বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের আলটিমেটামে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য, উপ-উপাচার্য থেকে শুরু করে ১৭ জন পদত্যাগ করেছেন। এ আন্দোলনের ঢেউ লেগেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানির কর্মীদের মধ্যেও। কর্মীদের প্রতিবাদের মুখে তাৎক্ষণিক পদত্যাগ করেছেন শাবিপ্রবির সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।
শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিনি পদত্যাগ করেন।
এর আগে বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে নিরাপত্তাকর্মীদের সার্বিক সমস্যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।
মতবিনিময়ের এক পর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীদের চাপের মুখে সব অভিযোগ স্বীকার করেন শাবিপ্রবির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যমুনা স্টার সেইভ গার্ড সার্ভিস লিমিটেডের সুপারভাইজার সৈয়দ হাবিবুর রহমান।
তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতাও স্বীকার করেন তিনি।
এ সময় নিরাপত্তাকর্মীরা সাইফুল ইসলামকে ঘেরাও করলে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পিএসের কথামতো তিনি নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিতেন বা চাকরিচ্যুত করতেন। কর্মীদের ক্ষোভ থেকে রক্ষা পেতে তিনি পদত্যাগ করেন।
সাইফুলের বিরুদ্ধে নিয়োগবাণিজ্য, অভারটাইম ডিউটিতে শেয়ার নেওয়া, ঝামেলামুক্ত জায়গায় ডিউটি করতে চাইলে বিনিময়ে অতিরিক্ত ঘুষ, ছুটিতে যেতে হলে ঘুষ দেওয়া এবং ছুটি শেষে বেতন আসলে আবার ঘুষ দেওয়া, ব্যক্তিগত কাজ করতে নিরাপত্তা কর্মীদের বাধ্য করা, কথা না শুনলে ডিউটি করার পরেও বাতিল করে দেওয়া অথবা চাকরিচ্যুত করাসহ অনেক অভিযোগ তুলেন নিরাপত্তাকর্মীরা।
নিরাপত্তাকর্মী সালমান হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘গত এপ্রিল মাসে কোম্পানির সুপারভাইজার সৈয়দ হাবিবুর রহমানের নামে আমরা ৯৪ জন নিরাপত্তাকর্মী স্বাাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারপরও গত ঈদে আমাদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে দাবি করে এবং টাকা না দেওয়ায় একজনের চাকরি যায়।’
আরেক নিরাপত্তাকর্মী শাহানুর আহমদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে জনপ্রতি এক থেকে দেড় লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে থাকে প্রশাসন। কেউ যদি ঘুষ না দেয় তাহলে শাস্তি হিসেবে তাদের ডিউটি বাতিল করে দেয় অথবা ডিউটির স্থান পরিবর্তন করে কঠিন কোনো জায়গায় দেয়। কেউ যদি ক্যাম্পাসের ভেতরে ঝামেলামুক্ত কোনো জায়গায় ডিউটি করতে চায়, তাহলেও তাকে ঘুষ দিতে হয় এবং না দিলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হয়।’
তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তিনজন নিরাপত্তাকর্মীকে চাকরিচ্যুত করার কথাও জানান তিনি।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে পদত্যাগ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে শুক্রবার রাতে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তার ঘনিষ্টজনরা জানান, নিরাপত্তাকর্মীদের অভিযোগের ভিডিওচিত্র বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সাইফুল বিব্রত বোধ থেকে অভিযোগের জবাব দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে চলছেন।
ইসফাক আলী/ইসরাত চৈতী/অমিয়/