ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি বাড়িয়ে এবার নিজেদের শক্তি বৃদ্ধির দাবি করল তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের পক্ষে থাকা সংসদ সদস্যের (লোকসভার এমপি) সংখ্যা আগের চেয়ে আরও বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এটিকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহকর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিদ্রোহীদের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর কাকলি ঘোষ দস্তিদার গতকাল রবিবার জানান, তাদের পক্ষে থাকা এমপির সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে এখন ২২ জনে দাঁড়িয়েছে।
রবিবার দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যারা অসন্তোষ প্রকাশ করছিলেন, আমরা তাদের সবার সঙ্গে কথা বলেছি। আরও দু-একজন আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। আগে আমি ২০ জনের কথা বলেছিলাম, এখন সেই সংখ্যাটি ২২ হয়েছে। আমরা এখানে সবার মতামত শুনব। দলে আলোচনা হবে, কোনো একনায়কত্ব চলবে না।’
তবে নতুন করে যোগ দেওয়া ওই দুই সংসদ সদস্যের নাম এখনই প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে তারা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার পরেই নাম ঘোষণা করা হবে। এর পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, আজ সোমবার লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে তাদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আলাদা একটি স্বতন্ত্র গোষ্ঠী বা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আবেদন জানিয়ে এক সপ্তাহ আগে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলেন এই বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা। সেই চিঠির সূত্র ধরেই এই বৈঠক হতে যাচ্ছে।
স্পিকারের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগেই জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল সন্ধ্যায় দিল্লির বিজেপি সংসদ সদস্য ভূপেন্দর যাদবের বাসভবনে গিয়ে হাজির হন তৃণমূলের চার বিদ্রোহী এমপি— শতাব্দী রায়, মালা রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষ। সেখানে বিজেপির আরেক প্রভাবশালী এমপি নিশিকান্ত দুবেও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগের দিন অর্থাৎ গত শনিবার তৃণমূলের ছয়বারের এমপি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেন। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেননি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার এই বৈঠক অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তিনি বিদ্রোহী শিবিরকেই সমর্থন করতে যাচ্ছেন।
তৃণমূলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যদের মধ্যে সুদীপ অন্যতম। রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তিনি এই শিবিরে যোগ দিলে বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক শক্তি ও অভিজ্ঞতা বহু গুণ বেড়ে যাবে। তবে সূত্রের খবর, বিদ্রোহী শিবিরের ভেতরে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্ব নিয়ে কিছু এমপি আগে থেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন। বেশ কয়েকজন তাকে নেতা হিসেবে মেনে নিতে ইতস্তত করছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগমন ঘটলে তিনিই এই অসন্তুষ্ট গোষ্ঠীর প্রধান বা সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হয়ে উঠতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৬০ জন ইতোমধ্যেই একটি বিদ্রোহী উপদলে যোগ দিয়েছেন। তারা দলের মূল নীতি মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
সূত্র: এনডিটি