যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিজেদের একমাত্র বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) নতুন ও উন্নত সংস্করণ উন্মোচন করেছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা। উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও নতুন নাম নিয়ে আসছে ২০২৬ মডেলের গাড়িটি।
আগের ‘বিজেড৪এক্স’ নামটি ছোট করে এখন শুধু ‘বিজেড’ রাখা হয়েছে। টয়োটার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের সুবিধার জন্য নামটি সহজ করা হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আগের মডেলের ব্যর্থতার ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতেই এই কৌশল নিয়েছে সংস্থাটি।
টয়োটার প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘বিজেড৪এক্স’ বাজারে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। এর রিভিউও ছিল হতাশাজনক। বিখ্যাত এই প্রতিষ্ঠানের গাড়িটির চাকা খুলে যাওয়ার মতো গুরুতর ত্রুটির কারণে এটি বাজার থেকে তুলেও নিতে হয়, যা টয়োটার জন্য ছিল বেশ বিব্রতকর।
২০২৬ সালের মডেলে আগের তুলনায় ব্যাটারির রেঞ্জ ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে সর্বোচ্চ ৩১৪ মাইল। পাশাপাশি অল-হুইল ড্রাইভ সংস্করণে হর্সপাওয়ার বেড়ে হয়েছে ৩৩৮, যা আগে ছিল ২১৪। ফ্রন্ট-হুইল ড্রাইভ সংস্করণেও হর্সপাওয়ার ২০ বাড়িয়ে হয়েছে ২২১।
এ ছাড়া যুক্ত করা হয়েছে দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা। এই পরিবর্তনের ফলে গাড়িটি টেসলার মডেল ওয়াই ও জেনারেল মোটরসের শেভ্রোলে ইক্যুইনক্সের মতো জনপ্রিয় বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করতে পারবে।
টয়োটা জানিয়েছে, জাপানের কারখানায় তৈরি এই গাড়ি চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শোরুমগুলোতে পাওয়া যাবে। তবে এর দাম সম্পর্কে এখনো কিছু জানানো হয়নি। বর্তমানে গাড়িটির দাম মডেলভেদে প্রায় ৩৭ হাজার থেকে ৪২ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
নতুন মডেলে টেসলার ‘নর্থ আমেরিকান চার্জিং সিস্টেম’ পোর্ট যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে টেসলার হাজার হাজার ফাস্ট চার্জিং স্টেশন ব্যবহার করা যাবে। টয়োটার দাবি, আদর্শ পরিস্থিতিতে গাড়িটির ব্যাটারি মাত্র ৩০ মিনিটে ১০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হবে।
গাড়ির ভেতরের ও বাইরের নকশাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা এটিকে বাজারে থাকা অন্যান্য বৈদ্যুতিক গাড়ির ভিড়ে আকর্ষণীয় করে তুলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা ধীরগতিতে বাড়লেও বিক্রি ও নতুন মডেলের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। কেলি ব্লু বুকের তথ্যমতে, এই বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি গত বছরের তুলনায় ১১.৪ শতাংশ বেড়েছে। এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নতুন ‘বিজেড’ দিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে টয়োটা।