নিউ গ্রামীণ মটরস লিমিটেড বাংলাদেশে চীনে তৈরি কিছু মোটরসাইকেল, স্কুটার, বাণিজ্যিক তিন চাকার যান, মোটর গিয়ার এবং মোটর অ্যাকসেসরিজের একটি এক্সক্লুসিভ ডিলার হাউস। কোম্পানিটি চীনা প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের দুই ও তিন চাকার পণ্য আমদানি ও বিতরণ করে। তারা বিভিন্ন ধরনের মোটরসাইকেল ও স্কুটার মডেল প্রদর্শন করছে। আধুনিক মোটরবাইক নিয়ে নিউ গ্রামীণ মটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বোরহান উদ্দিন তানবীরের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছে খবরের কাগজ।
খবরের কাগজ: বর্তমানে দেশের বাজারে অনেক সস্তা ই-বাইক পাওয়া যায়। আপনাদের ব্র্যান্ডটি ঠিক কী ধরনের গুণগত মান নিশ্চিত করছে, যা সাধারণ মানুষ আর পাঁচটা সস্তা পণ্যের ভিড়ে আলাদা করে দেখবে?
বোরহান উদ্দিন তানবীর: বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে অনেক ধরনের ই-বাইক পাওয়া যাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, একটি ই-বাইক বিক্রি করা আর একটি বিশ্বমানের ইলেকট্রিক মোবিলিটি ব্র্যান্ড গড়ে তোলার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ZEEHO সেই পার্থক্যের জায়গাতেই নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। ZEEHO বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান CFMOTO Group-এর প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক ভেহিকেল ব্র্যান্ড।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেভাবে গুণগত মান, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, ZEEHO ঠিক সেই একই দর্শন নিয়েই বাংলাদেশে কাজ করছে। আমরা শুধু একটি বাহন বিক্রি করছি না; আমরা ভবিষ্যতের স্মার্ট মোবিলিটি সলিউশন নিয়ে আসছি। আমাদের AE7 Pro, AE4 এবং EZ3-এর মতো মডেলগুলো উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তি, উচ্চ দক্ষতার মোটর, স্মার্ট কানেকটিভিটি, আধুনিক সেফটি ফিচার এবং আন্তর্জাতিক মানের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সমন্বয়ে তৈরি। ফলে একজন ব্যবহারকারী শুধু একটি ই-বাইক নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ও নির্ভরযোগ্য ইকোসিস্টেমের অংশ হচ্ছে।
আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গ্রাহকের আস্থা। একটি পণ্যের প্রকৃত মূল্য শুধু তার ক্রয়মূল্যে নয়; বরং তার দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং ব্যবহার অভিজ্ঞতার মধ্যে নিহিত থাকে। ZEEHO সেই জায়গাগুলোতেই বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশের বাজারে কম দামের বিকল্প সবসময়ই থাকবে।
কিন্তু যারা প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, ডিজাইন, ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তাকে গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য ZEEHO একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতার নাম। আমাদের লক্ষ্য শুধু ই-বাইক বিক্রি করা নয়; বরং বাংলাদেশে একটি টেকসই, স্মার্ট এবং বিশ্বমানের ইলেকট্রিক মোবিলিটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা। আর সে কারণেই আমরা বিশ্বাস করি, ZEEHO আজ দেশের অন্যতম প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক মোবিলিটি ব্র্যান্ড হিসেবে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
খবরের কাগজ: চার্জিং অবকাঠামো বাংলাদেশে এখনো বড় সীমাবদ্ধতা। আপনাদের ই-বাইকগুলো দূরপাল্লার যাত্রায় বা মফস্বল এলাকায় কতটা কার্যকর? ব্যাটারির স্থায়িত্ব নিয়ে গ্রাহকদের মনে যে শঙ্কা আছে, তা দূর করার জন্য আপনারা কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
বোরহান উদ্দিন তানবীর: চার্জিং অবকাঠামো নিয়ে যে প্রশ্নটি আসে, সেটি খুবই স্বাভাবিক এবং আমি মনে করি এটি বাংলাদেশের ইলেকট্রিক মোবিলিটি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। তবে বাস্তব চিত্র হলো, বাংলাদেশের অধিকাংশ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর দৈনিক যাতায়াত ৩০ থেকে ৬০ কিলোমিটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ZEEHO-এর মডেলগুলো সেই বাস্তব ব্যবহার প্যাটার্নকে মাথায় রেখেই ডিজাইন ও উন্নয়ন করা হয়েছে। ফলে একজন সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য দৈনন্দিন চলাচলে চার্জিং কোনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় না।
ব্যাটারির স্থায়িত্ব নিয়েও অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। আমি সবসময় বলি, একটি ইলেকট্রিক ভেহিকেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো তার ব্যাটারি। তাই ZEEHO-তে আমরা ব্যাটারির নিরাপত্তা, পারফরম্যান্স এবং দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। উন্নত Battery Management System (BMS), মাল্টি-লেয়ার সুরক্ষাব্যবস্থা, সেল ব্যালেন্সিং প্রযুক্তি এবং কঠোর আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাটারির সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা শুধু একটি পণ্য বাজারজাত করছি না; আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদি ই-মোবিলিটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছি। বিক্রয়োত্তর সেবা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং গ্রাহক আস্থা তৈরির মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, একজন ব্যবহারকারী তার ZEEHO ব্যবহারের পুরো যাত্রায় নির্ভরযোগ্য সাপোর্ট পান।
দূরপাল্লার যাত্রা এবং মফস্বল অঞ্চলের বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছি। বাংলাদেশে চার্জিং অবকাঠামো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও সরকার, বেসরকারি খাত এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে আগামী কয়েক বছরে এ খাতে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ZEEHO সেই ভবিষ্যতের জন্য ইতোমধ্যেই প্রযুক্তিগতভাবে প্রস্তুত।
আমার বিশ্বাস, ইলেকট্রিক মোবিলিটির সফলতা শুধু চার্জিং স্টেশনের সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে না; বরং নির্ভর করবে নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি, উন্নত ব্যাটারি, শক্তিশালী সেবা নেটওয়ার্ক এবং গ্রাহকের আস্থার ওপর। আর ZEEHO ঠিক সেই ভিত্তিগুলোকে শক্তিশালী করেই বাংলাদেশের ইলেকট্রিক মোবিলিটির ভবিষ্যৎ নির্মাণে কাজ করছে।
খবরের কাগজ: আপনারা কোন ধরনের লিথিয়াম-আয়ন সেল ব্যবহার করছেন? বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য কতটা উপযোগী?
বোরহান উদ্দিন তানবীর: ZEEHO বিশ্বমানের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং পারফরম্যান্সকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। বাংলাদেশের উচ্চ তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং বৈচিত্র্যময় সড়ক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমাদের ব্যাটারি ও পাওয়ার সিস্টেম আন্তর্জাতিক পরীক্ষার মধ্যদিয়ে যায়। উন্নত থার্মাল ম্যানেজমেন্ট এবং সুরক্ষাব্যবস্থার কারণে ব্যাটারির কর্মক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকে। আমরা সবসময় এমন প্রযুক্তি নির্বাচন করি যা বাংলাদেশের বাস্তব ব্যবহারকারীদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
খবরের কাগজ: ব্যাটারির আয়ুষ্কাল বাড়ানোর জন্য কী ধরনের Battery Management System ব্যবহার করছেন?
বোরহান উদ্দিন তানবীর: বর্তমান যুগে ব্যাটারির মান নির্ধারণ হয় শুধু সেলের মাধ্যমে নয়, বরং তার ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির মাধ্যমে। ZEEHO-এর স্মার্ট Battery Management System প্রতিনিয়ত ব্যাটারির স্বাস্থ্য, তাপমাত্রা, ভোল্টেজ ব্যালেন্স এবং চার্জিং আচরণ পর্যবেক্ষণ করে। ফলে ব্যাটারির কর্মক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল থাকে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। ব্যবহারকারীর জন্য এটি শুধু দীর্ঘ আয়ুষ্কাল নয়, বরং নির্ভরযোগ্যতারও নিশ্চয়তা।
খবরের কাগজ: কন্ট্রোলারের এফিসিয়েন্সি ও মোটর সুরক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে বলুন।
বোরহান উদ্দিন তানবীর: ই-বাইকের প্রকৃত কর্মক্ষমতা অনেকাংশে নির্ভর করে তার কন্ট্রোলারের ওপর। ZEEHO-এর উন্নত কন্ট্রোল সিস্টেম মোটর, ব্যাটারি এবং রাইডিং কন্ডিশনের মধ্যে সর্বোত্তম সমন্বয় তৈরি করে। এটি শক্তির অপচয় কমায়, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে সিস্টেমের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে। আমাদের লক্ষ্য সর্বোচ্চ দক্ষতা এবং নিরাপত্তা বজায় রেখে ব্যবহারকারীদের উন্নত রাইডিং অভিজ্ঞতা প্রদান করা।
খবরের কাগজ: আপনারা কি আন্তর্জাতিক চার্জিং প্রোটোকল অনুসরণ করেন?
বোরহান উদ্দিন তানবীর: প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ZEEHO সর্বদা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে। চার্জিং নিরাপত্তা, ব্যাটারি সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। আমাদের উদ্দেশ্য কখনোই গ্রাহককে সীমাবদ্ধ করা নয়; বরং নিরাপদ, কার্যকর এবং মানসম্মত চার্জিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা।
খবরের কাগজ: ফাস্ট চার্জিং কি ব্যাটারির ক্ষতি করে না?
বোরহান উদ্দিন তানবীর: ফাস্ট চার্জিং আধুনিক ই-মোবিলিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। তবে এটি অবশ্যই স্মার্ট ব্যাটারি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সমন্বিত হতে হয়। ZEEHO-এর প্রকৌশলীরা চার্জিং গতি, ব্যাটারি স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই প্রযুক্তি উন্নয়ন করেন। ফলে ব্যবহারকারী দ্রুত চার্জিং সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি কর্মক্ষমতাও উপভোগ করতে পারেন।
খবরের কাগজ: বৃষ্টির সময় ইলেকট্রনিক্স কতটা নিরাপদ?
বোরহান উদ্দিন তানবীর: বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং রাস্তার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই ZEEHO-এর ইলেকট্রনিক্স ও বৈদ্যুতিক উপাদানগুলো ডিজাইন করা হয়েছে। পানি, ধুলো এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মানের সুরক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। ফলে সাধারণ বর্ষা মৌসুম, ভেজা রাস্তা কিংবা দীর্ঘ সময়ের দৈনন্দিন ব্যবহারে ব্যবহারকারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রাইড করতে পারেন।
খবরের কাগজ: OTA আপডেট সুবিধা আছে কি?
বোরহান উদ্দিন তানবীর: বর্তমান যুগে যানবাহন শুধু হার্ডওয়্যার নয়; এটি একটি সফটওয়্যারভিত্তিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মও। ZEEHO-এর স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের আরও উন্নত, নিরাপদ এবং আপডেটেড অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্যে ডিজাইন করা হয়েছে। ভবিষ্যতের ই-মোবিলিটি হবে আরও বেশি সংযুক্ত, স্মার্ট এবং সফটওয়্যার-নির্ভর-ZEEHO সেই ভবিষ্যতের অংশ।
খবরের কাগজ: গ্রাহক কি নিজেরাই Error Code দেখতে পারবেন?
বোরহান উদ্দিন তানবীর: আমাদের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিকে ব্যবহারকারীবান্ধব করা। তাই স্মার্ট ডিসপ্লে এবং ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা প্রাথমিক তথ্য জানতে পারেন। একই সঙ্গে ZEEHO-এর প্রশিক্ষিত সার্ভিস টিম এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা ব্যবস্থা দ্রুত ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করে।
খবরের কাগজ: ই-বাইক কি সত্যিই পরিবেশবান্ধব?
বোরহান উদ্দিন তানবীর: আমরা বিশ্বাস করি ভবিষ্যতের টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অংশ হবে ইলেকট্রিক মোবিলিটি। এটি কার্বন নিঃসরণ কমায়, শব্দদূষণ হ্রাস করে এবং জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে সহায়তা করে। তবে পরিবেশবান্ধব হওয়ার অর্থ শুধু ই-বাইক বিক্রি নয়; দায়িত্বশীল ব্যাটারি ব্যবস্থাপনাও এর অংশ। ZEEHO দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক মানের রিসাইক্লিং এবং সাসটেইনেবিলিটি নীতিমালা অনুসরণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
খবরের কাগজ: বিক্রয়োত্তর সেবার নিশ্চয়তা কীভাবে দিচ্ছেন?
বোরহান উদ্দিন তানবীর: যেকোনো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের প্রকৃত শক্তি তার বিক্রয়োত্তর সেবায় প্রতিফলিত হয়। ZEEHO Bangladesh সারা দেশে শক্তিশালী ডিলার নেটওয়ার্ক, প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান, পর্যাপ্ত যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। আমরা মনে করি গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক বিক্রয়ের মাধ্যমে শুরু হয়, শেষ হয় না।
খবরের কাগজ: ব্যাটারিতে আগুন লাগার ঝুঁকি নিয়ে আপনারা কতটা আপসহীন?
বোরহান উদ্দিন তানবীর: নিরাপত্তার প্রশ্নে ZEEHO কখনোই আপস করে না। আন্তর্জাতিক মানের ব্যাটারি প্রযুক্তি, উন্নত সুরক্ষাব্যবস্থা, স্মার্ট BMS এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। আমাদের কাছে প্রতিটি গ্রাহকের নিরাপত্তা ব্যবসায়িক লক্ষ্য নয়, বরং একটি মৌলিক দায়িত্ব।
খবরের কাগজ: সরকারি নীতিমালা ও রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে আপনাদের ভূমিকা কী?
বোরহান উদ্দিন তানবীর: ইলেকট্রিক যানবাহন শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকার, শিল্প খাত এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবসময় এমন নীতিমালার পক্ষে কাজ করি যা নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক পরিবহনব্যবস্থাকে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে আইন ও বিধিমালা মেনে দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
খবরের কাগজ: ই-বাইক কি মধ্যবিত্তের জন্য লাভজনক বিনিয়োগ?
বোরহান উদ্দিন তানবীর: আমরা ই-বাইককে কোনো বিলাসী পণ্য হিসেবে দেখি না; বরং এটি ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক এবং দক্ষ পরিবহন সমাধান। জ্বালানি খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং দৈনন্দিন ব্যবহার বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদে ইলেকট্রিক যানবাহন অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীর জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করে। প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ব্যাটারির স্থায়িত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই সুবিধা আরও বাড়বে।
খবরের কাগজ: বাংলাদেশে নিজস্ব R&D করার পরিকল্পনা আছে কি?
বোরহান উদ্দিন তানবীর: বাংলাদেশে ই-মোবিলিটির ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। ZEEHO Bangladesh শুধু একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তোলার অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়। ভবিষ্যতে স্থানীয় পর্যায়ে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং শিল্প সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আমরা ইতিবাচকভাবে কাজ করছি।
খবরের কাগজ: আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশের পরিবহন খাতে ই-বাইকের ভূমিকা কী হবে বলে আপনি মনে করেন? আপনাদের কি বড় ধরনের কোনো ফ্লিট পরিবর্তনের পরিকল্পনা আছে?
বোরহান উদ্দিন তানবীর: আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের পরিবহন খাতে সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনগুলোর একটি হবে ইলেকট্রিক মোবিলিটির ব্যাপক বিস্তার।
আজ যে ই-বাইক খাতকে অনেকেই একটি নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেটিই দেশের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক পরিবহন বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশে জ্বালানি ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, নগরায়ণ দ্রুত হচ্ছে এবং পরিবেশগত সচেতনতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বাস্তবতায় ইলেকট্রিক দুই চাকার যানবাহন আর কোনো বিকল্প প্রযুক্তি নয়, বরং ভবিষ্যতের মূলধারার পরিবহনব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠবে।
বিশেষ করে শহর ও উপশহরভিত্তিক দৈনন্দিন যাতায়াত, করপোরেট পরিবহন, লাস্ট-মাইল কানেকটিভিটি, ডেলিভারি সার্ভিস, ই-কমার্স লজিস্টিকস এবং শেয়ার্ড মোবিলিটি খাতে ই-বাইকের ব্যবহার বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা মনে করি।
বর্তমানে আমরা এমন একটি সময় পার করছি, যেটি অনেকটা মোবাইল ফোন শিল্পের শুরুর সময়ের মতো। একসময় যেমন মোবাইল ফোন ছিল সীমিত মানুষের জন্য, কিন্তু অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই সেটি সবার দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়েছে; আমি মনে করি ইলেকট্রিক যানবাহনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ একই ধরনের পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে যাবে।
তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে সরকার, শিল্প খাত এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। চার্জিং অবকাঠামো সম্প্রসারণ, স্থানীয় অ্যাসেম্বলি ও উৎপাদন সুবিধা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব যানবাহনের জন্য কর ও নীতিগত সুবিধা এবং সহজ রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় ই-মোবিলিটি বাজারে পরিণত হতে পারে।
ZEEHO Bangladesh এই পরিবর্তনের দর্শক নয়, বরং অংশীদার হতে চায়। আমাদের লক্ষ্য শুধু আন্তর্জাতিক মানের ইলেকট্রিক স্কুটার বা মোটরসাইকেল বাজারে আনা নয়; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ই-মোবিলিটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। আমরা ভবিষ্যতে স্মার্ট কানেকটেড ভেহিকেল, উন্নত চার্জিং সল্যুশন, ডিজিটাল সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম, করপোরেট ফ্লিট সল্যুশন এবং গ্রাহককেন্দ্রিক বিক্রয়োত্তর সেবার মাধ্যমে দেশের ইভি খাতকে আরও এগিয়ে নিতে কাজ করতে চাই।
আমার প্রত্যাশা, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের দুই-চাকার যানবাহন বাজারে ইলেকট্রিক সেগমেন্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করবে এবং সেই রূপান্তরের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ব্র্যান্ড হিসেবে ZEEHO নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতের পরিবহন হবে স্মার্ট, সংযুক্ত, পরিবেশবান্ধব এবং বিদ্যুৎনির্ভর–আর সেই ভবিষ্যৎ খুব দূরে নয়, বরং ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
খবরের কাগজ: আপনাকে ধন্যবাদ।
বোরহান উদ্দিন তানবীর: খবরের কাগজ এগিয়ে যাক, এই কামনা রইল।