১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক উত্তাল সময়। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে তখন উত্তপ্ত এই ভূখণ্ড। ১১ ফেব্রুয়ারির ছাত্রসমাবেশ, ১২ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচিকে ঘিরে টানটান উত্তেজনার পর ১৩ ফেব্রুয়ারি আন্দোলন নতুন গতি পায়। এদিন সরাসরি কোনো রক্তক্ষয়ী ঘটনা না ঘটলেও আন্দোলনের সংগঠিত রূপ নেওয়ার ক্ষেত্রে দিনটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ বৈঠকে বসে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে তৎপর হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রনেতারা সভা-সমাবেশ করেন। ছাত্রসমাজের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিভিন্ন হল ও ক্যাম্পাসে ছোট ছোট মিছিল বের হয়। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ‘উর্দু চাপিয়ে দেওয়া চলবে না’–এসব স্লোগানে মুখরিত হয় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। আন্দোলন ক্রমশ ছাত্রদের গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।
১৩ ফেব্রুয়ারি ছিল মূলত প্রস্তুতির দিন। সংগ্রাম পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে বৃহত্তর কর্মসূচি নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্তে এগোয়। ছাত্রনেতারা সম্ভাব্য ধর্মঘট, বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।
সরকারি মহলেও এদিন নড়াচড়া বাড়ে। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কঠোর অবস্থান নেয়। গোপন বৈঠক, ছাত্রদের ওপর নজরদারি এবং সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতির খবর ছড়িয়ে পড়ে। ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়।
ঢাকার বাইরে মফস্বল শহরগুলোতেও ভাষা আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন বাড়তে থাকে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, পেশাজীবী মহল এবং বুদ্ধিজীবীরা বিবৃতি দিয়ে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান। সংবাদপত্রগুলোতেও ভাষার প্রশ্নে সম্পাদকীয় ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে থাকে, যা জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।