মুমতাহিনা করিম মীম চট্টগ্রামের মেয়ে। সমুদ্র আর পাহাড় ঘেরা এই শহরেই কেটেছে তার শৈশব। ছোটবেলা থেকেই তিনি নানা কল্পনায় ভেসে বেড়াতেন। কখনো বিজ্ঞানী, কখনো শিল্পী, আবার কখনো নভোচারী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। পরিবার তাকে সব সময় উৎসাহ দিয়েছে নিজের স্বপ্ন নিজ হাতে গড়ে তুলতে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি মীম যুক্ত ছিলেন নানা সহশিক্ষা কার্যক্রমে। বিতর্ক, চিত্রাঙ্কন, গান, প্রোগ্রামিং, বিজ্ঞান মেলা- সব জায়গায়ই তিনি ছিলেন সক্রিয়। স্কুলে নিজেই একটি প্রোগ্রামিং ক্লাব তৈরি করেছিলেন, যেখানে অন্য শিক্ষার্থীদের কোডিং শেখাতেন।
অংকুর সোসাইটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কাপাসগোলা মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন মীম। স্কুলজীবন থেকেই তার মনে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়। একবার বাবা-মায়ের সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়ে মা তাকে একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় দেখিয়ে বলেছিলেন- চেষ্টা করলে তুমিও এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবে। তখন থেকেই মীম সেই স্বপ্নের পথে হাঁটতে শুরু করেন। বিদেশে পড়ছেন এমন অনেক সিনিয়র থেকে বিভিন্নভাবে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন মীম।
মীম যুক্তরাষ্ট্রের হেনড্রিক্স কলেজে আবেদন করেছিলেন কমন অ্যাপ নামের একটি আন্তর্জাতিক আবেদন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। নিজের অ্যাকাডেমিক ফলাফল, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং নিজের বিভিন্ন অর্জনের গল্প সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। পাশাপাশি ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষায় ভালো স্কোর ছিল তার, সেটাও জমা দেন। কলেজের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ‘হ্যাস মেমোরিয়াল বৃত্তি’তে আবেদন করতে তাকে আলাদা রচনা লিখতে হয়েছিল। সেখানে তিনি সমাজে নিজের ইতিবাচক প্রভাব, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা লিখেছিলেন। এর পর সাক্ষাৎকার নেয় কর্তৃপক্ষ। গত ৩ মার্চ মীমকে জানানো হয় যে তিনি এই বিশেষ বৃত্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন।
‘হ্যাস মেমোরিয়াল বৃত্তি’ পাওয়া মীমের জন্য এক বড় অর্জন। এই বৃত্তি প্রতিবছর পুরো বিশ্ব থেকে মাত্র চারজনকে দেওয়া হয়। বৃত্তির মাধ্যমে মীম তার চার বছরের পড়াশোনার সম্পূর্ণ টিউশন ফি, থাকা-খাওয়ার খরচসহ প্রতিবছর ৫৪ হাজার ডলার করে পাবেন। এই সুযোগ মীমকে শুধু পড়াশোনার খরচই নয়, ক্যাম্পাসে কাজ করার অভিজ্ঞতাও দেবে। তার কথায়, ‘এটা শুধু আমার নয়, দেশের জন্যও গর্বের বিষয়।’
যারা যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে চান, মীম তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আগে থেকেই পরিকল্পনা শুরু করা জরুরি। পড়ালেখায় ভালো ফলের পাশাপাশি ইংরেজি পরীক্ষায় ভালো স্কোর অর্জনের জন্য পরিশ্রম করতে হবে। পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম, সমাজসেবামূলক কাজ, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা- সবকিছুই দরকার হয় ভালো প্রোফাইল তৈরির জন্য। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতিটি ধাপের সময়সীমা মেনে কাজ করা। মীম বলেন, ‘যারা সত্যি স্বপ্ন দেখে, তারা ভয় না পেয়ে পরিশ্রম করলে সীমান্ত কোনো বাধা হতে পারে না।’
/রিয়াজ