ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় পরিষদীয় দল আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হয়েছে। এবার লোকসভাতেও তৃণমূলের সংসদীয় দল হাতছাড়া হলো। লোকসভায় দলটিতে ভাঙন ধরেছে। লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জনই মমতাকে ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তারা কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসক জোট এনডিএতে যোগ দিতে চাইছেন।
বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও বীরভূমের সংসদ সদস্য শতাব্দী রায়। বিদ্রোহীরা গতকাল সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠিও পাঠিয়েছেন।
যতসংখ্যক সংসদ সদস্য বিদ্রোহী হয়েছেন, তাতে লোকসভায় তাদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে পদক্ষেপের দাবি তোলা সম্ভব নয় তৃণমূলের পক্ষে। দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় পদক্ষেপ এড়াতে বিদ্রোহীদের দলের সংসদ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন (বসিরহাটের সংসদ সদস্য হাজি নুরুলের প্রয়াণের পর ওই আসনটি ফাঁকা রয়েছে)। এ অবস্থায় লোকসভায় দলের দুই-তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশি সংসদ সদস্য বিদ্রোহীদের সঙ্গে রয়েছেন।
এমন এক দিনে লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে এই ভাঙন ধরল, যখন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক দিল্লিতে রয়েছেন। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে এককাট্টা দেখাতে বৈঠকে বসেছেন মমতা, সনিয়া গান্ধী, অখিলেশ যাদবরা। ঠিক সেই সময়েই তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরল। মমতার হাতছাড়া হয়ে গেল লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দল।
তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্য সচেতক হিসাবেই স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন কাকলি। যদিও দলীয় বৈঠকে কাকলির বদলে কল্যাণকে চিফ হুইপ ঘোষণা করেছিলেন মমতা। কিন্তু অধিবেশন না চলার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্পিকারের দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে জানানো হয়নি। ফলে নিজের পদের ‘সদ্ব্যবহার’ করেছেন কাকলি। এ বিষয়ে কল্যাণ বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তের কথা স্পিকারের দপ্তরে আগেই জানানো হয়েছিল।’ যদিও বারাসতের সংসদ সদস্যের বক্তব্য, সংসদীয় দলের চিফ হুইপ এখনো তিনিই। দলের অন্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি কাকলির।
পরে এ বিষয়ে কাকলি পিটিআই (প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া)-কে বলেন, ‘আমাকে নিয়ে তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সংসদ সদস্য এনডিএকে সমর্থন করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনতার রায় মেনে নিয়েছি। আমরা মনে করি ভবিষ্যতে এনডিএর সঙ্গেই আমাদের চলা উচিত।’
লোকসভার স্পিকারকে তৃণমূলের বিদ্রোহীদের এই চিঠি পাঠানোর কথা প্রকাশ্যে আসার আগে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে যান বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা। সূত্রের খবর, সেখানে কাকলি, শতাব্দীর পাশাপাশি ছিলেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত মাল, বাপি হালদার, জুন মালিয়া, জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, কালীপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী, পার্থ ভৌমিক, শর্মিলা সরকাররা। বিদ্রোহীদের তালিকায় ইউসূফ পাঠান, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবের নামও ভেসে আসছে। ঘটনাচক্রে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সোমবার সকালে দিল্লিতে গিয়েছেন। দুপুরে ভূপেন্দ্রর বাড়িতে যান তিনিও।
দুপুরের ওই বৈঠকের পর গতকাল সন্ধ্যায় দিল্লিতে শতাব্দীর বাড়িতে ফের একবার বৈঠকে বসেন বিদ্রোহীরা। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীও গিয়েছেন সেখানে। সূত্র: আনন্দবাজার