রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে শনিবার (৫ অক্টোবর)। আগামী ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন।
পোষ্য কোটা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বাড়িতে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে রাকসু নির্বাচনের অধিকাংশ প্রার্থী পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে গ্রামে গেছেন। ফলে ক্যাম্পাসে নির্বাচনের আমেজ ও প্রচারে ভাটা পড়েছে। তবে অনলাইনে প্রচারে সরব রয়েছেন প্রার্থীরা। ছবি, ভিডিও আপলোডসহ বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিয়ে তারা ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী তাসিন খান ও তার প্যানেলের প্রায় সবাই বাড়িতে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে তাসিন খান বলেন, ‘নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় আবার নতুন করে প্রচারে নামতে হবে। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় আমরা অনলাইনে প্রচারে জোর দিয়েছি। তবে আমাদের প্যানেলের প্রার্থীদের অনেকে ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছেন।’
‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীদের কেউ কেউ আবার বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। তাই আমরা অনলাইনে প্রচারে জোর দিয়েছি। ছোট ছোট ভিডিওবার্তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি।’
স্বতন্ত্র সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদপ্রার্থী সজীবুর রহমান তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও আপলোড করে লিখেছেন, ‘পরীক্ষা, বাড়ি, বিয়ার মাঝেও তাদের বন্ধু সজীবের এজিএস থার্টিন (১৩) ভোলেনি।’ ভিডিওতে দেখা গেছে, সজীবের বন্ধুরা তার তের নম্বর ব্যালট নিয়ে পড়ার টেবিলে বসে আছেন।
প্রচারের বিষয়ে সজীবুর রহমান বলেন, ‘প্রার্থীরা অনলাইনে প্রচার চালাচ্ছেন। কেউ কেউ দারুণ ও ইউনিক ফটোকার্ডের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ফানি ভিডিও কন্টেন্ট বানিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছুটির মধ্যেও যেন শিক্ষার্থীরা আমাদের মনে রাখে এবং ভোটের আমেজটা ধরে রাখা যায়।’
গত রবিবার ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচার চালান ছাত্রদল-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেল। পরে তাদের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে থাকা প্রাণীদের খাবার বিতরণ করা হয়। ক্যাম্পাস খোলার আগ পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ চলমান। প্রার্থীদের অনেকে গ্রামে গেলেও তারা সেখানকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে কুশল বিনিময় করছেন।’
‘রাকসু ফর র্যাডিক্যাল চেঞ্জ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী মারুফ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যাওয়ায় প্রচার কার্যক্রম কমেছে। তবে অনলাইনে প্রচার কার্যক্রম চলছে। আমরা মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি।’
ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীদের প্রায় সবাই ক্যাম্পাসে আছেন। আমরা আবাসিক হলে থাকা শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিচ্ছি। বিকেলে খেলাধুলা করছি। অনলাইন প্রচারে মনোযোগ দিয়েছি।’
প্রসঙ্গত, ২৫ সেপ্টেম্বর রাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে গত ১৮ সেপ্টেম্বর শর্তসাপেক্ষে প্রশাসন পোষ্য কোটা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিলে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর জুবেরী ভবনে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে যান। এতে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম থমকে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ২২ সেপ্টেম্বর জরুরি সভা করে নির্বাচন পিছিয়ে ১৬ অক্টোবর করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। এদিকে ২৪ সেপ্টেম্বর দুই দাবিতে সাত দিনের সময়সীমা দিয়ে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অন্যদিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও ইউট্যাব সাময়িকভাবে কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। অচল ক্যাম্পাস ও ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে শারদীয় দুর্গোৎসবের ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই বাড়ি চলে যান। ২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার ছুটি ছিল এবং ৩ ও ৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার হওয়ায় ক্যাম্পাস বন্ধ। তাই ৫ অক্টোবর থেকে ক্লাস-পরীক্ষাসহ দাপ্তরিক কাজ সচল হওয়ার কথা রয়েছে।
রিফাত/