ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রক্তদান মহৎ কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা? রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানীতে প্রান্তিক গ্রামের ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির আলোচিত সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে জয়া টেইলর সুইফটের নতুন রেকর্ড পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি?
Nagad desktop

সমতল ভূমিতে চা চাষে লুৎফরের সাফল্য

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:০২ এএম
আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:০৫ এএম
সমতল ভূমিতে চা চাষে লুৎফরের সাফল্য
বাগানে চা-গাছ পরিচর্যা করছেন অধ্যাপক লুৎফর রহমান/ খবরের কাগজ

গাজীপুরের কাপাসিয়ার চিনাডুলি গ্রামে সমতল ভূমিতে চা চাষে সাফল্য পেয়েছেন অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। পৈতৃক আট বিঘা জমিতে তিনি গড়ে তুলেছেন চারটি চা-বাগান। প্রায় সাত বছরের নিরলস পরিশ্রমে তার বাগান এখন আলোচনার কেন্দ্রে। গত তিন বছর ধরে তিনি নিয়মিত সংগ্রহ করছেন চায়ের ‘এক কুঁড়ি দুটি পাতা’। উৎপাদন করছেন সবুজ চা। ইতোমধ্যেই ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাইকারি ক্রেতারা নিয়মিত তার কাছ থেকে চা কিনছেন। উন্নত মানের কারণে প্রতি কেজি চা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়।

অধ্যাপক লুৎফর রহমান বর্তমানে রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস, অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৪টি চা-বাগানে দীর্ঘ ৩৫ বছর ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি কাপাসিয়ার সমতল জমিতে চা চাষ শুরু করেন।

তিনি বলেন, ‘সিলেট ও চট্টগ্রামের চা-বাগানগুলোতে কাজ করেছি। ওই এলাকার মাটির সঙ্গে কাপাসিয়ার মাটির গুণগত মিল আছে। সমতল হলেও এখানে চা চাষ সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘চা-গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকা যাবে না। তবে মাটিতে পানি ধরে রাখার ক্ষমতা থাকতে হবে। তাই বাগানে সেচ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা করেছি।’

চায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ছায়া তৈরি করতে তিনি সিলেট থেকে এনে সিমজাতীয় গাছ রোপণ করেছেন। এ ছাড়া সাধারণ কাঠগাছের নিচেও চারা লাগিয়ে ভালো ফল পেয়েছেন। বর্তমানে আট বিঘা জমিতে প্রায় ২০ হাজার চারা রয়েছে। প্রতিটি চারা দুই ফুট দূরত্বে রোপণ করা হয়েছে।

লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিক পর্যায় থেকে উৎপাদন শুরু হতে একরপ্রতি ব্যয় হয় আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকা। তবে একবার উৎপাদন শুরু হলে ৩৫ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত পাতা সংগ্রহ করা যায়। শুধু কাঁচা পাতা বিক্রি করলে একরপ্রতি বছরে আয় হয় প্রায় ১ লাখ টাকা। আর প্রক্রিয়াজাত চা বিক্রি করলে আয় দাঁড়ায় আড়াই লাখ টাকায়। অন্য ফসলে দীর্ঘমেয়াদে এত লাভ পাওয়া সম্ভব নয়।

বর্তমানে তিনি সবুজ চা উৎপাদন করছেন। পাতা সংগ্রহের পর কয়েক ঘণ্টা ঠাণ্ডা করে আর্দ্রতা কমানো হয়। পরে পাঁচ মিনিট গরম পানিতে সেদ্ধ করে হাতে পিষে গোলাকার গুটি বানিয়ে রোদে শুকানো হয়। এভাবেই তৈরি হয় সবুজ চা। তিনি জানান, ‘প্রতি মাসে এখন ১২ থেকে ১৫ কেজি চা উৎপাদন করছি। শিগগিরই তা ৩০ থেকে ৩৫ কেজিতে উন্নীত হবে। ভবিষ্যতে অর্থডক্স ও সিটিসি পদ্ধতিতে বৃহৎ পরিসরে চা উৎপাদন করব।’ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে স্থানীয় বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি আশা করছেন।

কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আউলিয়া খাতুন বলেন, ‘আমি যোগদানের পরপরই চা-বাগানগুলো পরিদর্শন করেছি। সমতল ভূমিতে চা চাষের এ সাফল্য স্থানীয় কৃষকদের জন্য আনন্দের। অন্যরাও আগ্রহী হলে কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।’

নওগাঁয় চড়ামূল্যে কিনতে হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগ শঙ্কায় আমচাষিরা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:১৯ এএম
নওগাঁয় চড়ামূল্যে কিনতে হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগ শঙ্কায় আমচাষিরা
ছবি: খবরের কাগজ

নওগাঁয় নিরাপদ আম উৎপাদনের অন্যতম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং। যেখানে  আমকে একটি বিশেষ ব্যাগে ঢেকে রাখা হয়। ফলে আম পোকামাকড়ের আক্রমণ  থেকে রক্ষা পায়। কীটনাশকের ব্যবহার না করে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি  ব্যবহার বেশ কয়েক বছর ধরেই জনপ্রিয় উত্তরের জেলা নওগাঁয়।

প্রতিবছরই আমের নতুন নতুন বাগান বাড়ছে এই জেলায়। সেই সাথে তৈরি হচ্ছে নতুন উদ্যোক্তাও। বেশ কিছু তরুণ উদ্যোক্তা রপ্তানির উদ্দেশ্যে এই ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষ পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব আমের সিংহভাগই রপ্তানি করা হয় বিদেশে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই এই ব্যাগের চাহিদা ও দাম ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এ বছর চাহিদামতো ফ্রুট ব্যাগ না পাওয়ায় আম ব্যাগিং করতে পারেননি নওগাঁর অনেক চাষী। আবার যতটুকু ব্যাগ মিলছে, তাও কিনতে হয়েছে দ্বিগুন দামে।

আম চাষিরা জানান, গতবছর প্রতিটি ফ্রুট ব্যাগের দাম পড়েছিল ৩ টাকা ৭০ পয়সা। কিন্তু এবার তা কিনতে হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সায়। আবার বাড়তি দাম দিয়েও ব্যাগ কিনতে পারেননি অনেক চাষী। 

নওগাঁর পোরশা উপজেলার ছাতড়া গ্রামের তরুন আম চাষি তানিম মাহমুদ ও ফয়সাল এবার যৌথভাবে ১৬৮ বিঘা জমি লিজ নিয়েছেন। যেখানে বারি-৪ আম্রপালি ও গৌঢ়মতিসহ বিভিন্ন জাতের আম গাছ রয়েছে। এরমধ্যে ১৬ একর জমিতে সাড়ে ৩ লাখ আম ফ্রুট বেগিং করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু চাহিদামতো ব্যাগ পাননি তারা। 

পার্শ্ববর্তী সাপাহার উপজেলার সবচেয়ে বড় উদ্যোক্তা সোহেল রানা। প্রতিবছর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে আম রপ্তানি করে থাকেন। তিনি জানান, এ বছর ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা ছিলো ৩ লাখ পিস। এর বিপরীতে মাত্র ১৫ হাজার পিস কিনতে পেরেছি। তাও আবার চড়া দামে কিনতে হয়েছে। এছাড়া গত বছরের ব্যবহার করা ৪৫ হাজার পিস ফ্রুট ব্যাগ ছিল। এ নিয়ে মোট ৬০ হাজার পিস ব্যানানা ম্যাংগো আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। কিছু আম আছে ফ্রুট ব্যাগ ছাড়া ভাল হয় না। বিশেষ করে গৌড়মতি আমে ফ্রুট ব্যাগিং না করলে দাগ পড়ে এবং পোকা লাগে। এ কারণে চাহিদামতো ফ্রুট ব্যাগ না পাওয়ায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হতে হলো।

আমচাষিরা বলছেন, এপ্রিল মাস থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও গৌড়মতি আমে ফ্রুট ব্যাগিং করার সময়। এ বছর ফ্রুট ব্যাগ না পাওয়ায় অনেক চাষী আমে ব্যাগিং করতে পারেননি। খোলা আম বাজারে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা মন দরে বিক্রি হয়ে থাকে। তবে ফ্রুট ব্যাগিং করা আম ক্রেতাদের কাছে চাহিদা থাকায় বাজারে প্রকারভেদে ৭-৮ হাজার টাকা মন দরে বিক্রি হয়ে থাকে।

এদিকে, ফ্রুট ব্যাগ স্বল্পতার কারণে গত ৩-৪ বছর আগে যেসব গাছ রোপন করা হয়েছিল সেসব গাছে এবার আম এসেছে। এতে ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা আরও বেড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। যা থেকে প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৮৬ হেক্টর জমির আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও গৌড়মতি জাতের ১ কোটি ১১ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ পিস আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। গত বছর সাপাহার ও পোরশা উপজেলা থেকে বিভিন্ন রপ্তানিকারকের মাধ্যমে ২৮৪ টন আম্রপালি, খিরসাপাত ও ব্যানানা ম্যাংগো আম মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে রপ্তানি হয়েছিল।

ফ্রুট ব্যাগ স্বল্পতা ও দাম বৃদ্ধির কথা শিকার করছেন নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, খুব দ্রুতই কৃষকদের মাঝে উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে আম উৎপাদনের আগ্রহ বাড়ছে। এ কারনে রপ্তানি পরিসর বাড়াতে রপ্তানিযোগ্য এবং কীটনাশকমুক্ত আম ‍উৎপাদন ও ভাল দাম পেতে কৃষকদের মাঝে ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা বেড়েছে। শেষ সময়ে এসে আমচাষিদের কাছে ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় যেসব কোম্পানি ফ্রুট ব্যাগ সরবরাহ করেন তারা দিতে পারেননি।

হারুন চৌধুরী/খাদিজা রুমি/

চাকরি না পেয়ে ইউটিউব দেখে আম চাষ, লক্ষাধিক টাকা আয়

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:১১ এএম
চাকরি না পেয়ে ইউটিউব দেখে আম চাষ, লক্ষাধিক টাকা আয়
মাদারীপুরের সফল আম চাষি। ছবি: খবরের কাগজ

চাকরির পেছনে দীর্ঘদিন ছুটেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি মাদারীপুরের তরুণ শাহান্দার হাওলাদার। তবে হতাশ না হয়ে তিনি বেছে নেন কৃষি পেশা। ইউটিউব দেখে আধুনিক আমচাষের কৌশল শিখে গড়ে তোলেন বাণিজ্যিক আমবাগান। বর্তমানে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের পূর্ব মাদ্রা গ্রামের বাসিন্দা শাহান্দার হাওলাদার ২০১৫ সালে লেখাপড়া শেষ করার পর দীর্ঘদিন চাকরির চেষ্টা করেন। একের পর এক চেষ্টা করেও চাকরি না পাওয়ায় তিনি বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেন। এ সময় ইউটিউবে আধুনিক কৃষি ও আম চাষবিষয়ক বিভিন্ন ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে প্রায় চার একর জমির ওপর গড়ে তোলেন একটি বাণিজ্যিক আমবাগান। শুরুতে নানা প্রতিকূলতা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হলেও ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সফলতা অর্জন করেন তিনি।

বর্তমানে তার বাগানে রুপালি ও হিমসাগর জাতের উন্নতমানের আম উৎপাদিত হচ্ছে। বাগান পরিচর্যা ও অন্য কাজে প্রতিদিন প্রায় ১২ জন শ্রমিক কাজ করছেন। ফলে নিজের স্বাবলম্বীর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মাদারীপুর জেলায় ৩৫৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৭৮ মেট্রিক টন উৎপাদন ধরে জেলার মোট আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ২৩৪ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার আম বাণিজ্য হতে পারে বলে আশা করছে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।

মাদ্রা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক রাকিব হাসান  জানান, শাহান্দার এলাকার তরুণদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ। তিনি প্রমাণ করেছেন যে চাকরির পেছনে না ছুটেও কৃষিভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে সফল হওয়া সম্ভব।

আমবাগান মালিক শাহান্দার হাওলাদার বলেন, ‘চাকরি না পেয়ে একসময় অনেক হতাশ ছিলাম। পরে ইউটিউব থেকে আমচাষের বিভিন্ন বিষয় শিখে কাজ শুরু করি। প্রথম দিকে অনেক কষ্ট ছিল। তবে এখন আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাগান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাদারীপুরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ শাশ্বতী ছন্দা দেবনাথ বলেন, ‘অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর মাদারীপুরে গত বছরের তুলনায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। শাহান্দার হাওলাদার আমাদের এখান থেকে পরামর্শ নিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, আম চাষ অনেক লাভজনক। যারা বেকার আছেন তারা ইচ্ছা করলে আমাদের এখান থেকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিয়ে বাগান করতে পারেন। কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষক ও উদ্যোক্তাদের সহায়তা করে থাকে।

আম পাড়া নিয়ে ব্যস্ত মৌসুমি শ্রমিকরা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
আম পাড়া নিয়ে ব্যস্ত মৌসুমি শ্রমিকরা
ছবি: মুজিবনগর আম্রকাননে আম সংগ্রহের কাজ করা কয়েকজন মৌসুমি শ্রমিক

সকাল পার হতে না হতেই আমবাগানের ভেতর শোনা যায় মানুষের হাঁকডাক। কেউ গাছের মগডালে, কেউ দড়ির লিফটে ঝুড়িভর্তি আম নামাচ্ছেন। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকরা সেই আম বাছাই করে সাজিয়ে রাখছেন ক্যারেটে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে সবুজের সমুদ্রে মানুষ আর ফলের এক মৌসুমি উৎসব।

আমের জেলা বলতে দেশের মানুষ প্রথমে রাজশাহীর নাম নিলেও স্বাদের প্রশ্নে মেহেরপুরের চাষিরা কারও কাছে মাথা নত করতে রাজি নন। এ জেলার মাটির গুণ, আবহাওয়া আর পরিচর্যার কারণে এখানকার আমের আলাদা মিষ্টতা ও ঘ্রাণ রয়েছে বলে দাবি আম চাষিদের। সেই আম এখন গাছ থেকে নামানোর মহাযজ্ঞে ব্যস্ত প্রায় এক হাজার মৌসুমি শ্রমিক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় ২ হাজার ৩৬১ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন। জেলার গাংনী, মুজিবনগর ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে থাকা বাগানগুলোতে আম সংগ্রহের ব্যস্ততা  চোখে পড়ার মতো। 

মুজিবনগর আম্রকাননে আম সংগ্রহের কাজ করেন মৌসুমি শ্রমিকরা। শ্রমিকরা সাধারণত ৮ থেকে ১০ জন মিলে একটি দল গঠন করেন। প্রতিটি দলের একজন দলনেতা থাকেন। শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। দলনেতারা পান ৭০০ টাকা। পাশাপাশি দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও করতে হয় বাগান মালিককে। তবে নগদ মজুরির বাইরেও রয়েছে আরেকটি আকর্ষণ। প্রতিদিন প্রত্যেক শ্রমিক চার কেজি করে আম পান।

মেহেরপুর জেলা শহরের শ্রমিক বাবু হোসেন বলেন, আমের মৌসুম এলেই আমরা দল বেঁধে বাগানে কাজ করি। গাছে উঠতে কষ্ট হয়, ঝুঁকিও আছে। তবে মজুরির সঙ্গে যে চার কেজি আম পাই, সেটাও বড় পাওয়া। কিছু বাড়িতে রাখি, কিছু বিক্রি করি।
একই দলের শ্রমিক আবদুস সাত্তারের মুখে অন্য কথা। তিনি হেসে বলেন, গাছে উঠলে কোন্ আমটা সবচেয়ে সুন্দর, সেটাই আগে চোখে পড়ে। নিজেদের ভাগের জন্য ভালো আমগুলো আলাদা করে রাখি। এটা অনেক দিনের নিয়ম। তবে মালিকের ক্ষতি করে নয়।

গাংনী উপজেলার একাধিক বাগানের মালিক আব্দুর রহমান বলেন, আম পাকার সময় দেরি করার সুযোগ নেই। এক দিনে যে পরিমাণ আম নামাতে হয়, তা শ্রমিক ছাড়া সম্ভব নয়। মজুরি, খাবার, আম সব মিলিয়ে খরচ হয়। কিন্তু সময়মতো আম না তুলতে পারলে লোকসান আরও বেশি।

বাগান মালিকদের মতে, দক্ষ শ্রমিকের অভাব এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। কারণ গাছের উচ্চতা, ফলের পরিমাণ এবং আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে কাজ করতে হয় তাদের।

মেহেরপুরের আম চাষিদের দাবি, উৎপাদনে রাজশাহী দেশের শীর্ষে থাকলেও স্বাদের বিচারে মেহেরপুরের আমের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। বিশেষ করে হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি ও বিভিন্ন দেশিজাতের আমের চাহিদা দেশের বিভিন্ন জেলায় বাড়ছে।

বাগানের ছায়ায় দাঁড়িয়ে শ্রমিকরা যখন ঝুড়ি ভরছেন, তখন দূরে ট্রাকে উঠছে সদ্য পাড়া আম। কয়েক সপ্তাহের এই মৌসুমে আম শুধু ফল নয়, মেহেরপুরের হাজারও মানুষের জীবিকারও নাম। গাছের মগডাল থেকে বাজার পর্যন্ত সেই যাত্রার নেপথ্যে রয়েছেন এক হাজারের মতো মৌসুমি শ্রমিক। যাদের ঘামে মিষ্টি হয়ে ওঠে মেহেরপুরের আমের গল্প।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সনজীব মৃধা বলেন, হিমসাগর, বোম্বাই, ল্যাংড়া, আম্রপালি ছাড়াও ১২ মাস ধরে এমন আমবাগানও তৈরি হচ্ছে। ফলে আগামীতে দেশে ১২ মাসই আম পাওয়া যাবে। জেলায় ২ হাজার ৩৬১ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। গত মৌসুমে জেলায়  ৩৮ হাজার ১৭৭ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছিল।  সূত্র: বাসস

ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজ আবাদ বাড়ছে

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:০২ এএম
ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজ আবাদ বাড়ছে
ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজের আবাদ তেমন ছিলই না। কৃষি বিভাগের তৎপরতায় ধীরে ধীরে পেঁয়াজের আবাদ বিঘা থেকে হেক্টর পর্যন্ত বেড়েছে। পৌর এলাকাসহ উপজেলার সাত ইউনিয়নেই কমবেশি পেঁয়াজের আবাদ হচ্ছে।

উপজেলায় শীতকালীনের পাশাপাশি গ্রীষ্মেও পেঁয়াজের আবাদ বাড়ছে। উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে আগাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করে লাভের আশা করছেন কৃষক আব্দুর রাজ্জাক মৃধা ও আবুল বাশার। তাদের দেখে অনেকে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এ মসলা জাতের ফসল আবাদে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে ৬-৭ বছর আগে পেঁয়াজের আবাদ শুরু হয়। তখন কৃষকরা আগ্রহী না থাকলেও এখন লাভজনক হওয়ায় তারা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন। আবাদি জমির পরিমাণও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলায় বর্তমানে ৬০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ রয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ আষাঢ় মাসে শুরু হলেও আব্দুর রাজ্জাক ও আবুল বাশার দেড় মাস আগেই কৃষি বিভাগের দেওয়া নাসিক-৫৩ জাতের পেঁয়াজ চাষ করছেন। তারা বলছেন, বৃষ্টি নেই, প্রচণ্ড গরমেও আগাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ ভালো হয়েছে।

উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আব্দুর রাজ্জাক মৃধা তার দুই বিঘা জমিতে আবাদ করা পেঁয়াজ পরখ করছেন। আর দুই সপ্তাহ পর তিনি পেঁয়াজ জমি থেকে তুলবেন। এ সময় কথা হয় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ সম্পর্কে।

আব্দুর রাজ্জাক মৃধা বলেন, ‘ঈশ্বরদী কৃষি অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনার বিনামূল্যে নাসিক-৫৩ জাতের পেঁয়াজবীজ আমাকে দেওয়া হয়। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী বীজ থেকে চারা তৈরি করে জমিতে লাগানো হয়। মনে করা হয়েছিল, খুব ভালো হবে না। কিন্তু এখন জমিতে পেঁয়াজ দেখে মনে হচ্ছে লোকসান হবে না, লাভই হবে।’ সেচ, শ্রমিক খরচসহ দুই বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হলেও তিনি বিক্রি করবেন ৭০ হাজার টাকার পেঁয়াজ। তার লাভ হবে ৩৫ হাজার টাকা জানান তিনি।

একই কথা জানালেন বিলকেদা এলাকার আরেক কৃষক আবুল বাশার। তিনি বলেন, এখন প্রতিদিন প্রচণ্ড গরম, বৃষ্টি নেই। গরম কম থাকলে এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলে এ পেঁয়াজের আবাদ আরও ভালো হতো।

লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজের আবাদ তেমন ছিল না। এখন কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন পেঁয়াজ আবাদে। পরীক্ষার জন্য গ্রীষ্মকালীন মৌসুম শুরু হওয়ার দুই মাস আগেই চারা তৈরি করে আবাদ করা হলেও পেঁয়াজের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। আর সপ্তাহ দুই পর জমি থেকে পেঁয়াজ তুলে আবারও কৃষক এ জমিতেই পেঁয়াজের আবাদ করবেন। তিনি বলেন, এক জমিতে এবং একই সময়ে দুবার পেঁয়াজের আবাদ। কৃষি অফিস থেকে উপকরণসহ কৃষককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে ফলন ভালো হয়েছে। কৃষক লাভবান হবেন। আগামীতে ঈশ্বরদীতে মসলা জাতের ফসল পেঁয়াজ আবাদ আরও বাড়বে। 

 ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, ঈশ্বরদীতে ৬-৭ বছর আগেও পেঁয়াজের আবাদ তেমন ছিল না। কিছু মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হতো। ধীরে ধীরে পেঁয়াজের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা মসলা জাতের ফসলের জন্য ভালো একটা দিক। প্রতিটি উৎপাদিত ফসল থেকে কৃষকরা লাভবান হবে, এটা আমাদের প্রত্যাশা। তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে যেন পেঁয়াজ আমদানি করতে না হয়, এ জন্য সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমরাও কৃষকের পাশে থেকে পেঁয়াজ আবাদ বৃদ্ধির জন্য পরামর্শ দিয়ে আসছি।’

নিরাপদ সবজি চাষে ঝুঁকছেন দিনাজপুরের কৃষকরা

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
আপডেট: ০২ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
নিরাপদ সবজি চাষে ঝুঁকছেন দিনাজপুরের কৃষকরা
নিরাপদ সবজি চাষ করছেন দিনাজপুরের কৃষকরা। ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি চাষ। কীটনাশক ও ক্ষতিকর রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব সবজির প্রতি কৃষক ও ভোক্তা— উভয়েরই আগ্রহ বাড়ছে। বাজারে ভালো দাম ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা নিরাপদ সবজি চাষে ঝুঁকছেন। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে এ উদ্যোগকে এগিয়ে নিচ্ছে।

দিনাজপুর সদরের আস্করপুর ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এ অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক বিভিন্ন মৌসুমি ও বারোমাসি সবজির আবাদ করে থাকেন।

এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা, রংপুর, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে সরবরাহ করা হয়।

বর্তমানে এলাকার অনেক কৃষক নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও জৈব পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। জমিতে জৈব সার ব্যবহারের পাশাপাশি হলুদ ফাঁদ, ফেরোমন ফাঁদ, আলোক ফাঁদসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন করা হচ্ছে। ফলে সবজির উৎপাদন যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিও কমছে।

কৃষকরা জানান, করলা, লাউ, বেগুন, ঝিঙা, মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, পটলসহ বিভিন্ন সবজির ভালো ফলন পেয়েছেন তারা। বিষমুক্ত হওয়ায় এসব সবজির বাজারমূল্যও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

আস্করপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “আগে জমিতে নিয়মিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হতো। এতে খরচ যেমন বেশি ছিল, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও ছিল। এখন জৈব পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করছি। উৎপাদন খরচ কমেছে এবং বাজারে ভালো দাম পাচ্ছি।

প্রতিবেশী কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, নিরাপদ সবজির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ক্রেতারা এখন বিষমুক্ত সবজি খুঁজছেন। তাই আমরা ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব সার ব্যবহার করে সবজি চাষ করছি। এতে লাভও বেশি হচ্ছে।

কৃষকদের নিরাপদ সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় এখনও সীমিত। এ পরিস্থিতিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মহিলা বহুমুখী শিক্ষা কেন্দ্র (এমবিএসকে) একটি বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে। 

প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের প্রশিক্ষণ, মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করছে।

দিনাজপুর এমবিএসকের কৃষি কর্মকর্তা হোসেন মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, “বর্তমানে নিরাপদ খাদ্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রাসায়নিকের বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার শেখাচ্ছি। ফেরোমন ফাঁদ, হলুদ ফাঁদ, জৈব সার ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে কৃষক যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি ভোক্তারাও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পাচ্ছেন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফজাল হোসেন জানান, জেলায় প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ হয়ে থাকে। নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হলে একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন।

সুলতান মাহমুদ/নাঈম