ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইন্টারনেট সেবাদাতাদের কার্যালয়ে হামলা-দখলের নিন্দা, শাস্তির দাবি আইএসপিএবির এনএসইউ ট্রাস্টি বেনজীর আহমেদ ফের সাউথ এশিয়া রিজিওনাল কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি কু‌ড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নয় মরক্কো বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার মতলবে ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীনতায় লাখো মানুষ জয় দিয়ে শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো ট্রাম্পের নাম ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্থায় প্রত্যাহার খুলশী থানার ওসি আরিফুল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: সময় নিয়ে দ্বিমত তেহরানের ২৫ মে থেকে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ঘোষণা কুড়িগ্রাম সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সোহেল-স্বপ্নার আপিল আজ ইন্টারন্যাশনাল বাথ ডে রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে মা-মেয়েকে হত্যা মুন্সীগঞ্জে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা শেষ হলো ‘রুচি বিউটিগ্রাম সিজন সেভেন’ টিভিতে আজকের খেলা হাইতিকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে স্কটল্যান্ড
Nagad desktop

কোরবানির ঈদে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
কোরবানির ঈদে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম সম্প্রদায়ের এই উৎসবকে ঘিরে ঘরে ঘরে এখন সাজসাজ রব। পশুর হাট থেকে শুরু করে খাবারের আয়োজন– সবকিছু নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। তবে কোরবানির ঈদের মূল প্রস্তুতির একটি বড় অংশজুড়ে থাকে বাড়ির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। পশুর বর্জ্যব্যবস্থাপনা এবং ঘরের ভেতর ও বাইরের পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সময়মতো সঠিক পরিকল্পনা না করলে উৎসবের আনন্দ বিষাদে রূপ নিতে পারে। তাই ঈদের আগে বাড়ির পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কিছু প্রস্তুতি সেরে নিন।

কোরবানির ঈদের প্রধান কাজ পশু কোরবানি করা। আর এই প্রক্রিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে বর্জ্য তৈরি হয়। তাই আপনার বাড়ির ঠিক কোন জায়গায় পশু কোরবানি দেওয়া হবে, তা আগেভাগে ঠিক করে রাখুন। যদি বাড়ির গ্যারেজে বা সামনের খোলা জায়গায় কোরবানি দেওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তবে সেই জায়গাটি আগে থেকে পরিষ্কার করে নিন। অনেক সময় দেখা যায়, কোরবানির পর রক্ত ও উচ্ছিষ্ট ড্রেনে জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। এটি এড়াতে আগে থেকেই ব্লিচিং পাউডার, স্যাভলন এবং পর্যাপ্ত ঝাড়ু ও বালতি সংগ্রহ করে রাখা ভালো।

ঘরের ভেতরের প্রস্তুতিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কোরবানির ঈদে বাড়িতে প্রচুর মাংসের আয়োজন থাকে। রান্নাবান্নার ঝক্কি সামলাতে রান্নাঘরকে আগে থেকে গুছিয়ে ফেলুন। মসলাদানি থেকে শুরু করে হাঁড়ি-পাতিল– সবকিছু হাতের নাগালে রাখুন। বিশেষ করে ফ্রিজ পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। সারা বছরের জমে থাকা পুরোনো জিনিস সরিয়ে ফ্রিজে মাংস রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি করুন। ফ্রিজের ভেতরে দুর্গন্ধ এড়াতে লেবুর টুকরো ও ভ্যানিলা এসেন্স ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া ছুরি, বঁটি এবং মাংস কাটার অন্যান্য সরঞ্জাম ধার দিয়ে পরিষ্কার করে রাখুন, যাতে ঈদের দিন কাজের গতি বাড়ে।

পশুর বর্জ্যব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় প্রশাসন প্রতি বছর নির্দিষ্ট ব্যাগ বিতরণ করে। সেই ব্যাগগুলো যত্ন করে রাখুন। যদি ব্যাগ না পান, তবে বাজার থেকে বড় মাপের পলিথিন ব্যাগ কিনে রাখতে পারেন। কোরবানির পরপরই পশুর রক্ত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিন। মনে রাখবেন, পশুর রক্ত ও চর্বি দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকলে তা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং রোগজীবাণু জন্মানোর সুযোগ পায়। তাই দ্রুত পরিষ্কার করাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।

শহরাঞ্চলে ফ্ল্যাট বাড়িতে যারা থাকেন, তাদের জন্য বর্জ্যব্যবস্থাপনা একটু বেশি জটিল। এ ক্ষেত্রে ভবনের বাসিন্দারা মিলে আগে থেকে একটি পরিকল্পনা করে নিতে পারেন। সবাই মিলে নির্দিষ্ট একটি স্থান বা সরকার নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দিলে এবং সম্মিলিতভাবে বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করলে এলাকাটি পরিষ্কার রাখা সহজ হয়। লিফট বা সিঁড়িতে যেন পশুর রক্ত বা ময়লা না লাগে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। প্রবেশপথে পাপোশ বা চটের বস্তা বিছিয়ে রাখলে কাদা ও ময়লা ঘরের ভেতর কম প্রবেশ করবে।

পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধির দিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। মাংস কাটাকাটির সময় হাতে গ্লাভস ব্যবহার করা ভালো। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। কাজ শেষে নিজেকে এবং ব্যবহৃত কাপড়চোপড় ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করতে ভুলবেন না। ছোট ছোট সচেতনতা পারে আমাদের একটি নিরাপদ ও আনন্দময় ঈদ উপহার দিতে। যত্রতত্র ময়লা না ফেলে তা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হলো একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয়।

ঈদের দিনে ঘরকে সতেজ রাখতে এয়ার ফ্রেশনার ও সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারেন। ড্রয়িং রুমের সোফার কভার বা পর্দার দিকেও নজর দিন। অনেক সময় পশুর হাটের ধুলোবালি শরীরে লেগে ঘরে আসে, তাই ঈদের আগের রাতে ঘরটি একবার ভালো করে মুছে নেওয়া প্রয়োজন। খাবার টেবিলের আয়োজন যেন সুন্দর ও গোছানো হয়, সেদিকেও নজর রাখা চাই। কারণ, ঈদের আনন্দ মূলত আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়।

গ্রামের দিকে যারা কোরবানি দেন, তারা পশুর বর্জ্য মাটিতে গর্ত করে পুঁতে ফেলতে পারেন। এটি পরিবেশের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। বর্জ্য খোলা অবস্থায় ফেলে রাখলে তা কাক ও কুকুরের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ দূষিত করে। বর্ষার সময় হলে সতর্কবার্তা আরও বেশি। বৃষ্টির পানিতে বর্জ্য মিশে যেন পুকুর বা খালের পানি নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পরিবেশ ঠিক থাকলে আমাদের উৎসব হবে আরও সুন্দর।

কোরবানির ঈদের প্রস্তুতি মানে কেবল মাংস খাওয়া নয়, বরং এটি ত্যাগের মহিমায় নিজেকে এবং চারপাশকে পরিশুদ্ধ করার উৎসব। একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আমাদের মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং উৎসবের আমেজকে দীর্ঘস্থায়ী করে। সিটি করপোরেশনের কর্মীদের জন্য অপেক্ষা না করে নিজেদের উদ্যোগে বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখলে শহর বা গ্রাম থাকবে ঝকঝকে।

আসুন, আমরা এবারের ঈদে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে আপস না করি। সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও দুর্গন্ধমুক্ত কোরবানির ঈদ উদ্‌যাপন করি। আপনার একটুখানি পরিশ্রম ও সতর্কতা পরিবার এবং প্রতিবেশীকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। ঈদুল আজহা সবার জন্য বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ ও সুস্থতা।

কোরবানি ঈদের প্রস্তুতি কেবল পশু কেনা বা রান্নার আয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করাই প্রকৃত উদ্‌যাপন। সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং আগাম প্রস্তুতি থাকলে কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই ঈদের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করা সম্ভব। একটি গোছানো বাড়ি এবং পরিচ্ছন্ন চারপাশ হোক আপনার এবারের ঈদের অন্যতম সাফল্য।

/এমটি

ফ্যাশনে বিশ্বকাপ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
ফ্যাশনে বিশ্বকাপ
ছবি: খবরের কাগজ

ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক অনন্য উন্মাদনা। মাঠের খেলা যেমন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু, তেমনি সমানভাবে আলোচনায় থাকে প্রিয় দলের জার্সি। জার্সি এখন আর শুধু খেলোয়াড়দের ইউনিফর্ম নয়; এটি ফ্যাশন, পরিচয় এবং আবেগের শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে।
 
স্ট্রিট ফ্যাশনে জার্সির জনপ্রিয়তা
এক সময় ফুটবল জার্সি শুধু মাঠ, স্টেডিয়াম বা টেলিভিশনের সামনে পরার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে জার্সি এখন আধুনিক স্ট্রিট ফ্যাশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। তরুণ প্রজন্ম জার্সিকে আর শুধু খেলার পোশাক হিসেবে দেখে না, তারা এটিকে নিজেদের লাইফস্টাইল ও ফ্যাশনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে।

আজকাল শহরের রাস্তায়, ক্যাম্পাসে, ক্যাফেতে বা শপিং মলে সহজেই দেখা যায় জার্সি পরা তরুণ-তরুণীদের। জিন্স, কার্গো প্যান্ট, শর্টস কিংবা স্কার্টের সঙ্গে জার্সি পরা এখন একটি স্বাভাবিক ও জনপ্রিয় স্টাইল স্টেটমেন্টে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ওভারসাইজড জার্সির ট্রেন্ড তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যা একদিকে যেমন আরামদায়ক, অন্যদিকে তেমনি স্টাইলিশ লুকও দেয়।

স্নিকার্সের সঙ্গে জার্সি মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে পরা এখন একটি কমন ফ্যাশন স্টাইল। অনেকেই লেয়ারিং ফ্যাশন অনুসরণ করেন যেখানে জার্সির নিচে লং স্লিভ বা টার্টল নেক পরা হয়, যা একটি ইউনিক আরবান লুক তৈরি করে। 

নারীদের জার্সি স্টাইলিং ট্রেন্ড
নারীদের ফ্যাশন দুনিয়ায় ফুটবল জার্সি এখন একটি দ্রুত বর্ধনশীল ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। আগে যেখানে জার্সি মূলত পুরুষদের খেলার পোশাক হিসেবে দেখা হতো, এখন তা ভেঙে গিয়ে একটি জেন্ডার নিউট্রাল ফ্যাশন আইটেমে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে তরুণীরা জার্সিকে নিজেদের ব্যক্তিগত স্টাইলের সঙ্গে মিলিয়ে নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন।

বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেন্ড হলো ওভারসাইজড জার্সি স্টাইল। অনেকেই লুজ ফিট জার্সি স্কার্ট বা শর্ট ড্রেসের মতো করে পরছেন, যা একদিকে আরামদায়ক, অন্যদিকে স্টাইলিশও দেখায়। এর সঙ্গে স্নিকার্স বা বুট জুতা মিক্স করে একটি আধুনিক আরবান লুক তৈরি করা হচ্ছে।

ডেনিম শর্টস বা স্কিনি জিন্সের সঙ্গে জার্সি পরাও নারীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এতে ক্যাজুয়াল ও ট্রেন্ডি একটি লুক পাওয়া যায়, যা ক্যাম্পাস, আউটিং বা ম্যাচ ডে আড্ডার জন্য পারফেক্ট। অনেকেই আবার লেয়ারিং স্টাইল বেছে নিচ্ছেন। জার্সির নিচে লং স্লিভ টপ বা টার্টল নেক পরে ইউনিক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তৈরি করছেন।

এছাড়া জার্সিকে বেল্ট দিয়ে স্টাইল করে ড্রেসের মতো করে পরার ট্রেন্ডও এখন বেশ চোখে পড়ছে। এতে জার্সি শুধু স্পোর্টসওয়্যার না থেকে একটি ফ্যাশনেবল আউটফিটে পরিণত হচ্ছে। বিশ্বকাপের সময় এই স্টাইলিং ট্রেন্ড আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, কারণ তখন ফ্যানডম এবং ফ্যাশন একসঙ্গে মিলেমিশে যায়।

ডিজাইন ও প্রযুক্তির নতুনত্ব
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ব্র্যান্ডগুলো জার্সি ডিজাইনে নিয়ে আসে নতুনত্ব। আধুনিক ফ্যাব্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে জার্সি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি হালকা ও আরামদায়ক। অনেক জার্সিতে আর্দ্রতা শোষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা গরম আবহাওয়ায়ও আরাম দেয়। পাশাপাশি রেট্রো ডিজাইন আবার নতুন করে ফিরে আসছে, যা পুরোনো স্মৃতিকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনে।

পার্সোনালাইজড জার্সির জনপ্রিয়তা
বর্তমানে অনেক সমর্থক নিজের নাম বা প্রিয় খেলোয়াড়ের নাম ও নম্বর দিয়ে জার্সি কাস্টমাইজ করে নেন। এটি একটি ব্যক্তিগত পরিচয় তৈরি করে। কেউ মেসির নাম লিখে পরছেন, কেউ রোনালদোর, আবার কেউ নিজের নাম দিয়ে ইউনিক স্টাইল তৈরি করছেন। এই পার্সোনালাইজেশন জার্সিকে আরও বিশেষ ও আবেগপূর্ণ করে তুলেছে।

ফ্যানডম ও সামাজিক সংযোগ
একই দলের জার্সি পরা মানুষদের মধ্যে সহজেই একটি বন্ধন তৈরি হয়। বিশ্বকাপ চলাকালে ক্যাফে, রাস্তা, বিশ্ববিদ্যালয় বা অফিস–সব জায়গায় একই দলের সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের ভ্রাতৃত্ব তৈরি হয়। জার্সি তখন শুধু পোশাক নয়, বরং সামাজিক পরিচয়ের মাধ্যম হয়ে ওঠে।

ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে জার্সির প্রভাব
ফুটবল জার্সি এখন হাই-ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতেও জায়গা করে নিয়েছে। বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ড স্পোর্টসওয়্যারকে স্ট্রিটওয়্যার এবং প্রিমিয়াম ফ্যাশনের সঙ্গে মিশিয়ে নতুন কালেকশন তৈরি করছে। ফলে জার্সি এখন শুধু খেলার মাঠে নয়, র্যাম্প শো এবং গ্লোবাল ফ্যাশন ট্রেন্ডেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে।

নগরীর কোলাহলমুক্ত সবুজ উদ্যান রমনা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
নগরীর কোলাহলমুক্ত সবুজ উদ্যান রমনা
মডেল: ত্রয়ী, ছবি: রায়হান

ঢাকা মহানগরীর উত্তাল জনারণ্যের বুকে একমাত্র সবুজ আশ্রয় রমনা উদ্যান। এই নগরের বাসিন্দাদের জন্য এই সবুজারণ্য পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এক অনিবার্য ভূমিকা পালন করে আসছে। এর শ্যামল গাছপালা, জলাশয় দূষণের গরল শুষে নিয়ে জীববৈচিত্র্যের স্পন্দন অটুট রাখে, এই যান্ত্রিক নগরের তাপপ্রবাহ প্রশমিত করে। পরিবেশগত গুরুত্বের পাশাপাশি এই সবুজ উদ্যান মহানগরীর অবিরাম কোলাহল থেকে নান্দনিক এক মুক্তির আশ্রয়। 

এখানে মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে এক শান্ত, শোভন, হৃদয়গ্রাহী সেতু রচিত হয়ে আছে। আর এভাবেই এটা ঢাকার এক অপরিহার্য পরিবেশ ও সুস্থ মনন বিনির্মাণের তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। ঘনবসতির এই নগরে উদ্যানটি একটি অমূল্য সবুজ পরিসর হিসেবে প্রকৃতি ও মানবজীবন উভয়কেই আপন বুকে ধারণ করে আছে। কংক্রিটের নিষ্ঠুর আলিঙ্গনে ও যানজটের দহনে যে শহর প্রতিনিয়ত শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসছে, রমনা উদ্যান সেখানে প্রকৃতির এক সুশীতল নিশ্বাস, প্রশমিত করে নাগরিক উষ্ণতা। এই উদ্যান পাখি, কীটপতঙ্গ, মৎস্য ও নগরের ক্ষুদ্র বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসভূমি। 

এর জলাধার ও সবুজ প্রান্তর মাটিতে আর্দ্রতা ধরে রাখে, ধূলিকণার দাপট দমন করে, ভূমিক্ষয়ের হাত থেকে মাটিকে আগলে রাখে। এছাড়া রমনা উদ্যান একটি পরিবেশ ও সামাজিক পরিসরও বটে। মানুষ এখানে হাঁটে, ব্যায়াম করে, মনকে আলগা করে আর প্রকৃতির সঙ্গে এক অমোঘ শাশ্বত বন্ধনের অন্বেষণ করে; যা মানসিক সুস্থতার পুনর্নির্মাণ এবং নগরের বাসিন্দাদের মধ্যে পরিবেশ চেতনার বীজ বপন করতে সাহায্য করে। 

রমনা উদ্যান কেবল পরিবেশগত তাৎপর্যে নয়, আবেগ ও নান্দনিকতার গভীরেও অসাধারণ অর্থময়। এর বৃক্ষছায়া, জলাধারের প্রশান্তি, পাখির গান, ভোরের কোমল আলো এবং ঋতুর পালাবদল মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে এক প্রাণময় বন্ধন গড়ে তোলে। বলা চলে, দূষণক্লিষ্ট ঢাকার বুকে রমনা উদ্যান এই শহরের অবশিষ্ট সবুজ আত্মার মতো নিশ্বাস নিয়ে নিভু-নিভু প্রদীপের মতো জ্বলে আছে।

পরিবেশ-পাঠ

প্রকৃতির কোলে বসে যেকোনো পাঠ আমাদের পরিবেশ-চেতনাকে নতুন গভীরতা দেয়। এই পঠনে যুক্ত হয় এমন রচনা সব সাহিত্য, প্রবন্ধ কিংবা বৈজ্ঞানিক ভাষ্য যা মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যকার অচ্ছেদ্য সম্পর্ককে উন্মোচন করে। পরিবেশ-পাঠের মধ্য দিয়ে আমরা পরিচিত হই পশুপ্রাণীর ভাষিক সংশ্রব, পল্লিপ্রকৃতির রূপকথা, জলবায়ুর ভাষা এবং পরিবেশ-সংকটের অন্তর্বেদনার সঙ্গে। পরিবেশ-পাঠ কেবল শব্দের অর্থ উদ্ধারের যাত্রায় নিয়োজিত করে না বরং, চারপাশের পৃথিবীকে রক্তে-মজ্জায় অনুভব করাও এর অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। 

একটি গাছের, একটি নদীর কিংবা পরিবর্তনশীল ঋতুর সহজ-সরল বর্ণনাও টেকসই জীবন ও দায়িত্বশীলতার গভীর জিজ্ঞাসা জাগিয়ে তুলতে পারে। 

পাঠককে ভাবতে বাধ্য করে কীভাবে মানুষের কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড প্রকৃতির গায়ে কী ভয়াল ক্ষত রেখে যাচ্ছে। পরিবেশ-বিপর্যয় যেখানে অস্তিত্বের সংকটে পরিণত হয়েছে, সেই আধুনিক পৃথিবীতে পরিবেশ-পাঠ একটি নীরব কিন্তু দৃঢ় প্রতিরোধের ভাষা। 

এটি জানান দেয়, আমরা একা নই, প্রকৃতির জীবন্ত সত্তা আমাদের অস্তিত্বের ভেতরেই নিশ্বাস নিচ্ছে। এই পাঠ নিঃস্বার্থ জীবনযাপনের দিকে মানুষকে টানে এবং এই পৃথিবীর প্রতি সহানুভূতির গভীর শিকড় তৈরি করে। 

পরিবেশ-নন্দন পদচারণ

প্রকৃতির কোলে সচেতন পদচারণে বেরিয়ে পড়া, পরিবেশকে দুচোখ ভরে দেখা, বোঝা ও অনুভব করা, এটাই পরিবেশ-নান্দনিকতার মূল সাধনা। সাধারণ হাঁটার বিপরীতে এই চর্চা গাছপালা, মাটি, জল, পাখি এবং নিত্য উপেক্ষিত ক্ষুদ্রতম প্রাণের দিকে মানুষের দৃষ্টি ও চেতনা ফিরিয়ে দেয়। 

এই পরিবেশ-হাঁটা মানুষকে মন্থর করে, সে থামে, শোনে। গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া নয়, যাত্রার প্রতিটি মুহূর্তকে অনুভব করাই এখানে সাধ্য। পাতার মর্মর, মাটির স্পর্শ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের স্পন্দন প্রকৃতির সঙ্গে এক নিঃশব্দ সংলাপের হারানো জগৎ উন্মোচন করে। 

এই হাঁটা মানুষকে শেখায় বাস্তুতন্ত্র কীভাবে বাঁচে এবং কেন তার বেঁচে থাকা জরুরি। এটা একাধারে উদঘাটন ও জ্ঞানের পথ। এভাবে প্রতিটি পদক্ষেপ পরিণত হয় প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এক বিনম্র অথচ গভীর অঙ্গীকারে। ঢাকার মতো বিশৃঙ্খল নগরে পরিবেশ-হাঁটা প্রশান্তি ও প্রকৃতির সঙ্গে পুনর্মিলনের এক দুর্লভ অবকাশ এনে দেয়। 

আমাদের বিস্মৃত সত্যকে মনে করিয়ে দেয় যে আমরা প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো সত্তা নই, আমরা তারই রক্ত-মাংসেরই অংশ।

পরিবেশ রক্ষা করে ফুল তোলা

ফুল মানুষের আজন্ম প্রেম। ফুল না তোলার কথা আমরা যতই সরবে বলি না কেন, ফুল ছেঁড়া ও সংগ্রহ করা এবং তা বুকে আঁকড়ে রাখা মানুষের আদিমতম স্বভাবের একটি। 

কিন্তু পরিবেশ সংরক্ষিত রেখে ফুল তোলা হলো সেই প্রেমেরই সচেতন, দায়িত্বশীল রূপ; যা প্রকৃতির কোনো ক্ষতি না করে ফুলের সৌন্দর্যকে স্পর্শ করে। অসতর্ক ফুল তোলার বিপরীতে এই চর্চা প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভারসাম্য রক্ষা এবং সংরক্ষণের বোধকে জাগ্রত রাখে। 

পরিবেশকে রক্ষা করে ফুল তুলে মানুষ যা নেয় তা উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও প্রাকৃতিক চক্র অব্যাহত রাখতে সহায়ক হয়। উদ্দেশ্য হলো বাস্তুতন্ত্রকে অক্ষত রেখে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে প্রাণভরে উপভোগ করা। অনেক সময় না ছিঁড়ে মাটিতে ঝরে পড়া ফুলকে কুড়িয়ে নেওয়ার এক সুকোমল চর্চা মানুষের ভেতর লক্ষ করা যায়। এতে ক্ষতির সম্ভাবনা আরও কমে আসে। 

এই চর্চা প্রকৃতির প্রতি এক গভীর স্পর্শকাতরতা ঘটায়। শেখায়, প্রকৃতি কেবল ভোগের সামগ্রী নয়, সে সহাবস্থানের সাথী ও পরম বন্ধু। সদয় ও সতর্ক হাতে একজন পরিবেশ-ফুল সংগ্রাহক লুণ্ঠনকারীর ভূমিকা ছেড়ে অংশীদারের বার্তাবাহক হয়ে ওঠে। তাই পরিবেশ-ফুল তোলা আনন্দ ও দায়িত্বকে একই সুতায় গেঁথে দেয় এবং আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সামান্য আনন্দও পৃথিবীকে এক মমতার আলোয় আরও উজ্জ্বল করে দিতে পারে।

পরিশেষে, পরিবেশ ও মানুষ পরস্পরের মধ্যে বিলীন। একটি ছাড়া অপরটির অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায় না। প্রকৃতি কেবল মানবজীবনকে নয়, তার সংস্কৃতি, প্রতীকচেতনা, আবেগ ও কল্পনার সমগ্র জগৎকে গড়ে তোলে। এর পরিবর্তে মানুষও প্রকৃতিকে নতুনভাবে নির্মাণ করে, তাকে জীবনের আরও যোগ্য আবাসে পরিণত করে। তাই প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য স্থাপনই সুস্থ ও সুন্দর জীবনের মূল রহস্য। আর এখানেই নিহিত রয়েছে আমাদের মহানগরীর উত্তাল জনস্রোতের মাঝে রমনা উদ্যানের অপরিমেয় গুরুত্ব।

/এসএল

গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক ঢাকায় শিশুদের জন্য সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক ঢাকায় শিশুদের জন্য সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

শিশুদের সাঁতার শেখানোর পাশাপাশি পানিভীতি দূর করা এবং জীবনরক্ষাকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা গড়ে তুলতে বিশেষ সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক ঢাকা। 

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রথম সেশন পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দ্বিতীয় সেশন চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুরা শুধু সাঁতার শেখার সুযোগই পাবে না, বরং পানিতে আত্মবিশ্বাস অর্জন, নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা এবং জীবনরক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাও অর্জন করবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন অভিজ্ঞ ও পেশাদার প্রশিক্ষকরা।

আয়োজকদের মতে, নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে পরিচালিত এই প্রশিক্ষণ শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে।

প্রশিক্ষণ কোর্সে ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। প্রতিটি ব্যাচে আসন সংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছে, যাতে অংশগ্রহণকারীরা পর্যাপ্ত মনোযোগ ও প্রশিক্ষণ সুবিধা পেতে পারে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য যোগাযোগ করুন +88 01777 734 797 নাম্বারে

/এমটি 

বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবার রঙ বাংলাদেশে

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবার রঙ বাংলাদেশে

চার বছরের প্রতীক্ষা শেষে আবারও বিশ্বজুড়ে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের মহোৎসব। মাঠে বল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জেগে উঠবে কোটি ভক্তের আবেগ, উচ্ছ্বাস, প্রত্যাশা এবং প্রিয় দলকে ঘিরে অসংখ্য স্মৃতি। এই বৈশ্বিক ক্রীড়া উৎসবকে আরও রঙিন করে তুলতে বিশেষ ফুটবল থিমভিত্তিক ফ্যাশন কালেকশন নিয়ে এসেছে রঙ বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তৈরি করা এই বিশেষ কালেকশনে ফুটবলের আবেগ, পারিবারিক বন্ধন এবং উৎসবের আনন্দকে তুলে ধরা হয়েছে নান্দনিক নকশায়। কালেকশনে রয়েছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, টপস, প্রাপ্তবয়স্কদের টি-শার্ট এবং শিশুদের টি-শার্ট। প্রতিটি পোশাকে ফুটবলের প্রাণচাঞ্চল্য ও উৎসবমুখর আবহ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে সৃজনশীল ডিজাইনের মাধ্যমে।

ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়; এটি মানুষের অনুভূতি, ভালোবাসা এবং একসঙ্গে উদযাপনের উপলক্ষ। সেই ভাবনাকে কেন্দ্র করে রঙ বাংলাদেশের এই আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ফ্যামিলি ম্যাচিং আউটফিটে। বাবা-ছেলে, মা-মেয়ে কিংবা পুরো পরিবারের সদস্যরা একই থিমে নিজেদের সাজিয়ে বিশ্বকাপের আনন্দকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে পারবেন।

কালেকশনের প্রতিটি নকশায় ফুটবলের বিভিন্ন উপাদানকে আধুনিক ফ্যাশনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। কোথাও ফুটবলের গতিময়তা, কোথাও গ্যালারির উচ্ছ্বাস, আবার কোথাও বিশ্বকাপের চিরচেনা উত্তেজনা স্থান পেয়েছে সৃজনশীল উপস্থাপনায়। দেশীয় পোশাকের স্বাচ্ছন্দ্য, গুণগত মান ও নান্দনিকতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া উৎসবের আবেগকে একসূত্রে গেঁথে তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ সংগ্রহ।

রঙ বাংলাদেশের মতে, পোশাক শুধু পরিধানের উপকরণ নয়; এটি মানুষের অনুভূতি, সংস্কৃতি এবং সময়ের গল্পও বহন করে। সেই দর্শন থেকেই বিশ্বকাপকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এমন একটি কালেকশন তৈরি করা হয়েছে, যা উৎসবের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে এবং স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে দীর্ঘদিন।

বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি উল্লাস এবং প্রতিটি প্রতীক্ষার মুহূর্তকে আরও রঙিন করে তুলতে ফুটবল থিমের এই বিশেষ কালেকশন এখন দেশের সব রঙ বাংলাদেশ আউটলেটে পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইনে কেনাকাটার জন্য ভিজিট করা যাবে। রঙ বাংলাদেশের ওয়েবসাইট (https://www.rang-bd.com?utm_source=chatgpt.com) এবং [রঙ বাংলাদেশের ফেসবুক পেজ 

(https://www.facebook.com/rangbangladeshlimited?utm_source=chatgpt.com)। বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৭৭৭৭৪৪৩৪৪-এ।

/এমটি  

সেলফ কেয়ার রুটিন যখন থেরাপি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
সেলফ কেয়ার রুটিন যখন থেরাপি

আধুনিক জীবনের দ্রুতগতির মধ্যে মানুষ সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি হারিয়ে ফেলে, তা হলো নিজের জন্য সময়। কাজ, পড়াশোনা, পরিবার ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের ভিড়ে নিজের শরীর ও মন প্রায়ই অবহেলিত থাকে। অথচ প্রতিদিনের কিছুটা সময় শুধু নিজের জন্য রাখাই হতে পারে মানসিক চাপ কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায়। লিখেছেন মুশফিরাত তাসকিন 

স্কিনকেয়ার রুটিন: আত্ম যত্নের প্রথম ধাপ
অনেকেই মনে করেন স্কিনকেয়ার শুধু সৌন্দর্য চর্চা, কিন্তু বাস্তবে এটি সেলফ কেয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুখ ধোয়া, টোনার ব্যবহার, ময়েশ্চারাইজার লাগানো কিংবা হালকা ফেস ম্যাসাজ–এই প্রতিটি ধাপই এক ধরনের রিল্যাক্সেশন তৈরি করে। দিনের শেষে এই রুটিন শরীর ও মনকে জানান দেয় যে এখন বিশ্রামের সময়। নিয়মিত স্কিনকেয়ার রুটিন মানসিক প্রশান্তি বাড়ায় এবং নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার অনুভূতি তৈরি করে। 

মানসিক প্রশান্তিতে ছোট ছোট অভ্যাস
সেলফ কেয়ারের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এর ছোট ছোট অভ্যাস। হালকা মিউজিক শোনা, কিছুক্ষণ নীরবে বসে থাকা, জানালার পাশে চা খাওয়া বা প্রিয় বইয়ের কয়েক পাতা পড়া এই সাধারণ বিষয়গুলোই মনকে হালকা করে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এমন ছোট বিরতি মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করে এবং স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত করলে মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।   

শরীরচর্চা: মানসিক স্বাস্থ্যের শক্ত ভিত
শরীরচর্চা শুধু শারীরিক ফিটনেসের জন্য নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটাহাঁটি, যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম শরীরে এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণ করে, যা মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন মাত্র ২০-৩০ মিনিট হাঁটাও মানসিক চাপ অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে। এটি শুধু শরীরকে সক্রিয় রাখে না, বরং মনকেও করে তোলে হালকা ও প্রাণবন্ত।

খাবার ও ঘুম: সেলফ কেয়ারের মৌলিক ভিত্তি
সেলফ কেয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বাস্থ্যকর খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুম। পুষ্টিকর খাবার শরীরকে শক্তি জোগায় এবং মস্তিষ্ককে সচল রাখে। অন্যদিকে অনিয়মিত ঘুম মানসিক চাপ ও ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়। তাই সুষম খাবার গ্রহণ ও নির্দিষ্ট সময় ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা সেলফ কেয়ার রুটিনের অপরিহার্য অংশ।

নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া
মানসিক সেলফ কেয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া। অনেক সময় আমরা আবেগ চেপে রাখি বা নিজেদের ক্লান্তিকে উপেক্ষা করি, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ বাড়ায়। নিজের অনুভূতিকে বোঝা, গ্রহণ করা এবং প্রয়োজনে বিরতি নেওয়া এগুলো মানসিক সুস্থতার জন্য খুব জরুরি। নিজেকে সময় দেওয়া মানে নিজের আবেগকে সম্মান করা।

পছন্দের কাজ: মনের থেরাপি
নিজের পছন্দের কাজগুলো করা সেলফ কেয়ারের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ও আনন্দদায়ক অংশ। প্রতিদিনের চাপ, দায়িত্ব আর ব্যস্ততার মাঝে যখন মানুষ কিছু সময় নিজের ভালো লাগার কাজে ব্যয় করে, তখন তা এক ধরনের মানসিক পুনর্জীবনের মতো কাজ করে। গান শোনা, রান্না করা, বই পড়া, ছবি আঁকা, লেখালেখি করা কিংবা প্রিয় কোনো সিরিজ দেখা এই সাধারণ অভ্যাসগুলোই মনকে ধীরে ধীরে হালকা করে দেয়।

এই সময়টুকু শুধু বিনোদন নয়, বরং মানসিক চাপ থেকে দূরে সরে গিয়ে নিজের ভেতরের শান্তিকে খুঁজে পাওয়ার একটি সুযোগ। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, পছন্দের কাজে মনোযোগ দিলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ে, যা মানুষকে সুখী ও ইতিবাচক অনুভূতি দেয়। ফলে ক্লান্ত মন আবার নতুনভাবে কাজ করার শক্তি পায়। এই অভ্যাসকে অনেকেই ‘ইমোশনাল রিচার্জ’ হিসেবে দেখেন, যা দৈনন্দিন জীবনের মানসিক ক্লান্তি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সেলফ কেয়ার: বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন
অনেকেই এখনো মনে করেন সেলফ কেয়ার মানে বাড়তি সময় বা বিলাসিতা, যা ব্যস্ত জীবনে গুরুত্ব দেওয়ার মতো বিষয় নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেলফ কেয়ার কোনো অপশন নয়, এটি একটি প্রয়োজনীয় জীবনধারা। নিজের শরীর ও মনকে উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন কাজ চালিয়ে গেলে তা ধীরে ধীরে মানসিক চাপ, ক্লান্তি এবং হতাশার জন্ম দিতে পারে।

সেলফ কেয়ার হলো নিজেকে সচেতনভাবে গুরুত্ব দেওয়া। এটি ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে গড়ে ওঠে নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্রাম নেওয়া, নিজের আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা। এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত চর্চা করলে মানুষ নিজের সঙ্গে একটি ইতিবাচক ও স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, নিজের যত্ন নেওয়া মানে আত্মকেন্দ্রিক হওয়া নয়, বরং নিজের মানসিক ও শারীরিক ভারসাম্য বজায় রাখা। একজন সুস্থ ও স্থিতিশীল মানুষই পরিবার, কাজ এবং সমাজের প্রতি ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। তাই সেলফ কেয়ারকে বিলাসিতা না ভেবে জীবনযাপনের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।