ঈদুল আজহা মানেই পরিবার, প্রিয়জন আর সুস্বাদু খাবারের আনন্দময় আয়োজন। কোরবানির এই উৎসবে ঘরে ঘরে তৈরি হয় নানা স্বাদের ঐতিহ্যবাহী ও ভিন্নধর্মী মাংসের পদ, যা উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। তাই ঈদের বিশেষ মুহূর্তকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে সুস্বাদু কিছু মাংসের রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী রোমানা আফরোজা রিমঝিম
মাটন লেগ রোস্ট
উপকরণ
ছোট এলাচ ৫টি, বড় এলাচ ২টি, তেজপাতা ২টি, দারুচিনি ১০/১২ সে.মি., ১০টি লবঙ্গ, গোল মরিচ ০.৫ চা চামুচ, কাবাব চিনি ০.৫ চা চামুচ, স্টার এনিস মসলা ২টি, জিরা ১ চা চামুচ, মৌরী ১ চা চামুচ, শাহী জিরা ০.৫ চা চামুচ, ধনে ১ টেবিল চামুচ, জয়ফল ১টি, জয়ত্রী আনুমানিক ২ গ্রাম, ১ কেজি ওজনের খাসির রান, ঘি ১ কাপ, পেঁপে বাটা ২ টেবিল চামুচ (চামড়াসহ বাটলে মাংস ভালো নরম হয়), দই ০.৫ কাপ, শুকনো মরিচের গুঁড়ো ১ টেবিল চামুচ, ০.৫ চামুচ পরিমাণ হলুদের গুঁড়ো, ১ চা চামুচ লবণ বা স্বাদ মতো, ১ চা চামুচ আদা বাটা, ১ চা চামুচ রসুন বাটা, দুধ ০.৫ কাপ– ভালো করে জ্বাল করে নিতে হবে, বাদাম বাটা ১ টেবিল চামুচ- যেকোনো বাদাম দিলে হবে, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ (পোস্ত বাটা না দিলে গ্রেভি করার জন্য দিতে হবে ৩ কাপ), টমেটো ০.৫ কাপ (কোনোভাবে সস দেওয়া যাবে না), পোস্ত বাটা ১ টেবিল চামুচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা ২ টেবিল চামুচ, আলু বোখারা ৪টি, কিসমিস ১ টেবিল চামুচ, কেওড়ার জল ১ টেবিল চামুচ, গোলাপ জল ১ টেবিল চামুচ।
প্রণালি
তাওয়ায় লাল মরিচ, ধনে, জিরা ও নারকেল ভাজুন তারপর একসঙ্গে পিষে নিন। পেঁয়াজ ভালো করে ভেজে নিন। তারপর টকদই মিশিয়ে নিন। টকদই ও পেঁয়াজের মিশ্রণে লবণ, আদা-রসুন, সব মসলার গুঁড়ো ভালো করে মেশান। এরপর কাটা চামুচ দিয়ে একটু করে মাংসটাকে কেচে নিয়ে ওই মসলার মধ্যেই খাসির পায়ের মাংস মেরিনেট করে নিন। তারপর ৪-৬ ঘণ্টা ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন খাসির পা।
এবার একটি বড় আকারের প্যানে, ২-৩ মিনিটের জন্য তেল গরম করুন। তারপর মেরিনেট করা পা ৫-৭ মিনিট ভেজে হাই হিটে রান্না করুন। তারপর আঁচ কমিয়ে, মসলা ও দই-এর ঝোলটার বাকিটুকু দিয়ে হাফ কাপ পানি দিয়ে ২৫-৩০ মিনিট নিচু আঁচে রান্না করতে হবে। তারপর উল্টে দিন অন্যপাশে। যখন রান্নায় তেল উপরে উঠে আসবে ও পা নরম হয়ে যাবে। আলুবোখারা, ঘি, গোলাপজল ও বেরেস্তা ছিটিয়ে দিন। তারপর পরিবেশন করুন।
গরুর শাহি হালিম
উপকরণ
গরুর মাংস ৫০০ গ্রাম (হাড়সহ), মুগ ডাল ১ কাপ, মাষকলাই ডাল ১ কাপ, মসুর ডাল হাফ কাপ, ছোলার ডাল হাফ কাপ, পোলাও চাল হাফ কাপ, গম হাফ কাপ, আদা-রসুন বাটা ২ চামচ, পেঁয়াজ কুচি এককাপ, পেঁয়াজ বেরেস্তা হাফ কাপ, লবণ স্বাদমতো, তেল পরিমাণ মতো, কাঁচা মরিচ কুচি ১ চা চামচ, ধনেপাতা কুচি সামান্য, লেবু ১টি, ধনিয়া ১ চা চামচ, জিরা ১ চা চামচ, মৌরি হাফ চামচ, কালো গোলমরিচ ১ চা চামচ, এলাচ ৭/৮টি, দারুচিনি ১ ইঞ্চি ২টা, তেজপাতা ১টা, লবঙ্গ হাফ চামচ, সরিষা হাফ চামচ, মেথি হাফ চামচ, জৈয়েত্রী হাফ চামচ, স্টার মসলা ১টা, শুকনা মরিচ ৬/৭টা, বড় এলাচ ১টি।
প্রণালি
সবগুলো ডাল একত্রে মিশিয়ে খালি কড়াইয়ে ভেজে নিয়ে, ব্লেন্ডারে গুঁড়ো করে নেবে। তারপর গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখব। সবগুলো শুকনো মসলা, খালি কড়াইতে হালকা আঁচে ভেজে নিয়ে, গুঁড়ো করে নেব।
কড়াইতে তেল দিয়ে পেঁয়াজগুলো হালকা সোনালি আকারে ভেজে নিয়ে, আদা-রসুন পেস্ট ও শুকনো মসলাগুলো দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নেব, কষানো হলে, মাংসগুলো ছেড়ে, লবণ দিয়ে আবার কষিয়ে, গরম পানি দিয়ে মাংস সেদ্ধ করে নেব। মাংস সেদ্ধ হলে তুলে রেখে সেই ঝোলেই, ডাল ভেজানোটা দিয়ে একটু কষিয়ে, গরম পানি দিয়ে সেদ্ধ করে নেব।
ডাল সেদ্ধ হলে মাংসগুলো ছেড়ে দেব। ঘনত্ব যতটুকু রাখার সেই পরিমাণে পানি রেখে, নামিয়ে নেব। লেবু, আদা কুচি, কাঁচা মরিচ কুচি, ধনেপাতা কুচি, বেরেস্তা ছিটিয়ে, গরম গরম পরিবেশন করুন। মজাদার হালিম।
গরুর মাংসের কিমা
উপকরণ
গরুর মাংস ৫০০ গ্রাম, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ চামচ, পেঁয়াজ কুচি হাফ কাপ, গরম মসলা গুঁড়ো ১ চামচ, জিরা গুঁড়ো ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়ো ১ চা চামচ, লাল মরিচ গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, দারুচিনি ২ টুকরা, এলাচ ৩/৪টি, তেজপাতা ১টি, লবণ স্বাদমতো, সোয়াবিন তেল হাফ কাপ, কাঁচা মরিচ ৪/৫টি, একটি বড় আলু সেদ্ধ কিউব কাটা, মটরশুঁটি হাফ কাপ।
প্রস্তুত প্রণালি
কিমা ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। সসপ্যানে তেল গরম করে তেজপাতা, এলাচ, দারুচিনি ও লবঙ্গ ফোরন দিন। তারপর পেঁয়াজ কুচি দিয়ে সোনালি করে ভাজুন। এরপর আদা-রসুন বাটা, হলুদের গুঁড়া মরিচের গুঁড়া, ধনে গুঁড়া ও জিরা গুঁড়ো, লবণ দিয়ে অল্প পানি দিয়ে মসলা কষান।
মসলা তেল ছেড়ে দিলে কিমা দিয়ে দিন। ভালো করে নেড়ে ঢেকে দিন। কিমা থেকে পানি বের হবে সেই পানিতেই কিমা সেদ্ধ করুন, (প্রয়োজন হলে সামান্য গরম পানি দিন) কিমা প্রায় সেদ্ধ হয়ে এলে কিউব করে কাটা আলু বা মটরশুঁটি (ঐচ্ছিক) গরম মসলার গুঁড়ো ও কাঁচা মরিচ ছড়িয়ে আরও ৫-১০ মিনিট দমে রেখে তেল উপরে উঠলে নামিয়ে নিন। রুটি, পরটা ও ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
গরুর কালাভুনা
উপকরণ
গরুর মাংস ১ কেজি, (মাঝারি সাইজে কাটা), লাল মরিচ গুঁড়ো ২ চা চামচ, হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়ো ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়ো দেড় চা চামচ, কালো গোলমরিচের গুঁড়ো ১ চা চামচ, লবঙ্গ গুঁড়ো হাফ চামচ, তেজপাতা ১টি, গরম মশল্লার গুঁড়ো ১ চা চামচ, কালোজিরা গুঁড়ো ১ চা চামচ, বড় কালো এলাচ ১টি গুঁড়ো, আদা বাটা ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ২ চা চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী।
সরিষার তেল প্রয়োজন মতো, পেঁয়াজ কুচি ৬/৭টি, শুকনো মরিচ ৭/৮টি, রসুন কুচি ১ টেবিল চামচ, আদা কুচি ১ চা চামচ।
প্রস্তুতি
মাংসে ১/২ কাপ পেঁয়াজ কুচি, ২ টেবিল চামচ আদা বাটা ২ চা চামচ রসুন বাটা, ১ টেবিল চামচ লাল মরিচ গুঁড়ো, ১ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো, ১ চা চামচ করে ধনে ও জিরা গুঁড়া, ১ চা চামচ গরম মসলা গুঁড়ো, পরিমাণ মতো লবণ এবং ৩-৪ টেবিল চামচ সরিষার তেল দিয়ে হাত দিয়ে খুব ভালো করে মাখিয়ে নিন।
ম্যারিনেট করা মাংসটি ঢাকনা দিয়ে মাঝারি আঁচে ১০-১৫ মিনিট কষিয়ে নিন। এরপর আঁচ কমিয়ে দিয়ে (লো আঁচে) প্রায় ১-১.৫ ঘণ্টা ঢেকে রান্না করব ও মাঝে মাঝে নেড়ে দেবেন যেন নিচে লেগে না যায়। মাংস থেকেই পানি বের হবে, আলাদা পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মাংস নরম হয়ে পানি শুকিয়ে তেল উপরে উঠে গেলে, নামিয়ে নেব।
আরেকটি প্যানে ৩-৪ টেবিল চামচ সরিষার তেল গরম করে, তাতে আস্ত শুকনো মরিচ, রসুন কুচি ও আদা কুচি এবং কিছুটা পেঁয়াজ কুচি হালকা বাদামি করে ভেজে নেব। এই ফোড়নটি কষানো মাংসে ঢেলে দিয়ে হালকা আঁচে আরও ১০-১৫ মিনিট অনবরত নেড়ে ভুনা করুন, যতক্ষণ না মাংসের রং গাঢ় কালো হয়ে আসছে।