ভবিষ্যতের পৃথিবী এই গ্রহেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, সেটা আমরা কেউ জানি না। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদের সংকট এবং মহাজাগতিক ঝুঁকি যখন আমাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তখন কিছু কিশোরের মনে জন্ম নিয়েছে অসাধারণ এক স্বপ্ন- ‘মানবজাতির জন্য মহাকাশে টেকসই আশ্রয়’। এই স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দেওয়ার সাহস দেখিয়েছেন উত্তরার গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল স্পেস সোসাইটি (NSS) আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ‘জেরার্ড কে ও’নিল স্পেস সেটেলমেন্ট প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত হলো। যেখানে প্রথম স্থান অর্জন করেছে গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের একদল মেধাবী শিক্ষার্থী। তাদের প্রকল্পের নাম- ‘চিরস্থায়ী আশ্রয়’ (Eternal Shelter)।
মানবজাতিকে রক্ষা করার জন্য দলটি মহাকাশে এমন একটি শহর কল্পনা করেছে, যা বামন গ্রহ সিরিসের কক্ষপথে ঘুরবে। এই বসতিতে থাকবে ১ লাখ মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা। পাশাপাশি থাকবে টেকসই খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা। একই সঙ্গে থাকবে শক্তিশালী জীবনযাপন অবকাঠামো। বিদ্যুতের জন্য ব্যবহার হবে সৌর প্যানেল। পুরো প্রকল্পটি ৫৫ দিন ধরে নির্মিত হয়েছে। এর প্রতিটি তথ্য, নকশা ও যুক্তি বিজ্ঞানভিত্তিক। এ ব্যাপারে দলের সদস্য আহমাদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা শুধু একটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য কাজ করিনি। আমরা মূলত এমন কিছু কল্পনা করেছি, যা হয়তো একদিন বাস্তবে পরিণত হবে। এই পৃথিবী ছাড়িয়ে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য বিকল্প খোঁজা এখন আর বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন।’
বিজয়ী দলের সদস্যরা হলেন: আদ্বৈতো ভাস্কর, আহমাদ আব্দুল্লাহ, আইশা আফসারা ইয়াসমিন, সিয়াম আহমেদ, ইব্রাহিম আমিন, মুহাইর মানজুর, আহনাফ তাহমিদ আরিয়ান, সাফওয়ান চৌধুরী এবং কাজি আফসান রাউনক আনান। যেখানে সাধারণ মানুষের অনেকেই এখনো মহাকাশকে কল্পনার জগতে দেখে, সেখানে গ্লেনরিচের শিক্ষার্থীরা তা নিয়ে কাজ করছে, স্বপ্ন বুনছে। এটি দেশের জন্য গর্বের বিষয়। আগামী দিনের পৃথিবী গড়ার এই যাত্রায় গ্লেনরিচের ছাত্রছাত্রীরা যে ভূমিকা রেখেছে, তা নিঃসন্দেহে সবাইকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। ‘চিরস্থায়ী আশ্রয়’ হয়তো আজ একটি প্রকল্প, কিন্তু আগামীকাল সেটিই হয়ে উঠতে পারে মানবজাতির সত্যিকারের আশ্রয়।
/রিয়াজ