ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বেনজিরকে শিগগিরই ফেরত আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী ২৮ জন টিনএজ থেকে গ্লোবাল সুপারস্টার চকরিয়ায় শ্রীরামকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ রূপগঞ্জে  ব্যবসায়ীর বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন নওগাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের খাঁচায় ৩ ডাকাত আইওএস ২৭-এ আসছে নতুন ফিচার কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক রাঙামাটিতে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে শিক্ষিকার মৃত্যু ব্রাজিলের কাছে হেরেও ফুটবলারদের নিয়ে গর্বিত হাইতির কোচ বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ এআই ক্যামেরা বন্ধের পেছেন কি তবে ‘ইঁদুরের হাত’ অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশের’ মৃত্যু টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ৮০তম জন্মদিন ঘিরে ট্রাম্পের ভাগ্যে বড় পরিবর্তনের আভাস জ্যোতিষীদের ৯০ মিনিট খেলতে এখনও প্রস্তুত নন ইয়ামাল ৪৮ লাখ টাকা খরচ করে বিয়ে, ৯ দিন পর বিচ্ছেদ চাইলেন যুবক টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক আর নেই ফেনী স্টেশনে মেঘনা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ভোগান্তি ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তুরস্কের হারে নকআউটে যুক্তরাষ্ট্র নওগাঁর আম আমদানি করতে চায় জাপান বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিল হাইতি টাঙ্গাইলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৫০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান

চারুকলায় ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি পোড়ানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন, মামলা

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৫, ১০:০৬ পিএম
আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৫, ১০:২০ পিএম
চারুকলায় ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি পোড়ানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন, মামলা
আগুনে পুড়েছে ‘ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি’। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রায় নির্মিত মূল ছয়টি মোটিফের মধ্যে একটি দানবীয় ফ্যাসিবাদের প্রতীকী মুখাকৃতি শনিবার (১২ এপ্রিল) ভোর ৪টা ৫০মিনিটে দুর্বৃত্তের আগুনে পুড়ে ভস্ম হয়ে গেছে। পাশাপাশি আংশিকভাবে পুড়েছে আরেকটি মোটিফ শান্তির প্রতীক পায়রা। এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সকালে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পরে মামলা করা হয়। 

শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর। এদিকে সিসিটিভি ফুটেজে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে, বলে জানা গেছে। ওই ভোর ৪টা ৪৪ মিনিট থেকে ৪টা ৫০ মিনিটের মধ্যে আগুন লাগিয়ে বের হয়ে যায় অপরিচিত সেই যুবক।

এ ব্যাপারে প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘চারুকলার মাঝখানের গেট (৩ নং গেট) টপকে প্রবেশ করে। কোথা থেকে ছেলেটা এসেছে সেটা বোঝা যায়নি। প্রথমে সে লিকুইড (দাহ্য পদার্থ) দিয়েছে, তারপর সে পর্দার আড়ালে চলে গেছে। তারপর ফুটেজে আমার দেখলাম, সেখানে ফ্লেম (অগ্নি শিখা) হয়েছে। এর মানে হয়তো সে সেখানে লাইটার চালিয়ে পরীক্ষা করেছে। তারপর সেখানে গিয়ে ফায়ার করেছে। ছেলেটা যে গেট দিয়ে প্রবেশ করেছে সেই গেট দিয়েই বেরিয়ে ছবির হাটের দিকে গেছে।’

অজ্ঞাত ওই যুবকের পরনে কালো টি-শার্ট, বাদামী প্যান্ট, কালো স্যান্ডেল ছিল। এমন ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণেদিতভাবে উল্লেখ করে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘এটা উদ্দেশ্যপ্রণেদিতভাবে, খুব সুপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদের পক্ষের একটা শক্তি এখানে ঘাপটি দিয়ে আছে। তারাই এই কাজ করেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছি। একটা সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং আইনিভাবে শক্তহাতে দেখা হবে।’

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) এস এন মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল রেকর্ডগুলো নিব, ফরেনসিক করব। ডিটেকশন করে ফেলব। যে এখানে আগুনটা লাগিয়েছে, তাকে ডিটেক্ট করতে পারলে তার মাস্টারমাইন্ড কারা বা এটার সঙ্গে কারা জড়িত এইটার ডিটেইল আমরা পরে বলতে পারব।’

পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন 

এই ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। 

তদন্তের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোসাদ্দেক হোসেন কামাল, সহকারী প্রক্টর ড. এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী, সহকারী প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

চারুকলায় ফ্যাসিবাদের মুখোশে আগুন পরিকল্পিত: ঢাবি সাদা দল

এমন ঘটনা পরিকল্পিত উল্লেখ করে আগুন দেওয়ার এই ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাবির বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে দলটি।

শনিবার এক বিবৃতিতে সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার এই দাবি জানান। 

বিবৃতিতে সাদা দলের নেতারা অবিলম্বে চারুকলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। 

প্রতিবাদে ছাত্রদল-ছাত্র ফ্রন্ট-গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ 

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এবং জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল-ছাত্র ফ্রন্ট ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ। ছাত্রদল ও ছাত্র ফ্রন্ট পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবাদ জানায় এবং জড়িত শাস্তি দাবি তোলেন। 

শনিবার ঢাবি রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে রাত ৮টায় আগুন লাগানোর প্রতিবাদ এবং মোটিফ দুটি পুনর্নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করা কথা ছিল বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের। পরে মার্চ ফর গাজা এবং ভর্তি পরীক্ষার বাস্তবতায় ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতে আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করে সংগঠনটি।

প্রসঙ্গত, ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি দেখতে অনেকটাই দেশের ক্ষমতাচ্যুত ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেহারার সঙ্গে মিলে। এবারের শোভাযাত্রার প্রধান এই প্রতিকৃতিটি ফ্যাসিবাদের বীভৎস রূপ হিসেবে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দাঁতাল মুখের এক নারীর মুখাবয়ব। মাথায় খাড়া চারটি শিং, হা করা বিকৃত মুখ, বিশাল আকৃতির নাক, ভয়ার্ত দুটো চোখ। 

ওই মোটিফ প্রসঙ্গে এর আগে শুক্রবার চারুকলা অনুষদের ওসমান জামান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘এটি একটি নির্বতনমূলক ব্যবস্থার একটি প্রতীকী মুখাবয়ব, এখন যদি কেউ নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দেখতে চায়, সেটি তার স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ এবং যদি প্রতীকী অর্থে দেখতে চায় সেটিও দেখতে পারে। একইভাবে পানির বোতলটিইও তাই, একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেও দেখতে পারেন এবং ওই সময়ের আবহ বোঝার জন্য যে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে এবং পানি বিতরণ করা হচ্ছে। যে যেভাবে দেখে এটি শিল্পের বহিঃপ্রকাশ।’


/আরিফ জাওয়াদ/মাহফুজ

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) স্নাতকের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরি, ক্লাস ব্যাগ ও বার্ষিক ক্যালেন্ডার দিয়ে বরণ করে নেয়। বিভিন্ন অনুষদের প্রায় দুই হাজার নবীন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন নবীনদের একাডেমিক পড়াশোনা ও গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ রাস্তাসহ নানা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। নবীন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আশা-আকাঙ্ক্ষা জানতে চান এবং যথাসম্ভব সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছ। তোমরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে দেশের যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

এর আগে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রতিটি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা বাহারি রকমের গাছের চারা রোপণ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “তোমরা কঠোর প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ণাঢ্য ও গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশ হতে পেরে এক অনন্য সুযোগ লাভ করেছ। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়; এটি মুক্তবুদ্ধি চর্চা, সংস্কৃতি এবং আত্ম-আবিষ্কারের এক বিশাল মঞ্চও বটে।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে তোমাদের এই নতুন পথচলাকে সফল করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি। আমরা চাই তোমরা শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় শিক্ষিত না হয়ে, একজন মানবিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠো। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাও, নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলো এবং নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অবিচল থাকো। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন ও মূল্যবোধ মেনে চলে তোমরা এই প্রতিষ্ঠানের সম্মান আরও উজ্জ্বল করবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রবসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

আমান/এএফ

জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রবেশিকা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের আগমনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন সংলগ্ন রাস্তায় এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তাদের হাতে ‘একাডেমিক নিপীড়কদের ক্রমাগত দায়মুক্তি দেওয়ায় উপাচার্যকে অভিনন্দন’, ‘জুলাই বিচারের নামে অশ্বডিম্ব পাড়ায় অভিনন্দন’, ‘ভবন নির্মাণ is going well, গবেষণা is no more’সহ বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের প্রচার সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলা বলেন, “বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে একাডেমিক সব কাজেই চরম অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বিচারের নামে প্রহসন, একাডেমিক নিপীড়কদের ক্রমাগত দায়মুক্তি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছেন। ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার দুই মাস পার হয়ে গেলেও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে ন্যূনতম অগ্রগতি নেই। এসব বিশৃঙ্খলার বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনতেই আমরা এ প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করেছি।”

জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ইমন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পদ্ধতি থেকে শুরু করে সার্টিফিকেট উত্তোলন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা হয়রানি ও অবিচারের শিকার হচ্ছেন। অভ্যুত্থানের পর উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েও একাডেমিক কিংবা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সামান্যতম পরিবর্তন আনতে পারেননি। এই ব্যর্থতার দায় মনে করিয়ে দিতেই আজকের কর্মসূচি। যতদিন শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত না হবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।”

আমানউল্লাহ/এএইউ

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীরা চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ৯টা থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবনের নিচে প্রায় ৫০ জন কর্মচারী অবস্থান করেছেন।

প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দৈনিক মজুরিতে কাজ করে আসা এসব কর্মচারীদের মধ্যে অনেকেই ৯ থেকে ১৪ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ১১৭ জন কর্মচারী রয়েছেন। জ্যেষ্ঠরা ২০১৩ সালে এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও, লড়াই করো’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

কর্মচারীরা জানান, মাত্র ১৬,৫০০ টাকা বেতনে সংসার চালানোই কষ্টকর। কোনো লিখিত ছুটি, বোনাস বা অন্যান্য সুবিধা নেই। সন্তানের লেখাপড়া ও চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজনগুলোও তাদের কাছে বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশাসন চাকরি স্থায়ীকরণের আশ্বাস দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

শহিদ ফেলানি খাতুন হলের হল অ্যাটেনডেন্ট মো. আবু রায়হান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক মজুরিতে কাজ করে যাচ্ছি। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কিছুই হয়নি। সম্প্রতি ১৫ জন গার্ডের যে সার্কুলার হয়েছে, সেখানকার বয়সসীমা আমাদের অনেকেরই পার হয়ে গেছে। এতদিন স্থায়ী করার কথা বলে এখন আবেদন করতেও পারছি না।”

অবস্থান কর্মসূচির একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে। সুফিয়া কামাল হলের হল অ্যাটেনডেন্ট মোহাম্মদ নাইম বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে, শুরুতে ব্যানারে তারেক রহমানের ছবি থাকায় উপর মহলে গোয়েন্দা সংস্থার নেগেটিভ ধারণা হয়েছে। এজন্য প্রশাসন লিখিত ক্ষমাপ্রার্থনা চেয়েছে।”

তিনি আরও জানান, প্রশাসন এখন তাদের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে। অথচ নিয়োগের সময় সার্কুলার প্রকাশিত হয়েছিল এবং ইউজিসি অনুমোদিত সিন্ডিকেটে অনুমোদন হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, “ইঙ্গিতে বলা হচ্ছে আমাদের নিয়োগ অবৈধ। এটা আমাদের জন্য পরোক্ষ হুমকি। ন্যায্য দাবি তুললেই যদি চাকরিটাও চলে যায়, তাহলে আমরা কোথায় দাঁড়াব? এতদিন কেন বলা হয়নি যে চাকরি অবৈধ? শুধু আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে।”

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে আগামী রবিবার থেকে আরও তীব্র ও লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

আমানউল্লাহ/ এএফ

কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশসেরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশসেরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংস ২০২৭-এ আবারও বাংলাদেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)। এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ৯০১–৯৫০ ব্যান্ডে স্থান পেয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় এক ধাপ অগ্রগতি নির্দেশ করে।

এ বছর বিশ্বের ১,৫০৪টি বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্যায়নের আওতায় এনে র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে কিউএস। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান নির্ধারণে এটি বিশ্বের অন্যতম স্বীকৃত সূচক হিসেবে বিবেচিত। একাডেমিক সুনাম, কর্মসংস্থান সক্ষমতা ও স্নাতকদের অর্জন, শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধাসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন করা হয়।

র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরেই রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে পর্যায়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অবস্থান তৃতীয়। একই সঙ্গে এটি দেশের সর্বোচ্চ স্থানপ্রাপ্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অবস্থান বজায় রেখেছে।

এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, “দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অবস্থান ধরে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার প্রতিফলন। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা, গবেষণা এবং বৈশ্বিক সম্পৃক্ততায় আরও উৎকর্ষ সাধনে অনুপ্রাণিত করবে।”

রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ
ছবি খবরের কাগজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নুরুল ইসলাম শহিদকে হেনস্তার  অভিযোগ উঠেছে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আম্মার।

বুধবার (১৭ জুন) রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এ অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম শহিদ।

পোস্টে শহিদ উল্লেখ করেন, আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষে তিনি তার হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে হবিবুর রহমান হল মাঠে খেলা দেখতে যান। খেলার প্রায় ৩০ মিনিটের সময় রাকসুর ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং হবিবুর রহমান হল সংসদের জিএস আশিক শিকদার তাকে তাদের পাশে বসে খেলা দেখার জন্য ডাকেন। পরে তিনি এলইডি স্ক্রিনের পাশে সুতা দিয়ে ঘেরা নির্ধারিত স্থানে গিয়ে ভিপির পাশে বসেন।

তিনি আরও দাবি করেন, সেখানে বসার প্রায় এক মিনিট পর রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ সামি এসে তাকে ওই স্থান থেকে সরে যেতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে আম্মার তার গেঞ্জির কলার ধরে টানাটানি করেন এবং সেখানে কেউ অবস্থান করতে পারবেন না বলে জানান। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক দড়ির ভেতরের নির্ধারিত স্থান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমি তার গায়ে স্পর্শও করিনি। তার টি-শার্টেও হাত দিইনি। তিনি আমার প্রতি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তার জবাবও আমি দিইনি। অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থেই তাকে স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ করা হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাকসুর আয়োজনে খেলা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সবাইকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠের বাম পাশে ছাত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলে স্ক্রিনের সামনে কেউ অবস্থান করলে তাদের খেলা দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন এবং কাউকে সেখানে দাঁড়াতে দিচ্ছিলেন না।’

তিনি বলেন, ‘শহিদ সেখানে আসার পর পেছনে বসা শিক্ষার্থীরা খেলা দেখতে পারছিল না। তাই আমি তাকে স্ক্রিনের ডান পাশে গিয়ে বসার অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি সেখান থেকে বের হয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে চলে যান।’

এ বিষয়ে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ’দঁড়ির ভেতরে বসাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। তবে এর আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। খেলা চলাকালীন তাদের তর্ক-বিতর্কে খেলার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছিল। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি থামিয়ে দিয়েছি। তবে বিরোধের মূল কারণ সম্পর্কে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’

শাকিবুল হাসান/খাদিজা রুমি/