ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী চাঁদপুরের সানজিদার বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি মরক্কোর অধিনায়ক হাকিমি গণপিটুনির শিকার চার ডিবি সদস্য গ্রেপ্তার, অপহরণ চেষ্টার মামলা শিশুস্বাস্থ্যে বড় উদ্যোগ, ৬ মাসে চালু ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল জামালপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ বিশ্বকাপে মরক্কোর নতুন বিস্ময় আয়ুব বুয়াদ্দি সংবাদ প্রকাশের জেরে বগুড়ার সাংবাদিক কারাগারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ব্রাজিল ম্যাচে থাকছে বিরল ৫০০ বছরের পুরোনো ফুটবল লেখক শিবিরের ১৭তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, স্বস্তির আশা ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব স্মরণে মিশরে আন্তর্জাতিক সেমিনার হিলি স্থবন্দরের পাইকারি বাজারে বেড়েছে চালের দাম অস্ট্রেলিয়ার গতিময় কাউন্টার-অ্যাটাকে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র নোয়াখালীতে মোটরের তারে জড়িয়ে প্রাণ গেলো মা-ছেলের প্রতিবেশী দেশ মাদক ঢুকিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চায়: প্রতিমন্ত্রী টুকু রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান রাজবাড়ীতে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ইমাম গ্রেপ্তার সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার: পরীমনি ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা মৌসুমি ফল আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগকবলিত উপকূলের সুরক্ষায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি শেষের বিবর্ণতায় সিরিজ হার বাংলাদেশের নাগরপুরে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ সহায়তা ও চাল বিতরণ আত্মপরিচয়ের খোঁজে বিপন্ন ব্রহ্মপুত্র পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ১০ জন আটক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ আয়োজনের ঘোষণা

বুয়েট শিক্ষার্থী নিহত জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতসহ ৫ দফা সহপাঠীদের

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৫:২৯ পিএম
আপডেট: ২১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৫:৩৩ পিএম
জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতসহ ৫ দফা সহপাঠীদের
বুয়েট ক্যাম্পাসের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় প্রাইভেট কারের ধাক্কায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী মোহতাসিম মাসুদ নিহত হওয়ার ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো বিচারের দাবিতে উত্তাল ছিল বুয়েট ক্যাম্পাস। বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি শেষে বিচার দাবিতে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) বুয়েট ক্যাম্পাসের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা।

লিখিত বক্তব্যে ওইদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘২০ ডিসেম্বর রাতে বুয়েটে একটা প্রোগ্রাম চলাকালীন সময়ে আমরা কয়েকজন শিক্ষার্থী একত্রে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলাম। আনুমানিক রাত ৩টার পরে আমরা পূর্বাচল নীলা মার্কেটের সামনে ৩০০ ফিট রাস্তায় আমাদের তিন বন্ধু, বুয়েট সিএসই ২০২১ ব্যাচের ছাত্র মোহতাসিম মাসুদ, অমিত সাহা এবং মো. মেহেদি হাসান খাঁনের একটি দুর্ঘটনার খবর জানতে পারি। খবর জানতে পেরে আমরা বারবার তাদের ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে থাকি এবং কিছুক্ষণ পর একজন পথচারী অমিতের ফোন রিসিভ করেন। তার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, আমাদের তিন বন্ধু গুরুতর আহত এবং একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমরা তৎক্ষণাৎ সেই পথচারীর থেকে ঘটনাস্থলের লোকেশন নিয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হই। ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমরা মাসুদ, অমিত এবং মেহেদির শরীর অবচেতন অবস্থায় পাই। তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে থাকা ফায়ার ব্রিগেডের সাহায্যে আমরা তাদের তিনজনকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুদকে মৃত ঘোষণা করেন।’

তারা আরও বলেন, ‘বাকি দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। একই সময়ে বাকি শিক্ষার্থীরা দলে দলে ঘটনাস্থল এবং কুর্মিটোলা হাসপাতালে পৌঁছায়। সেখানে তারা দেখতে পায়, দুর্ঘটনায় জড়িত প্রাইভেট কারটির চালক এবং তার সহযাত্রীদের প্রত্যক্ষদর্শী এবং পথচারীরা ঘিরে রেখেছে।’

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত ও ঘটনাস্থলে পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গ টেনে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অমিত, মাসুদ এবং মেহেদিকে পূর্বাচল ৩০০ ফিট নীলা মার্কেট মোড়ের ওপরের টার্নিংয়ে ডিউটিরত পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য দাঁড় করায়। এ সময় পেছন থেকে একটি প্রাইভেট কার বেপরোয়া গতিতে এসে স্থির দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেলসহ তিনজনকে আঘাত করে। এর ফলে তারা তিনজন সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ছিটকে পড়ে। প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন মুবিন আল মামুন সাদমান এবং তার সঙ্গে ছিলেন মিরাজুল করিম এবং আসিফ চৌধুরী।’

পুলিশ প্রাইভেট কারের চালকসহ তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রথমে রূপগঞ্জ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তাদেরকে রূপগঞ্জ থানায় নেওয়া হলে কর্তব্যরত এসআই মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করা হয়, বলে ওই সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এছাড়া চালকের পরিবারের লোকজন বিভিন্নভাবে মামলার ঘটনাপ্রক্রিয়া প্রভাবিত করার চেষ্টা করে এমন অভিযোগ তোলেন সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে মামলার ড্রাফট লেখার কাজ শুরু হয়। সড়ক আইন ২০১৮, ১৯৮ এবং ১০৫ ধারায় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে নিহত মাসুদের মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। একই সময়ে কতিপয় শিক্ষার্থীসহ অভিযুক্তদের ডোপ টেস্টের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

এমন ঘটনা দুর্ঘটনা নয় উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, রূপগঞ্জ থানা-পুলিশ গাড়িচালকসহ গ্রেপ্তার এই তিনজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠান। বিচারক রবিবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে কাল সন্ধ্যায় তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আমরা আশা করছি, রবিবার শুনানির মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চলতে থাকবে। এসব ঘটনা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, এটি কোন দুর্ঘটনা নয়।’

সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলা হয়, ‘দেশের বিচারব্যবস্থাকে একটি গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করুন। আর কোনো প্রাণ যেনো এভাবে সড়কে কোন মাতাল, নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির হাতে না ঝড়ে, আর কোন পরিবার যেনো নিজেদের সন্তানকে না হারান, কোনো মায়ের কোল যেন আর খালি না হয় এই ব্যাপারে দৃষ্টি প্রদানের দায়িত্ব সাধারণ জনগণের পাশাপাশি সরকারেরও। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দেশে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। অপরাধী যে পরিবারেরই সদস্য হোক না কেনো, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন, এই ব্যাপারটি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হোক।’

সংবাদ সম্মেলনে ৫ দফা দাবি তুলো ধরা হয়। সেগুলো হলো-

যেকোন মূল্যে এই হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকরণ; আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার অবশ্যই বিবাদীপক্ষকে বহন; নিহত মাসুদের পরিবারকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে বিবাদীপক্ষকে বাধ্য করা; তদন্ত কার্যক্রমে বাধাপ্রদানের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া; সড়ক দুর্ঘটনার কারণে আর কারো প্রাণ যেন না যায় এবং সড়কে নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত হয়, সেই ব্যাপারে যথোপযুক্ত ভূমিকা রাখতে সরকারের কাছে দাবি।

এসময় শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই মরল কেন, বিচার চাই বিচার চাই’, ‘আমার ভাই মরল কেন, জবাব চাই জবাব দাও’, ‘মদ্যপ চালকের শাস্তি চাই, আমার ভাইয়ের ন্যায়বিচার চাই’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন। 

আরিফ জাওয়াদ/এমএ/

জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রবেশিকা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের আগমনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন সংলগ্ন রাস্তায় এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তাদের হাতে ‘একাডেমিক নিপীড়কদের ক্রমাগত দায়মুক্তি দেওয়ায় উপাচার্যকে অভিনন্দন’, ‘জুলাই বিচারের নামে অশ্বডিম্ব পাড়ায় অভিনন্দন’, ‘ভবন নির্মাণ is going well, গবেষণা is no more’সহ বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের প্রচার সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলা বলেন, “বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে একাডেমিক সব কাজেই চরম অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বিচারের নামে প্রহসন, একাডেমিক নিপীড়কদের ক্রমাগত দায়মুক্তি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছেন। ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার দুই মাস পার হয়ে গেলেও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে ন্যূনতম অগ্রগতি নেই। এসব বিশৃঙ্খলার বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনতেই আমরা এ প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করেছি।”

জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ইমন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পদ্ধতি থেকে শুরু করে সার্টিফিকেট উত্তোলন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা হয়রানি ও অবিচারের শিকার হচ্ছেন। অভ্যুত্থানের পর উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েও একাডেমিক কিংবা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সামান্যতম পরিবর্তন আনতে পারেননি। এই ব্যর্থতার দায় মনে করিয়ে দিতেই আজকের কর্মসূচি। যতদিন শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত না হবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।”

আমানউল্লাহ/এএইউ

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীরা চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ৯টা থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবনের নিচে প্রায় ৫০ জন কর্মচারী অবস্থান করেছেন।

প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দৈনিক মজুরিতে কাজ করে আসা এসব কর্মচারীদের মধ্যে অনেকেই ৯ থেকে ১৪ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ১১৭ জন কর্মচারী রয়েছেন। জ্যেষ্ঠরা ২০১৩ সালে এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও, লড়াই করো’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

কর্মচারীরা জানান, মাত্র ১৬,৫০০ টাকা বেতনে সংসার চালানোই কষ্টকর। কোনো লিখিত ছুটি, বোনাস বা অন্যান্য সুবিধা নেই। সন্তানের লেখাপড়া ও চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজনগুলোও তাদের কাছে বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশাসন চাকরি স্থায়ীকরণের আশ্বাস দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

শহিদ ফেলানি খাতুন হলের হল অ্যাটেনডেন্ট মো. আবু রায়হান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক মজুরিতে কাজ করে যাচ্ছি। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কিছুই হয়নি। সম্প্রতি ১৫ জন গার্ডের যে সার্কুলার হয়েছে, সেখানকার বয়সসীমা আমাদের অনেকেরই পার হয়ে গেছে। এতদিন স্থায়ী করার কথা বলে এখন আবেদন করতেও পারছি না।”

অবস্থান কর্মসূচির একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে। সুফিয়া কামাল হলের হল অ্যাটেনডেন্ট মোহাম্মদ নাইম বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে, শুরুতে ব্যানারে তারেক রহমানের ছবি থাকায় উপর মহলে গোয়েন্দা সংস্থার নেগেটিভ ধারণা হয়েছে। এজন্য প্রশাসন লিখিত ক্ষমাপ্রার্থনা চেয়েছে।”

তিনি আরও জানান, প্রশাসন এখন তাদের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে। অথচ নিয়োগের সময় সার্কুলার প্রকাশিত হয়েছিল এবং ইউজিসি অনুমোদিত সিন্ডিকেটে অনুমোদন হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, “ইঙ্গিতে বলা হচ্ছে আমাদের নিয়োগ অবৈধ। এটা আমাদের জন্য পরোক্ষ হুমকি। ন্যায্য দাবি তুললেই যদি চাকরিটাও চলে যায়, তাহলে আমরা কোথায় দাঁড়াব? এতদিন কেন বলা হয়নি যে চাকরি অবৈধ? শুধু আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে।”

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে আগামী রবিবার থেকে আরও তীব্র ও লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

আমানউল্লাহ/ এএফ

কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশসেরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশসেরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংস ২০২৭-এ আবারও বাংলাদেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)। এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ৯০১–৯৫০ ব্যান্ডে স্থান পেয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় এক ধাপ অগ্রগতি নির্দেশ করে।

এ বছর বিশ্বের ১,৫০৪টি বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্যায়নের আওতায় এনে র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে কিউএস। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান নির্ধারণে এটি বিশ্বের অন্যতম স্বীকৃত সূচক হিসেবে বিবেচিত। একাডেমিক সুনাম, কর্মসংস্থান সক্ষমতা ও স্নাতকদের অর্জন, শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধাসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন করা হয়।

র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরেই রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে পর্যায়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অবস্থান তৃতীয়। একই সঙ্গে এটি দেশের সর্বোচ্চ স্থানপ্রাপ্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অবস্থান বজায় রেখেছে।

এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, “দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অবস্থান ধরে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার প্রতিফলন। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা, গবেষণা এবং বৈশ্বিক সম্পৃক্ততায় আরও উৎকর্ষ সাধনে অনুপ্রাণিত করবে।”

রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ
ছবি খবরের কাগজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নুরুল ইসলাম শহিদকে হেনস্তার  অভিযোগ উঠেছে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আম্মার।

বুধবার (১৭ জুন) রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এ অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম শহিদ।

পোস্টে শহিদ উল্লেখ করেন, আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষে তিনি তার হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে হবিবুর রহমান হল মাঠে খেলা দেখতে যান। খেলার প্রায় ৩০ মিনিটের সময় রাকসুর ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং হবিবুর রহমান হল সংসদের জিএস আশিক শিকদার তাকে তাদের পাশে বসে খেলা দেখার জন্য ডাকেন। পরে তিনি এলইডি স্ক্রিনের পাশে সুতা দিয়ে ঘেরা নির্ধারিত স্থানে গিয়ে ভিপির পাশে বসেন।

তিনি আরও দাবি করেন, সেখানে বসার প্রায় এক মিনিট পর রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ সামি এসে তাকে ওই স্থান থেকে সরে যেতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে আম্মার তার গেঞ্জির কলার ধরে টানাটানি করেন এবং সেখানে কেউ অবস্থান করতে পারবেন না বলে জানান। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক দড়ির ভেতরের নির্ধারিত স্থান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমি তার গায়ে স্পর্শও করিনি। তার টি-শার্টেও হাত দিইনি। তিনি আমার প্রতি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তার জবাবও আমি দিইনি। অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থেই তাকে স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ করা হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাকসুর আয়োজনে খেলা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সবাইকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠের বাম পাশে ছাত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলে স্ক্রিনের সামনে কেউ অবস্থান করলে তাদের খেলা দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন এবং কাউকে সেখানে দাঁড়াতে দিচ্ছিলেন না।’

তিনি বলেন, ‘শহিদ সেখানে আসার পর পেছনে বসা শিক্ষার্থীরা খেলা দেখতে পারছিল না। তাই আমি তাকে স্ক্রিনের ডান পাশে গিয়ে বসার অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি সেখান থেকে বের হয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে চলে যান।’

এ বিষয়ে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ’দঁড়ির ভেতরে বসাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। তবে এর আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। খেলা চলাকালীন তাদের তর্ক-বিতর্কে খেলার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছিল। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি থামিয়ে দিয়েছি। তবে বিরোধের মূল কারণ সম্পর্কে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’

শাকিবুল হাসান/খাদিজা রুমি/

দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে
ছবি:খবরের কাগজ

সকালে ক্লাসে যাওয়ার তাড়া নেই, তবু আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়ার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখতে সকাল সকাল জেগে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। কারও গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি, কারও হাতে ভুভুজেলা বাঁশি। হাজার হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাঠে গড়াচ্ছে বল, আর তার রেশ এসে লেগেছে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে। যেন বিশ্বকাপের এক টুকরো আবহ তৈরি হয়েছে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। ভৌগোলিক দূরত্ব যতই থাকুক, বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং বিশ্বকাপ ঘিরে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করলেও খেলা ঘিরে উন্মাদনা থেমে নেই।

বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ম্যাচ ঘিরে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। প্রিয় দলের জার্সি পরা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থনের পোস্ট দেওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক কিংবা ম্যাচ বিশ্লেষণ–সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ যেন তরুণদের জীবনের একটি বড় অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে।

গত বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচ সেই উন্মাদনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক গোলে ৩-০ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হয় উল্লাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, হলপাড়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায় বিজয় উদযাপনের দৃশ্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় খেলা চলাকালে শিক্ষার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। খেলা শেষে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা আনন্দ মিছিল বের করেন। বিভিন্ন আবাসিক হলে উড়তে থাকে আকাশি নীল-সাদা পতাকা। মুহূর্তের জন্য পুরো ক্যাম্পাস যেন রূপ নেয় এক উৎসবের নগরীতে।
আর্জেন্টিনার জয়ে উল্লাস প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘মেসি বেশ ভালো খেলেছেন, আশা করছি আগামীতে তারা আরও ভালো খেলবেন। বিশেষ করে মেসি আরও গোল করবেন। আজকে মেসির তিন গোলের মধ্য দিয়ে তিনি সেরা, এটি প্রমাণ করলেন। আশা করি, এবারের বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা জিতবে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘এবার আমরা ফোর স্টার নিয়ে ফিরব। আর মেসি কী জিনিস, আজকের খেলার মধ্য দিয়ে আবার প্রমাণ হলো। সেরাদের জায়গাটি সব সময়ই বিশ্বকাপ সেরাদের কাতারেই থাকে। এবার আমরা বিশ্বকাপ ট্রফি জিতব এবং মেসি অবশ্যই সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন, যেটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।’

এদিকে ম্যাচ-পরবর্তী অনুভূতি প্রকাশ করে আর্জেন্টিনা সমর্থক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওবাইদুল্লাহ বলেন, মেসিকে কেন ফুটবলের জাদুকর বলা হয়, তা আজ আবারও প্রমাণ হয়েছে। আর আর্জেন্টিনা যে মানের ফুটবল খেলেছে, তা ধরে রাখতে পারলে দলটি শিরোপার দৌড়ে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’

এবারের বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিএসসি, জগন্নাথ হল মাঠ, সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল, শহীদুল্লাহ হল মাঠ এবং কবি জসীমউদদীন হল মাঠে প্রতিদিন জড়ো হচ্ছেন শত শত শিক্ষার্থী। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে।

ফুটবল বিশ্বকাপ বাংলাদেশের মানুষের কাছে বরাবরই একটি আবেগের নাম। যদিও বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে এখনো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নেই, তবু সমর্থন আর ভালোবাসার দিক থেকে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই এ দেশের মানুষ। সেই আবেগের সবচেয়ে প্রাণবন্ত প্রকাশ দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে, যেখানে বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি হয়ে ওঠে উৎসব, আনন্দ এবং মিলনের উপলক্ষ।
বিশ্বকাপের দিনগুলো যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা। কে জিতবে শিরোপা, কে হবে সেরা।

 খেলোয়াড়– এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরকে ঘিরে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো ইতোমধ্যে পরিণত হয়েছে উচ্ছ্বাস, আবেগ আর তারুণ্যের এক বর্ণিল মঞ্চে।