ্ধে ৩২ কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ তোলে। প্রতিবেদনে একটি নির্দিষ্ট বিকাশ নম্বর ও লেনদেনের সময়কাল উল্লেখ থাকায় তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে। রিউমর স্ক্যানার দাবিটির উৎস, লেনদেন তথ্য ও বিকাশের নীতিমালা বিশ্লেষণ করে। পরদিনই রিউমর স্ক্যানার বিষয়টি যাচাই করে জানায়, দাবি করা লেনদেন বিকাশের নীতিমালার আলোকে অবাস্তব। একইসঙ্গে, এটি নতুন কোনো অভিযোগ নয়। এই ঘটনার দুই মাস আগেই একটি ফেসবুক পেজ থেকে এই ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট বিকাশ স্টেটমেন্ট ও ভিডিও বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায়, অভিযোগটি ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ফ্যাক্টচেকটি প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাদের দাবি সরিয়ে নেয় এবং ভুল তথ্যটির বিস্তার বন্ধ হয়। পরবর্তী সময়ে মিডিয়া হাউজটির কার্যক্রমই বন্ধ হয়ে যায়। ফেসবুকে এ বিষয়টি নিয়ে রিউমর স্ক্যানারের প্রকাশিত ফ্যাক্টচেক পোস্টটি চার লক্ষাধিক বার দেখা হয়েছে। পোস্টটি ২ লাখ ২০ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছেছিল।
২০২৫ সালের শুরুতে দেশের একাধিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়িয়ে পড়ে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল করে তাদের ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে সংবেদনশীল এই দাবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি করে।
রিউমর স্ক্যানার সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের পূর্ণ পাঠ, সরকারি নথি, বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের প্রকাশনা এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য যাচাই করে জানায়, মুজিবনগর সরকারের সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই স্বীকৃত থাকবেন; ‘সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দটি প্রযোজ্য কেবল অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে। ফ্যাক্টচেকটি প্রকাশের পর গণমাধ্যমগুলো তাদের প্রকাশিত ভুল সংবাদ সরিয়ে নেয় বা সংশোধন করে, ফলে বিভ্রান্তিকর দাবির প্রচার কমে আসে। ফেসবুকে রিউমর স্ক্যানারের এ সংক্রান্ত পোস্টটি প্রায় তিন লাখ বার দেখা হয় এবং প্রায় দুই লাখ মানুষের কাছে পৌঁছায়।
২০২৪ সালে গণমাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে ভুল তথ্যের প্রচার ছিল লক্ষণীয়। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়াও জনকল্যাণমুখী তথ্য দেওয়ায়ও প্রথম সারির গণমাধ্যমের ভুলের প্রবাহ মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে বিভ্রান্তি। গত বছরের ৫ নভেম্বর ‘সেবা ফাউন্ডেশনের শিক্ষাবৃত্তি, প্রতি মাসে পাবে ৩ হাজার টাকা’ শিরোনামে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে দেখে, প্রথম আলো যে শিক্ষাবৃত্তির বিজ্ঞপ্তিকে সত্য ধরে সংবাদ করেছে, সেটি আসলে প্রতারক চক্রের ভুয়া ওয়েবসাইট/সার্কুলার। ভুয়া ওয়েবসাইটটি আবেদনকারীদের ‘নির্বাচিত’ দেখিয়ে বিকাশ নম্বর নিশ্চিত করতে বলে এবং পরে নির্দিষ্ট নম্বরে ২০০ টাকা পাঠাতে প্ররোচিত করে, যা প্রতারণামূলক। এ সংক্রান্ত ফ্যাক্টচেক প্রকাশের পর প্রথম আলো তাদের সংবাদ সংশোধন করে সতর্কবার্তা যুক্ত করে। ভুয়া চক্রকে কোনো টাকা না দিতে অনুরোধ জানায়, ভুলভাবে ব্যবহৃত ছবি সরিয়ে নেয়। এ বিষয়ে রিউমর স্ক্যানারের ফেসবুক পোস্টটি ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি বার দেখা হয়।
ভারতীয় মিডিয়ার অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই
বাংলাদেশকে জড়িয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের অপপ্রচার গেল কয়েক বছর ধরেই আলোচনায় রয়েছে। গত বছরও অন্তত ৩৭টি ঘটনায় দেশটির গণমাধ্যমে বাংলাদেশকে নিয়ে অপপ্রচার শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। গত বছরের ৩ মে ভারতীয় গণমাধ্যম আজতক বাংলার একটি ভিডিও প্রতিবেদনে একটি ছবি দেখিয়ে দাবি করা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূস যাদের সঙ্গে করমর্দন করছেন তারা বাংলাদেশি নন, বরং পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা হতে পারেন। শুধু পোশাকের ধরন দেখেই এই দাবি তোলা হয়।
রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে দেখে, এটি ‘পুলিশ সপ্তাহ–২০২৫’-এর একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের ছবি, যেখানে ড. ইউনূস বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে করমর্দন করেন। ছবিতে থাকা ব্যক্তিরা পাকিস্তানি সেনা নন, তারা সবাই বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা। রিউমর স্ক্যানারের এ সংক্রান্ত ফ্যাক্টচেক পোস্ট ফেসবুকে প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া ফেলে। পোস্টটি প্রায় পৌনে ৬ লাখ বার দেখা হয় এবং সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মানুষের কাছে পৌঁছায়।
রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অপপ্রচার মোকাবিলা
২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকার শাহবাগে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর একটি ছবি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। ছবিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের ডিসি মো. মাসুদ আলমকে এক আন্দোলনকারীর মুখ চেপে ধরতে দেখা যায়। ঘটনার পরদিন ডিএমপি দাবি করে, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি এবং সেটি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। রিউমর স্ক্যানার ফ্যাক্টচেক করে জানায়, ছবিতে এআই-তৈরির কোনো লক্ষণ নেই এবং একই মুহূর্তের দৃশ্য বিভিন্ন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সংরক্ষিত ছবিতেও পাওয়া যায়। এই ফ্যাক্টচেকটি দেখিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থাকা কোনো প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যও যাচাইয়ের ঊর্ধ্বে নয়।
ফেসবুকে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত ফ্যাক্টচেক পোস্টটি ৭ লক্ষাধিক বার দেখা হয় এবং ৩ লক্ষাধিক মানুষের কাছে পৌঁছায়।
দুর্যোগের দিনগুলোতেও থেমে থাকেনি ভুয়া তথ্যের প্রচার
২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর দেশে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয়, ঢাকার নিউমার্কেটের রাফিন প্লাজা ভূমিকম্পে হেলে পড়েছে। ভূমিকম্প-পরবর্তী আতঙ্কের মধ্যে ভিডিওটি দ্রুত ছড়ায় এবং অনেকেই যাচাই না করেই বিষয়টি সত্য ধরে নেন। এমনকি একাধিক গণমাধ্যমেও একই দাবি প্রচারিত হয়। রিউমর স্ক্যানার গুগল ম্যাপের স্ট্রিট ভিউ বিশ্লেষণ, ভবনের অবস্থান শনাক্তকরণ, স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করে জানায়, রাফিন প্লাজা ভূমিকম্পের কারণে হেলে পড়েনি। এটির নকশাগত বৈশিষ্ট্যই এমন। রিউমর স্ক্যানারের এ সংক্রান্ত ফ্যাক্টচেক ফেসবুকে প্রকাশের পর পোস্টটি প্রায় ৪৭ লাখ বার দেখা হয়।
ভুয়া ফটোকার্ড ভুগিয়েছে রাজনীতিবিদদেরও
১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ফেসবুকে একটি পেজ থেকে আরটিভির আদলে তৈরি একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, ‘ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, ওসমান হাদির ওপর গুলি বর্ষণকারী জামায়াত–শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।’
একই দাবিতে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা রুহুল কবীর রিজভী। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভাইরাল ফটোকার্ডটি নকল। ডিএমপি কমিশনার এমন কোনো তথ্য জানাননি। আরটিভিও ওই ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। রুহুল কবীর রিজভী ভুয়া ফটোকার্ডটি নিয়ে তার মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেন।
এসজি/