ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হাইতি ম্যাচে পরিবর্তনের আভাস আনচেলত্তির বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য ফুটবল ও লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্য ‘আফ্রিকান ব্রাজিলিয়ান’ মরক্কো ফুটবল শেখাল আসল ব্রাজিলকে: বোমেল প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা সবার আগে নকআউটে মেক্সিকো চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী টিভিতে আজকের খেলা বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান দেখা পেলাম দুষ্প্রাপ্য চামেলির সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সিরিজ বাঁচানোর লড়াই আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয় দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি! পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ – গ্রুপ ‘এ’ থেকে যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ ১৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ট্রাম্পের এক প্রকার আত্মসমর্পণ চুক্তির পরও অমীমাংসিত ইস্যু ১৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সিয়াটলে স্বাগতিকদের সামনে অস্ট্রেলিয়া চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের ধন্যবাদ পুতিন-শিকে

সাক্ষাৎকার চাই সমন্বিত নীতিমালা

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:২৪ পিএম
আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:২৫ পিএম
চাই সমন্বিত নীতিমালা
আকিজ মোটরসের সিইও শেখ আমিনুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

অন্যান্য শিল্পের পাশাপাশি অটোমোবাইলশিল্প নিয়েও কাজ করছে আকিজ গ্রুপ। এই শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, সংকট, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে খবরের কাগজ কথা বলেছে আকিজ মোটরসের সিইও শেখ আমিনুদ্দিনের সঙ্গে।

খবরের কাগজ: অটোমোবাইল শিল্প সম্পর্কে কিছু বলুন।
শেখ আমিনুদ্দিন: দেশের ১৮ কোটি জনগণের জন্য অটোমোবাইল একটি অপরিহার্য যন্ত্র। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ হওয়ায় নতুন গাড়ির চাহিদা কমে গেছে। তবে এই শিল্পের সম্ভাবনা অনেক বেশি। আগামী দিনে এর চাহিদা আরো কয়েকগুণ বাড়বে বলে আমি মনে করছি। 

খবরের কাগজ: এই শিল্পের শুরু এবং বিকাশ নিয়ে কিছু বলুন।
শেখ আমিনুদ্দিন: অটোমোবাইল শিল্পের শুরু তো ব্রিটিশ আমল থেকেই। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান আমলে এর বিকাশ ঘটে। সার্বিকভাবে আমাদের দেশে ৮০-এর দশকে এর প্রসার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে অটোমোবাইল শিল্পের বাজার ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছে। অদূর ভবিষ্যতে এটা আরও বাড়বে। 

খবরের কাগজ: অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশে কোনো বাধা আছে কি? 
শেখ আমিনুদ্দিন: এই শিল্পের বিকাশে অন্যতম বাধা হচ্ছে শুল্ক। এখানে আমরা শুধু অ্যাম্বেলিং (তৈরি) করতে পারছি। তাও সম্পূর্ভাবে হচ্ছে না। সরকারের যে নীতিমালা আছে, সেটা মেনে তৈরি করা সম্ভব না। কারণ এখানে শুল্কহারের পরিমাণ অনেক বেশি। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ক্ষেত্রে এই শুল্কহারের পরিমাণ অত্যধিক বেশি। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ক্ষেত্রে শুল্কহার নাই বললেই চলে। অনেক দেশে আবার ভর্তুকিও দেয়। কিন্তু আমাদের দেশে ভর্তুকি তো দেয়ই না, উল্টো শুল্কহারও অনেক বেশি। প্রযুক্তির এই যুগে উন্নত বিশ্বে অধিকাংশ যানবাহনই বৈদ্যুতিক। আগামী দিন হবে বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিন। ফলে আমাদের দেশেও এই যানবাহনের ব্যবহার দিনে দিনে বাড়বে। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি সরকারের এই অটোমোবাইল খাতের স্টেকহোল্ডার এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে সমন্বিতভাবে ভালো একটা নীতিমালা তৈরি করা দরকার। 

খবরের কাগজ: সম্প্রতি সরকার অধিকাংশ পণ্যে ভ্যাট বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এতে অটোমোবাইল শিল্পে কী ধরনের প্রভাব পড়বে?
শেখ আমিনুদ্দিন: আমি শুনেছি, সেবার উপরেও ভ্যাট বাড়িয়েছে। অবশ্যই সরকারের টাকার প্রয়োজন। আমরা যদি সরকারকে সঠিকভাবে কর না দিই, তাহলে সরকার দেশটা চালাবে কীভাবে? তবে ভ্যাট বাড়ানোর একটা যৌক্তিক কাঠামো থাকতে হবে। যেমন বিলাসদ্রব্যে অবশ্যই ভ্যাট বেশি বাড়াতে পারে। যদি ডিজেলচালিত যন্ত্রে কর দিতে হয় ৩৭ থেকে ৫৭ শতাংশ তবে বৈদ্যুতিক যানবাহনে কর ৮৯ শতাংশ হওয়া উচিত না। এক্ষেত্রে সরকারকে সমন্বয় করা উচিত। ডিজেল গাড়িকে কম উৎসাহিত করতে এর ওপর একটু বেশি হারে কর আরোপ করতে পারে। বিপরীতে বৈদ্যুতিক যানবাহনে করহার কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। যেহেতু আগামী দিনে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার অনেক বাড়বে। আর সেবার ক্ষেত্রে আমি মনে করি ১০ শতাংশ শুল্কহার হলে ভালো হতো। 

খবরের কাগজ: আপনি বলছেন, আগামী দিনে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়বে। সেক্ষেত্রে আমাদের দেশেই সেটা উৎপাদনের সুযোগ আছে কি না।
শেখ আমিনুদ্দিন: সুযোগ আছে। তবে, এজন্য এখনই এ খাতের সব স্টক হোল্ডার এবং ব্যবসায়ীদের মতামতের ভিত্তিতে যথাযথ এবং যুগোপযোগী একটা নীতিমালা করা দরকার। তাহলে অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠানও এই খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে। সেই সঙ্গে স্থানীয়রাও উৎপাদনে আগ্রহী হবেন। 

খবরের কাগজ: আমাদের দেশে অটোমোবাইল শিল্পে কোন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়? আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে এর পার্থক্য কী? 
শেখ আমিনুদ্দিন: বৈদ্যুতিক যান এবং হাইব্রিড একটি উন্নত প্রযুক্তির যান। এখানে আরও বেশি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। সামনে আমাদের অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারের এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কীভাবে আমরা পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নত প্রযুক্তির হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক যান আমদানি করতে পারি এবং এর ব্যবহারে বিস্তৃতি ঘটাতে পারি। আমরা যদি ভালোভাবে এর সেবা না দিতে পারি, তাহলে অনেক গাড়ি বসে যাবে। যেহেতু আমাদের প্রায় সব যানবাহনই বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই আমরা আন্তর্জাতিক মানের যানবাহন আমদানি করি। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের যানবাহন আমদানি করলাম কিন্তু এসব যানে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যদি আন্তর্জাতিক মানের সেবা না দিতে পারি, তাহলে তো কোনো লাভ হবে না। তাই এখনই আন্তর্জাতিক মানের একটা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা দরকার। 

খবরের কাগজ: আমাদের দেশে কোন ধরনের যানবাহনের চাহিদা বেশি?
শেখ আমিনুদ্দিন: আমাদের দেশে তো এখনো ডিজেলচালিত যানবাহনের চাহিদাই বেশি। তবে আমি মনে করি অদূর ভবিষ্যতে সবকিছুই বৈদ্যুতিক যানে চলে আসবে। বিদেশে বৈদ্যুতিক বাস, ট্রাক এবং মোটরসাইকেলের ব্যবহার অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে আমাদের দেশেও এর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক বাসগুলো আমাদের দেশে আসা উচিত। আমাদের দেশে ডিজেলচালিত যে বাস-ট্রাকগুলো চলে সেগুলো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে আমাদের এখানে দুর্ঘটনার হারও বেশি। এখন যদি আমরা বৈদ্যুতিক যানে মনোযোগ দিই এবং আন্তর্জাতিক মানের যানবাহন ব্যবহারে আগ্রহী হই, তাহলে মানুষের জীবনের নিরাপত্তাও অনেক বাড়বে। তবে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মান যাচাই-বাছাই করেই আমদানি করতে হবে। 

বর্তমানে আমাদের দেশে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ হওয়ায় নতুন গাড়ি বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে। তবে সারা বিশ্বে ইঞ্জিনচালিত মোটরসাইকেলের ব্যবহার অর্ধেকে নেমে গেছে। এর পরিবর্তে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের চাহিদা বাড়ছে। ২০১৬-১৭ সালে আমরা মাত্র ১০টি বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল আমদানি করে যাত্রা শুরু করেছিলাম। তখন অনেকেই খেলনা মোটরসাইকেল বলে আমাদের সমালোচনা করেছিলেন। আকিজ গ্রুপের জন্য এটা কোনো ভালো পদক্ষেপ নয় বলেও অনেকে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু এখন আমরা প্রতি মাসেই অনেক বেশি পরিমাণে মোটরসাইকেল বিক্রি করছি। দিনে দিনে এর চাহিদা অনেক বেশি বাড়ছে। 

খবরের কাগজ: আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে দেশেই যদি বৈদ্যুতিক-যানবাহনের উৎপাদন এবং বাজারজাত বাড়াতে চান, তাহলে সরকারের কোন ধরনের নীতি সহায়তা দরকার?
শেখ আমিনুদ্দিন: বৈদ্যুতিক যানবাহন তৈরির জন্য আমাদের পরিকল্পনা আছে। এজন্য দেশেই প্লাস্টিকের যন্ত্রাংশ উৎপাদন করব। এর জন্য যেসব উপকরণ দরকার সেখানে ডিউটি কমিয়ে দিতে হবে। এ ছাড়া যেসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই ধরনের কারখানা তৈরি করা হবে, তাদের প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে দর কমিয়ে দিতে পারে। সরকার যদি এসব সহায়তা দেয়, তাহলে অনেক উদ্যোক্তাই এই খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন। ফলে দেশেই বৈদ্যুতিক যানবাহনের উৎপাদন এবং ব্যবহার বাড়বে। এতে গ্রাহকরা অনেক কম দামেই এসব যান কিনতে পারবেন। তবে সরকারকে অবশ্যই আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে হবে। সরকারের শুল্ক নীতিমালা এবং প্রণোদনা যতদিন পর্যন্ত যুগোপযোগী না হবে ততদিন পর্যন্ত উৎপাদনকারীরা এই খাতে বিনিয়োগে আসবে না। কেননা এই খাতে বিনিয়োগে যারা আসবে তাদের যদি সরকার সুযোগ-সুবিধা না দেয় তাহলে এই অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশ ঘটবে না। 

এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে সরকারের সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়নি। সরকার যদি ডিজেল গাড়িতে ৫ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে দেয় ঠিক সেই পরিমাণ ই-ভিতে ছাড় দিতে পারেন। এক্ষেত্রে একটা অসমতাও নিশ্চিত হয়। কিছু সুযোগ সুবিধা দিলেই এই শিল্পটি ভবিষ্যতে বিকশিত হবে। একদিন যদি ঢাকা শহরে তেল ছাড়া গাড়ি চলে তাহলে কত টাকার সাশ্রয় হবে- এটা একটু চিন্তা করে দেখবেন। সেই সঙ্গে পরিবেশের ওপর কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটা বাস্তবায়ন হলে স্বাস্থ্য খাতের অনেক খরচ কমে যাবে। এটাকে সামগ্রিকভাবে চিন্তা করতে হবে। কারণ, সারা পৃথিবীতেই আজ বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে আছি। 

খবরের কাগজ: আকিজ ছাড়া আর কোন কোন কোম্পানি বৈদ্যুতিক যান নিয়ে কাজ করছে?
শেখ আমিনুদ্দিন: আমরাই প্রথমদিকে বৈদ্যুতিক ভ্যান আমদানি করেছি। এবং আমরা খুব ভালো সাড়াও পেয়েছি। বৈদ্যুতিক যানের ক্ষেত্রে থ্রি হুইলার বা আমরা যেটাকে সিএনজি বলতাম, সেটা যেমন আমাদের পরিবেশের জন্য উপকার করেছে, ঠিক একই জিনিস পেট্রলের পরিবর্তে আমরা বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার আমদানি করেছি। এখানেই আমরা সেগুলো সংযোজন করছি।

এখন নতুন অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানই এই বৈদ্যুতিক যান নিয়ে কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে আগামীতে আরও অনেক কোম্পানি এই খাতে এগিয়ে আসবে। তারা সংযোজনের পাশাপাশি উৎপাদনও করবে। আমরা ২০১৭ সালে বৈদ্যুতিক যানের একটা মাত্র মোটরসাইকেলের মডেল নিয়ে শুরু করেছিলাম, এখন আমাদের প্রায় সাত থেকে আটটি মডেল রয়েছে। শুধু তাই নয়, এখন আমরা মোটরসাইকেলের পাশাপাশি থ্রি-হুইলার, পিকআপ ভ্যানসহ আরও কিছু যান আমদানি করছি। আগামীতে তা আরও বাড়বে বলে আশা করছি। 

খবরের কাগজ: বৈদ্যুতিক যানের ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান কেমন?
শেখ আমিনুদ্দিন: খুবই নগণ্য। তবে বাজারে যে ইজিবাইক চালু রয়েছে, সেগুলোর কথা ভিন্ন। তবে সত্যিকার অর্থে যেটাকে বৈদ্যুতিক যানবাহন বলি সেটা বাংলাদেশে একেবারেই নগণ্য। 

খবরের কাগজ: অটোমোবাইল শিল্পের রপ্তানির কোনো সম্ভাবনা আছে কি না।
শেখ আমিনুদ্দিন: স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন না হলেও আমাদের এখানে সংযোজনের মাধ্যমে রপ্তানির সুযোগ আছে। আমরা এখানে রাইট হ্যান্ড ড্রাইভ করি। এটা পৃথিবীর অনেক দেশেই করে থাকে। আমরাও সে অনুযায়ী, অনেককেই বলেছি। তোমরা আমাদের দেশে সংযোজনে করে উন্নত বিশ্বে সেগুলো রপ্তানি করলে সেখানে শুল্ক সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি আমরা নিজেরাও পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল ও ভুটানে রপ্তানির চিন্তাভাবনা করছি। এই ব্যাপারে চলতি বছরই কাজ শুরু করবো বলে আশা করছি।

বর্তমানে আমাদের দেশে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ হওয়ায় নতুন গাড়ি বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে। তবে সারা বিশ্বে ইঞ্জিনচালিত মোটরসাইকেলের ব্যবহার অর্ধেকে নেমে গেছে। এর পরিবর্তে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের চাহিদা বাড়ছে।

পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম
অটোমোবাইল ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও সমৃদ্ধ গাড়ির জাদুঘর। গাড়ির ইতিহাস, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও ভবিষ্যতের নকশা দিয়ে সাজানো এই জাদুঘর গাড়িপ্রেমীদের জন্য এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার সূচনা করে।

১৯৯৪ সালে রবার্ট ই. পিটারসেন ও মার্জি পিটারসেন জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন। রবার্ট ছিলেন একজন বিখ্যাত ম্যাগাজিন প্রকাশক, যিনি মোটরগাড়ি শিল্পের প্রতি খুব আগ্রহী ছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি জায়গা তৈরি করা, যেখানে মানুষ গাড়ির প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারবে এবং এই শিল্পের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে। মূলত গাড়ির সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে এটি গড়ে তোলা হয়েছে।

২০১৫ সালে ১২৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এটি আধুনিকায়ন করা হয়, ফলে জাদুঘরটির নকশায় আসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বর্তমানে এর স্টেইনলেস স্টিলের ঢেউখেলানো বাহ্যিক নকশা গতির প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এখানে ১০ হাজারের বেশি গাড়ির সংগ্রহ রয়েছে, যা ক্ল্যাসিক গাড়ি থেকে শুরু করে আধুনিক ডিজাইন পর্যন্ত বিস্তৃত।

পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়ামে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি প্রদর্শন করা হয়, যা অটোমোবাইল শিল্পের ইতিহাস তুলে ধরে। এতে ক্ল্যাসিক গাড়ি, রেসিং কার, মোটরসাইকেল ও কনসেপ্ট কার রয়েছে। এ ছাড়া এখানে বেশ কয়েকটি ইন্টার‌্যাক্টিভ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রয়েছে, যা দর্শকদের অটোমোবাইল শিল্পের বিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। এখানে সিনেমা ও টেলিভিশন শো-তে ব্যবহৃত গাড়িগুলো প্রদর্শিত হয়। বিশ্বের বিখ্যাত কিছু রেসিং কার এখানে দেখা যায়। এ শিল্পের একদম শুরুর দিকের ক্ল্যাসিক গাড়িগুলো এখানে রয়েছে। ভবিষ্যৎ গাড়িগুলোর ডিজাইন এখানে প্রদর্শন করা হয়।

পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম জনসাধারণের মধ্যে অটোমোবাইল শিল্পের ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষা বিস্তারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাদুঘরটি শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। এ ছাড়া এখানে একটি গবেষণা গ্রন্থাগার রয়েছে, যা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।

বছরজুড়ে পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়ামে মাঝে মধ্যে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কার শো, লেকচার ও ওয়ার্কশপ। এ ছাড়া এখানে কিছু বিশেষ প্রদর্শনী হয়, যা সীমিত সময়ের জন্য দেখানো হয়।

জাদুঘরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ‘দ্য ভল্ট’, যেখানে ২৫০টিরও বেশি ক্ল্যাসিক, দুর্লভ ও ঐতিহাসিক গাড়ি সংরক্ষিত আছে। গাড়ির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে একত্রে উপস্থাপন করে পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গাড়ি সংগ্রহশালা হিসেবে স্বীকৃত। পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম সপ্তাহের সাত দিনই জনসাধারণের জন্য খোলা থাকে। এটি লস অ্যাঞ্জেলেসের ৬০৬ উইলশায়ার বুলেভার্ডে অবস্থিত।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার ভি মটো বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার ভি মটো বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার চলমান দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অফিশিয়াল ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ভি মটো বাংলাদেশ। মাঠে ক্রিকেটের রোমাঞ্চের পাশাপাশি দেশে পরিবেশবান্ধব ই-মবিলিটি বা বৈদ্যুতিক যানবাহনের ধারণাকে ছড়িয়ে দিতে এই যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিরিজে মাঠের পারফরম্যান্স ও ক্রিকেটারদের অদম্য স্পৃহাকে সম্মান জানাতে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছে ভি মটো বাংলাদেশ। চলমান এই সিরিজে বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে যে বাংলাদেশি বোলার সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করবেন, তাঁকে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে একটি আকর্ষণীয় ইলেকট্রিক বাইক পুরস্কার দেওয়া হবে।

সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভি মটো বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভি মটো গ্রুপের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের কান্ট্রি ডিরেক্টর মীর ফয়সাল, ভি মটো বাংলাদেশ ও সিমবা মটরস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সোহেল বিন আজাদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাজীব নূর।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস ইনচার্জ ও সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফীস এবং মার্কেটিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের মো. আসিফুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে ক্রিকেট মাঠের উৎকর্ষ উদযাপনের পাশাপাশি প্রযুক্তির নিত্যনতুন উদ্ভাবন ও পরিবেশবান্ধব চেতনাকে এগিয়ে নেওয়ার অভিন্ন লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই গৌরবময় যাত্রার সঙ্গী হতে পেরে এবং একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও স্মরণীয় সিরিজ উপহার দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছে ভি মটো বাংলাদেশ।

অটোমোটিভ উদ্ভাবনে শীর্ষে চীনের বিওয়াইডি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
অটোমোটিভ উদ্ভাবনে শীর্ষে চীনের বিওয়াইডি
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অটোমোটিভ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে জার্মানির বিখ্যাত ভক্সওয়াগেন ও মার্সিডিজ-বেঞ্জকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে চীনের নিউ এনার্জি ভেহিকেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। জার্মানিভিত্তিক স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার অব অটোমোটিভ ম্যানেজমেন্ট (সিএএম)’ প্রকাশিত ‘অটোমোটিভ ইনোভেশনস রিপোর্ট ২০২৬’-এ এই তথ্য জানানো হয়। বৈশ্বিক গাড়ি নির্মাণ শিল্পের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো চীনা প্রতিষ্ঠান এমন গৌরবময় মাইলফলক অর্জন করল।

প্রতিবেদনের ২২তম সংস্করণে বিশ্বের ৩৬টি বড় অটোমোটিভ গ্রুপের মোট ৮৬৭টিরও বেশি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সিএএম তাদের নিজস্ব ‘এম.ও.বি.আই.এল’ পদ্ধতির মাধ্যমে এই জটিল মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এই পদ্ধতিতে অটোমোবাইল উদ্ভাবনগুলোর পরিপক্বতা, মৌলিকত্ব, গ্রাহক উপযোগিতা এবং কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে স্কোর দেওয়া হয়। চূড়ান্ত ফলাফলে ১৫৭ দশমিক ২ ইনডেক্স পয়েন্ট পেয়ে উদ্ভাবনী সূচকে সবার শীর্ষে জায়গা করে নেয় বিওয়াইডি। অন্যদিকে পূর্ববর্তী চ্যাম্পিয়ন ভক্সওয়াগেন গ্রুপ ১৪৩ দশমিক ১ পয়েন্ট এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ গ্রুপ ১৩৪ দশমিক ২ পয়েন্ট অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে উদ্ভাবনী অটোমোটিভ গ্রুপ হওয়ার পাশাপাশি ‘মোস্ট ইনোভেশন ভলিউম ব্র্যান্ড ২০২৬’-এর মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিও নিজেদের করে নিয়েছে বিওয়াইডি। এই বিশেষ ক্যাটাগরিতে ১০৫-এর বেশি ইনডেক্স পয়েন্ট নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি রেনল্ট ও টয়োটার মতো সুপ্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোকে সহজে পেছনে ফেলে দিয়েছে। সিএএম-এর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক পাওয়ারট্রেন, আধুনিক ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং সিস্টেম এবং একাধিক বিশ্বমানের উদ্ভাবনই মূলত বিওয়াইডির এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই যাতায়াত ব্যবস্থার দিকে বৈশ্বিক রূপান্তরে বিওয়াইডির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হলো। নিজেদের তৈরি ব্লেড ব্যাটারি, ডিএম-আই সুপার হাইব্রিড সিস্টেম এবং অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস-এর মতো যুগান্তকারী প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে সম্পূর্ণ নতুন এক মানদণ্ড তৈরি করছে।

বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারেও বিওয়াইডি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে দুই ধাপে জমকালো মেগা ডেলিভারি ইভেন্টের মাধ্যমে ক্রেতাদের হাতে সরাসরি ৯০টি পরিবেশবান্ধব আধুনিক গাড়ি হস্তান্তর করেছে। দেশের বাজারে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

/আবরার জাহিন

চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে
চীনের অটোমোবাইল শিল্পের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি এখন রপ্তানি।

চলতি বছরের মে মাসে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিচালিত বা পরিবেশবান্ধব যাত্রীবাহী গাড়ি রপ্তানিতে বিশাল সাফল্য দেখছে চীন। দেশটির যাত্রীবাহী গাড়ি সংস্থার (সিপিসিএ) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মে মাসের তুলনায় এবার গাড়ি রপ্তানি ১১২.৬ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ২৪ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে।  
তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে বিদেশে পাঠানো মোট যাত্রীবাহী গাড়ির ৫৪ দশমিক ১ শতাংশই ছিল পরিবেশবান্ধব জ্বালানিচালিত যান, যা এক বছর আগের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
রপ্তানিকৃত এনইভিগুলোর মধ্যে ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির অংশ ছিল ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ। যদিও এক বছর আগে এ হার ছিল ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ। 
সিপিসিএ বলেছে, চীনের অটোমোবাইল শিল্পের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি এখন রপ্তানি। অভ্যন্তরীণ বাজারে তুলনামূলক দুর্বল চাহিদার মধ্যেও চীনা গাড়ি নির্মাতারা লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের মতো বাজারে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং রপ্তানির ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে।
সূত্র: সিএমজি বাংলা 

ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’
ওয়েমোর তৈরি নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’। ছবি: সংগৃহীত

চালকহীন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েমো তাদের তৈরি নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’ উন্মুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ফিনিক্সের যাত্রীরা এখন এই স্বয়ংক্রিয় গাড়িতে যাতায়াত করতে পারবেন। প্রাথমিক অবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই সেবা বিনামূল্যে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশেষভাবে তৈরি এই রোবোট্যাক্সি ওয়েমোর জন্য একটি বড় মাইলফলক। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ বাণিজ্যিক গাড়িকে রূপান্তর করে চালকহীন হিসেবে ব্যবহার করত। ভ্যান আকৃতির এই গাড়িটি বেশ বড় ও প্রশস্ত। এটি টেসলার ছোট আকারের সাইবার ক্যাবের সম্পূর্ণ বিপরীত, যাতে মাত্র দুজন মানুষ মালামালসহ বসতে পারেন।

চীনের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘জিকর’ ওজাই গাড়িটি তৈরি করেছে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ওয়েমোর নিজস্ব কারখানায় এতে স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়।

গাড়িটিতে যাত্রীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, তিনটি স্ক্রিন এবং চার্জিং পোর্ট রয়েছে। এতে ওয়েমোর ষষ্ঠ প্রজন্মের নতুন চালনা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির ফলে গাড়িটির ক্যামেরা সেন্সর ২৯টি থেকে কমিয়ে ১৩টিতে আনা সম্ভব হয়েছে। এতে লিডার ও রাডার সেন্সরের সংখ্যাও কমেছে। ফলে প্রতিটি গাড়ি তৈরিতে খরচ পড়ছে ২০ হাজার ডলারের কম।

নতুন সফটওয়্যারের জন্য বরফাবৃত ও ঠাণ্ডা শহরের রাস্তায় গাড়িটি চলতে সক্ষম। এর আগে ওয়েমো কেবল উষ্ণ অঞ্চলের শহরগুলোতে সীমাবদ্ধ ছিল। এই সুবিধার কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন শিকাগো শহরে তাদের সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বর্তমানে আমেরিকার ১১টি প্রধান শহরে ওয়েমোর স্বয়ংক্রিয় গাড়ি সেবা চালু রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটিরও বেশি সফল ট্রিপ সম্পন্ন করেছে, যা এই খাতের যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি।

তবে চলতি মাসের শুরুতে বন্যার পানিতে গাড়ি চলে যাওয়ার কারণে দুটি শহরে ওয়েমো তাদের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। এই ঘটনার পর প্রায় ৪ হাজার গাড়ি ফিরিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি।