ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কক্সবাজারবাসী কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন আজ মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ উদ্বোধনীর মুগ্ধতা ছড়ানো ৭ ছবি রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে হত্যা, আরও একজন গ্রেপ্তার শিবগঞ্জে পুশইনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ বরিশালে ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গণমুখী বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফিনল্যান্ড বিএনপির অভিনন্দন রাঙ্গুনিয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ সাম্বার ছন্দে থেমে যাবে আটলাসের গর্জন? লাইসেন্স বাতিলে আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ‘জলপরী’ প্রদর্শনী নিয়ে বিতর্ক চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার গৌরীপুর ও মুক্তাগাছায় পানির প্রকল্প: ২ বছরে অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের সাম্বার অপেক্ষায় বিশ্ব অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস আমন্ত্রণে শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণে ১৪ দিনের সফরে বেরোবি উপাচার্য জাকসু ভিপি ও জিএস: ছাত্রত্ব শেষে পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক রমনার বন আসরা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ১৪ জুন ১৩ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৩ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল অর্থবিল বিশ্লেষণ: পার পাচ্ছেন সম্পদশালীরা
Nagad desktop

রাকসু নির্বাচন: আচরণবিধির দুর্বলতাকে প্রচার কাজে লাগাচ্ছে ছাত্রশিবির

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:০৭ পিএম
আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৩ পিএম
রাকসু নির্বাচন: আচরণবিধির দুর্বলতাকে প্রচার কাজে লাগাচ্ছে ছাত্রশিবির
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, ‘প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার দিন থেকে ভোট গ্রহণের ২৪ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচার চালানো যাবে। প্রচারের সময় সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। প্রার্থী ও ভোটার ছাড়া অন্য কেউ কোনোভাবেই কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রচার চালাতে পারবেন না। নির্বাচনি প্রচারে শুধু সাদা-কালো পোস্টার ব্যবহার করা যাবে। ভবনের দেয়ালে লেখনী ও পোস্টার লাগানো যাবে না।’

ছাত্রনেতা ও প্রার্থীরা বলছেন, রাকসু নির্বাচনে একটি আচরণবিধি দেওয়া হয়েছে, তবে এটি পূর্ণাঙ্গ নয়। এখানে আরও অনেক কিছুই যোগ করতে হবে। তারা এটাকে একটি দুর্বল আচরণবিধি বলে মনে করছেন। আর এই সুযোগটাই নিচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির। তারা প্রশাসনের নাকের ডগায় আচরণবিধির বাইরে গিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের নানা উপঢৌকন পর্যন্ত উপহার দিচ্ছে। যেগুলো সাধারণ বিবেচনায় আচরণবিধিতে নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। নির্বাচন কমিশন ছাত্রশিবিরের এমন আচরণে নির্বিকার। তাই কমিশন কতটা স্বচ্ছভাবে রাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা।

রাকসু, হল সংসদ এবং সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের আর ১০ দিন বাকি। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল, প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়েছে। গতকাল চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু মনোনয়পত্র তোলার পর থেকেই বিভিন্ন হলে ছাত্রশিবিরের মনোনীত প্যানেল প্রার্থীরা আতর, পাম্পার, প্লেটসহ বিভিন্ন ‘উপঢৌকন’ বিতরণ করছেন বিভিন্ন হলে। তারা সেসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার করছেন। অন্য প্রার্থীরা বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করলেও নির্বিকার রাকসুর নির্বাচন কমিশন।

সর্বশেষ হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী হলে শিবিরের পক্ষ থেকে পানির ট্যাঙ্ক ও ফিল্টার দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে হল প্রাধ্যক্ষের নির্দেশে সেগুলো নামিয়ে ফেলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন বলছে, আচরণবিধিতে খরচসংক্রান্ত বিষয়সহ আরও সংস্কার করা প্রয়োজন। হল প্রাধ্যক্ষদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা এই কাজগুলো করছে তাদের খোঁজ নিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি সাপেক্ষে আচরণবিধিতে আরও কিছু বিষয় সংযুক্ত করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি হলের প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়েছে। তারা বলেছেন, ‘আমাদের কাছে সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ আসেনি।’ হলে কে কী দিয়েছেন সে বিষয়ে তারা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলে শিবিরের প্যানেল থেকে নেতৃত্বে থাকছেন রাসেল ও মেশকাত। তারা কয়েক দিন আগে হলের ডাইনিংয়ে কিছু প্লেট ক্রয় করে উপহার দেন। এর একটি ছবিও প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রাসেল মিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হল সংসদে শিবির প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী তাজুল এবং জিএস পদে আরিফ নির্বাচন করবেন। গত শনিবার প্যানেলের পক্ষ থেকে হলে বাইসাইকেলের পাম্পার উপহার দেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হল সংসদে ভিপি পদপ্রার্থী নাঈম ইসলাম ও জিএস পদপ্রার্থী সাব্বির হোসাইন হলের রিডিং রুমে গত ৩০ আগস্ট ডিজিটাল ঘড়ি দিয়ে ফেসবুকে প্রচার চালান। নাঈম ইসলাম ওই হল শাখা শিবিরের সভাপতি এবং সাব্বির হোসাইন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ শিবিরের প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচন করবেন। তিনি ছাত্রদের হলে হলে আকর্ষণীয় প্যাকেটে মুড়িয়ে আতর বিতরণ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়া শিবিরের প্যানেল থেকে বিভিন্ন হলের মসজিদে দেওয়া হচ্ছে বই, পুস্তিকা ও বুক শেলফ। এর নাম দেওয়া হচ্ছে ‘মসজিদভিত্তিক বুক কর্নার’। এভাবে হলে হলে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা শিক্ষার্থীদের মনোরঞ্জন করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও রাকসুর ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের’ ভিপি পদপ্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘আমরা আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছি। আমরা এটা মেনেই সামনের দিনগুলোতে প্রচার চালাব। আচরণবিধিতে টাকা খরচের নির্দিষ্টতা থাকলে আমরা সেটিও মেনেই প্রচার চালাতাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামিক আদর্শের সঙ্গে মিলে এমন উপহার আমরা আগেও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেছি। আগে বহুবার আমরা কোরআন শরিফ বিতরণ করেছি। আমার বহু দিনের ইচ্ছা ছিল শিক্ষার্থীদের মাঝে আতর বিতরণ করা। এবার শিক্ষার্থীদের দোয়া নিতে যেহেতু হলে হলে যাচ্ছিলাম, তাই হাদিয়া হিসেবে তাদের আতর দিয়েছি। কেউ না নিতে চাইলে আমরা তাদের জোরাজুরি করিনি। ভোটে প্রভাব ফেলতে এসব বিতরণ করিনি।’

কোণঠাসা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা
নির্বাচন ঘিরে এমন ‘উপঢৌকন’ বিতরণ নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতকরণে একটি বাধা বলে মনে করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তারা বলছেন, ‘দলীয় প্রার্থীদের দলীয় ফান্ডিং আছে, যা আমাদের মতো সাধারণ প্রার্থীদের পক্ষে আনা অসম্ভব। তারা ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য অনেক টাকা খরচ করছেন। আমরা খরচের বিষয়টি নির্দিষ্ট করতে বারবার প্রশাসনকে বলার পরেও খুব বেশি কাজ হচ্ছে না। প্রশাসন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

স্বতন্ত্র এজিএস প্রার্থী শাহ পরান লিখন বলেন, ‘আমাদের মতো যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন, তাদের নির্বাচনের খরচ খুব কম। দলীয় প্রার্থীদের অর্থের ছড়াছড়ি আমাদের জন্য একটা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।’

সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি পদপ্রার্থী ইরফান তামিম বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে ভোটারদের উপঢৌকন দেওয়া সম্ভব না। কিন্তু যাদের ফান্ড আছে এরা সহজেই শিক্ষার্থীদের কাছে টানার চেষ্টা চালাচ্ছেন। নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন তারা। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমার দাবি, এসব প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হোক।’

জানতে চাইলে রাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ তোফা বলেন, ‘পার্টিজান প্যানেলগুলো অনেক ফান্ড থাকলেও নন-পার্টিজানদের ক্যাম্পাসে পরিচিতি আছে। টাকা থেকে ক্যাম্পাসে আমরা যে কাজ করেছি শিক্ষার্থীরা মনে রাখবেন। আমাদের মতো নন-পার্টিজানদের স্বাভাবিকভাবেই ফান্ড থাকবে না। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য খরচের বিষয়টি অবশ্যই নির্দিষ্ট করতে হবে।’

স্বতন্ত্র বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম সন্ধি বলেন, ‘দলীয় প্রার্থীদের দলীয় ফান্ডিং আছে যা আমাদের মতো সাধারণ প্রার্থীদের পক্ষে আনা অসম্ভব। তারা ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য অনেক টাকা খরচ করছেন। আমরা খরচের বিষয়টি নির্দিষ্ট করতে বারবার প্রশাসনকে বলার পরও খুব বেশি কাজ হচ্ছে না। প্রশাসন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।’

ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের জিএস প্রার্থী নাফিউল জীবন বলেন, ‘আমাদের দল নির্বাচনি মাঠে কোনো উপঢৌকন দিচ্ছে না। একটি দল উপঢৌকনের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক ম্যাচিউরড। তারা যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেবেন।’

নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করতে ব্যর্থ উল্লেখ করে শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ভিপি পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি দেখছি একটা পক্ষ হলে আতর বিতরণ করছে, মুড়ি পার্টি করছে। বিশেষ করে আতর বিতরণ আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো যাবে না। কিন্তু এ সবকিছু হলেও নির্বাচন কমিশন নির্বিকার রয়েছে।’

সার্বিক বিষয়ে রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘কেউ এ ধরনের কাজ করতে পারবে না। বিষয়টি আমরা অবগত ছিলাম না। প্রাধ্যক্ষদের নিয়ে একটি সভা করেছি। সেখানে বিষয়গুলো নিয়ে প্রাধ্যক্ষদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে সেগুলো হলো থেকে সরানো হয়। কেউ আর এ ধরনের কার্যক্রম করতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করা পর্যন্ত আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি না। আচরণবিধি নিয়ে কিছু সমস্যা আমরা খেয়াল করছি। আচরণবিধিতে সংযুক্ত করব।’

লটারির মাধ্যমে ব্যালট নম্বর প্রদান
রাকসু নির্বাচনে প্রতি পদের বিপরীতে প্রার্থীদের প্রত্যেকের মাঝে লটারির মাধ্যমে ব্যালট নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ব্যালট প্রদানে লটারির আয়োজন করা হয়।

শনিবার কয়েকটি প্যানেলের নেতারা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ব্যালট নম্বর বরাদ্দ পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তোলেন। পরে রাতে নির্বাচন কমিশনের জরুরি সভায় নীতিমালা সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের পূর্বের নীতিমালার ৬ (৪) ধারা অনুযায়ী ‘প্রার্থীদের তালিকা প্যানেল আকারে জমা হলে লটারির মাধ্যমে প্যানেলের ক্রমধারা নির্ধারিত হবে। নির্বাচন কমিশন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নামের তালিকা বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর ক্রমানুসারে প্রকাশ করবে।’

আরও দুই প্যানেল ঘোষণা
এদিকে রাকসু নির্বাচনে আরও দুটি ‘অপূর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র প্যানেল’ ঘোষণা করা হয়েছে। ‘ইনডিপেনডেন্ট স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স’ এবং ‘ইউনাইটেড ফর রাইটস’ নামক দুটি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। 

গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে পৃথক দুই সংবাদ সম্মেলনে এ প্যানেলের ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘ইনডিপেনডেন্ট স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স’র ভিপি পদে রয়েছেন আশিকুল্লাহ মুহিব, জিএস পদে আব্দুল মুকিত। তবে ‘ইউনাইটেড ফর রাইটস’ প্যানেলের শীর্ষ পদে কোনো প্রার্থী তারা দিতে পারেনি। কয়েকটি সম্পাদকীয় পদ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মোট ১১ সদস্যের প্রার্থী নিয়ে প্যানেল ঘোষণা করেছে।

অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস আমন্ত্রণে শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণে ১৪ দিনের সফরে বেরোবি উপাচার্য

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস আমন্ত্রণে শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণে ১৪ দিনের সফরে বেরোবি উপাচার্য
ছবি: খবরের কাগজ

অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ১৪ দিনের সফরে যাচ্ছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।

জানা যায়, আগামী ১৪ জুন থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত এই সফর চলবে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ (ডিএফএটি)-এর অর্থায়ন ও উদ্যোগে আয়োজিত ‘অস্ট্রেলিয়ান প্রফেশনাল অপরচুনিটি’ (এপিও) প্রোগ্রামের অধীনে 'অস্ট্রেলিয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকদের শিক্ষা সফর'-এ অংশগ্রহণের জন্য ‘অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস বাংলাদেশ’ কর্তৃক তিনি নির্বাচিত হন।

এই সফরে বেরোবি উপাচার্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের আরও সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সফরকালে প্রতিনিধিদল অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ডেকিন বিশ্ববিদ্যালয়, মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস (ইউএনএসডব্লিউ) সিডনি এবং ইউনিভার্সিটি অব উলংগং পরিদর্শন করবেন।

এছাড়া তারা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, আন্তর্জাতিকীকরণ, গবেষণা সহযোগিতা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প–একাডেমিক সংযোগ বিষয়ক বিভিন্ন কর্মশালা ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বমানের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য সুপরিচিত। এই শিক্ষা সফরের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, গবেষণা সহযোগিতা, আন্তর্জাতিকীকরণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হবে। আশা করি, এ সফর থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গাজী আজম/তামান্না রুপা/

জাকসু ভিপি ও জিএস: ছাত্রত্ব শেষে পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
জাকসু ভিপি ও জিএস: ছাত্রত্ব শেষে পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি (সহসভাপতি) আব্দুর রশিদ জিতু ও জিএস মাজহারুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি (সহসভাপতি) আব্দুর রশিদ জিতু ও জিএস মাজহারুল ইসলামের নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পরও পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হলে জাকসুর পদ ছাড়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা নেই বলে দাবি করেছেন তারা।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রি অর্ডিন্যান্সের ৬.১ ধারায় বলা আছে, মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ব্যর্থ হলে বা উত্তীর্ণ না হলে কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য হবেন না। এ ছাড়া বিভাগীয় সভাপতির অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে একবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও নিয়মিত ছাত্রত্ব থাকে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি নিয়মিত মাস্টার্স ২০২২-এ একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুসারে নিয়মিত মাস্টার্সে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বৈধ ভোটার হিসেবে বিবেচিত হন।

তবে নিয়মিত মাস্টার্সের ২০২৩ (৪৮তম ব্যাচ) পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সেই হিসাবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রত্বের বৈধতা হারিয়েছেন জাকসু ভিপি জিতু।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা জানান, জিতু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার মাস্টার্সের একটি কোর্সের পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাকে বিধি অনুসারে বিশেষ পরীক্ষা দিতে হবে।

অন্যদিকে, জিএস মাজহারুল ইসলাম ইংরেজি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের থিসিস গ্রুপের শিক্ষার্থী। তবে তিনি একবছর ড্রপ দেওয়ায় গত মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের সঙ্গে থিসিস জমা দিয়ে ছাত্রত্ব শেষ করেন।

বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রায়হান শরীফ বলেন, ‘জাকসুর জিএস মাজহার তার একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করেছেন। তবে ফল প্রকাশ বাকি রয়েছে।’

জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জাকসুর সদস্য হওয়ার নীতিমালা সুস্পষ্ট থাকলেও নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষে পদ ছাড়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। তবে আমি নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আগামী কার্যনির্বাহী সভায় নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর পদত্যাগের বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরির প্রস্তাব আনা হবে।’

ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘জাকসুর কারা প্রার্থী হতে পারবে তা উল্লেখ থাকলেও কারও ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলে কী হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই। যেহেতু গঠনতন্ত্রে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ নেই, তাই পদে থাকা না থাকা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।’

নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩-এ পরীক্ষায় অংশ নেননি জানিয়ে জিতু বলেন, ‘আমি নিয়মিত শিক্ষার্থী না হলেও অনিয়মিত হিসেবে এখনো আমার শিক্ষাজীবন আছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’

রাবির নতুন জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
রাবির নতুন জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জনসংযোগ দপ্তরের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামান।

একই সঙ্গে বর্তমান প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদারকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১১জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

​আদেশে বলা হয়, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ থেকে তাকে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। 

একই দিন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামানকে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা হারে সম্মানী পাবেন বলেও জানানো হয়েছে।

অধ্যাপক ড. এস. এম. কামরুজ্জামান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিভিএম ও এমএস এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় মর্যাদাপূর্ণ ‘ফুলব্রাইট ফেলোশিপ’ পান।

তিনি ​২০০৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করা এই গবেষক ২০১৭ সালে অধ্যাপক হন। তার প্রধান গবেষণার বিষয় প্লেটলেট বায়োলজি, ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইনোলজি ও ক্যান স্টেম সেল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠনের সাথে সক্রিয় আছেন।

​উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রশাসনের পদত্যাগের পর, ওই বছরের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার।

শাকিবুল হাসান/তামান্না রুপা/

জাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম
জাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী শরীফ হোসাইন রওশানকে নেত্রকোনায় অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি সংসদ।

বুধবার (১০ জুন) রাত নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘ছাত্রলীগ নিপীড়ন করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করে’, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা এই বাংলায় হবে না’ সহ বিভিন্ন ছাত্রলীগবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির জাবি সংসদের নেতারা অভিযোগ করেন, রওশানকে নেত্রকোনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্যরা অপহরণ ও নির্যাতন করেছেন। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মমিনুল ইসলাম শাওনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, এ ঘটনা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার বিরুদ্ধে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুলতান-উল-মুলক খবরের কাগজকে বলেন, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনটির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের আওয়ামী লীগের পক্ষে সাফাই গাওয়ার নিন্দা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জুলাই হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের নিরবতার সমালোচনা করে বিএনপি সরকারের কাছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তারা জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে'।

আমানউল্লাহ/থিও

আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত বিশেষ আবাসন বৃত্তি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৯ হাজার টাকা করে বৃত্তির চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১৫তম ব্যাচ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ২০তম ব্যাচ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১২৪ জন শিক্ষার্থী এ বিশেষ বৃত্তির আওতায় এসেছেন। উদ্বোধনী দিনে প্রতীকীভাবে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির সৌজন্যে প্রথম কিস্তির ৯ হাজার টাকার চেক শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বৃত্তির অর্থ বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন বলেন, “চলতি সপ্তাহেই বৃত্তির অর্থ বিতরণের মূল পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ফ্যাকাল্টিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তাদের ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। বৃত্তির অর্থ বিতরণের সার্বিক পদ্ধতি নিয়ে আগামীকাল বৃত্তি কমিটির একটি জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিটি ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে আমাদের প্রশাসন অত্যন্ত আন্তরিক ও বদ্ধপরিকর। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের কথা বিবেচনা করেই এই বিশেষ বৃত্তির অর্থ দ্রুত বিতরণের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। শুধু বৃত্তিই নয়, আমাদের মেগা প্রজেক্ট অর্থাৎ দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও নতুন আবাসিক হল নির্মাণকাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে আমি নিজেই খুব দ্রুত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যাবো। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা সবসময় কাজ করে যাব।