শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবিকে অবজ্ঞা এবং বিধিবিধান সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল না থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অন্তর্বর্তী উপাচার্য ড. মো. হযরত আলীর প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি। একই সঙ্গে তাকে দ্রুত পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার (২১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে শিক্ষক সমিতির জরুরি বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। এর আগে শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্নের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে পদক্ষেপ না নেওয়ায় কঠোর অবস্থান নেয় শিক্ষক সমিতি।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘ক্যাম্পাসে একটা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গতকাল তৃতীয় দিনের মতো ভিসি অনুপস্থিত রয়েছেন। দাপ্তরিক কাজের কথা বলে গত সোমবার তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। তার অনুপস্থিতিতে মৌখিকভাবে যাকে ভিসির দায়িত্ব দেওয়া হয়, তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার কথা জানিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক সমিতি মনে করে, ভিসি হিসেবে ড. মো. হযরত আলী দায়িত্ব পালনে অক্ষম। ভিসি একক সিদ্ধান্তে শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন না করে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করছেন। শৃঙ্খলা কমিটি অভিযুক্তদের শোকজ করেছে। এখন নিয়মানুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ করা হয়েছে। এসব কারণে শিক্ষক সমিতি তার প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন এবং অতিদ্রুত তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছে।’
তিনি জানান, আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করবে শিক্ষক সমিতি। এই মানববন্ধন থেকে কুয়েটে পূর্ণাঙ্গ ভিসি নিয়োগ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানাবেন শিক্ষক নেতারা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ১ মে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ড. মো. হযরত আলীকে কুয়েটে অন্তর্বর্তী ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়। ৩ মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন। এর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সাবেক ভিসি ও প্রো-ভিসিকে অব্যাহতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।




