নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা-সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকাসহ সাতজন বাংলাদেশি জেলেকে আটক করে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। আটক নৌকা দুটির একটি শাহপরীরদ্বীপ দক্ষিণপাড়ার মো. ফয়সালের এবং অপরটি কোনাপাড়া এলাকার শওকতের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৫ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে শাহপরীরদ্বীপের প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মায়ানমারের অভ্যন্তরে নাফ নদী-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ সাতজন জেলেকে আটক করে নিয়ে যায়। আটক জেলেদের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
আটক জেলেরা হলেন শাহপরীরদ্বীপ দক্ষিণপাড়া এলাকার কালা মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৫), কামাল হোসেনের ছেলে মো. জলিল (১৪), আব্দুস শুক্কুরের ছেলে আজম উল্লাহ (১২), মো. রফিকের ছেলে হেলাল (১২), মিস্ত্রিপাড়া এলাকার সব্বির আহমেদের ছেলে ফয়সাল আহমেদ (২৪), কোনাপাড়া এলাকার সলিম উল্লাহর ছেলে সৈয়দুর রহমান (২০) এবং সৈয়দ আলম।
প্রত্যক্ষদর্শী জেলেরা জানান, মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় তারা দূর থেকে দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাকে নিয়ে যেতে দেখেন। পরে বিষয়টি অন্য জেলেদের মোবাইল ফোনে জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, মাছ ধরার সময় জেলেদের সঙ্গে থাকা দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আরাকান আর্মি আটক করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আটক জেলেদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
শাহপরীরদ্বীপের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মন্নান বলেন, সকালে মাছ ধরার সময় আমার ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়ার ফয়সালের মালিকানাধীন নৌকাসহ চার জেলেকে আটক করেছে আরাকান আর্মি। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী জানান, মায়ানমারের জলসীমায় প্রবেশের সময় ৭ জন জেলেসহ দুটি মাছ ধরার নৌকা আটকের বিষয়টি কোস্ট গার্ড নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কোস্ট গার্ড ও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে আটক জেলেদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে, এর আগে গত ৯ মে দুপুর ২টার দিকে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির অধিনায়কের নেতৃত্বে দুটি ফাইবার স্পিডবোট ও একটি কাঠের ট্রলার নিয়ে নাফ নদীর জিরো লাইন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় আরাকান আর্মির হেফাজতে থাকা ১৪ জন বাংলাদেশি জেলেকে যাচাই-বাছাই শেষে বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরে তাদের টেকনাফের মায়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর থানার মাধ্যমে জেলেদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শাহীন/রিফাত/