রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ২২টি বিভাগের ১২০ জন সুবিধাবঞ্চিত এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রতি দশ হাজার টাকা করে মোট ১২ লাখ টাকার এককালিন বৃত্তি দিয়েছে ইউনিভার্সাল হেল্প হাব (ইউএইচএইচ)।
বুধবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৫টায় 'নাহার- ইউনিভার্সাল হেল্প হাব আপলিফ্টমেন্ট স্কলারশিপ অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের গ্যালারি রুমে শিক্ষার্থীদের এ বৃত্তি তুলে দেন বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী ও ইউনিভার্সাল হেল্প হাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মুজাহিদুল ইসলাম।
সুমাইয়া খান অনামিকার সঞ্চালনায় ও ইউএইচএইচের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী।
এ সময় বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী ইউনিভার্সাল হেল্প হাবের প্রশংসা করে বলেন, 'মুজাহিদ স্যারসহ তার বন্ধুদের এ মহৎ উদ্যোগ আমি বাংলাদেশে আর কোথাও দেখিনি। এ ধরনের ইউনিক সাপোর্ট শিক্ষা সবার জন্য সমান সুযোগ নিয়ে আসে। এ স্কলারশিপের মাধ্যমে অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী তাদের উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারবে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে সক্ষম হবে।'
ইউনিভার্সাল হেল্প হাবের সভাপতি ও লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মুজাহিদুল ইসলাম স্কলারশিপের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা তুলে ধরে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি শিক্ষার মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব। এ স্কলারশিপের মাধ্যমে আমরা মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চাই; যাতে তারা আর্থিক সংকটের কারণে তাদের পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত না হয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজকে ১২০ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এককালীন বৃত্তি দিচ্ছি। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটার গুরুত্ব অনেক। যাদের বাবা-মা নেই তারা বুঝে পৃথিবীটা কত কঠিন। বাবা-মা না থাকার অভাব কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।
বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, 'আমি যে আজকে এখানে এ অবদান আমার মায়ের। আমার মা আমাকে সর্বপ্রথম ৫০ টাকা দিয়ে স্কুলে ভর্তি করেন। আমার পড়ার পেছনে এ ধরনের বৃত্তিগুলো না থাকলে আমার জন্য পড়ালেখা করা খুবই কষ্ট হয়ে যেত। আমি যদি ভবিষ্যতে ভালো কিছু করি তাহলে কোনোদিন অন্যায় করব না, একজন ভালো মানুষ হতে চাই।'
আরেক শিক্ষার্থী হুসনেয়ারা খাতুন বলেন, "আমি বাবা বলে কখনো ডাকতে পারিনি, বাবাকে কখনো দেখিনি। আমি যদি আজকের এ বৃত্তি না পেতাম তাহলে আমার ডিপার্টমেন্টের একটি প্রোগ্রামের কাজ করতে পারতাম না। অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা 'নাহার'কে, আমাকে এ সহযোগিতা করার জন্য।"
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর রশিদ, প্রক্টর ড. মো ফেরদৌস রহমান, ছাত্র পরামর্শ ও উপদেষ্টা পরিচালক প্রফেসর ড. ইলিয়াস প্রামাণিক, সহকারী প্রক্টর ড. আবদুল্লাহ আল মাহাবুব, রংপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম, লোক প্রশাসন বিভাগের, প্রভাষক নিয়াজ মাখদুম, সাইফুল ইসলাম সজীব, আফজাল হোসেন শাকিল ও এএম মুবাশ্বির শাহ্সহ শতাধিক বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী।
আজম/নাঈম/